উদ্দেশ্যহীন ঘোরাঘুরি
উদ্দেশ্যহীন ঘোরাঘুরিটা নতুন না। বলতে গেলে প্রায়ই এমন করে থাকি। তবে গতকালকের ঘোরাঘুরিটা ছিল অনেকটাই একাকীত্ব দূর করার জন্য এবং মানসিক প্রশান্তি খুঁজে নেওয়ার জন্য। একটা জিনিস আজকাল আমি খুব ভালোভাবে বুঝতে পারি, সেটা হচ্ছে সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য মানসিকভাবে শান্তিতে থাকা খু্বই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
মানসিকভাবে শান্তিতে থাকতে চাইলেই কি আর মানসিকভাবে শান্তিতে থাকা যায়। মানসিক শান্তি তো এখন অনেকটা সোনার হরিণের মত, যা সবার ভাগ্যে জোটে না।
বিকেলের একটু আগেই ছোট চাচীকে ফোন দিয়ে তার ছেলেকে রেডি হয়ে থাকতে বলেছিলাম। আমার সেই ছোট ভাইটা অনেকটাই লক্ষ্মী। একবার মনেহয় তাকে নিয়ে লিখেছিলাম। কারণ তার পশু প্রেমের প্রতি আলাদা একটা দুর্বলতা আছে। যাদের নিরীহ পশু পাখির প্রতি ভালোবাসা কাজ করে, সেই মানুষগুলো প্রকৃতভাবেই ভালো হয়ে থাকে।
আমরা আজ কোথায় যাচ্ছি, তার কোন সঠিক গন্তব্য নেই। বলা যায়, আমার ছোট চাচীর বাড়ির সামনে দিয়ে যে পাকা রাস্তা গিয়েছে তার দুই পাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে দেখতে বড় ব্রিজের কাছে গিয়েছিলাম। যেহেতু আজ আবহাওয়া অনেকটাই ঠান্ডা ও বেশ ফুরফুরে হাওয়া বইছিল, তাই দুই ভাই রিক্সায় চড়ে গল্প করছিলাম আর ব্রিজের ঐদিকে যাচ্ছিলাম। ও ছোট মানুষ, ওর কাছ থেকে অল্পস্বল্প কথাগুলো যখন শোনার চেষ্টা করছিলাম, তখন নিজের ভিতরে যে মানসিক চাপ কাজ করছিল, তা যেন ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করছিলাম।
এভাবে কখন যে বড় ব্রিজের এলাকাতে পৌঁছে গিয়েছি তা বুঝে উঠতেই পারিনি। একটা জিনিস খেয়াল করে দেখলাম, যখন সবকিছু ভুলে গিয়ে কিছুটা সময় নিজের মতো করে সময় কাটানো যায়, সেই সময় আসলে বড্ড দ্রুত কেটে যায়। এক কথায় বলা যায়, ভালো সময় গুলো বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে চায় না।
বিকেলবেলার দিকে মনোরম পরিবেশে বড় ব্রিজের উপর অনেকটা সময় হাঁটাহাঁটি করেছি। অনেকটা চারিপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশের সৌন্দর্য উপভোগ করার চেষ্টা করেছিলাম। কারণ এটা আমার জন্য অনেকটাই দরকার ছিল। শুকনো নদীতেও জীবিকার জন্য ক্রমাগত এগিয়ে চলছে মাঝি।
যাইহোক, কখন যে এসব দেখতে দেখতে সূর্য ডুবে যাওয়ার উপক্রম হচ্ছিল, তা যেন বুঝে উঠতেই পারছিলাম না। আবার অনেকটা পথ যেতে হবে। অবশেষে বাসার পথে যাত্রা শুরু। অল্প সময়ের জন্য হলেও মানসিকভাবে ফুরফুরে থাকার জন্য, নিজের থেকে যে চেষ্টা করেছি, এটাই তো অনেক বেশি।
কতটুকু মানসিক প্রশান্তি পেয়েছি বা এখন পর্যন্ত ভিতরে ভিতরে কতটুকু হালকা হয়েছি, তা বলতে পারবো না। তবে নিজের থেকে প্রতিনিয়ত সবকিছু মানিয়ে নিয়ে মানসিক প্রশান্তিতে থাকার চেষ্টা করছি অনেকটা বেঁচে থাকার তাগিদে। তাছাড়া আর কিছুই না।
ডিসকর্ড লিংক
https://discord.gg/VtARrTn6ht
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
VOTE @bangla.witness as witness
OR
https://twitter.com/sharifShuvo11/status/1663503116829081600?t=JxDyXLgZPfTDWjJ6Uon45A&s=19
মাঝে মাঝে মান্সিক প্রশান্তির জন্য এভাবে বেড়িয়ে পরা দরকার। ঘুরাঘুরির পর মানসিক প্রশান্তি অনুভব করেছেন যা খুব দরকার। বেশ কিছু সুন্দর মুহুর্ত কাটিয়েছেন আপনার ছোট ভাই ও প্রকৃতির সাথে। প্রকৃতির কাছে গেলেই সবার মন শান্ত হয়ে যায় । অনেক অনেক শুভ কামনা আপনার জন্য।
এটা সত্য যে, এমন পরিবেশে ঘুরতে পেরে নিজের মানসিক অবস্থা কিছুটা হলেও পরিবর্তন হয়েছে।
উদ্দেশ্যহীন ঘোরাঘুরি করতে আমার খুবই ভালো লাগে একাকীত্ব দূর করতে হলে আসলে এইভাবে কোথাও ঘুরতে গেলে ভালো লাগবে। যেমনটা আপনি আপনার চাচাতো ছোট ভাইয়ের সাথে ঘুরতে গিয়েছিলেন আর একা থাকলে নিজের মধ্যেই মানসিক একটা পেশার চলে আসে। বিভিন্ন বিষয়ে চিন্তাভাবনা কাজ করে পাশে কেউ থাকলে তার সাথে গল্প করলে সেই পেশার থাকে না। অনেক ভালো লাগলো আপনার ঘুরাঘুরি মুহূর্তের গল্প পড়ে।
ধন্যবাদ ভাই আপনার সাবলীল মন্তব্যের জন্য।
সুস্থ ভাবে বেঁচে থাকতে হলে চাই টেনশন মুক্ত জীবন। আরে টেনশন মুক্ত জীবন পেতে হলে আমাদেরকে মাঝে মাঝে একটু অজানায় ঘুরে বেড়াতে হবে। তাহলে জীবনের নেমে আসবে শান্তি। এভাবে মাঝে মাঝে উদ্দেশ্যহীন হয়ে প্রকৃতির মাঝে ঘুরে আসা প্রয়োজন।
সত্যি বলতে কি আপু টেনশনমুক্ত থাকার জন্যই এমন ঘোরাঘুরির আয়োজন।
ভাইয়া, একাকীত্ব কাটানোর জন্য বেশ ভালো পন্থা অবলম্বন করেছেন দেখছি। উদ্দেশ্যহীন ভাবে ঘোরাফেরা করে নিশ্চয়ই আপনার একাকীত্ব কেটে মনে প্রশান্তি ফিরে পেয়েছেন। আর হ্যাঁ ভাই আপনার ছোট ভাইয়ের পশু প্রেমের প্রতি আলাদা দুর্বলতা আছে তা আপনার একটি পোষ্ট থেকেই জানতে পেরেছিলাম। যাইহোক ভাইয়া, আপনার ছোট ভাইকে নিয়ে বিকেল বেলায় সূর্য ডোবার মুহূর্তে ফুরফুরে হাওয়ায় ঘুরে যে ছবিগুলো তুলেছেন তা সত্যিই দারুণ হয়েছে। উদ্দেশ্যহীন ঘোরাঘুরি নিয়ে আপনার কাটানো সময়টুকু সুন্দর ভাবে বর্ণনা করে আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ। আপনার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা ও ভালোবাসা রইলো।
আপনার গোছানো ও সুন্দর মন্তব্যের কাছে, আমি বরাবরই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। ধন্যবাদ আমার অনুভূতি বুঝতে পারার জন্য।
ঠিক বলেছেন ভাই এই সমস্যা কোনদিনও শেষ হবে না। সমস্যা শেষ হতে গেলে অবশ্যই এই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করতে হবে। এটাই সত্য কথা। অনেক চমৎকারভাবে গুছিয়ে বলেছেন, ধন্যবাদ আপনাকে।