অনলাইনে কেনাকাটার অভিজ্ঞতা ❤️
হ্যালো,
আমার বাংলা ব্লগ বন্ধুরা কেমন আছেন সবাই।আশা করছি ভালো আছেন। আমিও ভালো আছি।আজ আমি আপনাদের মাঝে শেয়ার করবো অনলাইনে কেনাকাটা নিয়ে কিছু ভালো লাগা মন্দ লাগা কথা।আশা করছি আপনাদের ভালো লাগবে।
অনলাইন এই অনলাইনে সাথে আমরা সবাই যুক্ত। অনলাইনের ব্যাবহার করেন না এমন মানুষ হাতে গোনা বর্তমান সমাজে।অন-লাইনে যেমন ভালো দিক রয়েছে তেমনি কিছু খারাপ দিক ও রয়েছে। আমরা যে ভাবে গ্রহণ করি আর কি।তবে কখনো কখনো অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবেই এর কুপ্রভাব পড়ে আমাদের জীবনে।অনলাইনের ভালো দিক গুলোর মধ্যে এক কথায় বলবো ঘরে বসে আমরা বিশ্ব হাতের মুঠোয় পেয়েছি। এই যে আমরা ঘরে বসে বাংলা ব্লগের মাধ্যমে টাকা ইনকাম করছি সেটিও এই অন-লাইনের কল্যানে।এরকম হাজারও সুবিধা ভোগ করে থাকি আমরা।দেশের যে কোন প্রন্তে আপনজন থাকুক না কেন কাছে থাকার অনুভব হয় আমাদের। আমার ইদানীং অনলাইনে কেনাকাটা করার অভ্যাসে পরিনত হয়ে গেছে বলতে গেলে।আগেও কেনা কাটা করতাম কিন্তুু কম ইদানীং বেশি করে থাকি।এবার পূজার সব শপিং অনলাইনে করেছি।সব গুলোই যেমন টা চেয়েছি তেমনটাই পেয়েছি। ঠকিনি যে তা নয়।প্রথম প্রথম অনলাইনে কেনাকাটা করতে গিয়ে বেশ করেকবার যেমনটা দেখছি তেমনটা পাইনি।মনটা খুব খারাপ হয়ে গিয়েছিল তখন ভেবে নিয়েছিলাম কোনদিন আর অনলাইনে কেনাকাটা করবো না। কিন্তুু যখন ভালো কয়েক টা পেজের সন্ধান পেলাম তখন আবারও কেনাকাটা শুরু করে দিলাম।আর ভালোই পেলাম।শুধু কি আমরা ঠকি অনেক সময় অনলাইনের ব্যাবসায়িরাও ঠকে থাকেন কাষ্ঠমারদের কাছে।যেমন ওনাদের লাইভ দেখার সময় জানতে পেলাম অনেকেই আছে আবেগে পরে অর্ডার করে দেন একাধিক পন্য।পরে ডেলিভারি ম্যান ফোন দিলে তারা নানান টালবাহানা দিয়ে অর্ডার গ্রহণ করেন না কিংবা ফোন ধরেন না।আমি সব সময় অনলাইনে কেনাকাটার সময় বলে দেই হোমডেলিভারি হবে তো যদিও বা বর্তমানে সব হোম ডেলিভারি করে থাকে সব পেজ কিন্তুু কোন কোন সময় ডেলিভারি ম্যান ফোন করে বলেন বড়ো রাস্তায় আসেন ইত্যাদি।যদি ডেলিভারি ম্যান আমার সাথে টালবাহানা করে তখন বলে দেই ওনারা হোমডেলিভারি দেবে বলেই আমি অর্ডার করেছি। পূজায় সব কিছুই বাড়িতে বসে হাতে পেয়েছিলাম কিন্তুু কিছুদিন আগে বৃষ্টির দিনে ডেলিভারি ম্যান ফোন করে বল্লেন আপনাকে রাস্তায় আসতে হবে প্রডাক্ট নিতে চাইলে।এর পর আমি তো রেগে আগুন সাফ বলে দিলাম আমি অর্ডার করেছি হোমডেলিভারি তাই বাড়িতে এসেই দিতে হবে।তখন ওনি রিকোয়েস্ট করলেন বল্লেন আপু প্লিজ যদি কাউকে পাঠাতেন কষ্ট করে আমার বাইকটা নষ্ট হয়ে গেছে। এই কথা শোনার পর আমার মনটা গেলো গলে।ভাবলাম কাউকে পাঠালে তো চেক করে নিতে পারবে না আমার মতো আমি তো দেখেশুনে অর্ডার করেছি।সমস্যা হলে চেঞ্জ করার অপশন আছে তবে তা ডেলিভারি ম্যানের সামনে চেক করতে হবে।তাই কি আর করা বাধ্য হয়ে ছাতা নিয়ে রওনা দিলাম। খুব বেশি দূর যেতে হবে না। তিন মিনিট হাটতে হবে।রওনা দিলাম পা টিপে টিপে হাটছিলাম বৃষ্টির রাস্তা। আমি গিয়ে একটি দোকানে দাড়ালাম দেখলাম ডেলিভারি ম্যানও হেটেই আসছে তখন নিশ্চিত হলাম সত্যি বাইক নষ্ট হয়েছে।আমাকে দেখে মুচকি হেসে বল্লেন আপু আপনি,,,,, পরিচয় দেবেন তো।আমাকে এই কথা বলার অর্থ এর আগেও সে ডেলিভারি দিয়েছে আমাকে।আজ ভেবেছে অন্য কেউ আসলে প্রতি দিন হাজার হাজার ডেলিভারি দেন ওনারা তাই এতো জনকে মনে রাখা কঠিন।দেখলে চিনতে পারেন। পরে ওনার মুখে কিছু কথা শুনে আমি রীতিমতো হতোবাক।ওনি বললেন আপু আমি বড়ো রাস্তায় আসতে বলেছি কারণ আমাদের সব ছিনতাই করে নেয় গ্রামের ভীতরে গেলে😒এরকম বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে আমাদের সাথে প্রডাক্ট অর্ডার করার পর যখন ডেলিভেরি ম্যান ডেলিভেরি করতে যায় তখন ছেলেপেলে দল বেঁধে এসে পিটিয়ে সব কিছু ছিনিয়ে নেয়।তখন রাগটা কমলো আর ভাবলাম আসলে মানুষ কতো খারাপ হয় আর কিছু মানুষের জন্য অন্যদেরকে ভুগতে হয়।এর পর আমি বিল পরিশোধ করে চলে আসলাম।আসার সময় ছেলেটি বল্লেন আর সমস্যা হবে না আপু এখন থেকে আপনার বাসায় গিয়ে ফোন দেব।এর পর একের পর অনলাইনে যতো অর্ডার করি আর ওনারা বাড়িতে এসে দিয়ে যান। বর্তমানে সব গুলো ডেলিভারি ম্যান খুব পরিচিত হয়ে গেছে তাই আর কোন বড়ো রাস্তায় গিয়ে আনতে হয় না।সবাই আমাকে চেনে এখন নাম দেখলেই শুধু ফোন দিয়ে কনফার্ম হয়ে নেন বাড়িতে আছি কি না।এর পরেই চলে আসেন।এই তো কয়েকদিন আগেও একটি বেডশিট অর্ডার করেছিলাম এবং হাতেও পেলাম।মেয়ে দুষ্টুটামি করে বেলুন দিয়ে সাজিয়েছে বিছানা।
এর পর আবার অর্ডার করেছিলাম ব্লাউজ। সেটিও হাতে পেলাম একদম অনেক সুন্দর যেমনটা দেখেছি ঠিক তেমনটাই পেয়েছি। দামটা একটু বেশি হলেও মান ভালো আছে।
এরপর ফেসবুকে লক্ষ্য করলাম ফলরমার বাংলাদেশ এ ৫০%অফ অফার চলছে।তাই ঝটপট অর্ডার করে নিলাম একটি লিপ পাউডার ও ব্লাস।ব্লাসটির দাম ১৪০০টাকা কিন্তুু অফারে আমি পেয়ে যাচ্ছি ৭০০ টাকায়।এরকম ব্লাসটির ও সেম দামে পেয়ে যাচ্ছি তাই অর্ডার করেই ফেল্লাম।
সারাদিন অনলাইনে পেজগুলোতে ঘুরঘুর করি আর পছন্দ হলে দাম করে ফেলি আর সাধ্যের ভিতরে হলে মনের আনন্দে অর্ডার করে ফেলি।আমার কিন্তুু বিষয় গুলো খুব ভালোই লাগে।কোথাও যেতে হয় না ঘরে বসে শুয়ে কাজের ফাঁকে পছন্দ করতেও পারি।এখন মাথায় চেপে বসেছে ভারতের কেয়া সেট এর কিছু অর্ডার করতে হবে।একদিন হোয়াটসঅ্যাপ এ যোগাযোগ করলাম ওনারা বলেদিলেন আপনি চার পাঁচ টা শাড়ি অর্ডার করলে আপনার জন্য সুবিধা হবে তাই চুপচাপ আছি কারণ বর্তমানে চার পাঁচ টি শাড়ির কোন প্রেয়োজন নেই আমার।তবে অর্ডার করবো সময় সুযোগ নিয়ে।এই ছিলো আমার আজকের অনলাইনে কেনাকাটার অভিজ্ঞতার পোস্ট। আশা করছি আপনাদের ভালো লাগবে।আজ এখানেই শেষ করছি। আবারও আপনাদের সাথে দেখা হবে অন্য কোন পোস্টের মাধ্যমে। সে পর্যন্ত সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন।
টাটা
| পোস্ট | বিবরণ |
|---|---|
| পোস্ট তৈরি | @shapladatta |
| শ্রেণী | রেসিপি |
| ডিভাইস | OppoA95 |
| লোকেশন | গাইবান্ধা, বাংলাদেশ |
আমি হৈমন্তী দত্ত। আমার স্টিমিট আইডিরঃshapladatta. জাতীয়তাঃ বাংলাদেশী। শখঃবাগান করাও নিরবে গান শোনা,শপিং করা। ভালো লাগে নীল দিগন্তে কিংবা জোস্না স্নাত খোলা আকাশের নিচে বসে থাকতে।কেউ কটূক্তি করলে হাসি মুখে উড়িয়ে দেই গায়ে মাখি না।পিছু লোকে কিছু বলে এই কথাটি বিশ্বাস করি ও সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি।বিপদকে ও অসুস্থতার সাথে মোকাবেলা করার সাহস রাখি সহজে ভেঙ্গে পরি না। সবাইকে নিয়ে ভালো থাকার চেষ্টা করি আর মনে প্রাণে বিশ্বাস করি পর হিংসা আপন ক্ষয়। ধন্যবাদ ।
আমিও আমার নিজের প্রয়োজনীয় বেশিরভাগ জিনিসই অনলাইন থেকে কেনাকাটা করি। এখন দোকানে গিয়ে আর তেমন কিনতে ইচ্ছা করে না। অনলাইনে যেহেতু এত সহজে কেনা যায় তাহলে দোকানে গিয়ে কষ্ট করার কি দরকার। আপনিও ডিসকাউন্টে অনেক কিছু কিনেছেন দেখছি। আবার জিনিসগুলো মানে ভালো জেনে ভালো লাগলো। জেনে বুঝে অনলাইন থেকে কিনতে পারলে ঠকার সম্ভাবনা খুবই কম থাকে। ভালো লাগলো আপনার অনলাইনের শপিং দেখে।
আমারও আর দোকান ঘুরে ঘুরে কিনতে ইচ্ছে করে না।ধন্যবাদ আপু সুন্দর কমেন্ট করার জন্য।
বর্তমান সময়ে বাজার ঘুরে-ঘুরে জিনিসপত্র কেনার সময় বা ধৈর্য্য সবার থাকে না আর তাই সময় এবং কষ্ট বাঁচানোর জন্য অনলাইন কেনাকাটায় সবাই ঝুঁকে পড়েছে।তোমার বিছানার চাদর টা খুবই সুন্দর হয়েছে আর আমার মা অনেক সুন্দর করে সাজিয়েছে এতে করে আরও সৌন্দর্য বেড়ে গেছে।গতবারের পছন্দ করা ব্লাউজ হাতে পেয়েছো অবশেষে😅।ফ্লোরমারের সবকিছু অনেক ভালো।দাম কমে পেয়েছো এটা জেনে ভালো লাগলো।সবমিলিয়ে অসাধারণ লেগেছে আমার কাছে।আর কেয়া শেঠ এর থেকে পাঁচ টা শাড়ি কিনলে আমাকে একটা দিও😁😁😁অগ্রিম ধন্যবাদ।
একদম ঠিক বলেছেন গতবারের পছন্দের ব্লাউজ এবার তারাতাড়ি অর্ডার করেছি স্টকআউট হওয়ার আগেই।হাহাহা হ্যাঁ তাই দিতে হবে না হয় চাঁদা তুলে শাড়ি কিনতে হবে 🤪।ধন্যবাদ সুন্দর কমেন্ট করার জন্য।
আমি বেশ কয়েকবার অনলাইনে কেনাকাটা করে ধোকাবাজির শিকার হয়েছিলাম তাই অনলাইনে কিনতে খুবই ভয় হয়। বিশেষ করে দারাজে। এখন তো প্রতিটা মানুষ অনলাইনে সীমাবদ্ধ। অনলাইন যেমন ভালো দিকও আছে ও খারাপ দিকেও আছে। আমরা যেমন অনলাইনে অনেক সময় ব্যয় করি স্টিমিট প্ল্যাটফর্মে এটা কিন্তু খুব একটা ভালো দিক। আবার অনেক খারাপ দিকেও আছে যারা ফেসবুক চালিয়ে অযথা সময় নষ্ট করে । আমাদের ভালো-মন্দ টা বুঝে নিতে হবে নিজেই। আমিও প্রথম প্রথম যেমনটা আশা করেছি তেমনটা পায় নাই খুবই খারাপ লাগতো। ডেলিভারি ম্যান রা অনেক সময় অনেক চালাকি করে। খুবই খারাপ লাগলো যে গ্রামে আসলে মানুষজন ছিনতাই করে নাই। এমন ঘটনা তো আজকে প্রথম শুনলাম। যাক একের পর অধিক অর্ডার করেন আর ওনারা বাড়ি দিয়ে যান। বেশ ভালো। আমিও মাঝে মাঝে অনলাইন থেকে নিয়।ডেলিভারি ম্যান রা আমাকে চিনে গেছে দেখলেই কথা বলে।আপনি বেশ সুন্দর কয়েকটি জিনিস অর্ডার করেছেন এবং ঠিকমতো পেয়েছেন দেখে ভীষণ ভালো লাগলো। ধন্যবাদ আপু আপনার অভিজ্ঞতা তুলে ধরার জন্য
ভালো পেজ থেকে কিনবেন ঠকবেন না আমিও ঠকে ঠকেই চালাক হয়েছি এখন ভালো পেজে বাছাই করে কিনি অনলাইন থেকে।ধন্যবাদ ভাইয়া সুন্দর কমেন্ট করার জন্য।
অনলাইনে শপিং করতে করতে আপনাকে সবাই চিনেই ফেলেছে। এখন ঘরে বসে বসে মার্কেটিং করতে পারেন। কি সুন্দর সুবিধা হয়েছে। বেডশিট টা সত্যিই দারুন। আপনার মেয়েও খুব সুন্দর করে সাজিয়েছে। অনলাইনের বদৌলতে ঘরে বসে সব পেয়ে যান। ধন্যবাদ।
হ্যাঁ ভাইয়া বেডশিট টা সত্যি সুন্দর। ধন্যবাদ সুন্দর গুছিয়ে কমেন্ট করার জন্য।
অনলাইনে অর্ডার করতে আসলেই খুব ভালো লাগে, যদি বিশ্বস্ত পেইজ পাওয়া যায়। আমি দারাজ থেকে মাসে দুএকবার বিভিন্ন জিনিস অর্ডার করে থাকি। হোম ডেলিভারি দিয়ে যায় বলে বেশ ভালোই লাগে। যখন দক্ষিণ কোরিয়াতে ছিলাম, প্রায় প্রতিদিনই অনলাইন থেকে অর্ডার করতাম। জামাকাপড়, জুতা থেকে শুরু করে চাল,ডিম,দুধ এবং নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও অর্ডার করতাম। সেখানে ডেলিভারি খুব দ্রুত দেয়। মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যেই নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ডেলিভারি দিয়ে যেতো। ঘরে শুয়ে শুয়ে অর্ডার দিতে বেশ ভালোই লাগে। মার্কেটে গেলে তো হাঁটাহাঁটি করতে করতে পা ব্যথা করে। যাইহোক বেশ ভালোই কেনাকাটা করেছেন অনলাইনের মাধ্যমে। ডেলিভারি ম্যানদের কাছ থেকে টাকা পয়সা ছিনতাই করার কাজটা খুবই জঘন্য। পোস্টটি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপু।
ঠিক বলেছেন ভাইয়া ঘরে শুয়ে বসে পছন্দ করে তারপর অর্ডার করে পন্য থাতে পাওয়াটা সত্যি খুব ভালো লাগার বিষয়। ধন্যবাদ সুন্দর মন্তব্য কারার জন্য।
আমি অনলাইনে আগে অনেক কিছু কিনতাম এইজন্য ডেলিভারি ম্যান গুলো আমার খুব পরিচিত হয়ে গেছিল, আপনার ক্ষেত্রে যেমনটা হয়েছে । আপনার অনলাইনে কেনাকাটার অভিজ্ঞতা শুনে অনেক ভালো লাগলো দিদি। অনেক কিছুই শপিং করলেন যা দেখছি। অনলাইনে কেনাকাটা আমরা সবাই করে থাকি। আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সাথে এটা এখন জড়িয়ে পড়েছে। এটা কিন্তু ঠিক কথা বলছেন দিদি অনলাইনে আমরা অনেক সময় যেমন ঠকি তমন ভাবে ব্যাবসায়িরাও ঠকে থাকে কাষ্ঠমারদের কাছে।
ধন্যবাদ ভাইয়া আমার পোস্ট টি পড়ে সুন্দর করে গুছিয়ে মন্তব্য করার জন্য।