ট্রাভেলিংঃ- হঠাৎ ইনানী রয়েল টিউলিপে ঘুরতে যাওয়া-(পর্ব-৪)।
শুভ বিকেল,
সবাইকে শুভেচ্ছা ও স্বাগতম জানাচ্ছি আমার আজকের নতুন ব্লগে। প্রিয় কমিউনিটির সম্মানিত ব্লগার ভাই ও বোনেরা সবাই কেমন আছেন? আশা করি পরিবারের সবাইকে নিয়ে সুন্দর সময় অতিবাহিত করছেন? আমিও ভালো আছি আপনাদের দোয়ায় সব সময় ভালো থাকার চেষ্টা করি। সৃষ্টিকর্তা যখন যেভাবে রাখেন সৃষ্টিকর্তার নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করতে হয়। কারণ ভালো থাকলেও সৃষ্টিকর্তার নিয়ামত অসুস্থতা ও একটা সৃষ্টিকর্তার নিয়ামত। সবকিছু মিলিয়েই সুন্দর সময় অতিবাহিত করতেছি। আলহামদুলিল্লাহ সৃষ্টিকর্তা যা রেখেছেন সবকিছুতেই শুকরিয়া। আজকে বন্ধুরা আবার হাজির হয়েছি নতুন একটি ব্লগ নিয়ে। আশা করি আমার আজকের নতুন ব্লগ ভালো লাগবে। গত কয়েক সপ্তাহে পরপর কয়েকটি ভ্রমণ পোস্ট শেয়ার করেছিলাম। অর্থাৎ ভ্রমণ মূলক পোস্টগুলো শেয়ার করতে খুবই ভালো লাগে।
বিশেষ করে যখন কোন জায়গায় আমরা ভ্রমন করতে যাই সেই জায়গার সুন্দর সুন্দর দৃশ্য এবং সেখানকার কাটানো সুন্দর মুহূর্ত সবার সাথে শেয়ার করতে পারলে অনেক ভালো লাগে। ইনানী ভ্রমণের আরো কয়েকটি পর্ব আমি ইতিপূর্বে আপনাদের সাথে শেয়ার করেছি। আজকে আবার নতুন একটি পর্ব নিয়ে হাজির হয়েছে। ইনানী এমন একটি জায়গা যেখানে বারবার যেতে ইচ্ছে করে ঘোরাঘুরি করতে ভালো লাগে। যখন সেদিন আমরা ইনানীতে গেছিলাম তখন এদিক ওদিক বেশ ঘোরাঘুরি করেছিলাম। সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে সেখানকার ফুলের ফটোগ্রাফি গুলো। তবে বলতে গেলে একদম নিরব পরিবেশ যদিও সেখানে প্রচুর পরিমাণ গেস্ট আসেন কিন্তু তারা এত বেশি হৈহুল্লা করে না।
যার যার মত করে সবাই নিজেদের মতো করে সময়গুলো কাটায় এবং খুব সুন্দর নিরব পরিবেশে সবাই সৌন্দর্যগুলো উপভোগ করার চেষ্টা করেন। সেখানে বাচ্চাদের জন্য খেলাধুলার সুন্দর একটি সুন্দর ব্যবস্থা রয়েছে। কিডস জোনের মধ্যে বাচ্চাদের জন্য সুন্দর সুন্দর গেমসের ব্যবস্থা রয়েছে। শুধু যে গেমসের আইটেম আছে তা নয় তাছাড়া অন্যান্য খেলাধুলার ব্যবস্থা রয়েছে। এর আগে যখন গেছিলাম বাচ্চারা কিডস জোনে প্রবেশ করেছিল সেজন্য তাদের সেই কিডস জোনের প্রতি বেশ টান রয়েছে যেটা আমি তাদের কাছ থেকে বুঝতে পারি। যদিও আমি সেখানে তখন প্রবেশ করি নাই তারা তাদের বাবার সাথে প্রবেশ করেছিল।
এবারে যখন গেছি তখন তারা আবারও আমার সাথে বায়না করলো তারা গেমস খেলবে এবং কিডস জোনে প্রবেশ করবে। কিন্তু আমি তো জানি না কিডস জোন কোন জায়াগায়। তবে আমাদের সাথে আমাদের ছোট ভাই সরওয়ার থাকার কারণে আমার একটু সহজ হয়ে গেছিল। কারণ সরওয়ার যখন সেখানকার স্টাফ ছিল তার জন্য সব কিছু ফ্রি ছিল। তার সাথে আমার দুই মেয়েকে নিয়ে গেল কিডস জোনে তাদের সাথে আমিও গেলাম। সেখানে প্রবেশ করে দেখলাম বেশ অবাক করা কান্ড! যদি একই গেমস গুলোর মধ্যে খেলাধুলা করা হয় অন্য কোন বাইরে পার্কের মধ্যে সেখানে অনেক টাকা তারা চার্জ করবে। যেহেতু সরওয়ার এর সাথে গেলো তাই সবকিছু ফ্রিতে হয়ে গেল।
আমার বেশ ভালো লাগছিল বন্ধুরা বুঝতে পারছেন যেহেতু টাকা গুলো আমার খরচ হলো না। হা হা হা সবাই এমনই ফ্রিতে ফেলে সবাই হামগুড়ি দিতে চাই। আমারও তাই হয়েছিল বন্ধুরা। যেহেতু সেখানে সরওয়ার ছিল তাই আমি তাদেরকে সেখানে দিয়ে গেমস খেলার জন্য আমি একটু বেরিয়ে পড়ি। যেহেতু তারা গেমস খেলা শেষ করলে আমরা আবারো কক্সবাজারের দিকে ফিরে আসার জন্য প্ল্যান করেছিলাম। তো আমি তাদেরকে বললাম তোমরা খেলা করো আঙ্কেলের সাথে আমি একটু বাইরে যাই। সে কথা বলে আমি বেরিয়ে পড়ি। আমি মূলত বেরিয়ে পড়েছিলাম কিছু ফটোগ্রাফি করার জন্য। ভীষণ ভালো লাগে আমার সেখানে গেলে ফটোগ্রাফি নিতে পারলে। যেহেতু জায়গা গুলো খুবই সুন্দর।
যে দৃশ্যের ফটোগ্রাফি করি না কেন বেশ মনোরম হয়। সেখানকার প্রাকৃতিক দৃশ্য বলেন অথবা আর্টিফিশিয়াল জিনিসগুলো বলেন সবকিছু বেশ মানানসই। আমি তাদেরকে খেলনার সেখানে সরওয়ার সাথে দিয়ে বের হয়। আমি বের হয়ে বেশ কিছু ফটোগ্রাফি নিয়েছিলাম। ততক্ষণে তারা গেমস খেলে আবার সেখান থেকে ওয়াটার পার্কে চলে যায়। সরওয়ার তাদেরকে ওয়াটার পার্ক থেকে ঘুরায় নিয়ে আসে। সেখানে একটি ভূতের বাড়ি ছিল সেখান থেকে ভূতের ভিডিও দেখিয়ে নিয়ে আসে। মেয়েরা আমাকে এসে বলছিল তারা নাকি অনেক বেশি ভয় পেয়ে গেছে ভূত দেখার সময়।
আমি বললাম তাদেরকে ভূত দেখার কি আছে যেহেতু তোমরা ভয় পাও না দেখলে তো হয়। যখন মেয়েরা ওয়াটার পার্ক থেকে চলে আসে তখন আমারও ফটোগ্রাফি করা শেষ হয়ে যায়। অবশেষে আমরা মেয়ের বাবার জন্য অপেক্ষা করেছিলাম। যখন দেখি উনাদের ট্রেনিং সমাপ্ত করে দিল তখন সবাই বেরিয়ে পড়ে। আমরা আগে থেকে প্রস্তুত ছিলাম চলে আসার জন্য। মেয়ের বাবা বের হলে আমরা ব্যাগ নিয়ে অফিসের গাড়িতে উঠে পড়ি। অবশেষে আমরা আমাদের গন্তব্যে ফিরে আসি।
আশা করি বন্ধুরা আমার আজকের পোস্ট ভিজিট করে আপনাদের কাছে ভালো লাগবে। আমি চেষ্টা করি সব সময় ভালো লাগার মুহূর্তগুলো আপনাদের সামনে শেয়ার করে নিতে। যার মাধ্যমে আপনারাও বিনোদন নিতে পারেন এবং নতুন নতুন জায়গার সাথে পরিচিত হতে পারেন। সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি সময় দিয়ে আমার আজকের ব্লগ ভিজিট করার জন্য।
| ডিভাইসের নাম | Wiko,T3 |
|---|---|
| মডেল | W-V770 |
| Location | কক্সবাজার |
| ফটোগ্রাফার | @samhunnahar |
| ক্যাটাগরি | ট্রাভেলিং |
সবাইকে অনেক ধন্যবাদ সময় দিয়ে আমার ব্লগটি ভিজিট করার জন্য।
আমার পরিচয়
আমি সামশুন নাহার হিরা। আমার ইউজার আইডি @samhunnahar। আমি আমার বাংলা ব্লগে কাজ করছি বাংলাদেশের কক্সবাজার থেকে। আমি বাংলা ভাষায় লিখতে-পড়তে ভালবাসি। আমি রান্না করতে পছন্দ করি। ভ্রমণ আমার প্রিয় একটি নেশা। আমি বিভিন্ন ফটোগ্রাফি করতে পছন্দ করি। আমি আমার মনের ভাব বাংলায় প্রাকাশ করতে পেরে অনেক আনন্দিত। তার জন্য আমার প্রাণের কমিউনিটি "আমার বাংলা ব্লগ"কে অনেক ভালবাসি।
https://x.com/nahar_hera/status/1851601116796264943?t=VkElpv6Cg1Un2IaWf5Oh1g&s=19
ঠিক বলেছেন আপু কোথাও ঘুরতে গিয়ে সুন্দর কিছু দেখতে পেলে ইচ্ছে করে সবাইকে এটা দেখায়। আপনি হঠাৎ করে ইনানী রয়েল টিউলিপে ঘুরতে ঘুরতে গিয়েছিলেন সেখানে গিয়ে অনেক সুন্দর মুহূর্ত অতিবাহিত করেছেন। আপনার আগের পর্বগুলো আমি দেখেছি আজকের টা ভীষণ ভালো লাগলো। ধন্যবাদ আপু।
অনেক ধন্যবাদ আপু আপনার সুন্দর গঠন মূলক মতামত জানতে পেরে ভালো লাগলো।
অনেক সুন্দর একটি জায়গা ঘুরে এসেছেন আপু। আপনার এই ভ্রমণ পোস্ট আমার কাছে অনেকটা ভালো লেগেছে। অনেক সুন্দর ভাবে আপনি আমাদের মাঝে উপস্থাপন করেছেন নতুন একটা স্থান সম্পর্কে ফটো আর তার বর্ণনা। ইনানী রয়েল টিউলিপে ঘুরতে যাওয়ার চতুর্থ পর্ব দেখে অনেক কিছু জানতে পারলাম।
আমার অনেক ভালো লেগেছে আপু আপনার এত সুন্দর অনুভূতি জানতে পেরে।
কিডস জোনটি তো দারুণ সুন্দর। কতরকম খেলনার সামগ্রী ও গেমস দিয়ে ভরা৷ ভীষণ সুন্দর এই হোটেলটি আপু। এতো সুন্দর পোস্টখানা শেয়ার করে আপনি হোটেলটির বিষয়ে অনেক তথ্য পরিবেশন করেছেন। আর সওয়ার নিয়ে বিনা পয়সায় চড়ার বিষয়টি কিন্তু বেশ মজার। সব মিলিয়ে বেশ মজার একখানি পোস্ট।
সত্যি দাদা দেখতে খুবই সুন্দর ছিল আর খেলার আইটেমগুলো অনেক ব্যয় বহুল মনে হয়েছে আমার কাছে।
বেশ দারুন একটি জায়গায় ঘুরতে গিয়েছেন।জায়গাটি দেখেই বোঝা যাচ্ছে অনেক সুন্দর।ইনানী রয়েল টিউলিপের চতুর্থ পর্বটি পড়ে অনেক ভালো লাগলো। সেই সাথে অসাধারণ কিছু ফটোগ্রাফি দেখে অনেক ভালো লাগলো। ধন্যবাদ আপু দারুন একটি পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
অনেক ধন্যবাদ আপু সময় দিয়ে আমার পোস্ট ভিজিট করার জন্য।