ফটোগ্রাফি পোস্টঃজীবিকা - ২।
শুভেচ্ছা সবাইকে।
কেমন আছেন সবাই ? আশাকরি ভালো আছেন।প্রত্যাশা করি সব সময় যেনো ভালো থাকেন। আজ ১৮ই ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, শরৎ-কাল। ২রা সেপ্টেম্বর, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ। বন্ধুরা, আমার বাংলা ব্লগের নিয়মিত ব্লগিংয়ে আজ হাজির হয়েছি নতুন আর একটি ব্লগ নিয়ে। প্রতি সপ্তাহে একটি করে ফটোগ্রাফি ব্লগ শেয়ার করার চেস্টা করি। তারই ধারাবাহিকতায় আজও একটি ফটোগ্রাফি ব্লগ নিয়ে এসেছি। এই ফটোগ্রাফিগুলো করেছিলাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে।বেশ কিছুদিন আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় গিয়েছিলাম একটি কাজে। কাজের ফাঁকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ডু মেরেছিলাম। প্রায় প্রতি দিনেই কোন না কোন অনুষ্ঠান লেগে থাকে শহীদ মিনারে। তাছাড়া দর্শনীয় স্থান হিসেবে প্রচুর মানুষ আসে শহীদ মিনার চত্ত্বরে। বিশেষ করে বিকেল থেকে রাত অবধি প্রচুর মানুষের সমাগম থাকে শহীদ মিনার ঘিরে। আর যেখানে মানুষের সমাগম আছে সেখানে ব্যবসাও আছে। ভ্রাম্যমান বাহারি পণ্যের ব্যবসা। জীবিকার তাগিদে মানুষ বিভিন্ন ব্যবসা করে জীবন নির্বাহ করছে। সেদিন শহীদ মিনারে বাহারি পণ্যের কিছু ফটোগ্রাফি করেছিলাম। এর মধ্যে কিছু ফটোগ্রাফি আপনাদের সাথে শেয়ার করেছিলাম। আর আজ আরও কিছু ফটোগ্রাফি শেয়ার করছি । আশাকারি জীবিকা শিরোনামে ভিন্ন স্বাদের ছবি গুলো আপনাদের ভালো লাগবে।
প্রথম ফটোগ্রাফি
বেশ প্রচলিত ও সবার প্রিয় একটি স্টিট ফুড হলো ফুচকা বা ভেল পুরি। বিভিন্ন ধরনের টক ব্যবহার করে এই ভেল পুরিগুলো তৈরি করা হয়। প্রতিটি কলসিতে রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের টক। সাথে রয়েছে নরমাল স্বাদের ফুচকা ও দই ফুচকা। তবে এই খাবারগুলো বেশ অস্বাস্থ্যকর। তবে খেতে বেশ মজা। নগরীর বিভিন্ন স্থানে এই খাবার বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে এক শ্রেনীর জনগন।
দ্বিতীয় ফটোগ্রাফি
বিচিত্র সব জীবিকার মধ্যে রয়েছে কাঁচের চুড়ি বিক্রি করা। বিভিন্ন রং এর কাঁচের চুড়ি বিক্রি করা হচ্ছে এই দোকানটিতে। বিক্রি করছেন একজন মহিলা। আজকাল জীবনের তাগিদে মেয়েরাও রাস্তায় বসে বিভিন্ন জিনিস বিক্রি করে। তাই দিয়ে তাদের পরিবার চলে।
তৃতীয় ফটোগ্রাফি
স্ট্রিট ফুডের মধ্যে আরেকটি জনপ্রিয় খাবার হলো চানাচুর মাখা। টমেটো,শশা,বোম্বে মরিচ,লেবু ও আরও অনেক উপকরণে বানানো হয় এই চানাচুর মাখা। বেশ মজা খেতে । যদিও এই খাবারটিও স্বাস্থ্যকর নয়। তবে বিকাল বেলার রাস্তার ধারে আড্ডায় প্রধান খাবার হল এই চানাচুর মাখা। আর চানাচুর বিক্রির টাকায় চলে বিক্রেতার সংসার।
চতুর্থ ফটোগ্রাফি
আজকাল এই বাদাম কুলফিও বেশ বিক্রি হচ্ছে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে। প্রচুর পরিমাণে বাদাম দিয়ে বানানো হয় এই কুলফি। তবে কখনও খাওয়া হয়নি স্বাস্থ্যকর নয় বলে।
পঞ্চম ফটোগ্রাফি
কত বিচিত্র পেশা যে রয়েছে রাস্তায় বের না হলে দেখা যায় না। এই ভাই বিক্রি করছেন বিভিন্ন ধরনের ক্লিপ,চুলের বিভিন্ন ডিজাইনের ব্যান্ড,হিজাব পিন। একটি টেবিলের উপর জিনিসপ্ত্র সাজিয়ে বিক্রির জন্য বসে পরেছেন।জানালেন বেচা বিক্রিও বেশ ভালই। পাইকারী দরে চকবাজার থেকে মালামাল নিয়ে আসেন। তাই লাভও মোটামুটি। এই ব্যবসা থেকে আয় দিয়ে তার তিনজনের সংসার চলে জানালেন বিক্রেতা।
ষষ্ঠ ফটোগ্রাফি
এই ভাই বিক্রি করছেন ছোলা মাখা। শশা টমেটো ও বিভিন্ন ধরনের মশলা ব্যবহার করে এই ছোলা মাখা বানানো হয়। বিকাল তিনটে থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত এই ছোলা মাখা বিক্রি করেন বিক্রেতা। জনবহুল স্থানেই বসে এই ছোলা মাখার দোকান। কেবল একটি মাত্র টুলেই বসে এই দোকান।
সপ্তম ফটোগ্রাফি
এই ভাইটি বিক্রি করছেন বিভিন্ন ডিজাইন এর টিপ ও বিভিন্ন ধরনের গহনা। এই সকল গহনার বেশি ভাগই চীনের ।দাম মোটামুটি নাগালের মাধ্যেই। স্কুল ,কলেজ ও কর্মজীবি মহিলারই এর প্রধান ক্রেতা। বেশ ভালই বিক্রি হয় বলে জানালেন বিক্রেতা।
আশাকরি জীবিকা শিরোনামে ভিন্ন স্বাদের ফটোগ্রাফি গুলো আপনাদের ভালো লেগেছে।।আবার দেখা হবে নতুন কোন ব্লগ নিয়ে। সেই পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন-নিরাপদে থাকুন।শুভ সন্ধ্যা।
পোস্ট বিবরণ
| শ্রেনী | ফটোগ্রাফি |
|---|---|
| পোস্ট তৈরি | @selina 75 |
| মোবাইল | Samsung A10 |
| তারিখ | ২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৫ |
| লোকেশন | ঢাকা,বাংলাদেশ |
আমার পরিচয়
আমি সেলিনা আখতার শেলী। জন্মসূত্রে বাংলাদেশী। জন্ম,বেড়ে ওঠা চট্রগ্রাম শহরে। চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনশাস্ত্রে অনার্স-মাস্টার্স। দীর্ঘ দিন সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের অধিকার রক্ষায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় কাজ করেছি। স্বামীর বাড়ী দিনাজপুরে,বর্তমানে ঢাকায় থাকি।ঘুরে বেড়ানো,বই পড়া,অজানাকে জানা,নিত্য নতুন রান্না ও বিভিন্ন ধরণের হাতের কাজ করা আমার শখ।দেশাত্ববোধ,দেশীয় শিল্প,সাহিত্য ও সংস্কৃতি আমার অন্যতম ভালো লাগা। এদেশে জন্মগ্রহণ করে আমি গর্বিত।
https://x.com/selina_akh/status/1962897833264296046
Link
https://x.com/selina_akh/status/1962898225784107280
ফটোগ্রাফি গুলো অনেক সুন্দর হয়েছে আপু। শ্রমজীবী মানুষের চিত্র আপনি অনেক সুন্দর করে তুলে ধরেছেন। প্রত্যেকটা ফটোগ্রাফিতে যেন এক একজনের জীবনধারা তুলে ধরেছেন আপু।
ঠিক তাই প্রতিটি ছবি এক একটা জীবনের গল্প। মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ আপু।