রং চা
অন্যান্য ছুটির দিনের মতো আজকের সময়টা আমার কাটেনি। তার অবশ্য যথাযথ অনেকগুলো কারণ ছিল। বছরের শেষের দিকে বেশ তিক্ত একটা অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয়েছে। এজন্য আমি অবশ্য অভিমান করছি না বরং আমি মনে করছি, এটাও একটা শিক্ষা ।
দুপুরের দিকে একবার সম্ভবত বাহিরে গিয়েছিলাম তবে সেটা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে। ঐ যে বললাম, একটা তিক্ত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছিলাম সেটার সমাধান করতেই। যাইহোক তারপরে বাসায় এসে মোটামুটি নিজের কাজগুলো সেরে কিছুক্ষণের জন্য বিশ্রাম নিতে চেয়েছিলাম।
এমনিতেই শীতের দিন বেশ ভালোই ঠান্ডা পড়েছে। কিছুক্ষণের বিশ্রাম যে কয়েকটায় ঘন্টায় পরিণত হয়েছে তা আর খেয়াল করিনি। যখন ঘুম থেকে উঠেছি তখন মোটামুটি সন্ধ্যে সাড়ে সাতটার মত বেজে গিয়েছে। আর তাছাড়া এমনটা হওয়া নিতান্তই স্বাভাবিক। কারণ আজকাল বেশ ভালোই চাপ যাচ্ছে ।
বড্ড দুধ চা খেতে ইচ্ছে করছে বাহিরে গিয়ে। এই সন্ধ্যেবেলায় দুধ চা খেয়ে গল্প-সল্প করতে ভালোই লাগে আমার সঙ্গীদের সঙ্গে। আমার সঙ্গী বলতে আসলে ঐ রাস্তার ধারের দোকানদার আর চা ওয়ালা। ওদের সঙ্গে আমার ভালোই সখ্যতা। আমার নিজের জন্য বিনোদন ও প্রশান্তি খুঁজে পাই, ওদের সঙ্গে কথা বলে ।
তবে আজ বাহিরে বের হয়েই বেশ খানিকটা ধাক্কা খেয়েছি। আমার যে সকল সঙ্গী ছিল তারা আজ সন্ধ্যেবেলাতেই দোকানগুলো বন্ধ করে দিয়েছে। যে পরিমাণে কুয়াশা পড়ছে, তাতে কোনভাবেই খুব বেশি দূরে কিছু দেখা যাচ্ছে না। ভীষণ মাত্রায় কুয়াশা আর সঙ্গে হিমশীতল বাতাসে টিকে থাকাটাই যেন খুব কষ্টসাধ্য হয়ে যাচ্ছে। তাই হয়তো সঙ্গীরা যে যার আপন নীড়ে চলে গিয়েছে।
এদিক-সেদিক একটু পায়চারি করার চেষ্টা করছিলাম। চা আমাকে খেতেই হবে, না হলে আমার কাজের গতি আসবে না। হুট করেই ঘন কুয়াশার মাঝে যখন মিটমিটে বৈদ্যুতিক আলো চোখে পড়ল তখন সেদিকটা তে ইচ্ছে করেই এগিয়ে গেলাম। ছোট্ট একটা চায়ের দোকান খোলা দেখে মনে অনেকটাই প্রশান্তি জাগলো।
তবে সেখানে দুধ চা নেই। তাই বাধ্য হয়েই রং চা অর্ডার করেই ফেললাম। আপাতত এটা দিয়েই তেষ্টা মেটাতে হবে । দোকানটাতে আমি এর আগে কখনো এসেছি কিনা তেমনটা এই মুহুর্তে মনে করতে পারছি না। যাইহোক তারপরেও এসে বসে চা খেতে পারছি, এটাই তো অনেক কিছু ।
ছুটে চলা গাড়ি গুলো দেখছি আর সকাল বেলার কথাটা ভাবছি, অনেকটা নিজের অজান্তেই। এ শহরে যখন আমি প্রথম এসেছিলাম, তখন একরকম আমার কদর ছিল । এ শহর ছেড়ে যখন একবার আমি চলেও গিয়েছিলাম তখন একরকম অভিজ্ঞতা ছিল আর আজ যখন এ শহরের বুকে, বুক ফুলিয়ে দাপিয়ে বেড়াই, তখন অনেকেই ভাই বলে সম্মান করে। ব্যাপারটা বড়ই গোলক ধাঁধার মত লাগে। জীবনটা আসলেই অদ্ভুত, সময় যেন সব কিছুর পরিবর্তন করে দেয়।
এই যে চায়ের দোকানদার ভদ্রলোক, সেও তো ভাই বলেই সম্মোধন করলো । বেশ অতিথিপরায়ন ব্যবহার করলো, যদিও সবকিছুই পয়সার বিনিময়ে। তবে এ শহর থেকে চলে যাওয়া আর ফেরার মাঝে এই সময়টুকু আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। কিভাবে শক্ত হতে হয়, কিভাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে হয় এবং কিভাবে সুবিধাবাদী মানুষগুলোকে দূরে সরে দিতে হয়, সেটাও আমাকে এ শহর শিখিয়েছে।
চায়ের কাপে চুমুক দিচ্ছিলাম আর ফেলে আসা দিনগুলোর কথা ভাবছিলাম। জীবন সহজ ছিল না রে ভাই, তবে সহজ করে নিয়েছি। দেখছি, ভাবছি আর শিখছি ক্রমাগত।
ডিসকর্ড লিংক
https://discord.gg/VtARrTn6ht
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
VOTE @bangla.witness as witness
OR
আশা রাখি তিক্ত সেই অভিজ্ঞতা থেকে দ্রুতই বের হয়ে আসতে পারবেন ভাই। আসলে সব যায়গাতেই এখন প্রচুর শীত পরছে। শীত এর সময় কাস্টমার ও একটু কম থাকে তাই মনে হয় দোকান গুলো বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো। যাক অবশেষে চা তো পাওয়া গেলো। রঙ চাও স্বাদে কম কি। শীতের সময় রঙ চা ভালো জমে।
আসলেই বিষয়টা অত্যন্ত তিক্ত ছিল।শোনার পর আমিও নিজেও অনেকটা হতাশ হয়েছিলাম।
মনের মধ্যে কত কথা থাকলে একটা চা নিয়েও এতো সুন্দর লেখা যায়!ভাল লাগলো পড়ে।
আশা করি নতুন বছর ভালো যাবে।
জি ভাই যথার্থ বলেছেন৷ যে জীবন আসলে সহজ না ৷ তবে সহজ করে নিতে হয়। জীবনটা আসলেই অদ্ভুত, সময় যেন সব কিছুর পরিবর্তন করে দেয়।
সময় সবকিছু পরিবর্তন করতে বাধ্য করে ৷ বাধ্য করে সবার থেকে আলাদা হওয়াতে৷ আর এই সময় গুলো থেকে ক্রমাগত এগিয়ে যেতে হয় ৷
যা হোক ভাই আমার কিন্তু দুধ চায়ের চেয়ে রং চা
অনেক ভালো লাগে ৷
ঢাকাতেও আগের তুলনায় কিছুটা শীত বেড়েছে, আর উওর অঞ্চলে আরো বেশি শীত পরেছে।আসলে যাদের চায়ের নেশা তাদের চা না হলে মাথা নাকি কাজ করে না,যাই হোক দুধ চা না পেলেও রং চা তো পেলেন।আসলেই জীবনটা সহজ না সহজ করে নিতেই হয়।
জীবন সত্যিই সহজ নয় কিন্তু সহজ করে নিতে হয়।ঠিক তেমনি অনেক কিছু না মানতে পারলেও মানিয়ে নিতে হয়।উত্তর অঞ্চলে শীতের প্রকোপ খুব বেশি।ঢাকায় ও কিছু শীত পরেছে।ভাইয়া আপনার মত আমারও চা খেতেই হবে আর দুধ চা। তবে অনেক চা খাই না। দিনে ২ বার।যাক আপনি দুধ চা না পেলেও রঙ চা তো পেলেন, তাই বা শীতে কম কি সে।অনেক ভাল লাগলো ভাইয়া। অনেক অভিনন্দন আপনাকে।
দাদা আপনার দেখছি আমার মত অবস্থা চা না খেলে কাজের গতি আসে না! যদিও আপনি দুধ চা ভালো খান কিন্তু না পেয়ে বাধ্য হয়ে রং চা খেতে হল। এদিক থেকে আমি আবার রং চা ভালো খাই, দুধ চা খুব একটা খাই না। সত্যিই দাদা জীবন বড়ই অদ্ভুত সময় কিভাবে যে জীবনের মোড় পরিবর্তন করে দেয় তা নিয়ে কিছুই বলা যায় না।