রোগ যেন আমার পিছু ছাড়ে না।
প্রিয় বন্ধুরা সবাই কেমন আছেন?
আলহামদুলিল্লাহ আমিও ভাল আছি প্রচুর গরম তারপরও নিজেকে ভালো রাখার চেষ্টা করি। গরমের তীব্রতা আর সহ্য হচ্ছে না দিন দিন গরমের মাত্রা আরো বেড়ে যাচ্ছে। যদি একটু বৃষ্টি হয় তাহলে পরিবেশটা অনেক শান্ত হতো। সারাদিন অনেক বিজি ছিলাম কারণ বাসায় গেস্ট আসছিল তাদেরকে খাওয়া-দাওয়া করালাম। যখন পোস্ট লিখতে বসবো তখন দেখি ওয়াইফাই কানেকশন নেই। তখন বেশ কয়েকবার চেক করলাম আসে না। যখন ফাইনালি দেখলাম রাউটারের মধ্যে রেড সিগন্যাল তখন সাথে সাথে ভাইকে ফোন দিলাম। কারণ কানেকশনটা আমার মামাতো ভাইয়ের অফিস থেকে নিয়েছি। সেই জন্য কোন সমস্যা হলে সার্ভিস টাও বেশ তাড়াহুড়ো করে দিয়ে দেয় আমার এটা একটা বাড়তি সুবিধা।
তবে এত গরমের মধ্যে নিজেকে সুস্থ রাখা কিংবা নিজে পরিবারের মানুষজনকে সুস্থ রাখা বেশ জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি ভাবছি রোগ যেন আমার পিছু ছাড়তেছে না। এই তো কিছুদিন হলো মাত্র আমার বড় মেয়ে এবং ছোট মেয়ে দুইজনেরই পক্স থেকে ভালো হলো। পক্স ভাইরাস সত্যি কত ভয়ংকর তা আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করেছিলাম। পক্সের দাগ এখনো শরীর থেকে যায়নি অনেক দাগ আছে শরীরে বাচ্চাদের। আমার মনে হয় এই দাগ এত সহজে যাবে না কারণ পক্সের পরিমাণ অনেক বেশি ছিল।
কিন্তু সুস্থ হতে না হতেই আবার এই গরমের দিনে ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত। বলতে গেলে একের পর এক ভাইরাস রোগে আক্রান্ত হচ্ছে আমার বাচ্চারা। কেন জানি এত বেশি কেয়ার করি তারপরও রোগ আমার পিছু ছাড়েনা। কথায় বলে না যেখানে বাঘের ভয় সেখানে রাত হয়। আমারও তাই হয়েছে আমি রোগকে বেশি ভয় পাই সেজন্য রোগ আমাকে অনেক বেশি পছন্দ করে। গত বার যখন পক্স ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিল আমার বড় মেয়ের তখনও তার ক্লাস টেস্ট ছিল। শুনেছি পক্স নিয়ে এক বাচ্চা ক্লাস করেছিল তার পর থেকে পুরো স্কুলের বাচ্চাদের মধ্যে ছড়ায় গেল।
এবারেও যখন দ্বিতীয় ক্লাস টেস্ট নিচ্ছে তখন ও ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত হল। এখন দেখছি এই ভাইরাস গুলো স্কুল থেকে ছড়াচ্ছে যা বুঝলাম বাচ্চাদের। কারণ স্কুলে একজন বাচ্চা অসুস্থ হলে সেই বাচ্চাকে বেশি পড়ালেখা করানোর জন্য ভাইরাস কিংবা বিভিন্ন রোগ নিয়ে স্কুলে পাঠায় দেয়। এরপরে দেখবেন সব বাচ্চারা সেই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। কিন্তু স্কুলে বলা আছে কোন বাচ্চা যেন রোগ নিয়ে স্কুলে না আসে। কিন্তু কিছু অবিভাবক তা শুনেনা বাচ্চাদের বেশি পড়াতে চাই। আমার মেয়ের দুই বার ভাইরাসে আক্রান্ত হল দুইবারই স্কুল থেকে নিয়ে আসলো ভাইরাস গুলো। কারণ ভাইরাস যেহেতু ছোঁয়াচে রোগ তাহলে সাবধান থাকা উচিত। তবে সেটার ক্ষেত্রে গার্ডিয়ানদের অনেক বেশি সচেতন হওয়া উচিত। কেন শুধু শুধু আপনার বাচ্চার কারণে আমি ভুক্তভোগী হব? এই সচেতনতা জিনিসটা আজকাল বেশি গ্রাজুয়েশন অর্জন করা শিক্ষিত গার্ডিয়ানরাই বেশি করে থাকেন দেখছি।
এদেরকে শিক্ষিত না বলে শিক্ষিত নামে কলঙ্কিত করা উচিত। কারণ যাদের মধ্যে ন্যূনতম মানবিকতা কিংবা সচেতনতা থাকে না তাদেরকে শিক্ষিত বলা এক ধরনের বোকামি। কারণ আমি যেহেতু জ্বর নিয়ে কিংবা ভাইরাস নিয়ে বাচ্চাকে স্কুলে পাঠাবো কিন্তু সাথে সাথে শত শত বাচ্চারা অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে। সেটা যদি আমি একজন সচেতন মানুষ হয়ে আমার ভিতরে মানবিকতা বোধ না হয় তাহলে আমি কি মনুষ্যত্ববোধ অর্জন করলাম পড়ালেখা করে? আমার বাচ্চা অনেক কষ্ট পাচ্ছে অনেক দিন যাবত অসুস্থ কিন্তু ওষুধে কোন কাজ হচ্ছে না। কারণ ভাইরাস জ্বর হলে খুব সহজে যায় না অনেক দিন জ্বর থেকে যায়। আলহামদুলিল্লাহ আজ একটু করে কম মনে হচ্ছে আমার কাছে। তিন চার দিন একশ দুই ডিগ্রীর উপরে ছিল জ্বর।
বড় মেয়ে একটু সুস্থ হচ্ছে এখন ভয় হচ্ছে ছোট মেয়েকে নিয়ে। সেও বলতেছে বমি বমি লাগতেছে এখন আর করার কিছু নেই ওকেও সাথে ডাক্তার দেখায় নিলাম ওষুধ কিছু দিল। তবে এখনো জ্বর হয় নাই দোয়া করবেন সবাই। আমার ছোট মেয়ে যেন এই ভাইরাস জ্বর থেকে একটু বেঁচে যেতে পারে।
| লেখার উৎস | নিজের অনুভূতি থেকে |
|---|---|
| ইমেজ সোর্স | Device- Wiko-T3 |
| অবস্থান | কক্সবাজার, বাংলাদেশ |
| রাইটিং ক্রিয়েটিভিটি | @samhunnahar |
| ক্যাটাগরি | জেনারেল রাইটিং |
সবাইকে অনেক ধন্যবাদ সময় দিয়ে আমার ব্লগটি বিজিট করার জন্য।
🥀আল্লাহ হাফেজ সবাইকে🥀
আমি সামশুন নাহার হিরা। আমার ইউজার আইডি @samhunnahar। আমি আমার বাংলা ব্লগে কাজ করছি বাংলাদেশের কক্সবাজার থেকে। আমি বাংলা ভাষায় লিখতে-পড়তে অনেক ভালবাসি। রান্না করতে আমি অনেক পছন্দ করি। তাছাড়া সময় পেলে ভ্রমণ করি আর প্রকৃতিকে অনুভব করি। ফটোগ্রাফি করতে আমার ভীষণ ভাল লাগে। আমি মাঝে মাঝে মনের আবেগ দিয়ে কবিতা লেখার চেষ্টা করি। আমার প্রিয় শখের মধ্যে তো গান গাওয়া অন্যতম। আমার মনের ভাব বাংলায় প্রাকাশ করতে পেরে অনেক আনন্দিত। তার জন্য আমার প্রাণের/ভালবাসার কমিউনিটি "আমার বাংলা ব্লগ"কে অনেক ভালবাসি।
https://steemit.com/hive-129948/@samhunnahar/ac5zj
ঠিক বলেছেন আপু যদি বৃষ্টি হয় তাহলে পরিবেশটা অনেক শান্ত হতো। এই গরমে সুস্থ থাকা অনেক কঠিন ব্যাপার। ছোট বড় সবাই অসুস্থ হয়ে পড়ছে। আর যদি গরমের মধ্যে মেহমান আসে তাহলে আরো ঝামেলার ব্যাপার। ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত হয়ে যদি স্কুলে না আসতো তাহলে অন্য বাচ্চারা সুস্থ থাকতো।
ঠিক বলছেন আপু একটু যদি বৃষ্টি হতো পরিবেশটা একটু শান্ত হতো। অনেক ধন্যবাদ দোয়া করবেন সব সময়।
শুনে সত্যি খারাপ লাগলো আপু ৷ কদিন আগে তো বড় ভাগনি ছিল ৷ এখন আবার দেখি ছোটও কি অবস্থা একটা ৷ আর বর্তমান সময় যে রোদ গরম তাতে জনজীবন অতিষ্ঠ ৷ যা হোক খুব তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠুক ভাগনি এমনটাই প্রতার্শা করি ৷
আপনি ঠিক বলছেন আসলে গরমের কারণে রোগ অনেক বেড়ে গেছে দিন দিন।
আসলে আপু ধৈর্য ধরেন নিশ্চয় ই সৃষ্টিকর্তা রোগ মুক্ত করে দিবেন। বর্তমানে যেভাবে গরম পড়তেছে সুস্থ মানুষও হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়তেছে। গরমের কারণে মানুষ খুবই অস্বস্তির মধ্যে রয়েছে। জনজীবন খুবই অতিষ্ঠ। তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠুক এই আশাবাদ ব্যক্ত করি।
যেমন গরমের তাপমাত্রা বেশি তেমন লোডশেডিং অনেক বেশি সব মিলিয়ে যেন জীবন অতিষ্ঠ।
আপু একদম ঠিক কথা বলেছেন, যেখানে বাঘের ভয় সেখানেই রাত হয়।যারা রোগ কে বেশি ভয় পায় রোগ তাদের পিছু ছাড়তে চায় না এমনটা আমার সাথেও হয়।আপনার মতো আমিও ভুক্তভোগী আপু। অনেকদিন আগে আমার ছোট মেয়ে স্কুল থেকে আসার কয়েক ঘন্টা পর দেখি ওর গাল আস্তে আস্তে ফুলে যাচ্ছে।সারাদিন পর তো এতটাই ফুলে গেলো যা দেখে আমি খুব ভয়ে পড়ে গেলাম তারপর ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার পর ডাক্তার বললেন মামস্ হয়েছে আর এটা ছোঁয়াচে রোগ।পরে জানতে পারলাম ওর পাশের সিটের বাচ্চাটার মামস্ ছিলো কতদিন ভুগেছি মেয়েকে নিয়ে।আসলেই আমাদে একটু সচেতনতা থেকে অনেক বাচ্চা অসুস্থার হাত থেকে রক্ষা পাবে।আপু মামনিদের জন্য অনেক অনেক শুভকামনা রইলো।
কিছু কিছু মানুষের ভুলের কারণে অন্য কিছু মানুষ কষ্ট পায় তবে এই বাচ্চাকে মাক্স পরে আসা উচিত ছিল স্কুলের মধ্যে।
এই গরমে আসলে সুস্থ থাকা অনেক কঠিন ব্যাপার। দোয়া করি যাতে আপনার বাচ্চারা অনেক তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে ওঠে এবং ছোট মেয়ে জ্বর থেকে মুক্তি পায়। আসলে যেগুলো ভাইরাস জনিত রোগ এই সময় বাচ্চাদেরকে স্কুলে না পাঠানোই উচিত । কারণ একজনের থেকে আরেকজনের এগুলো ছড়ালে অনেক বাচ্চাই অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাই আমাদের খুব সচেতন থাকতে হবে।
হ্যাঁ আপু অনেক ধন্যবাদ আপনাকে দোয়া করবেন সব সময় যাতে ভালো থাকতে পারি সবাই।
Twitter Share Link
বাচ্চাদের এই এক অসুবিধা একজন অসুস্থ হলে আরেকজন ও অসুস্থ হয়ে যায়। তাছাড়া যে গরম পরেছে বড়রাই অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে আর ছোটদের কথা কি বলবো। আপনার বড় মেয়ে একটু সুস্থ হয়েছে জেনে ভালো লাগলো। ছোট জনকে সাবধানে রাখবেন। দোয়া রইলো বাচ্চাদের জন্য।
জি আপু এক বাচ্চার হলে অন্য বাচ্চারও হয়ে যায় এটা বড় সমস্যা। দোয়া করবেন আপু অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
আপু আপনার মেয়েদের ফক্স হয়েছিল সেটা শুনেছিলাম। এখন আবার ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত হলো। আসলে কিছু কিছু অভিবাক অসুস্থ বাচ্ছাদেরকেও স্কুলে পাঠিয়ে দেয় বেশি বেশি পড়াশোনা করার জন্য। এর ফলে অন্য বাচ্ছারা কষ্ট পায়। যায়হোক আশা করি খুব তারাতারি সুস্থ হয়ে যাবে। ধন্যবাদ আপু।
সে জন্য তো বলছি ভাইয়া রোগ যেন আমাকে ছাড়তেছে না একের পর এক আমার ঘরে আক্রমণ চালাচ্ছে রোগে।
আসলে আপু বৃষ্টি হলে অনেক ভালো হতো। গরমের কারণে মানুষ অনেক অতিষ্ঠ। আপনার পোষ্টের মধ্যে আগে জানলাম আপনার মেয়ে দুটি অসুস্থ ছিলেন পক্সের কারণে। এখন নতুন করে আবার অসুস্থ হয়ে পড়ল। আপনি ঠিক বলেছেন ভাইরাস কারণে অনেকে অসুস্থ হচ্ছে এই অবস্থা ছেলেমেয়েদের স্কুলের না পাঠালে ভালো। ভাইরাসজনিত অসুখের কারণে অন্যান্য ছাত্র-ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়বে। তবে আপনার বাচ্চাদের জন্য দোয়া রইল যেন তাড়াতাড়ি তারা সুস্থ হয়।
এইসবের বড় ঝামেলাটা হচ্ছে গরমের কারণে। গরম আসার কারণে সবাই খুব কম সময়ের মধ্যে হঠাৎ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়তেছে।