আসসালামু আলাইকুম,
সবাইকে শুভেচ্ছা ও স্বাগতম জানাচ্ছি আমার আজকের রেসিপি ব্লগে। আবার হাজির হয়ে গেছি বন্ধুরা আপনাদের দোয়ায় সৃষ্টিকর্তার অসীম রহমতে। সুস্থ থাকলে অনেক ভালো লাগে। গতকালকে আর আজকে দুইটা রোজা চলে যাচ্ছে আলহামদুলিল্লাহ বেশ ভালোভাবে কাটল। একদম ঠান্ডা ঠান্ডা ভীষণ ভালো লাগছে রোজার দিনগুলোতে। সৃষ্টিকর্তার রহমত রমজানের দিনে অনেক ঠান্ডা পরিবেশ বিরাজ করে চারদিকে। আল্লার রহমতে বলে কথা কখনো বান্দাকে আল্লাহ কষ্ট দেয় না। আপনাদের সাথে একটি রেসিপি নিয়ে হাজির হয়েছি। আপনারা তো সবাই জানেন প্রতি সপ্তাহে একটি করে রেসিপি শেয়ার করার চেষ্টা করি। সেই প্রচেষ্টাই আমি আজকে আবার হাজির হয়েছি নতুন একটি রেসিপি নিয়ে। রেসিপি দেখে অবশ্যই আপনারা বুঝতে পারছেন আমি কি রেসিপি শেয়ার করব। এখন যেহেতু রমজান মাস আমরা একটু চেষ্টা করব সবাই হেলদি খাবার খেতে।

আমরা সবাই পছন্দ করি মুখরোচক খাবার গুলো। যেটা আসলে স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। বিশেষ করে মুখরোচক খাবারের মধ্যে রয়েছে ভাজাপোড়া খাবার। যেগুলো আমরা যদি সারাদিন রোজা রেখে এই ধরনের খাবারগুলো অতিরিক্ত খেয়ে থাকি তাহলে স্বাস্থ্যের অনেক ক্ষতি হবে। ধীরে ধীরে আমরা অসুস্থ হয়ে পড়বো। যদিও আমরা হালকা পাতলা খেতে পারি আমাদের স্বাস্থ্যের দিক বিবেচনা করে কিন্তু সব সময় নয়। আমাদের চিন্তা করতে হবে সারাদিন যেহেতু রোজা রাখি আমাদেরকে পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করতে হবে। সেজন্য আমাদেরকে এমন কিছু রেসিপি সিলেক্ট করতে হবে যেগুলো আমাদের খেতেও ভালো লাগে আবার শরীরের চাহিদা ও পূরণ করবে।সেই চিন্তা করে আমি প্রতি রোজার সময় বিভিন্ন ধরনের ডেজার্ট তৈরি করার চেষ্টা করি। ডেজার্ট খাবার আমার খুবই পছন্দের বিশেষ করে বাচ্চারা অনেক পছন্দ করেন আর আমার তৈরি করতে ভালো লাগে।

যদিও আমি এই রেসিপির জন্য স্পেশালি কোন ফ্রুটস ক্রয় করিনি এই ডেজার্ট তৈরি করার জন্য। ঘরে থাকা উপকরণ দিয়ে এই ডেজার্ট রেসিপি তৈরি করার চেষ্টা করেছি। বিভিন্ন সময় তো বিভিন্ন ভাবে তৈরি করা যায়। আজকে আমি সাগুরদাদানা দিয়ে ডেজার্ট তৈরি করেছি। সাগুরদানা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ভালো তাছাড়া ও সেখানে দুটো রয়েছে এবং বিভিন্ন আইটেমের রয়েছে সবকিছু মিলিয়ে বেশ হেলদি একটা খাবার। এটা ডেজার্ট আমি গতকালকে তৈরি করেছি। আমার দিক বিবেচনা করে সবার দিক বিবেচনা করে আমি আমি এই রেসিপি তৈরি করেছি। প্রতি রমজানে আমি প্রায় সময় বিভিন্ন ধরনের ফলের ডেজার্ট তৈরি করি। আশা করি বন্ধুরা আপনাদের কাছে ভালো লাগবে। তবে আমি কিভাবে তৈরি করেছি সেই প্রক্রিয়ার সমূহ আপনাদেরকে ধাপে ধাপে শেয়ার করে নিব–

| রেসিপির প্রয়োজনীয় উপকরণ সমূহঃ |

সাগুদানা মিক্সড ফ্রুটস ডেজার্ট তৈরির ধাপ সমূহঃ
রান্নার ধাপ-১
বন্ধুরা প্রথমে আপনারা দেখতে পাচ্ছেন আমি সাগুদানা গুলো ভিজিয়ে নিয়েছি। এরপরে একটি পাত্রে পানি দিয়ে পানি গুলো সিদ্ধ করে নিতে হবে। যখন পানি গরম হয়ে আসে তখন আমি সাগুদানা গুলো দিয়ে হালকা সিদ্ধ করে নিব নেড়েচেড়ে। যখন সিদ্ধ হয়ে আসে তখন চুলা থেকে নামিয়ে ফেলবো।

রান্নার ধাপ-২
যখন সিদ্ধ হয়ে আসে তখন চুলা থেকে নামায় ফেলে সাগুদানাগুলো একটি পাত্রে নিলাম এবং সেখানে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে।

রান্নার ধাপ-৩
এরপরে একটি রান্নার পাত্র নিয়ে সেখানে প্রয়োজনমতো গুড়া দুধ নিলাম। সেই সাথে তিন থেকে চার চামচ কাস্টার্ড পাউডার দিয়েছি। তাছাড়া সেখানে স্বাদমত লবণ দিয়েছি।

রান্নার ধাপ-৪
এখন দেখতে পাচ্ছেন আমি আমার পছন্দ মত চিনি দিয়েছি। সেটা আপনারাও আপনাদের পছন্দ মত দিতে পারবেন। এরপরে প্রয়োজন মত পানি দিয়ে সব উপকরণগুলোকে সুন্দরভাবে মিশিয়ে নিতে হবে।

রান্নার ধাপ-৫
দুধের মধ্যে সব উপকরণ মেশিয়ে নিয়ে চুলায় বসিয়ে দিলাম। সেখানে মিডিয়াম আঁচে জ্বাল দিতে থাকবো এবং সাথে নেড়েচেড়ে নিতে হবে। যখন প্রায় সিদ্ধ হওয়া শুরু করে দেয় তখন আমি সাগুদানা গুলো দিয়ে দিলাম।

রান্নার ধাপ-৬
অনবরত নাড়তে থাকবো দুধের সাথে থাকা সাগুদানা। এভাবে জ্বাল দিতে দিতে যখন ঘন হয়ে আসে তখন নামায় ফেলবো।

রান্নার ধাপ-৭
সাগুদানার মিশ্রণটা চুলা থেকে নামায় ফেলে ঠান্ডা করে নিলাম। এরপর একটি পাত্রে নিয়ে নরমাল ফ্রিজে রেখে দিব। ততক্ষণে আমি ফ্রুটস গুলো কেটে নিলাম আপনারা দেখতে পারছেন। এখানে আমি কলা দিয়েছি আর খেজুর দিয়েছি। তাছাড়া ও তরমুজ দিয়েছি কুচি করে সাথে ডালিম দিয়েছি।

রেসিপির পরিবেশনা
বন্ধুরা আমার আজকের রেসিপিটি আপনাদের সাথে উপস্থাপন করে নিলাম। আশা করি আপনাদের কাছে ভালো লাগবে। চেষ্টা করি সব সময় ভালো লাগার রেসিপিগুলো আপনাদের সাথে শেয়ার করে নিতে। অনেক সময় দেখা যায় অনেকের রেসিপি আমাদের কাছে খুবই ইউনিক মনে হয়। সেই রেসিপিগুলো আমরা দেখে নিজেরাও তৈরি করে নিতে পারি। সেই সুবিধার্থে আমিও রেসিপিগুলো আপনাদের সাথে সবসময় শেয়ার করার চেষ্টা করি। এই খাবার খেতে যেমন সুস্বাদু তেমনি স্বাস্থ্যসম্মত এবং শরীরের জন্য অনেক উপকারী। বিশেষ করে এই ধরনের ডেজার্ট গুলো খুব লোভনীয় হয়। দেখতে যেমন ভালো লাগে খেতেও তেমনি মজার। বিশেষ করে গরমের দিনে কিংবা রোজার দিনে অনেক শান্তি পাওয়া যায়। সেই চিন্তা করে আমি এই রেসিপিটি তৈরি করেছি। বিশেষ করে বিভিন্নভাবে ফল দিয়ে আমি তৈরি করার চেষ্টা করি। এই রেসিপি আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করে নিলাম। আশা করি বন্ধুরা আপনাদের ভালো লাগবে। আপনাদের কেমন লাগলো মতামত দিয়ে জানালে অনেক বেশি অনুপ্রাণিত হবে।




| ডিভাইসের নাম | Redmi |
| মডেল | Note-14 pro |
| ফটোগ্রাফার | @samhunnahar |
| ক্যাটাগরি | রেসিপি |
আজ এখানে আমার লেখা সমাপ্তি করছি। আবার উপস্থিত হব নতুন কোন ব্লগ নিয়ে। সবাই সুস্থ থাকবেন আর ভাল থাকবেন।
💘ধন্যবাদ সবাইকে💘
@samhunnahar
আমার পরিচয়
আমি সামশুন নাহার হিরা। আমার ইউজার আইডি @samhunnahar। আমি আমার বাংলা ব্লগে কাজ করছি বাংলাদেশের কক্সবাজার থেকে। আমি বাংলা ভাষায় লিখতে-পড়তে ভালবাসি। আমি রান্না করতে পছন্দ করি। ভ্রমণ আমার কাছে অনেক ভাল লাগে। আমি সব ধরনের ফটোগ্রাফি করতে পছন্দ করি। আমি গান গাইতে এবং কবিতা আবৃত্তি করতে ভীষণ ভালবাসি। আমার মনের ভাব বাংলায় প্রাকাশ করতে পেরে অনেক আনন্দিত। তার জন্য আমার প্রাণের কমিউনিটি "আমার বাংলা ব্লগ"কে অনেক ভালবাসি।



https://x.com/heranahar148614/status/1896632140697309515?t=WMlnSBlhc_CkkPnTKCsH1Q&s=19
আপনার রেসিপির পরিবেশনা টা দারুণ লেগেছে দেখতে।শুধু স্বাদের দিক থেকেই নয়, স্বাস্থ্য ও উপকারিতার দিকটাও সুন্দরভাবে তুলে ধরেছো। বিশেষ করে গরমের দিনে বা রোজার সময় উপযোগী এমন একটি ডেজার্টের কথা ভাবা সত্যিই প্রশংসনীয়। আপনার ইউনিক রেসিপিটি দেখে অনুপ্রাণিত হলাম, নিজেও চেষ্টা করে দেখতে ইচ্ছে করছে।দারুণ রেসিপি শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ আপু।
অনেক ধন্যবাদ আপু আমাকে সুন্দর মতামতের মাধ্যমে উৎসাহ দিলেন।
সাবুদানা দিয়েছে ভাবে এই রেসিপিটি বানিয়ে ফেলেছেন এককথায় সত্যি বেশ ভালো লাগলো। এই রেসিপিটি সত্যিই খুব হেলদি এবং শরীরের জন্য খুব ভালো বলে মনে হলো। খুব সাধারন হলেও এত সুন্দর একটি খাবার রেসিপি আমাদের সঙ্গে শেয়ার করবার জন্য ধন্যবাদ।
দারুন রেসিপি দাদা খেয়ে শান্তি পাওয়া যায়। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
সারাদিন রোজা রাখার পর সন্ধ্যা বেলায় এরকম কিছু হলে কিন্তু বেশ ভালোই হয়। আপনি তো দেখছি অনেক মজাদার ভাবে এই ডেজার্ট তৈরি করেছেন। আমার তো দেখেই খুব লোভ লেগে গিয়েছে। বুঝতেই পারছি এই ডেজার্ট টা অনেক মজা করে খেয়েছিলেন সবাই মিলে।
আমার তো বেশ ভালো লাগে। ইফতারের পরে এই খাবারগুলো খেয়ে বেশ শান্তি পাওয়া যায় মনে।
আপু ছবিগুলো আপনার দারুণ হয়েছে। দেখেই লোভ হচ্ছে৷ আমি তো বেশি মিষ্টি খেতে পারি না তাই এই ডেসার্টটা শুধু দুধ আর নানান ফল দিয়ে বানাই৷ কাস্টার্ডের আলাদা স্বাদ হয়। আমার মেয়ে আবার আপনার রেসিপির মতো বেশি পছন্দ করে। খুব সুন্দর ডেসার্ট। এটা যেমনি পেট ভার করে তেমনি শরীর ঠান্ডাও রাখে।
সেটাই দিদি মিষ্টির পরিমাণ বেশি খাওয়া যায় না। আর বাচ্চারা খেতে বেশ পছন্দ করে তাই তাদের জন্য করা হয়। আর মিষ্টির পরিমাণ একটু কমিয়ে দিই আমি।
আমার ডেইলি টাস্ক
ইফতারে ভাজাপোড়ার তুলনায় এ জাতীয় খাবার গুলো আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারী। আপনি বেশ কয়েক ধরনের ফ্রুটস নিয়ে একটা ফ্রুটস ডেজার্ট তৈরি করেছেন। ভালো লাগলো আপনার আজকের পোস্ট দেখে। খেতেও নিশ্চয়ই দারুন লেগেছে। ধন্যবাদ আপু মজার একটা রেসিপি শেয়ার করার জন্য।
আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ আপু সময় দিয়ে পোস্ট ভিজিট করার জন্য।
এটা ঠিক বলেছেন আপু সারাদিন রোজা রাখার পর ভাজাপোড়া না খেয়ে বরং হেলদি কিছু খাওয়াটাই ভালো। আপনি সাগুদানা দিয়ে মজাদার একটি রেসিপি তৈরি করেছেন দেখছি। খেতে নিশ্চয় মজা হয়েছিল।
আমি তো তাই মনে করি ভাজাপোড়ার চেয়ে এই ধরনের হেলদি খাবার অনেক ভালো।
এটা আমি খেয়েছি বেশ স্বাদের এবং পুষ্টিগুন সম্পন্ন, সারা দিনের রোজার ক্লান্তি নিমিষেই দূর করে দেয়। বেশ সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছেন আপনি ধাপগুলো। অনেক ধন্যবাদ
বেশ ভালোই বলছেন এই খাবার খেলে মনে শান্তি পাওয়া যায় ক্লান্তি দূর হয়।
সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারিতে এই ঠান্ডা ঠান্ডা সাগুদানার মিক্সড ফ্রুট ডেজার্ট খেতে বেশ ভালো লাগে আপু। এবং এটি অনেক স্বাস্থ্যকর একটি খাবার। অসংখ্য ধন্যবাদ আপু সাগুদানার মিক্সড ফ্রুট ডেজার্ট রেসিপি তৈরি করে শেয়ার করার জন্য।
আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ আপু আমার রেসিপিটি দেখে ভালো লাগার জন্য।