সূর্যমুখী ফুলের বাগানে কিছু সময়
গত কয়েকদিন থেকে আমাদের এলাকার যে সকল বন্ধু-বান্ধব আমার সোশ্যাল মিডিয়ায় যুক্ত আছে, তাদের প্রোফাইলে মোটামুটি এই জায়গাটার ছবি বেশ ভালোভাবেই দেখছিলাম। বিশেষ করে এই ছোট্ট শহরের একদম শেষ প্রান্তে এক ভদ্রলোক তার ফেলে রাখা জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেছে।
শহুরে মানুষজনের ভিতরে সবথেকে একটা ভিন্ন রকম স্বভাব আছে, সেটা হচ্ছে তারা যদি শহুরে পরিবেশের ভিতরে হঠাৎ করেই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সান্নিধ্য পেয়ে যায়, তাহলে সেখানে সবাই যেন উপচে পড়ে ভিড় করে।
আমি তো মনেকরি এই শহুরে পরিবেশের ভিতরে এই ফাঁকা জায়গায়, ভদ্রলোক মনেহয় এই সূর্যমুখী ফুল চাষ করে বেশ ঝামেলায় পড়ে গিয়েছে। কারণ দিনের বেলায় দর্শনার্থীদের যন্ত্রণায় সে অনেকটাই অতিষ্ঠ হয়ে গিয়েছে।
কারণ সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে খুব দ্রুত ছবিগুলো সকলের কাছে পৌঁছে গিয়েছে এবং সকলেই সেই জায়গাটায় যেন এমনভাবে ভিড় করার চেষ্টা করছে, বিশেষ করে উঠতি বয়সী ছেলে-মেযেরা এবং অতিরিক্ত দর্শনার্থীদের পদচারণায় জায়গাটার অবস্থা অনেকটাই নাজুক হয়ে গিয়েছে। বিশেষ করে অনেকে গিয়ে তো নিজের মতো করে ফুল ছেঁড়া থেকে শুরু করে, বাগানের ভিতরে নেমে ঘোরাঘুরি করার চেষ্টা করছে, যেটা মূলত বাগানের জন্য অনেকটাই ক্ষতিকারক।
আসলে শহুরে জীবনে সবাই অনেকটা ঘর বন্দি অবস্থায় থাকে আর তার ভিতরে এমন খোলামেলা পরিবেশে, হঠাৎ করে এই সৌন্দর্য দেখতে পেরে সবাই অনেকটা আনন্দে আপ্লুত হয়ে গিয়েছে। তাই হয়তো সবার এমন বিচরণ এখানটায়। আনন্দ অবশ্যই হওয়া উচিত, তবে সেই আনন্দে অন্যের যেন ক্ষতি না হয়, সেদিকটাতেও নজর রাখা দরকার ।
জায়গাটার অবস্থা সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখে,মোটামুটি নিজের থেকে ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলাম,সেই জায়গাটাতে স্বচক্ষে গিয়ে প্রকৃতির সৌন্দর্যটা উপভোগ করার। তবে তার আগে কিছু ব্যাপার আমি একটু হলেও বোঝার চেষ্টা করছিলাম এবং যারা সেখানে ইতিমধ্যেই গিয়েছিল, তাদের সঙ্গে একটু কথা বলার চেষ্টা করেছিলাম ওখানকার পরিবেশটা বোঝার জন্য।
অতঃপর পরিচিত জনের মাধ্যমে শুনে যা বুঝতে পেরেছি,তা হচ্ছে ওখানে গিয়ে মোটামুটি বাগানের ভিতরে প্রবেশ করা যাবে না এবং ফুল ছেঁড়া থেকে বিরত থাকতে হবে এবং চেষ্টা করতে হবে, বাগানের খুব কাছে না গিয়ে, কিছুটা দূর থেকে বাগান দেখে চলে আসতে হবে।
আজ সারাদিন এদিকটাতে বেশ ভালোই বৃষ্টি হয়েছে। যার কারণে আবহাওয়া অনেকটাই ঠান্ডা এবং বিকেলের দিকে মোটামুটি একটু সূর্যের আলো উঁকি দিয়েছিল ঐ নীল আকাশে। যাইহোক আমি আর বাবু বাসা বেরিয়ে গিয়েছিলাম, সেই বাগান দেখার জন্য। বলা যায়, আমাদের বাসা থেকে মোটামুটি রিক্সায় করে বাগানে যেতে মিনিট দশেকের মতো সময় লেগেছিল।
যদিও বাবুর অসুস্থতা কিছুটা কমেছে, তবে এখনো পুরোপুরি সুস্থ হয়নি। আর আমারও বাসার ভিতরে অনেকটা একঘেয়েমি সময় কাটছিল। তাই চেষ্টা করেছি বিকেলের দিকে ফুলের বাগানের এলাকায় সময় কাটানোর জন্য। তবে আজ দর্শনার্থীর পরিমাণ অনেকটাই কম ছিল। হয়তো সেটা বৃষ্টির কারণে । তবে আমি সেই সুযোগে, সেখানে সময়টা বেশ ভালোই কাটিয়েছি ।
ডিসকর্ড লিংক
https://discord.gg/VtARrTn6ht
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
VOTE @bangla.witness as witness
OR
https://twitter.com/sharifShuvo11/status/1654453290980249600?t=ywe3MHnecCF9ld9yxWMUfw&s=19
যিনি বা যে এই সূর্যমুখী ফুলের বাগানটি করেছেন তাকে অনেক বেশি পুরস্কৃত করা উচিত এবং তাকে সহযোগিতা করা সকলের উচিত যাতে আরো বেশি উৎসাহিত হয় এ বাগানে করার। যদি সরকারি কিংবা স্থানীয় ভিত্তিতে তাকে আর্থিক কিংবা অন্য কিছু দিয়ে সহযোগিতা করেন তাহলে এ বাগানটি অনেক বেশি সম্প্রসারিত হবে। যাতে করে সকলের একটি দর্শনীয় স্থান এবং বিনোদনের জায়গা হিসেবে বিখ্যাত হয়ে উঠবে। সবাই দেখতেছি সূর্যমুখী ফুলের বাগান দেখতে যাচ্ছেন যার সুবাদে খুব সুন্দর সুন্দর সূর্যমুখী ফুলের ফটোগ্রাফি দেখার সুযোগ হচ্ছে। সত্যি কথা বলতে এই বাগানটি আমার কাছে অসাধারণ ভালো লেগেছে। যদি সম্ভব হতো তাহলে ঘুরে আসতাম কিন্তু হাতের নাগালের বাইরে আমার জন্য।
এই সূর্যমুখী ফুল চাষ করে, আসলে তাকে বেশ ভালোই বেগ পেতে হচ্ছে। কারণ প্রচুর লোকসমাগম বৃদ্ধি পেয়েছে তার ঐ জায়গাতে। তবে আপনার মন্তব্য ভালো ছিল।
ভাইয়া আপনার সূর্যমুখী ফুলের বাগান দেখে আমার নিজের কিছু ফটোগ্রাফি করতে মন চাচ্ছে। কিন্তু তা তো আর সম্ভব নয়। এজন্য দুধের স্বাদ ঘোলে মিটাচ্ছি। মানে আপনার পোস্ট দেখে দেখে শান্তি পাচ্ছি। সায়ন বাবু কে দেখিছফ নিয়ে গিয়েছিলেন। তবে যিনি এই বাগানটি করেছেন তার প্রতি সকলের কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। তার সুবাদে এত সুন্দর বাগান দেখা যাচ্ছে। তিনি যদি আরো পৃষ্ঠপোষকতা পেতেন তাহলে হয়তো আরো সুন্দর কিছু করতে পারতেন।
আশেপাশে যদি কোথাও সূর্যমুখী ফুলের বাগান থাকে, তাহলে আপনি গিয়ে ঘুরে আসতে পারেন। এবং এটা সত্য এই হলুদ ফুল গুলোর মাঝে, ছবি অনেক সুন্দর আসে। তবে যে ভদ্রলোক এই বাগান করেছে, আসলেই তার প্রতি কৃতজ্ঞ আমি।
আসলে ভাইয়া কোথাও কোন সুন্দর দৃশ্য দেখতে পেলেই অনেক আছে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সারাদেশ ছড়িয়ে দেয়। আপনার ওখানে সূর্যমুখী বাগানের ক্ষেত্রে ঠিক এমনটিই হয়েছে। সূর্যমুখী বাগানকে কেন্দ্র করে লোকজনের ভিড় হলে সেই বাগানের কিছুটা ক্ষতি হওয়াটাই স্বাভাবিক। যাহোক ভাইয়া, ঠান্ডা বিকেলে বাবুকে সাথে নিয়ে সূর্যমুখী বাগানের পাশে কাটানো মুহূর্তটুকু নিশ্চয়ই বেশ আনন্দে ছিল। ভাইয়া, সায়ান বাবুর দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।
এটা সত্য যে, আমাদের মুহূর্তটা বেশ ভালই কেটেছিল সেদিন বিকেলে। ধন্যবাদ ভাই আপনার মন্তব্যের জন্য।
এই সূর্যমুখী বাগানটার ব্যাপারে আমিও শুনেছিলাম। সত্যি বলতে সামনা সামনি দেখলে যে কারো ভালো লাগতে বাধ্য। তবে অতিরিক্ত ভিড় হলে মানুষটার জন্য যে কত দিক থেকে সমস্যা হয় এটা আমরা কজন বা বুঝি !!! আর এমন একটা ট্রেন্ড এখন যে, একজন যেটা করছে সেটা দেখে দেখে আমাদেরও যেন তাই করতে হবে। এখানেই আরো বেশি বিপত্তি ঘটে। তবে বেশ ভালো লাগছিল সবটাই ভাই।
এটা আসলেই একটা ট্রেন্ড হয়ে গিয়েছে, কোন কিছুর খোঁজ পেলেই সকলে মিলে সেখানে আমরা হুমড়ি খেয়ে পড়ি। এটা সত্য যে, সময়টা সেদিন বেশ ভালোই কেটেছিল আমাদের।
বাবুর দ্রুত সুস্থতা কামনা করি ভাই। আসলেই শহরে পরিবেশে থাকতে থাকতে আমাদের সকলেরই কোন একটা খোলামেলা জায়গা সন্ধান পেলে সেখানে গিয়ে ঘোরাঘুরি করতে অনেক মন চায় ।আমার তো সবসময়ই চাই, কোনো খোলামেলা মাঠ ঘাটে গিয়ে একটু সময় কাটাই,কিন্তু সেটা হয়ে ওঠে না। আসলেই সূর্যমুখী ফুলের বাগানটি অনেক সুন্দর লাগছে দেখতে ,যে কারণে হয়তো প্রচুর মানুষ সেখানে ভিড় করছে। তবে এমন ভাবে কোথাও ঘোরাঘুরি করা উচিত না যেখানে অন্যের ক্ষতি হয় ।ফুল গুলো দেখতে সুন্দর লাগছে সেগুলোকে নষ্ট না করে দর্শনার্থীদের শুধুমাত্র দেখেই চলে আসা উচিত। ধন্যবাদ আপনাকে অনেক সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের মাঝে উপস্থাপন করার জন্য।
আমার কাছেও আসলে ব্যাপারটা তেমনই মনে হয় আপু, দর্শনার্থীরা ফুল দেখুক, কোন সমস্যা নেই। তবে তা অন্যের ক্ষতি করে নয়।
একদমই তাই ভাই।আমিও সেরকম মনে করি।