গর্ভধারিনী মায়ের মনে- আঘাত দিও না কেউ, তাঁর হৃদয়ে সঞ্চিত যে হাজার ব্যাথা ঢেউ,,,,😭
সকলকে শুভেচ্ছা। আশা করি সকলেই ভালো আছেন। আলহামদুলিল্লাহ আমিও বেশ ভালো আছি। আর আপনারা সবাই সব সময় ভালো থাকবেন। এটাই প্রত্যাশা করি।
আজ গর্ভধারিনী মা নিয়ে কিছু লেখার চেষ্টা করলাম। আশা করি অনেকের কাছে ভালো লাগবে।
গর্ভধারিণী মা
এই জগতে মা জননীর
নেইতো উপমা।
গর্ভধারিনী মায়ের মনে-
আঘাত দিও না কেউ,
তাঁর হৃদয়ে সঞ্চিত যে
হাজার ব্যাথা ঢেউ,,,,😭
গর্ভধারিনী মায়ের মনে আঘাত দিও না কেউ" এই অণু কবিতার ভাবসোপ্প্রসারণ হল:
মা হলেন সন্তানদের জীবনের অপরিহার্য অংশ, যিনি ভালোবাসা, স্নেহ ও ত্যাগের প্রতীক। কবিতায় মা’র হৃদয়ে জমা থাকা কষ্ট ও যন্ত্রণার কথা উঠে এসেছে। আমাদের অজ্ঞতায় মা’র ব্যথা নষ্ট হয়, অথচ তাঁর মধ্যে যে অসীম শক্তি ও সহানুভূতি রয়েছে, তা আমরা প্রায়শই উপেক্ষা করি।
মায়ের কষ্টের বোঝা আমরা বুঝতে পারি না, কিন্তু তাঁর ভালোবাসা সবসময় আমাদের জন্য নিবেদিত। তাই কবিতাটি আমাদের সতর্ক করে যে, মায়ের অনুভূতি এবং যন্ত্রণার প্রতি যত্নবান হওয়া উচিত। আমরা যেন তাঁর হৃদয়ে নতুন করে আঘাত না করি, বরং তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রদর্শন করি।
সার্বিকভাবে, কবিতাটি মায়ের প্রতি মানবিকতা, সহানুভূতি এবং তার ত্যাগের মূল্য বোঝার আহ্বান জানায়।
🥀 জেনারেল রাইটিং🥀
গর্ভধারিনী মা, আমাদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং অমূল্য ব্যক্তিত্ব। তিনি শুধু একটি মানবসন্তানের জন্মদাত্রী নন, বরং আমাদের জীবনের প্রথম শিক্ষক, পথপ্রদর্শক এবং সঙ্গী। মাতৃত্বের মধ্যে একটি গভীর শক্তি ও ত্যাগ নিহিত থাকে, যা শুধুমাত্র একটি মা বুঝতে পারে।
মা যখন গর্ভধারণ করেন, সেই সময় থেকেই তিনি সন্তানটির জন্য সবকিছু উৎসর্গ করেন। মাতৃত্বের প্রথম পর্যায় থেকেই শুরু হয় তার স্নেহ, যত্ন এবং ভালোবাসার এক অনন্য গাঁথা। সন্তান যখন ছোট, তখন মা তার প্রতিটি চাহিদা পূরণের জন্য রাতদিন পরিশ্রম করেন। তাঁর বুকে যে শান্তি ও নিরাপত্তা, তা আমাদের শৈশবের সুখের ভিত্তি। মা আমাদের কোলের আদরে, গল্পের ঝরে, জীবনের প্রথম পাঠ শেখান; তিনি আমাদের শেখান কিভাবে হাঁটতে, কথা বলতে এবং সামাজিক মূল্যবোধ রপ্ত করতে।
বড় হয়ে যখন আমরা জীবনের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হই, তখন মা আমাদের সাহস ও অনুপ্রেরণা দেন। তিনি আমাদের স্বপ্ন দেখতে উৎসাহিত করেন এবং সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য পরিশ্রমের গুরুত্ব শেখান। মাতৃস্নেহের সেই অমল দান আমাদের আত্মবিশ্বাসী করে তোলে, যা আমাদের সামনে যেকোনো বাধা অতিক্রম করতে সাহায্য করে।
মা শুধুমাত্র আমাদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য নয়, বরং আমাদের মানসিক ও আত্মিক বিকাশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর উষ্ণতার ছোঁয়া আমাদের মনে স্নেহ, সমবেদনা এবং মানবিক গুণাবলী গড়ে তোলে। আমাদের জীবনের সব সাফল্যের পেছনে তাঁর উৎসাহ ও প্রেরণা অনস্বীকার্য।
এমনকি যখন আমরা বড় হয়ে নিজেদের জীবনের পথে চলতে শুরু করি, তখনও মা আমাদের পাশে থাকেন, আমাদের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিতে বলেন এবং আমাদের সিদ্ধান্তগুলোতে সঠিক দিকনির্দেশনা দেন। তিনি যেন আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় সমর্থক, যিনি আমাদের প্রতিটি সফলতায় গর্বিত হন এবং বিপদে সাহস যোগান।
গর্ভধারিনী মাকে শুধুমাত্র একটি জীবনের অংশ নয়, বরং একটি অমূল্য সম্পদ হিসেবে গণ্য করা উচিত। তাঁর স্নেহ ও ত্যাগের জন্য আমরা চিরকাল কৃতজ্ঞ। মায়ের ভালোবাসা এবং সহানুভূতি আমাদের জীবনকে রাঙিয়ে তোলে এবং তাঁকে ভুলে যাওয়া আমাদের জন্য কখনো সম্ভব নয়। তাই গর্ভধারিনী মা প্রতিটি সন্তানের জীবনে এক অনন্য এবং অমূল্য ভূমিকা পালন করেন, যার জন্য আমরা আজীবন কৃতজ্ঞতা জানাই।
!
বন্ধুরা আমার আজকের এই রাইটিং টি , নিশ্চয়ই আপনাদের কাছে ভালো লেগেছে। আর আপনাদের ভালোলাগাই আমার সার্থকতা ও পরম পাওয়া। সকলের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে আজকের মত এখানেই বিদায় নিচ্ছি। পরবর্তীতে আবারো সুন্দর সুন্দর ব্লগ নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হব। আমি সেলিনা সাথী
💞
🥀 ধন্যবাদ 🥀
আমি সেলিনা সাথী। ছন্দের রাজ্যে, ছন্দরাণী কাব্যময়ী-কাব্যকন্যা বর্তমান প্রজন্মের নান্দনিক ও দুই বাংলার জনপ্রিয় কবি সেলিনা সাথী। একধারে লেখক, কবি, বাচিক শিল্পী, সংগঠক, প্রেজেন্টার, ট্রেইনার, মোটিভেটর ও সফল নারী উদ্যোক্তা তার পুরো নাম সেলিনা আক্তার সাথী। আর কাব্যিক নাম সেলিনা সাথী। আমি নীলফামারী সদর উপজেলায় ১৮ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। আমার বাবা পিতা মরহুম শহিদুল ইসলাম ও মাতা রওশনারা বেগম। ছড়া কবিতা, ছোট গল্প, গান, প্রবন্ধ, ব্লগ ও উপন্যাস ইত্যাদি আমার লেখার মূল উপজীব্য। আমার লেখনীর সমৃদ্ধ একক এবং যৌথ কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫ টি। আমার প্রথম প্রকাশিত কবিতার বই অশ্রু ভেজা রাত, উপন্যাস মিষ্টি প্রেম, যৌথ কাব্যগ্রন্থ একুশের বুকে প্রেম। জীবন যখন যেমন। সম্পাদিত বই 'ত্রিধারার মাঝি' 'নারীকণ্ঠ' 'কাব্যকলি'সহ আরো বেশ কয়েকটি বই পাঠকহমলে বেশ সমাদৃত। আমি তৃণমূল নারী নেতৃত্ব সংঘ বাংলাদেশ-এর নির্বাচিত সভাপতি। সাথী পাঠাগার, নারী সংসদ, সাথী প্রকাশন ও নীলফামারী সাহিত্য ও সংস্কৃতি একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। এছাড়াও আমি জেলা শাখার সভাপতি উত্তোরন পাবনা ও বাংলাদেশ বেসরকারি গ্রন্থাগার পরিষদ নীলফামারী জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছি। তিনি মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০১৪ সালে নীলফামারী জেলা ও রংপুর বিভাগীয় পর্যায়ে সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদানের জন্য শ্রেষ্ঠ জয়িতা অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছি। এছাড়াও সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় ও সামাজিক সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বিশেষ অবদান রাখায় আমি বহু সম্মামনা পদক অর্জন করেছি। যেমন সাহিত্যে খান মইনুদ্দিন পদক ২০১২। কবি আব্দুল হাকিম পদক ২০১৩। শিশু প্রতিভা বিকাশ কেন্দ্র কর্তৃক সম্ভাবনা স্মারক ২০১৩। সিনসা কাব্য সম্ভাবনা ২০১৩। বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উদযাপন উপলক্ষে সম্মামনা স্মারক ২০১৩। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৩৭ তম মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে সম্মাননা স্মারক ২০১৩। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এর ১১৫ তম জন্ম জয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে ২০১৪। দৈনিক মানববার্তার সম্মামনার স্মারক ২০২৩। চাতক পুরস্কার চাতক অনন্যা নারী সম্মাননা ২০২৩ ওপার বাংলা মুর্শিদাবাদ থেকে মনোনীত হয়েছি।
বিষয়:
কমিউনিটি : আমার বাংলা ব্লগ
আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ জানাই এই কমিউনিটির সকল সদস্য কে, ধন্যবাদ.......
অনেক সুন্দর কথা লিখেছেন আপনি। আসলে মায়ের কোন কিছুর সাথে তুলনা করা যায় না। মা মানে একমাত্র সে মহামূল্যবান সম্পদ যার ভালবাসা কখনো নিঃশ্বাস হয় না। অনেক ভালো লাগলো আপু আপনার সুন্দর লেখা দেখে।
আপু আপনার লেখাগুলো পড়ে আবেগপ্রবণ হয়ে গিয়েছিলাম। গর্ভধারিনী মাকে কখনো কষ্ট দেওয়া উচিত নয়। সন্তানরা অনেক সময় না বুঝেই মাকে কষ্ট দিয়ে ফেলে। আসলে একজন মা সন্তানকে অনেক ভালোবেসে বড় করে তুলে। আর সেই সন্তান কষ্ট দিলে সত্যি হলে খারাপ লাগে।
আসলে গর্ভধারিণী মাকে নিয়ে আপনার কথাগুলো একদম অসাধারণ মনে হয়েছে আমার কাছে। কেননা এই গর্ভধারিনী মায়ের ঋন আমরা কখনো শোধ করতে পারব না এবং তাকে যদি আমরা কখনো কষ্ট দিয়ে থাকি তাহলে আমাদের মত পাপী কাজ আর কেউ হয়তোবা কখনো করবে না। তাইতো আমরা সব সময় মাকে ভালবাসব এবং মায়ের আঁচল তলে যতদিন লুকিয়ে থাকবো ততদিন কেউ কিন্তু আমাদের আঘাত করতে পারবে না।
আমরা যখন ছোট থাকি তখন মাকে খুব মিস করি। কিন্তু আস্তে আস্তে যতই বড় হতে থাকি ততই যেন বাবা-মায়ের কদর আমাদের মত অনেক সন্তানদের কাছে হারিয়ে যায়। আসলে গর্ভধারিনী মায়ের ঋন তো কোনদিন কখনোই শোধ করা যাবে না, কোন কিছু দিয়ে।