১৫আগস্ট শোক দিবসের দিন কাটানো কিছু মুহূর্ত।
হ্যালো আমার বাংলা ব্লগ পরিবার।
প্রিয় @amarbanglablog এর সকল বন্ধুরা আশা করি কর্মব্যস্ততায় সকলেই ভাল আছেন পরিবার-পরিজনকে নিয়ে। ব্যস্ততাই আমাদের জীবন ব্যস্ততার মধ্যে সুখ খুঁজে নিতে হয়। নিশ্চয়ই ভালো আছেন আপনারা সবাই। তো আমিও ভাল আছি শত ব্যস্ততার মধ্যেও নিজেকে ভালো রাখার চেষ্টা করি। ভালো থাকাটাই আমাদের অনেক জরুরী। কারণ নিজেরাই ভালো থাকলে পাশের মানুষদেরকে ভালো রাখা যায়। সুতরাং নিজের ভালো রাখার দায়িত্বটা সব সময় নিজেকে চেষ্টা করতে হয়। বন্ধুরা আজকে নতুন একটি বিষয় আপনাদের সাথে শেয়ার করার জন্য উপস্থিত হয়েছি। আশা করি আমার আজকের টপিক্স আপনাদের ভালো লাগবে।
আপনারা নিশ্চয়ই সকলেই অবগত আছেন যে, গত ১৫ আগস্ট আমাদের দেশে শোক দিবস পালিত করা হয়। এই শোক দিবস মানে হচ্ছে আমাদের দেশের জন্য অনেক কষ্টের একটি দিন। ১৫ই আগস্ট মানে হচ্ছে আমাদের জাতির পিতা কে হারানোর একটি দিন। সেই ১৫ ই আগস্ট এর মর্মাহত দিনকে আমরা সবাই শোক দিবস হিসেবে পালন করি। শোক দিবসের দিন আমরা সবাই অনেক বেশি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করি। সেই সাথে স্মরণ করি তাদের পরিবার পরিজন ও আত্মীয়-স্বজন যারা একসাথে শহীদ হয়েছিলেন। তো সেই অনেক ইতিহাস আপাতত সেদিকে যাচ্ছি না। যেহেতু রাজনৈতিক ব্যাপার নিশ্চয়ই আপনারা সকলেই সেই ১৫ই আগস্ট এর নির্মম ও মর্মাহত দিনটি সম্পর্কে জানেন।
যাক এবার হচ্ছে ১৫ ই আগস্ট এর দিনটি কিভাবে গেল আমার সেই কথা শেয়ার করি। ১৪ তারিখে স্কুল থেকে নোটিশ করা হয় বাচ্চাদের অঙ্কন প্রতিযোগিতা হবে। সেই সাথে কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতা ও শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা। যেহেতু স্কুলে যেতে হবে সেদিন খুব সকাল সকাল উঠে গেলাম। সকাল বেলায় আসলে বাচ্চাদের কে ঘুম থেকে তোলা খুবই কষ্টকর হয়ে যায়। বাচ্চাদের কথা কি বলবো আমি নিজেও সকালে উঠতে পারি না। বড় মেয়েটা ঘুম থেকে ডাকলেই হুট করে উঠে যায় কিন্তু ছোট মেয়েটা এত সময় নেই খুব বিরক্ত লাগে। ছোট মেয়েকে ঘুম থেকে তুলতে গেলে প্রায় এক ঘন্টা থেকে ৩০ মিনিট পর্যন্ত চলে যায় আমার। তাও আবার অনেক জোর কর মা, বাবা, সোনা, লক্ষী এই সব করতে হয় ওর সাথে। মাঝে মধ্যে কান্নাকাটি করে ফেলেই করুন একটি অবস্থা। যাক ও যখন ঘুম থেকে উঠতেছে না একটু লেট করে উঠলো তাই সাথে নিয়ে যেতে পারি নাই।
কোনরকম বড় মেয়েকে রেডি করে সাথে আমিও রেডি হয়ে গেলাম এবং ছোট মেয়েকে খাবার দিয়ে টেবিলে বসায় দিয়েছি। বললাম তুমি খাবার শেষ করো শেষ করতে করতে আমি আবার এসে তোমাকে নিয়ে যাব। যেহেতু আমাদের বাসা এবং স্কুল খুবই পাশাপাশি তিন চার মিনিটের ব্যাপার। তাই মেয়েকে ড্রয়িং প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করাই দিয়ে আমি আবার বাসায় চলে আসি। যেহেতু প্রতিযোগিতায় ড্রয়িং এর সময় দিয়েছে এক ঘন্টা ততক্ষণে আমি বাসায় এসে কিছু টুকটাক কাজ ছিল সেগুলো করলাম। ছোট মেয়েকে রেডি করে আবার চলে যাই স্কুলে। ততক্ষণে মেয়ের ড্রয়িং শেষ হয়নি আমি যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে শেষ হলো এবং সাথে কয়েকটি আমি ফটোগ্রাফি নিয়েছি ক্লাস টিচারের অনুমতি নিয়ে।
তো এবার অনুষ্ঠানের পালা। খুব সুন্দর আলোচনা সভা হলো। শহীদের স্মরণে কবিতা আবৃত্তি, দেশাত্মবোধক গান ও আলোচনা সভা হয়। এর পরপরই যারা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছেন তাদের ফলাফল ঘোষণা করা হয় এবং তাদেরকে খুব সুন্দর প্রাইস দিয়ে খুশি করা হয়। এছাড়াও যারা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছিলেন সকল প্রতিযোগীকে সন্তানামূলক পুরস্কারের মাধ্যমে উৎসাহ দেওয়া হয়। বাচ্চারা খুবই আনন্দ পেয়েছে এবং খুব সুন্দর একটি সময় কাটিয়েছে।
এরই মধ্যে ছোট মেয়ে কান্না শুরু করলো যেহেতু প্রাইস পাইনি সেজন্য। বড় মেয়েরটা নিয়ে টানাটানি শুরু করে দিল। এখন আমাদের পরিচিত একজন টিচার ছিল উনি ছোট মেয়েকে নিয়ে গিয়ে সেখান থেকে একটা পুরস্কার হাতে দিল। সাথে সেও খুশি হল অনেক বেশি ভালো লেগেছে। অবশেষে সব আলোচনা সভা ও কার্যকলাপ শেষ করার পরে অনুষ্ঠান শেষ করে দেয়। আমরা সবাই বাসায় চলে আসি। এই হচ্ছে আমার শোক দিবসের দিন বাচ্চাদেরকে নিয়ে স্কুলে সময় কাটানো। আসলে দিনটি খুবই স্মরণীয় আমাদের সকল জাতির জন্য। সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন আজ এই পর্যন্ত। সময় দিয়ে আমার লেখা গুলো পড়ার জন্য সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
| ডিভাইসের নাম | Wiko,T3 |
|---|---|
| মডেল | W-V770 |
| Location | কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল স্কুল |
| ফটোগ্রাফার | @samhunnahar |
| ক্যাটাগরি | লাইফস্টাইল |
সবাইকে অনেক ধন্যবাদ সময় দিয়ে আমার ব্লগটি ভিজিট করার জন্য।
🥀আল্লাহ হাফেজ সবাইকে🥀
আমি সামশুন নাহার হিরা। আমার ইউজার আইডি @samhunnahar। আমি আমার বাংলা ব্লগে কাজ করছি বাংলাদেশের কক্সবাজার থেকে। আমি বাংলা ভাষায় লিখতে-পড়তে অনেক ভালবাসি। রান্না করতে আমি অনেক পছন্দ করি। তাছাড়া সময় পেলে ভ্রমণ করি আর প্রকৃতিকে অনুভব করি। ফটোগ্রাফি করতে আমার ভীষণ ভাল লাগে। আমি মাঝে মাঝে মনের আবেগ দিয়ে কবিতা লেখার চেষ্টা করি। আমার প্রিয় শখের মধ্যে তো গান গাওয়া অন্যতম। আমার মনের ভাব বাংলায় প্রাকাশ করতে পেরে অনেক আনন্দিত। তার জন্য আমার প্রাণের/ভালবাসার কমিউনিটি "আমার বাংলা ব্লগ"কে অনেক ভালবাসি।
#nationaldayofmourning #lifestyle #sadaugust #writingaboutofagust #amarbanglablog #steemit #bangladesh
১৫ ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ তার পরিবারের অনেক সদস্যকে হত্যা করা হয়। আসলেই এরকম নির্মম হত্যা পৃথিবীতে আর কোথাও নজির নেই । যাইহোক এই দিনে স্কুলের ছোট বাচ্চাদের বিভিন্ন কারুকাজের দৃশ্য ভালই উপভোগ করেছেন। সাভার স্মৃতিসৌধের চিত্র অঙ্কন দারুন লেগেছে আমার কাছে খুবই সুন্দর হয়েছে।
বাচারা অনেক সুন্দর সময় কাটিয়েছে ভাইয়া পোস্ট পড়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
https://steemit.com/hive-129948/@samhunnahar/3gp3dz
আসলে ছোটরা এমন ই তাদেরকে ঘুম থেকে ডাকলে তারা সহজে উড়তে চায় না। ১৫ ই আগস্টে দেখছি স্কুলে অনেক কার্যক্রম গ্রহণ করেছিল। আসলে এই ধরনের কার্যক্রম গুলোর মধ্য দিয়ে বাচ্চাদের প্রতিভার বিকাশ ঘটে।এইবার দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা থাকার কারণে আমরা স্কুলে এই কার্যক্রম গুলো করতে পারিনি।
ঠিক বলছেন এই ধরনের অনুষ্ঠানে যদি বাচ্চাদেরকে নেওয়া হয় তাহলে অনেক কিছু জানতে পারে।
Twitter