করতোয়া নদীর তীরে
এ সপ্তাহে কোথাও ঘুরতে যাওয়ার সুযোগ হয়নি। কেননা কয়েকদিন থেকে টানা অনবরত বৃষ্টি পড়ছে, এজন্যই মূলত পরিবার নিয়ে অনেকটা গৃহবন্দী সময় কাটাচ্ছি। আজকে একটা ছুটির দিন গেল, তাও কোনভাবেই বাহিরে যেতে পারলাম না। অনেকটা ঘরে বসে বই পড়ে আর শুয়ে থেকেই সময়টা কাটিয়ে দিলাম।
এই ছবিগুলো বিগত গত সপ্তাহের, সেদিন আমরা গিয়েছিলাম করোতোয়া নদীর তীরে। আমাদের শহরটা করোতো নদীর তীরেই অবস্থিত। যেহেতু শহর থেকে খুবই নিকটে নদীর তীর, তাই অনায়াসেই চলে গিয়েছিলাম সেখানে। পড়ন্ত বেলায় পরিবার নিয়ে বেশ ভালোই সময় কেটেছিল সেদিন। আজ যখন মুঠোফোনের গ্যালারিতে সেই ছবিগুলো দেখছিলাম আর সেই মুহূর্ত নিয়ে আপনাদের সঙ্গে কিছু কথা আলোকপাত করছি, তখন কিছুটা হলেও যেন পরিতৃপ্তি পাচ্ছি।
টানা বর্ষায় তো হাত-পা গুটিয়ে অনেকটা ঘরের ভিতরে বসে আছি। তবে আজ যেহেতু সেদিনের মুহূর্ত নিয়ে লিখছি, তাই কল্পনাতে হলেও সেদিনের ঘোরাঘুরির স্বাদটা যেন কিছুটা হলেও উপলব্ধি করতে পারছি।
ঠিক বিকেল বেলার দিকে অটোরিক্সা নিয়ে চলে গিয়ে ছিলাম, করতোয়ার তীরে। অনেকটা শান্ত প্রকৃতির মাঝে নিরিবিলি ভাবে নিজের মতো করে কিছুটা সময় কাটিয়ে দিয়েছিলাম। তবে নদী ভাঙ্গন দেখে বড্ড কষ্ট পেয়েছিলাম, ভাঙতে ভাঙতে নদী এতটাই কাছে চলে এসেছে যে, কখন যেন বড় রাস্তায় আঘাত হানবে।
তারথেকেও বড় ব্যাপার হচ্ছে নদীটাকে গিলে খেয়েছে, একদল বালুখেকো জানোয়ার। অপরিকল্পিতভাবে প্রতিনিয়ত বালু উত্তোলন করে,নদীর ভূগর্ভের করুন অবস্থা করেছে তারা। এমনটা যে শুধু করতোয়ার চিত্র, তা বললে ভুল হবে। বলা যায়, পুরো দেশের নদীর চিত্র একই রকম। নদীর সুশাসন নেই, যার কারনে এই দশা।
তাও যে নদীটি টিকে আছে, এটাই তো অনেক। বর্ষাকালে কিছুটা হলেও নদী পূর্ণ যৌবন ফিরে পায়, তবে অন্যান্য সময় এই চিত্র ভীষণ ভয়ানক। পানি থাকে না বললেই চলে, এক সময় যারা এই নদীকে কেন্দ্র করে বাণিজ্য বা জীবিকা নির্বাহ করেছিল, তারা আজ হয়তো পেশা বদলিয়েছে নতুবা অন্যত্র চলে গিয়েছে।
কতকিছুর স্মৃতি যে এই নদী আগলে রেখেছে, তা হয়তো বলা মুশকিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নদীর তীর ঘেঁষে এশিয়ান হাইওয়ের কাজ চলছে এবং কাটাখালি ব্রিজটাকে নবভাবে সংরক্ষণের কাজ চলছে, এটা দেখে কিছুটা ভালো লেগেছে। বিশেষ করে ব্রিজের পাশেই মুক্তিযুদ্ধের সময় যে সকল বীর শহীদেরা এই ব্রিজটাকে কেন্দ্র করে যুদ্ধ করেছিল, তাদের স্মৃতিতে ব্রিজের পাশেই স্মৃতিসৌধ স্থাপন করা হয়েছে।
দীর্ঘদিন পরে যেহেতু এদিকটাতে এসেছি আর এসে নদীর ভৌগলিক পরিবর্তন দেখে বেশ হতাশ হয়েছি। তারপরেও ব্রিজ সংরক্ষণ ও স্মৃতিসৌধ স্থাপন এ দুটো ব্যাপার দেখে কিছুটা বেশ ভালো লেগেছিল।
সেদিন খুব যে খারাপ সময় কেটেছিল, তা বলবো না। তবে যেমনটা প্রত্যাশা করেছিলাম, তেমনটা মন মত হয়নি। হয়তো নদীর সুশাসন যদি ঠিকমতো করা না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে বড্ড খেসারত দিতে হবে।
ডিসকর্ড লিংক
https://discord.gg/VtARrTn6ht
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
VOTE @bangla.witness as witness
OR
কয়েকদিন থেকে বৃষ্টি একেবারেই কমছে না। তাই তো সবাই ঘরের বাহিরে যেতে পারছে না। যেহেতু কয়েকদিন আগে বেড়াতে গিয়েছিলেন তাই মনে হচ্ছে সময়টা বেশ ভালোভাবে উপভোগ করেছিলেন। আপনার শহরের খুবই কাছে যেহেতু এই নদীটি অবস্থিত তাইতো মাঝে মাঝেই সেখানে ঘুরতে যেতে পারেন। সত্যি ভাইয়া নদীর পাড়ে ঘুরতে অনেক ভালো লাগে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো বর্ষাকালে নদীর সৌন্দর্য অনেক বেড়ে যায়।
https://twitter.com/sharifShuvo11/status/1695374973886693728?t=OkUzPAqXkuwT-d8CnvAGUw&s=19
ছুটির দিনগুলোতে বাসায় বসে থাকলে ভীষণ খারাপ লাগে। যাইহোক কিছুদিন আগের ঘুরতে যাওয়ার মূহুর্তের ছবিগুলো দেখে সত্যিই ভীষণ ভালো লাগলো ভাই।
বাংলাদেশের সব নদীর অবস্থা সঙ্গিন। তবুও বর্ষাকালে বোঝা যায় এটা একসময় খরস্রোতা নদী ছিল। যাইহোক পুরো পরিবেশটা দারুন এবং আপনাদের একসাথে দেখতে পেয়ে ভালো লাগলো ভাই।
কবে যে নদীর সুশাসন হবে তেমনটাই এখন ভাবছি।
বাংলাদেশের সব নদীর একই অবস্থা। বর্ষাকাল এলেই কেবল বোঝা যায় নদীর অবস্থান । করতোয়া নদী আমার শ্বশুরবাড়ির কাছ দিয়েও বয়ে গেছে ।হেঁটে যাওয়া যায় । সেখানে নদী নালায় পরিণত হয়েছে। কোটি কোটি টাকা খরচ করে নদী খনন করে ।কিন্তু নদী তার পূর্ণ যৌবন ফিরে পায় না। যাই হোক কিছু দিন আগে পরিবারের সবাই মিলে ঘুরতে যাওয়ার ছবিগুলো বেশ সুন্দর লাগছে। বেশ ভালো লাগলো সবাইকে একসাথে দেখে। অনেক অনেক শুভ কামনা আপনার জন্য।
আপনার এলাকার করতোয়া নদীর ব্যাপারটা জেনে খুব ব্যথিত হলাম আপু।
নদী হলো মানুষ এর খুব আপন বন্ধু অন্য কোথাও শান্তি না পেলেও মানুষ এই নদীর পারে বসে কিছু সময় নিরিবিলি থাকলে ম্যাজিক এর মতো মানুষ এর মনের ক্লান্তি দূর হয়ে যায়।
গৃহবন্দি সবাই এখন পুরোনো এলবাম ছাড়া দেখার কিছু নাই সুন্দর সময় ছিল দেখেই বোঝা যাচ্ছে ধন্যবাদ ভাইয়া আপনাকে দারুন এই সময়টা আমাদের মাঝে উপস্থাপন করার জন্য।
ধন্যবাদ ভাই আমার অনুভূতি বুঝতে পেরে মন্তব্য করার জন্য।
আর বলতে। গতকাল ছিল ছুটির দিন। যাও ভাবলাম একটু হাটতে যাবো। বৃষ্টি মামার জন্য কি আর তার জোর ছাড়ে। মামা তো একবার আসলে আর যেতেই চায় না। তবে যাই বলেন ভাই, আমার কিন্তু বর্ষাকালে নদীতে পানির আনাগোনা দেখতে বেশ ভালোই লাগে। তবে করোতোয়া নদীর পারের পরিবেশটি কিন্তু মনে দোলা লাগার মত।
আপনি বিকেলে করোতোয়া নদীর তীরে সময়টা খুবই দুর্দান্ত ভাবে কাটিয়েছেন আপনার পোস্ট দেখে বোঝা যাচ্ছে । জেনে খুবই ভালো লাগলো ব্রিজের পাশে মুক্তিযুদ্ধ শহীদদের স্মৃতিশোধ করে রাখা হয়েছে। সব দিক দিয়ে আপনার পোস্টটি জেনে এবং ছবিগুলো দেখে খুবই ভালো লাগলো। আপনার জন্য শুভকামনা রইল।
আসলে বৃষ্টির জন্য বাসা থেকে বের হওয়াটাই কঠিন হয়ে গিয়েছে। যাইহোক ফটোগ্রাফি গুলো দেখেই বুঝা যাচ্ছে করোতোয়া নদীর তীরে বেশ ভালোই সময় কাটিয়েছেন ভাই। বিকেলবেলা নদীর পাড়ে ঘুরাঘুরি করতে এমনিতেই খুব ভালো লাগে। তবে এটা ঠিক দেশের প্রায় সব জায়গায়ই রাজনৈতিক কিংবা এলাকার প্রভাব খাটিয়ে, বালুখেকো জানোয়াররা নদী গিলে খেয়েছে বা এখনো খাচ্ছে। যাইহোক পোস্টটি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই।
হয়তো এজন্যই নদী নামক শব্দটি একটা সময় আমাদের কাছে শুধুমাত্র নামই হয়ে থাকবে এবং হারিয়ে যাবে তার সম্পূর্ণ রুপ।
আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটির মাধ্যমে অনেক কিছু দেখার সুযোগ হয়। করতোয়া ন্দী দেখতে পেয়েছি আপনার ফটোগ্রাফির মাধ্যমে। দেখেই অনেক ভালো লেগেছে আপু। তাছাড়া এর আগে নাম শুনেছি কিন্তু দেখার সুযোগ হয়নি। একদম ঠিক বলছেন বৃষ্টি হলে কিন্তু বাইরে যাওয়া একদম সহজ নয়। তাই সময় সুযোগ করে আবারো ঘুরতে গেলেন। মুহূর্তটি দারুন কাটিয়েছেন আপু।
এটা সত্য, কারণ এখানে বহু জায়গার লোকজন আছে, তাই হয়তো জায়গাভেদে অনেক কিছুই দেখা যায়।
ভাই আপনি আজকে আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন করতোয়া নদীর তীরে ঘুরতে যাওয়ার কিছু মুহূর্ত। গত সপ্তাহের ছবিগুলো দিয়ে বেশ দারুন পোস্ট তৈরি করেছেন এই সপ্তাহের ভাই। আসলে বিকেল বেলার দিকে অটোরিক্সা চড়ে যেকোনো জায়গায় ঘুরতে গেলে বেশ ভালই লাগে। আসলে ছুটির দিন ঘরে বসে থাকতে ভালো লাগে না ভাই। প্রকৃতির সাথে বেশ দারুন সময় উপভোগ করেছেন। ধন্যবাদ ভাই এত সুন্দর একটি পোস্ট শেয়ার করার জন্য।