কক্সবাজার হিমছড়ি পাহাড়ে ভ্রমণ (পর্ব-৩ শেষ পর্ব।
সবাইকে শুভ সকাল বন্ধুরা,
@amarbanglablog পরিবারের সকল ব্লগার ভাই ও বোনেরা আমার লেখার শুরুতে সবাইকে শুভেচ্ছা ও স্বাগতম জানাচ্ছি। আশা করি সকলে ভালো আছেন বৃষ্টির দিনে। আলহামদুলিল্লাহ আমিও ভাল আছি আপনাদের দোয়ায় সৃষ্টিকর্তার অসীম রহমতে। আমি @samhunnahr আপনাদের সাথে প্রতিনিয়ত ব্লগিং নিয়ে যুক্ত আছি বাংলাদেশের কক্সবাজার শহর থেকে। তো বন্ধুরা বাংলা ভাষায় ব্লগিং করতে খুব বেশি ভালো লাগে। যেহেতু নিজের ইচ্ছে মতো মনের কথা গুলো সবার সাথে সুন্দর ভাবে শেয়ার করার সুযোগ হয়। তো বন্ধুরা আজকে আবার উপস্থিত হয়েছি আপনাদের সাথে ভিন্ন একটি ব্লগ শেয়ার করার জন্য। আজকে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করব হিম ছড়ির উঁচু পাহাড়ে ওঠার আরো কিছু মুহূর্তের কথা।
আমি আপনাদেরকে প্রথম এবং দ্বিতীয় পর্ব শেয়ার করেছিলাম। তো দ্বিতীয় পর্বে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করেছিলাম পাহাড়ের চুড়াতে বেশ সুন্দর পরিবেশ ছিল। এবং সেখানে খুব সুন্দর কিছু মুহূর্ত কাটিয়েছিলাম। তো সেখানে সবুজের প্রকৃতি দেখে আমি মুগ্ধ হয়ে গেছিলাম। চারদিকে আমি সবুজের পাহাড় গুলো দেখছিলাম আর কিছু ফটোগ্রাফিও নিয়েছিলাম। হঠাৎ করে দেখতে পাই এত উঁচু পাহাড় থেকে খুব সুন্দর করে সমুদ্র সৈকত দেখা যাচ্ছে। অর্থাৎ হিমছড়ির সমুদ্র সৈকত দেখা যাচ্ছিল। মনে হচ্ছিল পাহাড় থেকে সমুদ্রের পানি হাত দিয়ে ধরা যাবে এমন অবস্থা। ভীষণ বাতাস সেই সাথে সমুদ্রের ঢেউয়ের গর্জন যেন একদম মাতিয়ে তুলেছিল পরিবেশটা। আসলে সেই পাহাড়ে ওঠার একটা উদ্দেশ্য হচ্ছে সুন্দর সুন্দর পাহাড়ের দৃশ্য দেখা। সেই সাথে অনেক কাছ থেকে সমুদ্রের গর্জন এবং দৃশ্য দেখার জন্য। ভীষণ ভালো লেগেছিল কারণ এত উঁচু থেকে আমার সমুদ্র দেখার আগে সুযোগ হয়নি।
তবে আমি খুব ছোট বেলায় হিমছড়ির ঝর্ণাতে গিয়েছিলাম। কিন্তু এই পাহাড়ের চূড়ায় আমার ওটা হয়নি। উঠেছিলাম অন্য একটা সাইড দিয়ে উঠেছিলাম। কিন্তু এগুলোর অনেক পরিবর্তন হয়ে গেছে। যখন আমি দুই হাজার তিন সালে কক্সবাজারে আমাদের গ্রাম থেকে এসেছিলাম। যেহেতু আমাদের গ্রামের পাশাপাশি কক্সবাজার। তো ২০০৩ সালে আমার বড় আপুর এসএসসি পরীক্ষা ছিল। তখন পরীক্ষার হল ছিল কক্সবাজারের একটি মাদ্রাসা তে। তখন আপুকে দেখতে আসার কারণে কক্সবাজার হিমছড়ির পাহাড়ের ঝর্ণা দেখতে গেছিলাম সবাই মিলে। তখন কিন্তু ঝর্ণা থেকে অনেক বেশি পানিও পড়তো। এখন তো কৃত্তিমতা হয়ে গেছে বলতে গেলে। তো তখনের পরিবেশটা আরো সুন্দর ছিল। কিন্তু একটু ভয় কাজ করতো তখন। কারণ জায়গাটা খুবই নিরিবিলি ছিল। আবারো অনেক বছর পরে সেই পাহাড়ে যখন যাওয়া হয় আমার কাছে খুবই ভালো লাগে।
যাক তবে যেটা আমার কাছে অনুভূতি কাজ করছিল সেটা হচ্ছে যে সমুদ্রের ঢেউয়ের গর্জন। আর চার পাশের বাতাসের আওয়াজ যেন আমার মনকে মাতিয়ে তুলেছিল। তো আমি জুম দিয়ে বেশ কিছু সমুদ্রের দৃশ্য ফটোগ্রাফি করেছিলাম। সেই সাথে আমি খুব সুন্দর একটি ভিডিও নিয়েছিলাম। তো বন্ধুরা আমি এত বেশি অপেক্ষা করি নাই সেখানে। কারন দুপুর গড়িয়ে তিনটা থেকে চারটা বেজে গেছিল। যেহেতু বাচ্চাদেরকে দুপুরের খাওয়া-দাওয়া করায় নাই। অনেক খিদা লেগেছিল তাই আবারও উল্টে দিকে নামতে শুরু করেছিলাম। বিশ্বাস করেন সিঁড়িগুলো এত খাড়া ছিল মনে হচ্ছিল নামার সময় পড়ে যাব। আর একবার যদি কোন কারণে পা পিছলে পড়ে যায়। তাহলে সেখানে মরণ ছাড়া আর কোন উপায় থাকবে না।
এত সমস্যা সিঁড়িগুলোর নিচ থেকে দেখতে অনেক ভয় লাগছিল। তো মেয়েরা অনেক তাড়াহুড়া করে নামার চেষ্টা করেছিল। আমি তাদেরকে ধরে রাখতে পারছিলাম না। কোন কারনে পড়ে গেলে একদম নিচে পড়ে যাবে। আর যেহেতু সিঁড়ি গুলো এত ছোট ছিল দুই লাইন করে যাওয়া তো দূরের কথা। এক লাইন দিয়ে আসার সময়ও অনেক কষ্ট করে আসতে হয়েছিল। অপর সাইড থেকে যখন জায়গা দিতে হবে তখন একদম গা ঘেষে চলে যায় হি হি হি। ভীষণ বিরক্তিকর একটি কাজ ছিল।
তো কষ্ট করে কোন মতে আমরা নেমে গেছিলাম সেখান থেকে। নেমে যাওয়ার সময় কত গুলো ফটোগ্রাফি নিয়েছিলাম। অবশেষে নিচে নেমে যায়। নিচে নেমে যেয়ে সেখানে অনেক গুলো মার্কেট ছিল। সেখানে বসে একটু অপেক্ষা করি। অপেক্ষা করার পরে পাশে ছিল পাহাড়ের ঝর্ণা। তো সেই ঝর্ণা দেখার উদ্দেশ্যে আবার রওনা দিলাম। যেহেতু যাওয়া হল তাই এক সাথে দেখে যেন শেষ করে আসি এই অবস্থা। যদিও কাছে আসলে বাচ্চাদেরকে নিয়ে বের হওয়া খুবই সমস্যার কথা। কারণ বাচ্চারা বের হলে খুব বেশি বিরক্ত করে। আর কোন কথাই শুনতে চাই না। যেন বাইরে গেলে তারা রাজত্ব ফিরে পায়। তো বন্ধুরা আজকে এখানে শেষ করেছি। আশা করি আপনাদের সকলের ভালো লাগবে আমার আজকের ব্লগিং।
| ডিভাইসের নাম | Wiko,T3 |
|---|---|
| মডেল | W-V770 |
| Location | কক্সবাজার হিমছড়ি পাহাড় |
| ফটোগ্রাফার | @samhunnahar |
| ক্যাটাগরি | ট্রাভেলিং |
সবাইকে অনেক ধন্যবাদ সময় দিয়ে আমার লেখা পড়ার জন্য।
🥀আল্লাহ হাফেজ সবাইকে🥀
আমি সামশুন নাহার হিরা। আমার ইউজার আইডি @samhunnahar। আমি আমার বাংলা ব্লগে কাজ করছি বাংলাদেশের কক্সবাজার থেকে। আমি বাংলা ভাষায় লিখতে-পড়তে অনেক ভালবাসি। রান্না করতে আমি অনেক পছন্দ করি। তাছাড়া সময় পেলে ভ্রমণ করি আর প্রকৃতিকে অনুভব করি। ফটোগ্রাফি করতে আমার ভীষণ ভাল লাগে। আমি মাঝে মাঝে মনের আবেগ দিয়ে কবিতা লেখার চেষ্টা করি। আমার প্রিয় শখের মধ্যে তো গান গাওয়া অন্যতম। আমার মনের ভাব বাংলায় প্রাকাশ করতে পেরে অনেক আনন্দিত। তার জন্য আমার প্রাণের/ভালবাসার কমিউনিটি "আমার বাংলা ব্লগ"কে অনেক ভালবাসি।
https://steemit.com/hive-129948/@samhunnahar/3acqgr
আপু আপনাদের হিমছড়ি ভ্রমণের পোস্টটি দেখে আমার খুব যেতে ইচ্ছে করছে। ভালোই করেছেন ভাইয়া ও বাচ্চাদের নিয়ে ঘুরতে গিয়েছেন। মাঝেমধ্যে এরকম পরিবারকে নিয়ে বেড়াতে যাওয়া দরকার তাহলে বাচ্চাদের মন ভালো থাকে।কক্সবাজার আমার একটি প্রিয় জায়গা।আমাদের ওখানে খুব যাওয়ার ইচ্ছা আছে। দেখবেন যেকোনো টাইমে আমিও গিয়ে আপনাদের ওখানে এরকম সুন্দর সুন্দর ছবি শেয়ার করব ইনশাল্লাহ। আপনার ও আপনার পরিবারের জন্য শুভকামনা
চলে আসেন আপু আপনাকে নিয়ে যাবো হিমছড়ির পাহাড় দেখার জন্য।
আপনার কক্সবাজার হিমছড়ি পাহাড়ে ভ্রমণ পোস্ট পড়ে অনেক ভালো লাগলো। সত্যি বলেছেন আপু সিঁড়ি গুলো দিয়ে পরে গেলে আসলে তখন আর কিছু করার থাকে না।যাইহোক আপু কক্সবাজার এর কাছে বাসা হওয়ার বেশ ভালোই ঝর্ণাপাহাড় উপভোগ করতে পেরেছেন।পহাড়ের দৃশ্য গুলো দেখতে অনেক ভালো লাগলো । ধন্যবাদ আপু সুন্দর কাটানো মূহুর্ত আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
সিঁড়ি গুলো খুবই বিপদজনক ছিল অনেক ভয়ে ভয়ে নামছিলাম আপু আমি।
আপনি ভীষণ ভ্রমণ প্রিয় মানুষ আমি বুঝে গেছি। প্রতিনিয়ত আপনার ঘুরাঘুরির পোস্টগুলো এককথায় অসাধারণ লাগে আমার কাছে। হিমছড়ি পাহাড়টা দারুন এবং চারিদিকে পরিবেশ মনমাতানো সুন্দর। ভীষণ ইচ্ছে রয়েছে ওদিকে যাওয়ার, ইনশাআল্লাহ সময় সুযোগ পেলেই ঘুরতে যাবো। সিড়ির ব্যাপারটা বেশ ভয় লাগলো আর বাচ্চারা বাইরে এলে একটু আধটু দুষ্টুমি করবেই 😄
হ্যাঁ ভাইয়া আসলে ঘর থেকে বের হলে মনে হয় যে তারা পুরো পৃথিবী পেয়ে গেছে।
Twitter