ট্রাভেলিংঃ- কক্সবাজার প্যারাসেইলিং পয়েন্টে ঘোরাঘুরি।
আসসালামু আলাইকুম/আদাব,
@amarbanglablog কমিউনিটির সকল ব্লগার ভাই ও বোনেরা আসসালামু আলাইকুম। আশা করি সকলেই ভালো আছেন পড়ন্ত বিকেলে। তো বন্ধুরা শুক্রবার শনিবার সবার দিনকাল কেমন কাটলো। আমার তো বেশ ভালোই কাটল শুক্রবার দিন অনেক ঘোরাফেরা করলাম। তাছাড়া শনিবারে অনেক ব্যস্ত সময় কাটালাম। সবকিছু মিলিয়ে অসাধারণ একটি সময় কাটল। আলহামদুলিল্লাহ বেশ ভালোই আছি পরিবার পরিজনকে নিয়ে। আশা করি আপনারাও সুন্দর সময় কাটালেন। এছাড়া পরিবারের সবাইকে নিয়ে নিশ্চয়ই ভালো আছেন সেই কামনা করি। তো বন্ধুরা আবার উপস্থিত হয়ে গেছি নতুন একটা ব্লগ নিয়ে। আশা করি আমার আজকের ব্লগিং আপনাদের ভালো লাগবে। তাহলে শুরু করা যাক বন্ধুরা………
তো বন্ধুরা কিছুদিন আগে হিমছড়িতে যখন ঘুরতে গিয়েছিলাম তখন প্যারাসেইলিং পয়েন্টে ঘোরাঘুরি করেছি। সত্যি বলতে একটা কথা না বললে নয় সেটা হচ্ছে কক্সবাজারের শহরের দিন দিন বীচের পয়েন্টের সংখ্যা অনেক বেড়ে যাচ্ছে। আসলে যে পয়েন্ট খোলা হোক না কেন খুব জনপ্রিয়তা পাই। বিশেষ করে পর্যটকরা অনেক বেশি আনন্দ উপভোগ করেন এই নতুন নতুন পয়েন্টে ঘুরে। কক্সবাজার থেকে শুরু করে টেকনাফ পর্যন্ত অনেক গুলো বীচ পয়েন্ট আছে। প্রত্যেকটি পয়েন্ট অনেক সুন্দর বলতে হয়। যদিও কক্সবাজার শহরে আছি নিজেই কিন্তু প্রত্যেকটা পয়েন্টে এখনো যাওয়া হয়নি আমার। তবে প্যারাসেইলিং পয়েন্টে আগে থেকে চিনি কিন্তু এত সুন্দর ছিল না আগে। তাও অনেক ছোটবেলায় একবার গেছিলাম।
তবে সেই পয়েন্টকে বিভিন্ন জনে ভিন্ন ভিন্ন নামে চিনে থাকেন। দরিয়া নগর ও বলা যায়। যখন আমরা ইনানী ঘুরতে গেলাম তখন আসার পথে হিমছড়িতে নামলাম। হিমছড়ি থেকেই আর একটু পরেই প্যারাসেইলিং পয়েন্ট। বলতে গেলেই কিছু দূর যেয়েই প্যারাসেইলিং পয়েন্ট। বিশেষ করে এই জায়গায় গুলো শুটিংয়ের জন্য অনেক বেশি ব্যবহার করা হয়। এখানে বিভিন্ন ধরনের প্যারাসেইলিং করা হয়। অবশ্যই আমার শেয়ার করা ফটোগ্রাফির মাধ্যমে আপনারা বুঝতে পারছেন। বিশেষ করে যারা গানের শুটিং করে। এছাড়া ও বিভিন্ন বাংলা মুভির শুটিংয়ের জন্য প্যারাসেইলিং করা হয়। বিভিন্ন জন ব্লগিং করেন। তবে এই জায়গায় বেশি করে থাকেন। এছাড়াও অনেকেই সখের বসে করে থাকেন ইচ্ছে থাকে অনেকের করার। এক একটা প্যারাসেইলিং এর জন্য অনেক টাকা তারা নিয়ে থাকেন।
আমি সেখানে একজন থেকে জানতে চাইলাম কত টাকা নেই জানালেন একজন ৪০০০ টাকা করে।আমার তো দেখেই বেশ ভালোই লেগেছে অনেক জনপ্রিয় একটি পয়েন্ট। যদিও মানুষের আনাগোনা তেমন নেই এই জায়গায়। নিরিবিলি পরিবেশে এখানে প্যারাসেইলিং করতে খুবই ভালো লাগবে। কারণ আমরা যখন গিয়েছিলাম তখন লোকজন বেশি থাকার কথা না। কারণ যেহেতু বর্ষাকাল ছিল তখন এই জায়গাতে প্রচুর পরিমাণ পানি ছিল। এখন শীতকাল এসেছে পানির সংখ্যা কমে গেছে তাই এখন মানুষের ভিড় অনেক বেশি হবে। বিশেষ করে পর্যটকদের অনেক সংখ্যা বেড়ে যাবে। তবে যখন বর্ষাকাল মৌসুমে গিয়েছিলাম তখন এত বেশি আনন্দ করতে পারি নাই এই জায়গাতে।
কিন্তু ভাবছি এই শীতকালে একবারে ঘুরে আসব। বিশেষ করে লম্বা কাঠের ব্রিজের উপরে দিয়ে এই প্রান্ত থেকে ওই প্রান্তে যাওয়াটাই অনেক মজার একটি ব্যাপার। এই ব্রিজের মধ্যে বর্ষাকালে ওঠা যায় না। পানিতে একদম ভরপুর হয়ে গেছে। তাছাড়া যেসব জায়গায় ঘন গাছপালা দেখা যাচ্ছে ঝাউ গাছ সেখানেও প্রচুর পরিমাণ পানি। তো শীতকাল আসলে যেহেতু পানি শুকিয়ে যাবে তাহলে এই কাঠের ব্রিজ দিয়ে একপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে বেশ মজা করা যায়। সুন্দর একটি জায়গা তবে নিজেই এখনো উপভোগ করতে পারিনি। কিন্তু বিভিন্ন ধরনের ভিডিও কিংবা ফটোগ্রাফির মাধ্যমে দেখেছি।
ইচ্ছে ছিল যাওয়ার জন্য কিন্তু সুযোগ হয়নি। তাছাড়া এখানে অনেক বেশি বড় বড় পাথর গুলো আছে। যেগুলো আসলেই তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। যাতে রাস্তায় আঘাত না আসে। এখন তো মেরীন ড্রাইভ রোড এই রাস্তা। এই বীচ পাটোয়ারটেক এর মত বেশ সুন্দর দেখতে। সমুদ্রের অনেক নিচ পর্যন্ত এই পাথর গুলো দেওয়া আছে। যখন পানি নিচে নেমে যায় সেখানে বসে ফটোগ্রাফি নিলে অনেক ভালো দেখায়। তাছাড়া এই পাথর গুলোতে বসে অনেক দূরে বসা যায় অনেক নিচে বসা যায়। আমার বসার সুযোগ হয়নি যেহেতু পানি বেশি ছিল। যখন জোয়ারের পানি নিচে নেমে যাই তাছাড়া শীতকালে আসে বেশ ভালোই দেখায় এই পয়েন্টের সমুদ্র পাড়।
তাছাড়া তেমন কোন দোকানপাট ছিল না। কয়েকটি দোকানপাট ছিল মাত্র। এই পয়েন্টে যেহেতু বর্ষাকালের জন্যই এতো বেশি জনপ্রিয় না। তাই দোকানপাটগুলো তেমন বসে না বর্ষা মৌসুমে। তবে শীতকাল আসলে বেশ জমজমাট একটি পরিবেশ তৈরি হয়ে যায়। বন্ধুরা আশা করি আমার আজকের ব্লগিং আপনাদের ভালো লেগেছে। এই মুহূর্তটি আমি অনেক সুন্দর করে উপভোগ করেছিলাম। তবে সেখানে আমি বেশিক্ষণ অপেক্ষা করি নাই। কারণ দুপুরে রোদের তাপমাত্রা অনেক বেশি ছিল। যেহেতু গাছপালা একটু কম ছিল তাই অনেক বেশি তাপ ছিল। তো সেখান থেকে সোজা আমরা রাস্তা উপরে চলে আসি।
| ডিভাইসের নাম | Wiko,T3 |
|---|---|
| মডেল | W-V770 |
| Location | কক্সবাজার প্যারাসেইলিং পয়েন্ট |
| ফটোগ্রাফার | @samhunnahar |
| ক্যাটাগরি | ট্রাভেলিং |
সবাইকে অনেক ধন্যবাদ সময় দিয়ে আমার লেখা পড়ার জন্য।
🥀আল্লাহ হাফেজ সবাইকে🥀
আমি সামশুন নাহার হিরা। আমার ইউজার আইডি @samhunnahar। আমি আমার বাংলা ব্লগে কাজ করছি বাংলাদেশের কক্সবাজার থেকে। আমি বাংলা ভাষায় লিখতে-পড়তে অনেক ভালবাসি। রান্না করতে আমি অনেক পছন্দ করি। তাছাড়া সময় পেলে ভ্রমণ করি আর প্রকৃতিকে অনুভব করি। ফটোগ্রাফি করতে আমার ভীষণ ভাল লাগে। আমি মাঝে মাঝে মনের আবেগ দিয়ে কবিতা লেখার চেষ্টা করি। আমার প্রিয় শখের মধ্যে তো গান গাওয়া অন্যতম। আমার মনের ভাব বাংলায় প্রাকাশ করতে পেরে অনেক আনন্দিত। তার জন্য আমার প্রাণের/ভালবাসার কমিউনিটি "আমার বাংলা ব্লগ"কে অনেক ভালবাসি।
আপু আপনি বেশ ভালোই কক্সবাজার প্যারাসেইলিং পয়েন্টে ঘোরাঘুরি করেছেন। আসলে আপু আপনি কক্সবাজারের সব পয়েন্ট গুলো ঘুরে দেখেননি হয়তো আস্তে আস্তে দেখা হবে। তবে মাঝে মাঝে এভাবে ঘোরাঘুরি করলে অনেক ভালো লাগে আর মন অনেক ভালো থাকে। নিশ্চয় আপনারা অনেক সুন্দর একটি সময় কাটিয়েছেন। ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর কাটানো মূহুর্ত আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
চেষ্টা করি আপু নতুন নতুন দৃশ্য দেখার জন্য। সেই সাথে আনন্দ উপভোগ করার। অনেক ভালো লাগলো আমার পোস্ট পড়লেন। অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
মোটামুটি এই দিন আমারো ভালোই কেটেছে।
যাইহোক তাহলেতো এই যায়গায় শীতকালেই ভ্রমণ করতে হবে। জায়গাটাও বেশ সুন্দর। মেয়েদুটো বেশ কিউট।😍দুজনের নাম কি?
শুনে ভালো লাগলো যেহেতু দিনটি আপনার ভালো কেটেছে। অনেক ধন্যবাদ আমার পোস্ট আপনার ভালো লাগলো তাই।
বাংলাদেশ এ এখন পর্যটন শিল্প বেশ ভালোই উন্নত হয়েছে পাঁচ বছর আগের হিসেবেও। এর কারণেই অনেক সংখ্যক বীচ বেড়ে গিয়েছে। প্যারাসেলিং আমার লাইফের উইশলিস্টে রয়েছে। তবে কয়েক মিনিট মাত্র প্যারাসেইলিং এর জন্য ৪০০০ টাকা আমার কাছে অতিরিক্ত ই লাগে। এবং অনেক ক্ষেত্রেই প্যারাসেলিং এর ক্ষেত্রে যথাযথ সতর্কতাও অবলম্বন করে না৷ দোয়া কইরেন আপু, আশা করি অন্য কোথাও গিয়েই প্যারাসেলিং এর উইশ টা পূরণ করে ফেলবো। 😍 আর এখন শীতকাল এ জল কম থাকায় রুপ তো কিছুটা পরিবর্তন হবেই। আরেকবার ঘুরে আসলে এজ সময়ের রুপ নিয়েও বলবেন আপু।
জায়গাটা আপু ভীষণ সুন্দর ছিল। অনেক ধন্যবাদ সময় দিয়ে পড়ার জন্য।
কক্সবাজার প্যারাসেইলিং পয়েন্ট এর কথা আমিও আগেও শুনেছি অনেকবার আপু। আসলে জায়গাটা দেখেই মনে হচ্ছে শুটিং স্পট। কারণ আশেপাশের পরিবেশটা এত সুন্দর লাগছে আপনার ফটোগ্রাফির মাধ্যমে যেটা বলে বোঝানো যাবে না। তাছাড়া শীতকালে এমনিতেও সব জায়গায় টুরিস্ট অনেক বেশি হয়।
সত্যি আপু অনেক সুন্দর বিশেষ করে শীতকালে অনেক বেশি ভালো লাগে।
Twitter
আমার প্যারাসেইলিং টাইটেল দেখে ভাবলাম আপনি হয়তো প্যারাসেইলিং করেছেন। প্যারাসেইলিং করার জায়গাটাকে তাহলে একাধিক নামে জানা যায়। এবং এই জায়গা টা দেখছি বেশ সুন্দর। বেশ চমৎকার ফটোগ্রাফি করেছেন এবং লিখেছেন আপু। বেশ ভালো লাগল দেখে আপনার পোস্ট টা।
অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া।
আপু আপনি নিজে কক্সবাজার থাকেন আপনি যদি সব গুলো বিচ পয়েন্টে না জান তাহলে আমরা তো ভুলেও চিন্তা করতে পারি না। তবে হিমছড়ি যাওয়ার পথে এই জায়গাটি দেখিছিলাম। প্যারাসেইলিং করা হয় সেটা জানা ছিল না। আপনার থেকে জেনে ভালোই লাগলো। কত সুন্দর জায়গা দেখলেই মন হারিয়ে যায়। ধন্যবাদ।
একদম ঠিক বলছেন ভাইয়া আমার তো সব বীচ পয়েন্টে যাওয়া উচিত।