মিসকল
আঠারো বছরের বেশি সময় ধরে সংসার। কত তিল তিল করে স্বপ্নবোনা দুটো মানুষের। যদিও দুটো মানুষ দুপ্রান্তের, তবে যখন একই ছাদের নিচে একত্রিত হয়, হয়তো তখন থেকেই তাদের চিন্তাধারায় কিছুটা মিল চলে এসেছিল। যা কিনা এখন অবধি লেগে আছে, তাদের সংসার জীবনে । বলছি অতসী আর বিপ্লবের কথা।
আচ্ছা পথের দূরত্ব কি, সম্পর্ক গুলোকে হালকা করে দেয়। আমার তো মনে হয়, দূরত্ব আরো সম্পর্কগুলো কে বাঁচিয়ে রাখে। বেশ দৃঢ় ও পরিপক্কতায় রূপ দেয়। জায়গাভেদে সম্পর্ক গুলো বেশ অদ্ভুত, তাই না । হয়তো কাছে পাওয়ার আকুলতা নয়তো প্রতিনিয়ত তাকে পাশে না পাওয়ার যন্ত্রনা। হয়তো সেজন্যই দুটো মানুষ প্রতিনিয়ত দুজনকে চায়। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে পাওয়া বা না পাওয়ার হিসেব বেশ জটিল সমীকরণে রূপ নেয় ।
বিপ্লবের চাকরির কারণেই সে সুদূর ঢাকায় অবস্থানরত। তবে তার কোমল মনটা পড়ে থাকে, এই চার দেয়ালের মাঝে। যেখানে তার অতসী থাকে। প্রতিদিন চাকুরির দায়িত্বের ফাঁকে ফাঁকেও হয়তো মুঠোফোনের মারফতে খোঁজ নেওয়াতে ব্যস্ত বিপ্লব। এই খোঁজ কি, শুধুমাত্র অতসীর একার জন্য নাকি তার দুটো সন্তান অতসীর সঙ্গে থাকে বিধায় তাদের জন্যেও । কখন যে দীর্ঘ আঠারোটা বছর কেটে গিয়েছে, কে জানে । এখনো সেই ভালোবাসা যেন একদম পরিপক্ক ও প্রাণবন্ত।
হয়তো বিপ্লব প্রতিনিয়ত বাসায় থাকলে, তাহলে ব্যাপারটা কেমন হতো, তা আন্দাজ করতে পারছি না। তবে বিপ্লবের দূরত্বটা যে, আরো দুজনের পাশাপাশি থাকার আগ্রহটাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে, তা হয়তো তাদের আচরণবিধি দেখলেই বোঝা যায় । যদিও পথের দূরত্ব হার মেনেছে মুঠোফোনের কাছে,তবে মনের দূরত্ব তো আর চাইলেই দূর করা যায় না।
অতসীর শরীরটা আজকাল খুব একটা ভালো যাচ্ছে না। হুট করেই বিকেলের পরে ঘুমিয়ে গিয়েছে। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে বারবার বিপ্লব কল করেই যাচ্ছে সমানতালে। তার অস্থিরতা বাড়ছে, এমনিতেই শুনেছে অতসীর অসুস্থতার কথা, তাই যেন ক্রমাগত দুশ্চিন্তা তাকে ঘায়েল করে ধরেছে। আট বার কল দিয়েছে, বাসার কেউ যেন কল ধরেনি, বিপ্লবের কাছে মনে হচ্ছিল যেন সেই সময়টাতে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ছিল ।
অহেতুক যন্ত্রনা যেন বিপ্লব কে বারবার খচখচ করে আঘাত দিয়ে দিচ্ছিল। আর এদিকে অতসী একদম ঘুমে বিভোর। বিপ্লব যদিও বুঝতে পারছে, হয়তো অতসী ব্যস্ত নতুবা ঘুমিয়ে গিয়েছে অথবা ফোনটা হাতের কাছে নেই, তবে তারপরেও তার মনটা ভিন্ন প্রশ্নের বেড়াজালে জড়িয়ে গিয়েছে।
খেয়াল করে দেখবেন, হোক সেটা নিজের মানুষ বা কাছের মানুষ, যদি তার অসুস্থতার কথা শোনা যায় আর তাকে যদি প্রতিনিয়ত ফোন করেন আর সে যদি কোন ভাবেই ফোনটা রিসিভ করতে না পারে, তখন দেখবেন মনটা কেমন ছটফট করে। হাজারটা প্রশ্নের তীর্যক তীর যেন, আকুল মনটাকে ব্যথিত করে ফেলে।
অতসী আর বিপ্লব, আমার তেমন কেউ না। তবে তাদের ঘটনাটা গিন্নির মুখ থেকে শুনেছিলাম। তারপরেই তাদের অনুভূতিটা বোঝার চেষ্টা করছিলাম। আসলে সম্পর্ক গুলোতে যদি একটু বিরতি থাকে, তাহলে হয়তো সেই সম্পর্ক গুলোতে আরো বেশি পরিপক্কতা আসে। তাই মাঝে মাঝে একটু ভাবি, সম্পর্ক গুলোতে টুকটাক বিরতি থাকা ভালো ।
ফোনের অপরপ্রান্ত থেকে বিপ্লব যখন অতসী কে পায়নি তখন যে তার যন্ত্রনা হচ্ছিল, তা যেন ক্রমশ কেটে গিয়েছিল, যখন তাদের আবারো কথা হয়েছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে। সত্যিই আমি ভাবছি, ঠিক সেই মুহূর্তের কথা, কতোই না আবেগঘন ছিল সময়টা।
তাদের দীর্ঘ আঠারো বছরের সংসার জীবনের কথা আমি ভাবতে যাচ্ছি না, আমি ভাবছি তাদের এই সমসাময়িক সময়ের মুঠোফোনের মিসকলের কথা , যা কিনা বেশ দূরত্ব তৈরি করেও আবারও আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি করেছিল । ভালো থাকুক অতসী আর বিপ্লব , ভালো থাকুক তাদের বিশুদ্ধ এই ভালোবাসা । দুটো প্রাণ একত্রে লেগে থাকুক ওতপ্রোতভাবে ।
ডিসকর্ড লিংক
https://discord.gg/VtARrTn6ht
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
VOTE @bangla.witness as witness
OR
অতসী আর বিপ্পবের গল্পটা পড়ে ভালো লাগলো ভাইয়া। আপনি একদম ঠিক বলেছেন যে, প্রিয় মানুষজন যখন অসুস্থ থাকে এবং ফোন দিয়ে তাকে পাওয়া যায় না তখন মনটা আনচান আনচান করে! ঢাকা থেকে তেমনি বিপ্লব তার স্ত্রী অতসীর জন্য অস্থিরতা ফিল করছিল! মাঝে মাঝে সম্পর্কগুলোতে গ্যাপ রাখা দরকার। এতে সম্পর্কগুলো আরও পরিপক্বতা পায়। আমি এ ব্যাপারে আপনার সাথে একমত। দিনশেষে ভালো থাকুক অতসী ও বিপ্লবের ভালোবাসা এমনটাই কামনা করি 🌼
আমার কাছেও ভাই ঠিক তেমনটাই মনে হয়, যদি সম্পর্ক গুলোতে একটু দূরত্ব থাকে তাহলে সম্পর্ক গুলো যেন আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
মনোমুগ্ধকর একটা গল্প লিখেছেন ভাইয়া ,পড়ে অনেক বেশি ভালো লাগলো ,তবে ১৮ বছরের সংসারে এতটা ভালোবাসা আজকাল নেই বললেই চলে , দারুন কিছু আবেগী কথা পড়লাম ,সত্যি ভালোছিলো।
হয়তো এই সম্পর্কের স্থায়ীত্বের কারণ তাদের মাঝের দূরত্ব।
গল্পটা পড়ে অনেক ভাল লাগলো। ১৮ বছরের সংসারে এত ভালবাসা অতসী আর বিপ্লবের মাঝে সত্যিই ভাল লাগার বিষয়। প্রিয় মানুষের অসুস্থতার কথা শুনে ফোন দিয়ে না পাওয়া গেলে সত্যিই মনটা খুব চিন্তিত লাগে। ঠিক বলেছেন,যে কোন সম্পর্কে গ্যাপ থাকলে, সম্পর্কগুলো পরিপক্কতা পায়।বেঁচে থাকুক অতসী আর বিপ্লবের ভালবাসা, এমনটাই চাই।অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া।
শুভ ভাই ঠিক বলেছেন কথা গুলো ৷ আসলে বর্তমান এই আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে একজন আরেক জনের সাথে দুরত্ব অনেকটাই কমে গেছে ৷ তবুও. দুটি মানুষের কাছাকাছি যাওয়া দুরত্ব টুকু রয়ে ৷আর এ প্রিয় মানুষগুলোর যদি হঠাৎ করে অসুস্থতার খবর শোনে সেটা সবাই একটু চিন্তিত থাকে ৷
খুব সুন্দর গুছিয়ে লিখেছেন কথা গুলো ৷
ভাই আপনার গল্পটি পড়ে খুবই ভালো লাগলো আমার কাছে। যেকোনো সম্পর্কের ভেতর দূরত্ব রাখলে তা পরিপক্ক হয়ে ওঠে। এরকম সম্পর্কে মাঝে মাঝে গ্যাপ রাখা দরকার। ১৮ বছরের সংসারে এরকম ভালোবাসা খুবই কম দেখা যায়। এরকম ভালোবাসা যেন ঘরে ঘরে থাকে। প্রিয় মানুষের অসুস্থতার খবর শুনে ফোন দিলে না পেলে আরো বেশি চিন্তা হওয়ারই কথা। অতিশী এবং বিপ্লবের ভালোবাসার চিরকাল এমনই থাকুক সেই কামনা করি।
এভাবেই অতসী ও বিপ্লবরা একে অপরকে আঁকড়ে ধরে একে অপরের পরিপূরক হয়ে এগিয়ে চলুক। এটা একদমই ঠিক যে আপনজনের কোন শারীরিক অসুস্থতায় সামনে না থাকলে যেমন চিন্তা হয় তেমনই এখন চলভাষের যুগে যদি কথা টুকুও না হয় তা আরো যেন মন কে উদগ্রীব করে তোলে।