কক্সবাজার থিয়েটারে নাট্যোৎসব দেখার পর্ব-১।
আসসালামু আলাইকুম/ আদাব।
সবাইকে শুভ দুপুর। কেমন আছেন সবাই নিশ্চয়ই ভালো আছেন? আলহামদুলিল্লাহ আমিও ভাল আছি গতকাল খুবই মাথা ব্যথা ছিল আজকে একটু সুস্থ আছি। সব কিছু সৃষ্টিকর্তার নিয়ামত। তো আজকে তো বৃহস্পতিবার হ্যাংআউটের দিন। সবাই অনেক সুন্দর সুন্দর তথ্য প্রদান করবেন আমাদের প্রিয় এডমিন মডারেটর ভাই-বোনেরা। আমরা ভালো মন্দ অনেক কিছু জানতে পারবো নিজেদের সম্পর্কে। আশা করি সময়টা অনেক ভালো যাবে সেই অপেক্ষায় আছি। তো বন্ধুরা চলে এসেছি নতুন একটি ব্লগ নিয়ে। যেহেতু ব্লগিং এখন নেশায় এবং পেশায় পরিণত হয়েছে। তো সেই নিয়মে আজকেও চলে এসেছি আপনাদের সাথে নিত্যদিনের ব্লগিং গুলো শেয়ার করার জন্য।
আজকে আমি আপনাদের সাথে যে বিষয়টি শেয়ার করব সেটি হচ্ছে যে কিছু দিন আগে কক্সবাজার থিয়েটারে নাট্য উৎসব চলছিল তা দেখতে যাওয়ার অনুভূতি। একদিন মেয়েদেরকে নিয়ে গানের স্কুলে গিয়েছিলাম সেখানে আমাদের একজন দাদা অর্থাৎ যিনি গানের স্কুলের পরিচালক আমার হাতে একটা কার্ড দিলেন। বললেন ভাবি মেয়েদের কে নিয়ে আপনি থিয়েটারে যেয়ে নাটক গুলো দেখবেন। মেয়েরা তো অনেক বেশি এক্সাইটেড ছিল। এক নাগারে অনেক দিন নাটক গুলো থিয়েটারে চলছিল। তো বেশ কয়েকটা নাটক আমি দেখেছি মেয়েদের সাথে। প্রথম দিন ওরা ওদের বাবার সাথে গিয়েছিল। দেখে তো বেশ ভালো লেগেছে তাদের তাই আমাকে বিরক্ত করছিল নিয়ে যাওয়ার জন্য। কারণ ওদের বাবা তো অফিস টাইমে অনেক ব্যস্ত থাকে বিকেল বেলায় অফিসে রিপোর্ট করতে হয় সেজন্য।
এখন আমিও তাদের কথায় রেডি হয়ে সোজা চলে গেলাম বাচ্চাদেরকে নিয়ে। যেহেতু কক্সবাজার থিয়েটার টা পৌরসভা অফিসের পাশাপাশি। এছাড়াও কক্সবাজার পাবলিক মাঠ সংলগ্ন থিয়েটার অবস্থিত। অবশ্যই পাবলিক মাঠে অনেক বার যাওয়া হইছে। কারণ বিভিন্ন উৎসব কিংবা বিভিন্ন মেলা অথবা সরকারি উদ্যোগে যেগুলো অনুষ্ঠান হয় সব পাবলিক মাঠে হয়। তাই বিভিন্ন উদ্যোগতা মেলায় গিয়েছি কিন্তু থিয়েটারে কখনো প্রবেশ করা হয়নি।হাসবেন্ড থেকে জেনে নিলাম থিয়েটার কোন দিকে অবস্থিত। উনি আমাকে বললেন, সরাসরি পাবলিক মাঠে গেলে পাশে থিয়েটার অবস্থিত। যেয়ে দেখে তো অবাক কান্ড! এত মানুষের ভিড় আমি বুঝতেও পারিনি। আমি মনে করেছিলাম গুটি কয়েকজন মানুষ যাবে। কিন্তু যে ভাবনা তার থেকেই ভিন্ন ধরনের একটি দৃশ্য দেখতে পেলাম। সামনে গিয়ে অনেক কিছু নাটকের নাম এবং দৃশ্য গুলো পোষ্টার আকারে সামনে প্রদর্শনীতে রাখা হয়েছিল। সবাই সে সুন্দর প্রদর্শনী গুলো দেখতেছে। আর ছবি নিচ্ছে যে যার মত করে।
আমিও দেখে নিলাম এবং কিছু ফটো ও নিলাম। কিন্তু ঘটনাটা হচ্ছে যে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়েছিল। কারণ থিয়েটার হল রুমে একটা সরকারিভাবে মিটিং চলছিল। তাই মিটিং শেষ হওয়া অবধি অপেক্ষা করেছিলাম। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করি। অনেক পরিচিত মানুষজন ছিল তাছাড়া অনেক অপরিচিত মানুষও ছিল। বিশেষ করে যারা নাট্য জগতে জড়িত এবং লেখক/কবি এ ধরনের মানুষের উপস্থিত বেশি ছিল। এছাড়া যারা একটু সংস্কৃতিক কেন্দ্রিক মনের মানুষ ওই ধরনের মানুষ বেশি লক্ষ্য করেছি আমি।
অনেকে আবার বাচ্চাদেরকে নিয়ে চলে আসলো কারণ এখানে শিক্ষনীয় অনেক কিছু ছিল দেখার এবং জানার ছিল। সরাসরি আমরা দেখেছিলাম নাটক গুলো এত সুন্দর লাগছিল যে বলার মত না। ঠিক যেমন টিভির বড় পর্দায় দেখি ঠিক তেমনি অনেক বড় পর্দাতে দেখছিলাম। মনে হচ্ছিল না যে সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে। মনে হচ্ছিল আমি টিভির পর্দাতেই দেখতেছি। আসলেই অনেক মানুষের সামনে বড় পর্দা এছাড়া গ্যালারিতে বসে নাটক দেখার মজাই আলাদা। বিভিন্ন সংস্কৃতি নিয়ে, যৌতুক নিয়ে এবং অনেক সচেতনতামূলক নাটক গুলো ছিল। শিশু কিংবা যুব সমাজের জন্য ভাল প্রভাব ফেলতে পারে এমন সুন্দর সুন্দর নাটক ছিল। বলতে গেলে সব গুলো শিক্ষনীয় নাটক ছিল। আমার অনেক ভালো লেগেছিল প্রতিটি মুহূর্ত। কারণ আমি অনেক গুলো নাটক দেখেছিলাম বিকেল বেলায় যেয়ে।
বিশেষ করে বাচ্চাদের অনেক বেশি আগ্রহ পেয়েছিলাম তাই যাওয়া হয়েছিল। তো আমি প্রতিটি মুহূর্ত আপনাদের সাথে খুব সুন্দর করে ধাপে ধাপে শেয়ার করার চেষ্টা করব। আশা করি আমার কক্সবাজার থিয়েটারে নাটক দেখার মুহূর্ত গুলো আপনাদের সাথে শেয়ার করব আপনাদের অনেক ভালো লাগবে দেখে। আজকে এই পর্যন্ত ধন্যবাদ সবাইকে আমার লেখা গুলো সময় দিয়ে পড়ার জন্য।
| ডিভাইসের নাম | Wiko,T3 |
|---|---|
| মডেল | W-V770 |
| Location | কক্সবাজার থিয়েটার |
| ফটোগ্রাফার | @samhunnahar |
| ক্যাটাগরি | লাইফস্টাইল |
সবাইকে অনেক ধন্যবাদ সময় দিয়ে আমার ব্লগটি ভিজিট করার জন্য।
🥀আল্লাহ হাফেজ সবাইকে🥀
আমি সামশুন নাহার হিরা। আমার ইউজার আইডি @samhunnahar। আমি আমার বাংলা ব্লগে কাজ করছি বাংলাদেশের কক্সবাজার থেকে। আমি বাংলা ভাষায় লিখতে-পড়তে অনেক ভালবাসি। রান্না করতে আমি অনেক পছন্দ করি। তাছাড়া সময় পেলে ভ্রমণ করি আর প্রকৃতিকে অনুভব করি। ফটোগ্রাফি করতে আমার ভীষণ ভাল লাগে। আমি মাঝে মাঝে মনের আবেগ দিয়ে কবিতা লেখার চেষ্টা করি। আমার প্রিয় শখের মধ্যে তো গান গাওয়া অন্যতম। আমার মনের ভাব বাংলায় প্রাকাশ করতে পেরে অনেক আনন্দিত। তার জন্য আমার প্রাণের/ভালবাসার কমিউনিটি "আমার বাংলা ব্লগ"কে অনেক ভালবাসি।
https://steemit.com/hive-129948/@samhunnahar/6iwcix
থিয়েটারে নাট্যোৎসব দেখার অনুভূতি সত্যি বেশ অসাধারণ। থিয়েটারে নাট্যোৎসব দেখার মুহূর্ত গুলো আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন। আসলে আমার কখনো থিয়েটারে নাট্যোৎসব দেখার যাওয়া হয় নি। এত সুন্দর পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।
অনেক ধন্যবাদ আপনাকে আমার পোস্ট খুব সুন্দর ভাবে পড়েছেন এবং অনেক সুন্দর অনুপ্রেরণা দিয়েছেন।
থিয়েটারে যে নাটক দেখা অত সময় পাইনা আপু। তবে আপনার নাটক দেখা দেখে আমারও মন চাইছে বেইলি রোডে দুই একটি নাটক দেখে আসি। কিন্তু সময় কোথায়? মাঝে মাঝে কিন্তু এরকম নাটক দেখলে ভালোই লাগে। আসলে আমরা এখন এমন হয়ে গেছি যে ডিজিটাল ছাড়া এনালগ গুলো বুঝি না। বেশ ভালই লাগলো আপনার পুরোটা পোষ্ট পড়ে।
অত সময় না থাকলেও বাচ্চাদের যন্ত্রণায় যেতে হয় কিন্তু সেখানে নাটক দেখার অনুভূতি গুলো অন্যরকম ছিল। অনেক ধন্যবাদ আপু।
অজানা কোন কিছু যদি কাউকে কখনো তুলে ধরতে দেখি আমাদের সামনে তখন সেগুলো জানতে এবং সে বিষয়ে ধারণা নিতে আমার খুবই ভালো লাগে। আপনি আজকে এই থিয়েটার বিষয়ে যে সমস্ত কথাগুলো আমাদের মাঝে তুলে ধরেছেন, এই থেকে আমি অনেক কিছু জানতে পারলাম বুঝতে পারলাম। ভালো লাগলো নতুন এই বিষয়গুলো জেনে।
ধন্যবাদ ভাইয়া আপনাদেরকে যদি ভিন্ন কিছু শেয়ার করতে পারি তাহলে অনেক ভাল লাগে।
Twitter Share Link