বেগুন টমেটো দিয়ে রুপচাঁদা মাছের ঝোল রেসিপি।
আমার বাংলা ব্লগ পরিবারের
আমি সামশুন নাহার হিরা@samhunnahar। বাংলা ভাষায় ব্লগিং প্রিয় বন্ধুরা এই পড়ন্ত বিকেলে আশা করি সবাই ভাল আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় ভাল আছি। প্রতিদিনের মত আজ ও নতুন একটি ব্লগ শেয়ার করার জন্য উপস্থিত হয়েছি। @amarbanglablog বন্ধুরা তাই আমি আজ নতুন একটি রেসিপি শেয়ার করার জন্য আপনাদের সাথে যুক্ত হয়েছি। আজ আমি যে রেসিপিটি আপনাদের সাথে শেয়ার করব সেটা হচ্ছে বেগুন টমেটো দিয়ে রুপচাঁদা মাছের ঝোল রেসিপি। সামুদ্রিক মাছের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে রূপচাঁদা মাছ। কালো রুপচাঁদা মাছ আমার অনেক ভালো লাগে খেতে।
আমার মেয়েদের অনেক প্রিয় একটি মাছ হচ্ছে সামুদ্রিক মাছের মধ্যে অন্যতম রুপচাঁদা মাছ। যেহেতু এই মাছের মধ্যে অনেক কাটা কম তাই বাচ্চারা খুব আগ্রহ দেখায় এই মাছ খাওয়ার জন্য। আমার বাসায় তো সামুদ্রিক মাছের মধ্যে রূপচাঁদা মাছ, ইলিশ মাছ, রিটা মাছ বেশি আনা হয়।
রূপচাঁদা মাছ বিভিন্ন ভাবে রান্না করে খাওয়া যায় বিভিন্ন সবজির সাথে। আমি প্রায় সময় বিভিন্ন সবজির সাথে কিংবা ভুনা করে রান্না করি। তবে আজ আমি রূপচাঁদা মাছ রান্না করেছি বেগুন টমেটো দিয়ে। আমার মেয়েদের রুপচাঁদা মাছ অনেক প্রিয় যেহেতু এই মাছ কাটা কম ফ্রাই করে দিলে বেশি খুশি হয়। যদিও সবজি তেমন একটা খেতে চাইনা তবুও আমি ভাত মেখে দেওয়ার সময় না দেখের মত করে মেখে দিই ভাতে সাথে। রুপচাঁদা মাছ ঝাল করে টমেটো বেগুন দিয়ে খেতে অনেক ভাল লাগে। সেই রেসিপি টি আজ আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করে নিব। চলুন তাহলে আমার আজকে রেসিপিটি কিভাবে তৈরি করেছি তা ধাপে ধাপে আপনাদের সাথে শেয়ার করে নিব।
| উপকরণ | পরিমাণ |
|---|---|
| রূপচাঁদা মাছ | ১০ পিস |
| বেগুন মাজারি সাইজ | ১ টি |
| টমেটো | ১ টি |
| সরিষা বাটা | ২ চামচ |
| পেঁয়াজ পেস্ট | ২ টি |
| রসুন পেস্ট | ৩ চামচ |
| আদা পেস্ট | ২ চামচ |
| লবণ | স্বাদমত |
| কাঁচা মরিচ পেস্ট | ৪ চামচ |
| লাল মরিচ গুঁড়া | ২ চামচ |
| হলুদ গুঁড়া | ২ চামচ |
| জিরা গুঁড়া | ১ চামচ |
| ধনে গুঁড়া | ২ চামচ |
| ধনে পাতা কুচি | পছন্দমত |
| তেল | পরিমাণ মত |
বেগুন টমেটো দিয়ে রুপচাঁদা মাছের রেসিপি
বেগুন টমেটো দিয়ে রুপচাঁদা মাছের রেসিপি
প্রথমে মাছ সাইজ করে কেটে নিয়ে ভাল করে পরিষ্কার করে ধুয়ে নিয়েছি। সব উপকরণ সমূহ পরিমাণ মত নিয়েছি। ধুয়ে রাখা মাছের মধ্যে হালকা করে লাল মরিচের গুঁড়া, হলুদ গুঁড়া, জিরা গুঁড়া, ধনে গুঁড়া এবং লবণ দিয়ে দিলাম। সব উপকরণ দেওয়া শেষ হয়ে গেলে ভালো করে হাত দিয়ে মাছের মধ্যে মেখে নিব সব উপকরণ সমূহ।
এখন একটি ফ্রাই প্যান বসিয়ে দিয়ে পরিমাণ মতো তেল দিয়ে মেখে রাখা সব মাছগুলোকে ভেজে নিতে হবে। ফ্রাই প্যান বসিয়ে দিয়ে তেল গরম হয়ে আসলে একে একে সব মাছ দিয়ে ভেজে নিয়েছি।
মাছগুলোকে সময় দিয়ে ভাজতে হবে কারণ এই ধরনের কাটা ছাড়া মাছগুলো ভাজতে অনেক সময় লাগে। এপিট ওপিট উল্টাই দিয়ে আমি মাছগুলোকে ভালো করে ভেজে নিয়েছি। মাছ ভাজা হয়ে গেলে একটি পাত্রে তুলে নেব ভাজা মাছগুলো।
এখন অন্য আরেকটি পাত্র চুলায় বসাই দিয়ে তাতে পরিমাণ মতো তেল দিয়েছি। তেল গরম হয়ে আসলে আগে থেকে তৈরি করে রাখা পেঁয়াজ পেস্ট, আদা রসুন পেস্ট ও সরিষা বাটা দিয়ে দিব।
পেঁয়াজ পেস্ট, আদা, রসুন পেস্ট ও সরিষা বাটা দিয়ে ভালো করে ভেজে নিতে হবে সবগুলোকে।
পেঁয়াজ, রসুন, আদা ও সরিষা বাটা হয়ে আসলে সাথে দিয়ে দিব লাল মরিচের গুঁড়া, ধনে গুঁড়া, জিরা গুঁড়া ও হলুদের গুঁড়া। সবগুলো দিয়ে ভালো করে মিক্স করে নিয়ে হালকা পানি দিব যাতে পুড়ে না যায়।
সব উপকরণ গুলোকে ভালো করে কষিয়ে নিতে হবে।
সব মসলা হয়ে আসলে এখন দিয়ে দেবো বেগুন ও টমেটো। বেগুন টমেটো আমি আগে থেকে সাইজ করে কেটে নিয়ে রেখেছিলাম সাথে এখন দিয়ে দিলাম।
বেগুন টমেটো কে হালকা করে সিদ্ধ করে নিয়েছি যেহেতু মাছ গুলো আগে থেকে ফ্রাই করা তাই। বেগুন ও টমেটো হালকা সিদ্ধ হয়ে আসলে সাথে দিয়ে দেব আগে থেকে ফ্রাই করে রাখা রূপচাঁদা মাছ। সব ফ্রাই করা মাছ দিয়ে দিলাম।
সাথে পরিমাণ মতো ঝোল এবং স্বাদমতো লবণ দিয়ে দিছি।
এখন সিদ্ধ করতে দিব বেশিক্ষণ সিদ্ধ করব না কারণ মাছগুলো যেহেতু আগে ফ্রাই করে রেখেছি। বেশিক্ষণ সিদ্ধ করলে মাছ ভেঙ্গে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে তাই।
পরিমাণ মতো সিদ্ধ হয়ে আসলে সাথে ধনে পাতা কুচি দিয়ে নামায় ফেলব চুলা থেকে।
পরিবেশনা
বেগুন টমেটো দিয়ে রূপচাঁদা মাছের রেসিপি যেহেতু তৈরি করা শেষ এখন খাবারের পালা। মূলত রান্না তো খাবারের জন্য তাই না তো খাবারটা কি রকম হয়েছে তাহলে তো টেস্ট করে দেখা দরকার। তাই রান্না করা তরকারি একটি বাটিতে নিয়ে নিলাম। সাথে গরম গরম পরিবেশনা খেতে কিন্তু অনেক মজার এই মাছ।
সামুদ্রিক মাছ তো আমার কাছে সব সময় ভালো লাগে। খেতে অসাধারণ হয়েছিল মেয়েরা অনেক মজা করে খেয়েছে যেহেতু কাটা কম সেজন্য। আশা করি আমার আজকে রেসিপিটি আপনাদের ভালো লেগেছে।
| ডিভাইসের নাম | Wiko,T3 |
|---|---|
| মডেল | W-V770 |
| ফটোগ্রাফার | @samhunnahar |
| ক্যাটাগরি | রেসিপি |
| আজ এখানে আমার লেখা সমাপ্তি করছি। আশা করি আমার আজকের রেসিপি সকলের ভাল লেগেছে। সবাই সুস্থ থাকবেন আর ভাল থাকবেন। |
|---|
আমার পরিচয়
আমি সামশুন নাহার হিরা।আমার ইউজার আইডি@samhunnahar।আমি আমার বাংলা ব্লগে কাজ করছি বাংলাদেশের কক্সবাজার থেকে।আমি বাংলা ভাষায় লিখতে-পড়তে অনেক ভালবাসি।আমি রান্না করতে পছন্দ করি।ভ্রমণ আমার প্রিয় একটি নেশা।আমি বিভিন্ন ফটোগ্রাফি করতে পছন্দ করি।ফটোগ্রাফি করা আমার শখের।এছাড়া কবিতা লিখতে আমার অনেক ভাল লাগে।গান গাওয়া আমার স্বপ্ন।আমার মনের ভাব বাংলায় প্রাকাশ করতে পেরে অনেক আনন্দিত।তাই আমি আমার প্রাণের কমিউনিটি "আমার বাংলা ব্লগ"কে অনেক ভালবাসি।
রূপচাঁদা মাছ আমারও খুবই পছন্দের। রূপচাঁদা মাছ ভুনা করে খেয়েছি তবে কোন সবজির সাথে রান্না করে খাওয়া হয়নি। আপনার রেসিপিটি দেখে বোঝা যাচ্ছে খেতে খুবই মজা হয়েছে। কালারটা খুবই লোভনীয় লাগছে। এভাবে একদিন তৈরি করে খেয়ে দেখব। ধন্যবাদ আপনাকে সুস্বাদু একটি রেসিপি শেয়ার করার জন্য।
হ্যাঁ আপু আমিও প্রায় সময় ভুনা করি এবং এছাড়াও বিভিন্নভাবে সবজি দিয়ে রান্না করার চেষ্টা করি।
https://steemit.com/hive-129948/@samhunnahar/6j7nbn
আচ্ছা এটা কেমন রুপচাঁদা আমি,যে রুপচাদা চিনি ঐটা দেখতে একেবারে চ্যাপ্টা।কাটলে তো এমন লাগার কথা না।যাই হোক টমেটো আর বেগুন দিয়ে মজার একটি রেসিপি আমাদের সাথে শেয়ার করেছেন।প্রতিটি ধাপ খুব সুন্দর করে দেখিয়েছেন। ধন্যবাদ
আপু অনেক প্রকারের রুপচাঁদা মাছ আছে। আপনি যেটা বলছেন সেটা তো পাতলা এবং সাদা। আর আমি যেটা রান্না করেছি সেটা কালো আর অনেক টা মোটা ওজনে চার/পাঁচ কেজির ও পাওয়া যায়। ধন্যবাদ আপু 😍😍😍।
বেগুন টমেটো দিয়ে রুপচাঁদা মাছের রেসিপি কখনো খাওয়া হয়নি। কারণ আমাদের এলাকায় রূপচাঁদা ভাজি করে দোপেয়াজু করে রান্না করা হয় । যাইহোক আপনাদের রেসিপিটি খুব ভালো লাগলো বাসায় একদিন ট্রাই করে দেখতে হবে ধন্যবাদ।
হ্যাঁ ভাইয়া আমরাও এভাবে রান্না করি তবে সব সময় তো একই খাবার ভালো লাগেনা মাঝেমধ্যে সবজি দিয়েও রান্না করে থাকি।
এটা ঠিক বলেছেন আপু মাঝে মাঝে ভিন্ন কিছু দিয়ে রান্না করে খাওয়া উচিত। ধন্যবাদ ফিডব্যাক দেওয়ার জন্য।
আপু আমার বাসাতেও রূপচাঁদা মাছের রেসিপি তৈরি করা হয়। খেতে বেশ দারুন লাগে, তাই বাজারে গেলে চোখে পড়লে আমি তা কিনে নিয়ে আসি। আর আপনার তৈরি রেসিপি দেখে খুবই লোভনীয় মনে হচ্ছে। ধনিয়া পাতা দেয়ার কারণে রেসিপির স্বাদ অনেকটাই বেড়ে গেছে। আর রন্ধন প্রণালী দেখেতো মুগ্ধ হয়ে গেলাম। এত মজাদার একটি রেসিপি সুন্দর উপস্থাপনার মাধ্যমে তুলে ধরার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ।
ঠিক বলছেন ভাইয়া ধনিয়া পাতা দেওয়ার কারণে আসলে রান্নার স্বাদ অনেকগুণ বেড়ে যায়।
বেগুন টমেটো দিয়ে রুপচাঁদা মাছের ঝোল রেসিপি দেখেই বোঝা যাচ্ছে খেতে ভীষণ সুস্বাদু হয়েছে। রুপচাদা মাছ অনেক দিন হয়ে গেলো খাওয়া হয়নি। আপনার রেসিপি দেখে ভালো লাগলো। ধন্যবাদ আপনাকে আপু।
এভাবে খেলে অনেক ভালো লাগে ভাইয়া তৈরি করে খেয়ে দেখবেন একদিন ভালো লাগবে।
আপু আপনার মেয়ে রূপচাঁদা মাছ খেতে পছন্দ করে জেনে অনেক ভালো লাগলো। আসলে সন্তানেরা মায়ের কাছে কোন কিছু আবদার করলে মা তা ফেলে দিতে পারে না। আর মেয়ের আবদার পূরণ করতে আপনি আজকে রূপচাঁদা মাছ রান্না করেছেন। আপনি বেগুন টমেটো দিয়ে খুব সুন্দর করে রান্না করেছেন। দেখে বোঝা যাচ্ছে অনেক সুস্বাদু হয়েছে। সুন্দর একটি রেসিপি মাঝে মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
জি ভাইয়া সন্তানদের ভালো-মন্দ দেখাশোনা তো আমাদের মা-বাবাদের দায়িত্ব তাই না!
বাহ আপু রেসিপি কালার দেখে মনে হচ্ছে খেতে অনেক মজা হয়েছে । সামুদ্রিক মাছের মধ্যে আমার কাছেও রূপচাঁদা মাছ অনেক ভালো লাগে আপু। তবে আমাদের এদিকে খুব কম সময় পাওয়া যায়। ধন্যবাদ আপনাকে আপু রূপচাঁদা মাছের মজাদার রেসিপি শেয়ার করার জন্য।
এদিকে অনেক সামুদ্রিক মাছ পাওয়া যায় আপু আমার খেতে অনেক ভালো লাগে ধন্যবাদ আপনাকে।
আপু আপনার মেয়েরা রুঁপচাদা মাছ পছন্দ করে জেনে অনেক ভালো লাগল। আসলে আপু আমার বাচ্চারা চিংড়ি আর ইলিশ বাদে কোন মাছ খায় না।রুপচাঁদা মাছ আমারো অনেক পছন্দ কিন্তু এখানে পাওয়া যায় না বলেই চলো।আপনার রেসিপি দেখে মনে হচ্ছে অনেক সুস্বাদু হয়েছে। আসলে শীতে টমেটো দিলে অনেক মজা হয়। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ সুন্দর একটি রেসিপি শেয়ার করার জন্য।
ঠিক বলছেন ওরাও চিংড়ি মাছ, রুপচাঁদা মাছ এবং ইলিশ মাছ ভীষণ পছন্দ করে।
মায়েরা সবসময় চেষ্টা করে মেয়েদের কিংবা সন্তানদের পছন্দের খাবার গুলো রান্না করতে। আপু আপনার মেয়ে রূপচাঁদা মাছ খেতে পছন্দ করে জেনে ভালো লাগলো। বেগুন এবং টমেটো দিয়ে যেকোনো মাছ রান্না করলেই খেতে ভালো লাগে। মনে হচ্ছে রূপচাঁদা মাছের এই রেসিপি ভালো হয়েছিল। অনেক অনেক ধন্যবাদ আপু মজার একটি রেসিপি তৈরির পদ্ধতি তুলে ধরার জন্য।
ঠিক বলছেন আপু মায়ের মন বলে কথা বাচ্চারা যেগুলো পছন্দ করে মায়েরা সবসময় সেগুলো করার চেষ্টা করে।