পড়ন্ত বেলায়
শহর থেকে গ্রামে আসা হয়েছে দীর্ঘদিন পরে। বলতে গেলে কয়েক মাস পরে। যেহেতু শহুরে জীবনে একটানা আবদ্ধ হয়ে ছিলাম, তাই সেই যান্ত্রিক নগরীর জীবন আমাকে, অনেকটাই হাঁপিয়ে তুলেছিল।
শুধু নিজের কাছে নিজেকে অজুহাত দিচ্ছিলাম, একটু সময় পেলেই ফুরুৎ করে উড়ে যাবো সবুজ প্রকৃতির মাঝে। যেখানে বিশুদ্ধ অক্সিজেন ক্রমাগত ফুসফুসে প্রবেশ করবে আর ভিতর থেকে আমি সজীব ও প্রাণবন্ত ভাব অনুভব করবো। অর্থাৎ গ্রাম আমাকে হাতছানি দিয়ে ডাকছিল।
যেহেতু উৎসবের সময় চলছে, তাই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে ফেললাম। এখন কয়েকটা দিন গ্রামে থাকা পড়বে। এখানে যান্ত্রিক শহরের কোন কোলাহল নেই, কংক্রিটের চার দেয়ালে বন্দি হওয়ার ভয় নেই। কান গুলো পরিত্রাণ পাবে শব্দদূষণ থেকে। মোটামুটি এমন একটা জায়গায় কয়েকটা দিন থাকতে পারবো ভেবে,নিজের থেকেই প্রশান্তি পাচ্ছিলাম।
একদম সাদামাটা জীবন এখানে, শহুরে জীবনের কোন ছিটেফোঁটা যেন এই কয়দিন নিজের মাঝে না লাগে, তেমনটাই চিন্তাভাবনা করছি। বলতে গেলে অনেকটা মাটির কাছাকাছি থাকতে চাচ্ছি। আমি চাই, এবার আমার এই চাওয়াটুকু পূর্ণতা পাক।
মোটামুটি দুটো দিন এদিক-সেদিক বেশ ভালোই ঘোরাঘুরি করেছি। তবে শহুরে জীবনের মতো তেমনটা ক্লান্ত হইনি বরং ক্লান্ত হয়েছি অনেকটা প্রকৃতির সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে। ক্রমাগত হিমশীতল বাতাসে যেন, এখনো আমার উন্মাদনা কাজ করছে।
খুবই সাধারণ বিষয় গুলো নিয়ে এখানে বেশ আলোচনা ও গুঞ্জন হয়। আজ সকাল থেকেই শুনছিলাম গ্রামের স্কুল মাঠে বিবাহিত আর অবিবাহিতদের ফুটবল খেলা হবে। যার আয়োজন করেছে এখানকার যুবকরা। আসলে এটা এখানকার ঐতিহ্য। বলা যায়, বহু আগে থেকেই ইদ উৎসবের পরের দিন, এমন আয়োজন এখানে হয়ে থাকে। যদিও আমি সঠিক সময়ে মাঠে উপস্থিত হতে পারিনি। তবে স্বল্প সময় মাঠে থেকেও বেশ ভালোই উপভোগ করেছি খেলাটা।
কয়েকদিনের অতিষ্ঠ গরম যেন মুহূর্তেই সবাইকে মুক্তি দিয়েছে। মোটামুটি হিমশীতল বাতাস, সাদা মেঘ আর ঐ নীল আকাশের নিচে পড়ন্ত বেলায় যখন স্কুল মাঠে বসে থেকে এমন খেলা উপভোগ করছিলাম, তখন সেই মুহূর্তে খানিকটা প্রফুল্লতা কাজ করছিল নিজের মাঝে।
ফেরার পথে দেখলাম ঐ নীল আকাশে কালো মেঘের উপস্থিতি। তবে এই উপস্থিতি খুব একটা ভালো লক্ষণ নয়। হুট করেই যেকোনো সময় ভারী বর্ষণ হতে পারে।
যেহেতু আরো কয়েকটা দিন এখানে থাকবো, তাই হয়তো আরো ভিন্ন অভিজ্ঞতার সঞ্চরণ হতেই পারে। কি কি যে আমার জন্য অপেক্ষা করছে,তা এই মুহুর্তে বলতে পারছি না। আপাতত নীল আকাশের সৌন্দর্য, সবুজ ধান ক্ষেত, হিমশীতল বাতাস আর পড়ন্ত বেলার ডুবন্ত সূর্য দেখেই, বেশ ভালোই মুগ্ধ হয়েছি।
ডিসকর্ড লিংক
https://discord.gg/VtARrTn6ht
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
VOTE @bangla.witness as witness
OR
ঠিকই বলেছেন ভাইয়া শহরের এই যান্ত্রিক কোলাহল মুক্ত জীবন থেকে গ্রামে এসে সময় কাটানোর মজাই অন্যরকম। আপনি ঠিকই করেছেন শহর থেকে গ্রামে এসেছেন এই সময়টুকু বেশ ভালই উপভোগ করছেন। আমিও গ্রামে এসেছি দীর্ঘ প্রায় এক বছর পর বেশ ভালোই লাগছে আমার কাছেও, তাই আপনার যে গ্রামে আসার অনুভূতিটা আমি সেটা বুঝতে পারছি। গ্রামে আসলে অনেক পুরনো ঐতিহ্য এখনো মানুষ ধরে রেখেছে দেখলে আসলেই ভালো লাগে। অসংখ্য ধন্যবাদ ভাইয়া আপনার গ্রামে আসার চমৎকার অনুভূতি গুলো আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
বাহ্ আপনি দীর্ঘ এক বছর পরে গ্রামে গিয়েছেন, জেনে বেশ ভালো লাগলো। আপনার সময় ভালো কাটুক, এমনটাই প্রত্যাশা করি।
শহরের জীবন যান্ত্রিকতায় পরিপূর্ণ। সবাই যেন রোবটের মত জীবন যাপন করে। প্রাণ খুলে নিশ্বাস নেওয়ার মাঝেও যেন শান্তি নেই। ছুটির দিনগুলোতে গ্রামে ঘুরতে সত্যিই ভালো লাগে। আর গ্রামের খোলামেলা হওয়ায় সময় কাটাতে ভালো লাগে। অনেক অনেক শুভকামনা রইলো ভাইয়া।
একদম ঠিক বলেছেন আপু, তাই কিছুটা নিজেকে বিশ্রাম দিয়েছি, সেই যান্ত্রিক জীবন থেকে।
গ্রামের সৌন্দর্য বা ভালোলাগাটা সেটা কোন প্রকারে শহরের এই কংক্রিটের জঙ্গলে খুঁজে পাওয়া যাবে না শুভদা। যেহেতু অনেকদিন পর গ্রামে গেছেন তাই ভালো করে কয়েকদিন ঘুরে আসেন। আশা করি মন মেজাজ দুটোই ভালো হয়ে যাবে।
ছোটবেলা আমিও দেখেছি এই ব্যাপার গুলো আমাদের গ্রামেও হত। তবে এখন হয় কিনা বলতে পারব না।
এখনো হয় বিবাহিত আর অবিবাহিতদের ফুটবল খেলা আমাদের এই গ্রামে, সেই ঐতিহ্য এখনো চালু আছে। ধন্যবাদ ভাই, তোমার সাবলীল মন্তব্যের জন্য।
ঈদ মোবারক ভাইয়া। ঈদ খুব আনন্দে কেটেছে তা আপনার এই প্রকৃতির ফটোগ্রাফি গুলো দেখে বেশ বুঝতে পারছি। শহরের কোলাহল ছেড়ে গ্রামের এই পরিবেশ সত্যিই অসাধারণ। আপনার পড়ন্ত বিকেলের ফটোগ্রাফি গুলো দেখে আমি মুগ্ধ। ধন্যবাদ ভাইয়া শেয়ার করার জন্য।
আপনার জন্যও ঈদের শুভেচ্ছা রইল আপু। আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
কয়েক মাস পর গ্রামে গিয়ে বেশ উপভোগ করছেন ভাইয়া।উৎসবের সময় গ্রামে যেতে আসলেই ভালো লাগে।আপনার গ্রাম টা অনেক সুন্দর ।ফটোগ্রাফি গুলো দেখে বুঝতে পারলাম।আপনি দারুন ফটোগ্রাফি করেন।আপনাদের গ্রামে ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করা হয়ে থাকে বিবাহিত এবং অবিবাহিতদের নিয়ে। নীল আকাশে কালো মেঘের উপস্থিতির ফটোগ্রাফি টা চমৎকার ছিল।আরও কিছুদিন যেহেতু থাকবেন,সুন্দর মুহূর্ত দেখা হবে পরবর্তী ব্লগগুলো তে।ধন্যবাদ ভাইয়া সুন্দর পোস্টটি শেয়ার করার জন্য।
ধন্যবাদ আপু, আমার অনুভূতি বুঝতে পারার জন্য, এটা সত্য সময়টা আসলেই আমার ভালো যাচ্ছে।