রেসিপিঃকচুরমুখি ভর্তা।

in আমার বাংলা ব্লগ10 months ago

শুভেচ্ছা সবাইকে।

কেমন আছেন সবাই? আশাকরি ভালো আছেন। আমিও ভালো আছি।প্রত্যাশা করি সবাই সব সময় ভালো থাকেন,নিরাপদে থাকেন। আজ ২২শে ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, শরৎ-কাল। ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ। । আজ একটি রেসিপি পোস্ট আপনাদের সাথে শেয়ার করবো।

r15.jpg

r17.jpg

বন্ধুরা নিয়মিত ব্লগিং এ আজ হাজির হয়েছি নতুন আর একটি ব্লগ নিয়ে।আজ একটি ভর্তা রেসিপি শেয়ার করবো।আমরা সকলে ভর্তা পছন্দ করি।ভর্তা দিয়ে স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বেশি ভাত খাওয়া যায়।আমি প্রায়ই বিভিন্ন ধরনের ভর্তা করি। আজও করেছিলাম। সেই ভর্তা রেসিপিটি আজ আপনাদের শেয়ার করবো। আজ করেছিলাম কচুরমুখি ভর্তা। এই কচু বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন নামে পরিচিত। চট্টগ্রামে বলা হয় গুরা কচু,দিনাজপুরে বলা হয় কচুর বঈ আবার ঘাটি কচু নামেও পরিচিত এই কচু। যেই নামেই ডাকা হোক না কেনো এই কচুতে রয়ে ফাইবার, ভিটামিন, মিনারেলস এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা শরীরকে সুস্থ রাখে এবং বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয়।কচুরমুখি হজমশক্তি বৃদ্ধিতে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে, দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে এবং রক্তশূন্যতা দূর করতে অত্যন্ত উপকারী। এছাড়া ক্লান্তি দূর করে, ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখে। রেসিপিটি তৈরি করতে আমি উপকরণ হিসাবে ব্যবহার করেছি কচুরমুখি সহ আরও কিছু উপকরণ। বন্ধুরা, তাহলে আর দেরী না করে চলুন দেখে নেয়া যাক,রেসিপি তৈরির ধাপ সমূহ। আশাকরি ভালো লাগবে আপনাদের।

প্রয়োজনীয় উপকরণ

r1.jpg

r4.jpg

o17.jpg

কচুরমুখি
শুকনো মরিচ
লবন
রসুন কুচি
পিঁয়াজ কুচি
সরিষার তেল

কচুরমুখি ভর্তা তৈরির পদ্ধতি

ধাপ - ১

r2.jpg

প্রথমে কচুরমুখির খোসা ছাড়িয়ে নিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিয়েছি।

ধাপ - ২

r3.jpg

একটি হাড়িতে পরিমাণ মতো পানি ও লবন দিয়ে, ছিলে রাখা কচু ও কয়েক কোয়া রসুন দিয়ে চুলায় সিদ্ধ হতে বসিয়ে দিয়েছি।

ধাপ - ৩

r5.jpg

r6.jpg

শুকনো মরিচ ও পিয়াজ সরিষার তেলে ভেজে নিয়েছি।

ধাপ - ৪

r8.jpg

r9.jpg

ভাজা শুকনো মরিচ ও কয়েক কোয়া রসুন একত্রে বাটনায় বেটে নিয়েছি। কাঁচা রসুন দিলে এই ভর্তা খেতে বেশ মজা লাগে।

ধাপ-৫

r10.jpg

r11.jpg

এবার সিদ্ধ করা কচুগুলো দিয়ে ভালোভাবে বেটে নিয়েছি।

ধাপ - ৬

r12.jpg

r13.jpg

r14.jpg

সব শেষে ভেজে নেয়া পিঁয়াজ ও পরিমাণ মতো সরিষার তেল দিয়ে ভালোভাবে মেখে নিয়েছি। এবং একটি প্লেটে তুলে নিয়েছি।

পরিবেশন

r15.jpg

r16.jpg

r17.jpg

r18.jpg

সব শেষ শুকনো মরিচ দিয়ে সাজিয়ে নিয়েছি পরিবেশনের জন্য। সাথে কিছু ফটোগ্রাফি করে নিয়েছি আপনাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।

আশাকরি, আজকে তৈরি করা কচুরমুখি ভর্তা রেসিপিটি আপনাদের ভালো লেগেছে। আমি চেষ্টা করি সব সময় নতুন নতুন রেসিপি শেয়ার করতে। এবারও সেই চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। আবার দেখা হবে নতুন কোন রেসিপি নিয়ে সেই পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন। শুভ রাত্রি।

পোস্ট বিবরণ

শ্রেণিরেসিপি
ক্যামেরাRedme-A5
পোস্ট তৈরি@selina 75
তারিখ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ইং
লোকেশনঢাকা,বাংলাদেশ

আমার পরিচয়

আমি সেলিনা আখতার শেলী। জন্মসূত্রে বাংলাদেশী। জন্ম,বেড়ে ওঠা চট্রগ্রাম শহরে। চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনশাস্ত্রে অনার্স-মাস্টার্স। দীর্ঘ দিন সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের অধিকার রক্ষায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় কাজ করেছি। স্বামীর বাড়ী দিনাজপুরে,বর্তমানে ঢাকায় থাকি।ঘুরে বেড়ানো,বই পড়া,অজানাকে জানা,নিত্য নতুন রান্না ও বিভিন্ন ধরণের হাতের কাজ করা আমার শখ।দেশাত্ববোধ,দেশীয় শিল্প,সাহিত্য ও সংস্কৃতি আমার অন্যতম ভালো লাগা। এদেশে জন্মগ্রহণ করে আমি গর্বিত।

সাথে থাকার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ

image.png

image.png

image.png

Sort:  
 10 months ago 

কচুরমুখি ভর্তা আমার খুবই প্রিয়। গরম ভাতের সাথে খেতে দারুন লাগে। অনেক সুন্দর ভাবে আপনি এই কচুরমুখি ভর্তা রেসিপি তুলে ধরেছেন আপু। উপস্থাপনা অনেক সুন্দর হয়েছে।

 10 months ago 

xp.png

xp1.png

xp2.png

 10 months ago 

cmc.png

 10 months ago 

আজ আপনি অনেক মজাদার একটা রেসিপি তৈরি করেছেন। আমার কাছে আপনার তৈরি করা রেসিপিটা দেখে খুব ভালো লেগেছে। এরকম মজাদার রেসিপি গুলো দেখলে অনেক লোভ লেগে যায়। জিভে জল চলে আসার মত একটা রেসিপি তৈরি করেছেন আপনি। রেসিপিটা দেখেই তো বোঝা যাচ্ছে কতটা সুস্বাদু হয়েছিল।

 10 months ago 

যে কোন ভর্তা খেতেই অনেক মজা হয়। কচুমুখির ভর্তাও দারুন হয় খেতে। ধন্যবাদ আপু।

 10 months ago 

এত মজাদার ভাবে একটা রেসিপি তৈরি করে সবার মাঝে শেয়ার করেছেন। এটা দেখতে এত লোভনীয় লাগে যে, জিভে জল চলে আসলো দেখেই। মজাদার রেসিপিটা তৈরি করার পদ্ধতি সুন্দর করে উপস্থাপন করলেন। এটা দেখে অনেক ভালো লাগলো। আমার তো মনে হয় আপনার তৈরি এই রেসিপিটা সবারই অসম্ভব পছন্দ হবে। আমার কিন্তু দারুণ পছন্দ হয়েছে।

 10 months ago 

ভর্তা খেতে আমার ভীষণ ভালো লাগে। তবে কচুর মুখি ভর্তা কখনো খেয়ে দেখিনি। এমন সুন্দর এবং লোভনীয় একটি রেসিপি শেয়ার করেছেন যা দেখে এমন লোভনীয় ভর্তা তৈরি করা শিখতে পারলাম। ধন্যবাদ।

 10 months ago 

যেকোনো ধরনের ভর্তা গরম ভাতের সাথে খেতে আমার কাছে বেশ ভালো লাগে। আপনার কচুর মুখির ভর্তা রেসিপি দেখে খেতে ইচ্ছে করছে। পরিবেশন টাও খুব চমৎকার হয়েছে। ধন্যবাদ মজাদারও পছন্দের একটি রেসিপি শেয়ার করার জন্য।

 10 months ago 

ঠিক বলেছেন আপু গরম ভাতের সাথে খেতে দারুন লাগে। মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.101
BTC 64104.44
ETH 1820.21
USDT 1.00
SBD 0.38