বাঁশকুঠির রেস্টুরেন্টে আমাদের কাটানো মুহূর্ত

in আমার বাংলা ব্লগ3 years ago

20230424_172206.jpg

এবার গ্রামে গিয়ে কমপক্ষে ৫-৬ দিন ছিলাম। তাই মোটামুটি বলা যায়, সময়টা বেশ ভালোই কেটেছিল। আজকে যে মুহূর্তটি আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করছি, তা মূলত ঈদের তৃতীয় দিনের বিকালের মুহূর্ত ।

খুবই সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের গ্রামের পার্শ্ববর্তী গ্রামের বাজারে একটা রেস্টুরেন্ট চালু হয়েছে। আমরা সেইখানেই মূলত পরিবার নিয়ে বেড়াতে গিয়েছিলাম। আমার কাছে রেস্টুরেন্ট চালু হওয়ার ব্যাপারটা শুনেই প্রথমে একটু অবাক লেগেছিল। কারণ এই গ্রামীন এলাকায় এ ধরনের রেস্টুরেন্টের খাবার গ্রামের মানুষ কিভাবে গ্রহণ করছে, সেটা ভেবে।

অবশেষে সব জল্পনা-কল্পনা কাটিয়ে ঈদের তৃতীয় দিন সময় বের করে সেখানে গিয়েছিলাম। বিকেলের দিকে যাওয়ার কারণে আমরা সেখানকার বিভিন্ন রকম একটা পরিবেশ দেখতে পেয়েছি। কারণ এই রেস্টুরেন্টে রাত্রিবেলা রঙিন বাতি দিয়ে আলোকসজ্জা করা হয়, তবে দিনের বেলা এর সৌন্দর্যটা থাকে সম্পূর্ণ আলাদা। কারণ একদম প্রাকৃতিক পরিবেশে যেহেতু রেস্টুরেন্টটা হয়েছে, তাই দিনের বেলাতে বেশ ভালোভাবেই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।

20230424_172148.jpg

20230424_171924.jpg

20230424_171429.jpg

20230424_171337.jpg

এটা সত্য যে এখনো তাদের সম্পূর্ণ অবকাঠামো পুরোপুরি তৈরি হয়ে ওঠেনি। তবে যতটুকুই হয়েছে, তার ভিতরেই তারা সর্বোচ্চ সার্ভিস দেওয়ার চেষ্টা করছে কাস্টমারদেরকে। মূলত এলাকার দুজন তরুণ উদ্যোক্তা, এই রেস্টুরেন্ট তৈরি করার পিছনে উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল। মোটামুটি এখন পর্যন্ত বলা যায়, তাদের এই উদ্যোগ বেশ ভালো দিকেই এগিয়ে চলছে।

সেখানে গিয়ে আমার চাচাতো ভাইয়ের সঙ্গেও দেখা হয়ে গিয়েছিল এবং তাছাড়াও যেহেতু আমার পরিবারের লোকজনরা মিলে, আমরা সেখানে সময় কাটানোর জন্য গিয়েছিলাম, তাই মোটামুটি বলা যায় যে,সেদিনের সেই বিকেলবেলার মুহূর্তটা ছিল, আমাদের সকলের কাছে অনেকটাই মনে রাখার মত।

রেস্টুরেন্টে প্রথমে গিয়েই, তাদের খাবারের মেনু কার্ডটা দেখার চেষ্টা করলাম। তারপরে সেখান থেকে নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী কিছু খাবার অর্ডার করে দিলাম। হীরা মূলত তার এবং তার ছোট বোনের জন্য ফ্রাইড রাইস ও ফ্রাইড চিকেনের সেট মেনু অর্ডার করেছিল আর আমি নিজের জন্য অর্ডার করেছিলাম চাওমিন এবং আমার চাচাতো ভাইয়ের জন্য লস্যি। এখানকার খাবারের দামটা বেশ সাধ্যের মধ্যেই ছিল।

20230424_173455.jpg

20230424_172446.jpg

20230424_172245.jpg

20230424_172036.jpg

যেহেতু এ ধরনের রেস্টুরেন্টে খাবার আসতে কিছুটা সময় লাগে। কারণ তারা সরাসরি খাবার বানিয়ে তারপরে কাস্টমারদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করে। তাই এই ফাঁকে আমরা চেষ্টা করলাম গল্প করার জন্য এবং ছবি তোলার জন্য। যেহেতু একদম নিরিবিলি পরিবেশে প্রকৃতির খুব কাছাকাছি রেস্টুরেন্টে তৈরি হয়ে গিয়েছে, তাই সেখান থেকে চারপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যটা অনেকটাই সুন্দরভাবে উপভোগ করা যাচ্ছিল।

আমাদের মতো আরো অনেক কাস্টমার এখানে পরিবার নিয়ে এসেছে। তারাও মূলত তাদের পারিবারিক সময় কাটানোর চেষ্টা করছে আর যেহেতু এখন উৎসবের সময়, তাই মূলত এখানে খানিকটা লোকজনের সমাগম বেশি।

20230424_174650.jpg

20230424_174618.jpg

20230424_174557.jpg

20230424_173806.jpg

আপাতত গ্রামের মানুষের কাছে, এ ধরনের খাবার কতটা গ্রহণযোগ্য হয়েছে, তা আমি বলতে পারব না। তবে আমার কাছে, এখানকার খাবারের স্বাদ ও মান মোটামুটি ভালোই লেগেছে। তবে আমি আশাবাদী, যেহেতু দিন দিন মানুষের রুচি ও চিন্তাধারার পরিবর্তন হচ্ছে, আশাকরি রেস্টুরেন্টটি এখানে বেশ ভালোই চলবে।

যেহেতু আমরা অনেকটা পথ যাত্রা করে এখানে এসেছিলাম, তাই মূলত এসে হতাশ হইনি। আমরা যেমনটা ভেবেছিলাম বরং তারথেকেও ভালো কিছুই এখানে পেয়েছি এবং সময়টাও বেশ ভালো কেটেছে।

Banner-15.png

ডিসকর্ড লিংক
https://discord.gg/VtARrTn6ht


20211003_112202.gif


JOIN WITH US ON DISCORD SERVER

banner-abb4.png

Follow @amarbanglablog for last updates


Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

Heroism_3rd.png


VOTE @bangla.witness as witness


witness_vote.png

OR

SET @rme as your proxy

witness_proxy_vote.png

Sort:  
 3 years ago 

রেস্টুরেন্টের নামটা বেশ মিষ্টি দিয়েছে। আর যেটা মনে হলো অনেকটা থিম বেজড কিছু একটা করার চেষ্টা করছে। পুরো অবকাঠামো টা নির্মাণ হয়ে গেলে বেশ ভালো লাগবে হয়তো। আর আজকাল গ্রাম আর গ্রাম নেই । সবাই আধুনিকতার সাথে এগিয়ে যাচ্ছে। সেদিক থেকে যদি ভালো সার্ভিসের নিশ্চয়তা দেওয়া যায় তাহলে আশা করি ভালো কিছুই হবে। ভালোবাসা রইলো ভাই।

 3 years ago 

সত্যি বলতে কি রে ভাই, নামটা শুনেই আমার আসলে যাওয়ার ইচ্ছে জেগেছিল। হ্যাঁ এটা সত্য যে, ওদের পরিকল্পনা কিছুটা থিম বেজড। আমার অনুভূতি বুঝতে পারার জন্য, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তোর জন্য শুভেচ্ছা রইল ❤️🙏

 3 years ago 

ঈদের তৃতীয় দিন পরিবার পরিজন নিয়ে বাঁশকুঠি রেস্টুরেন্টে গেলেন।খুব ভালো লাগলো ভাইয়া দেখে।একটু ঘোরাও হলো আবার সাথে খাওয়া দাওয়া। খাবার তো দেখতে ভালোই মনে হলো আপনি আপনার অনুভূতি আর সাথে বেশ কিছু ফটোগ্রাফি শেয়ার করেছেন। শেয়ার করার জন্য আমরা দেখতে পেলাম।শায়ানকে খুব মিষ্টি লাগছে।আনন্দে সে পা ছড়িয়ে মোবাইল দেখছে।সবাইকে খুব সুন্দর লাগছে।শেয়ার করার জন্য অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া।

 3 years ago 

এটা সত্য যে আমাদের সময়টা সেখানে বেশ ভালোই কেটেছে। তাছাড়া বাবুও বেশ আনন্দে ছিল।

 3 years ago 

শহরের চার দেয়ালে জীবনটা একঘেমি হয়ে যায়। ঈদ উপলক্ষে গ্রামে পাঁচ - ছয় দিন থেকে আসলেন। গ্রাম এবং শহরের মধ্যে পার্থক্যটা আপনি খুব ভালই বুঝতে পেরেছেন। গ্রামের নির্মল বাতাস সব কিছু যেন একটা অন্যরকম অনুভূতি। ঈদের তৃতীয় দিন পরিবার-পরিজন নিয়ে বাস কুটি রেস্টুরেন্টে গিয়েছিলেন। খাবার খেয়েছেন সবাই মিলে খুবই আনন্দ করেছেন এবং ঘোরাঘুরি করেছেন পাশাপাশি।

 3 years ago 

অবশ্যই পার্থক্য বুঝতে পেরেছি, কারণ গ্রামীন প্রকৃতির মাঝে আলাদা একটা প্রশান্তি কাজ করে। সেটা আর যাইহোক শহরে পাওয়া যায় না। ধন্যবাদ ভাই, আমার অনুভূতি বুঝতে পারার জন্য ।

 3 years ago 

বাঁশ কুঠির রেষ্টুরেন্টে বেশ ভালোই সময় কাটিয়েছেন। আসলে ভাইয়া আপনজন নিয়ে যেখানেই যায় না কেনো বেশ ভালোই কাটে। যাইহোক আপনারা হেঁটে গিয়ে নিরাশ হননি যেনে অনেক ভালো লাগল। আসলে শহরের থেকে এখন গ্রাম ও পিঁছিয়ে নেই।এখন গ্রামেও অনেক কিছু পাওয়া যায়, আর মানুষের রুচির পরিবর্তন হওয়া স্বাভাবিক।আপনাকে অনেক ধন্যবাদ বাঁশকুঠির রেস্টুরেন্টে কাটানো মূহুর্ত আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।

 3 years ago 

এটা একদম ঠিক বলেছেন যে, আপনজন নিয়ে গেলে সব জায়গাতেই মোটামুটি ভালো সময় কাটানো যায়।

 3 years ago 

ভাইয়া ঈদের তৃতীয় দিনের বিকেলে আপনারা বাঁশকুঠির রেস্টুরেন্টে যে মুহূর্তটুকু কাটিয়েছিলেন তার বিবরণী পড়ে আমার খুবই ভালো লেগেছে। বাশকুঠির রেস্টুরেন্টে গিয়ে অনেক সুস্বাদু খাবার খেয়েছেন আপনারা। বিশেষ করে আপনার পছন্দের চাওমিন খাবারটা আমারও খুবই পছন্দের। আর বাশকুঠির রেস্টুরেন্টের খাবার গুলো মূল্য সাধ্যের মধ্যে ছিল এটা জানতে বেশ ভালো লেগেছে আমার। যাহোক, রেস্টুরেন্টে কাটানো অনেক সুন্দর মুহূর্তটুকু আমাদের মাঝে উপস্থাপন করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

 3 years ago 

মূলত ওখানে যে খাবারগুলো পাওয়া যাচ্ছিল, তা সবই আমার পছন্দের। তবে আমি ইচ্ছে করেই চাওমিন অর্ডার করেছিলাম, কারণ দেখতে চেয়ে ছিলাম ভিন্নতা ছিল নাকি। তবে এটা সত্য, যে আমাদের সময়টা ভালো কেটেছিল।

 3 years ago 

আজকাল গ্রামেও উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। দুজন তরুণ উদ্যোক্তা দারুন একটি রেস্টুরেন্ট তৈরি করেছে। খাবারের দাম দেখে মনে হচ্ছে সবকিছুই সবার সাধ্যের মধ্যে। যেহেতু খাবারের মান মোটামুটি ভালো আশা করছি তারা ভবিষ্যতে আরো ভালো কিছু করবে। বাঁশকুঠির নামটিও বেশ সুন্দর।

 3 years ago 

সত্যি বলতে কি আপু, আসলেই আমি প্রথমে কিছুটা অবাক হয়েছিলাম আর তাছাড়া আমি নিজেও এধরনের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।

 3 years ago 

এখন গ্রাম কি শহর সব জায়গায় এ ধরনের রেষ্টুরেন্ট গড়ে উঠছে। প্রাকৃতিক পরিবেশে এ ধরনের রেস্টুরেন্টে পরিবার নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর মজাই কিন্তু আলাদা। খাবারের মেনু দেখে মনে হচেছ জনগনের চাহিদা মাফিক ভাল কিছু আইটেম রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। ঈদের তৃতীয় দিনে পরিবার নিয়ে অনেক সুন্দর কিছু সময় কাটিয়েছেন বুঝাই যাচ্ছে। আমাদের শায়ান বাবু তো বেশ আনন্দে আত্মহারা। যাই হোক বেশ সুন্দর ছিল আপনার ফটোগ্রাফি গুলোও।

 3 years ago 

এটা সত্য যে, এই ধরনের রেস্টুরেন্ট গুলো মূলত এখন গড়ে উঠছে একটু গ্রামীণ পরিবেশে, বিশেষ করে নিরিবিলি জায়গাতে। হ্যাঁ বাবু বেশ আনন্দে ছিল আপু।

 3 years ago 

বাঁশকুঠির রেস্টুরেন্টে আপনাদের কাটানো মুহূর্ত পড়ে খুব ভালো লাগলো ভাইয়া। গ্রাম এখন আগের মতো নেই এবং গ্রামের যুবক যুবতীরাও অনেকটা মডার্ন হয়ে যাচ্ছে। তাই সবকিছু মাথায় রেখে এখন গ্রামেও রেস্টুরেন্ট এবং বিনোদন কেন্দ্র গড়ে উঠছে। যাইহোক রেস্টুরেন্টের পরিবেশটা আমার খুব ভালো লেগেছে। এই ধরনের রেস্টুরেন্টে সময় কাটাতে ভালো লাগার ই কথা। খাবারের ফটোগ্রাফি গুলো দেখে মনে হচ্ছে খেতে খুব ইয়াম্মি লেগেছে। এতো সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ ভাইয়া। আপনার পুরো পরিবারের জন্য অনেক অনেক দোয়া এবং শুভকামনা রইল।

 3 years ago 

মূলত এখানকার দুজন তরুণ উদ্যোক্তা এই রেস্টুরেন্টটি গড়ে তুলেছে। এটা মানতে হয় যে গ্রামীণ অবস্থা আগের থেকে অনেকটাই পরিবর্তন হয়েছে।

 3 years ago 

ঈদের দ্বিতীয় দিন তো আপনারা দেখছি গ্রামের নতুন রেস্টুরেন্ট টি তে অনেক ভালো একটা মুহূর্ত কাটিয়েছেন। বাস কুঠির রেস্টুরেন্টের খাবারগুলি মান অনেক ভালো ছিল বলে মনে হচ্ছে। গ্রামের মানুষের কাছে হয়তো সেটা খুব ভালোভাবেই গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠবে আস্তে আস্তে। আপনাদের সকলের ফোটোগ্রাফিও অনেক সুন্দর হয়েছে ভাই।

 3 years ago 

এটা সত্য যে, সেখানকার খাবার গুলোর মান ও স্বাদ দুটোই বেশ ভালো ছিল, আপু। ধন্যবাদ আপনার সাবলীল মন্তব্যের জন্য।

ভাই আপনাদের এই রেস্টুরেন্টটা আমার কাছে দারুণ পছন্দ হয়েছে। রেস্টুরেন্টের পেছনেই দেখছি খোলা ফসলের মাঠ। ব্যাকগ্রাউন্ড হিসাবে এর থেকে ভালো আর কি চাইতে পারেন? উদ্যোগটা আমার কাছে খুবই পছন্দ হয়েছে। তবে আমিও ব্যাপারটা খেয়াল করে দেখেছি। ইদানিং অনেক গ্রামাঞ্চলের ভেতরেও এই ধরনের রেস্টুরেন্ট গড়ে উঠছে। মানুষের জীবনযাত্রার মান আসলেই পরিবর্তন হয়েছে। তবে আপনাদের এই রেস্টুরেন্টের মেনুতে দেখলাম সব খাবারের দামই বেশ কম। আর সায়ন বাবুকে তো দেখলাম মোবাইল নিয়ে খুব মনোযোগ দিয়ে কি যেন দেখছে। সময়টা যে দারুন কাটিয়েছেন সেটা না বললেও চলছে। পোস্টটা পড়ে ভালো লাগলো। ধন্যবাদ আপনাকে।

 3 years ago 

সত্যি বলতে গেলে কি ভাই, মূলত প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্যই গিয়েছিলাম ভাই রেস্টুরেন্টটাতে । হ্যাঁ খাবারের দাম গুলো কিছুটা তুলনামূলক কম। সেদিন আমাদের সময়টাও বেশ ভালো কেটেছে। ধন্যবাদ, আপনার সাবলীল মন্তব্যের জন্য।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.105
BTC 65230.17
ETH 1947.59
USDT 1.00
SBD 0.37