ট্রাভেলিং- ইনানী ভ্রমণে রয়েল টিউলিপে কাটানো কিছু মুহূর্ত।
সবাইকে শুভরাত্রি প্রিয় বন্ধুরা,
প্রিয় কমিউনিটির সকল ব্লগার ভাই ও বোনেরা আসসালামু আলাইকুম। বন্ধুরা আমি আপনাদের সাথে প্রতিনিয়ত ব্লগিং করি বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণাঞ্চল কক্সবাজার শহর থেকে। এত দূরে থেকেও নিজেকে মনে হয় না অনেক দূর থেকে ব্লগিং করি। মনে হয় যে খুব কাছাকাছি সবার মাঝে আছি। এত সুন্দর একটি কমিউনিটি যেখানে মনের ভাষা গুলো খুব সুন্দরভাবে প্রকাশ করতে পারি। সেই জায়গাটি অবশ্যই আমাদের সকলের প্রিয় শ্রদ্ধেয় বড় দাদা @rme আমাদেরকে জায়গা করে দিয়েছেন। দাদার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই এত সুন্দর একটি প্ল্যাটফর্ম সবাইকে উপহার দেওয়ার জন্য। তো বন্ধুরা আজকে উপস্থিত হয়েছি আপনাদের সাথে ভিন্ন একটি টপিক্স শেয়ার করব বলে। প্রতি সপ্তায় আমি চেষ্টা করি ভিন্ন ভিন্ন কিছু বিষয় আপনাদের সাথে শেয়ার করার জন্য। আজকেও তার অতিক্রম হবে না।
বন্ধুরা আমি আপনাদেরকে ইনানী ভ্রমণের বেশ কিছু পর্ব শেয়ার করেছিলাম। তবে আপনারা অনেক উৎসাহ দিয়েছিলেন পড়ে। আর আমিও অনেক বেশি উৎসাহিত হয়েছি। সেই সাথে অনুপ্রাণিত হয়ে বারবার আপনাদের সাথে সুন্দর সুন্দর ব্লগিং শেয়ার করতে আগ্রহী হই। তো আমি আজকে আপনাদের সাথে শেয়ার করব ইনানী ভ্রমণের আরো কিছু মুহূর্ত। যেদিন আমরা ইনানী ভ্রমণে গিয়েছিলাম সেদিন আমরা সরাসরি রয়েল টিউলিপে চলে গিয়েছিলাম। যেহেতু আমরা সেখানে রুম বুকিং করেছিলাম তাই আমরা এক রাত থেকেছিলাম। বন্ধুরা যাওয়ার পরে রুম বুকিং থেকে শুরু করে যাবতীয় কাজকর্ম শেষ করার পরে আমরা সুইমিং পুলে গোসল করি। তো সুইমিং পুলে গোসল করার পরে রুমে গিয়ে আমরা কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে আবারো সন্ধ্যা বেলায় বের হই। বের হওয়ার পরে খাওয়া দাওয়া করে আমরা আবারো রয়েল টিউলিপ এরিয়াতে চলে আসি।
বন্ধুরা আমি এদিক ওদিক ঘুরে ঘুরে দেখছিলাম চারপাশের পরিবেশ। যেহেতু চারপাশে অনেক আলোকসজ্জা ছিল যদি ও রাতের পরিবেশ। আমি কিছু ফটোগ্রাফি নেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। তো দূর থেকে আপনাদের ভাই বলছিল আমাকে এখানে একটা আপ্যায়ন রেস্টুরেন্ট আছে ভিতরে অনেক সুন্দর। তুমি চাইলে ওখানে গিয়ে ফটোগ্রাফি নিতে পারো। যেহেতু আমি ফটোগ্রাফি নিচ্ছিলাম। তাই আমিও রেস্টুরেন্টে যাই। তো চিন্তা করছিলাম কিছু খাওয়া যায় কিনা। ভিতরে প্রবেশ করি প্রবেশ করার পরে দেখে তো আমি মুগ্ধ হয়ে যাই। কারণ এত সুন্দর একটি নিরিবিলি পরিবেশ কোন গ্যাঞ্জাম ছিল না। তাছাড়া ওদের ডেকোরেশন অসাধারণ ছিল। দেওয়ালের মধ্যে খুব সুন্দর সুন্দর নকশা ছিল। যা আমাকে অনেক বেশি মুগ্ধ করেছিল। তাছাড়া এদের খাবার গুলো খুব নিরাপদে রাখছিলেন। কোন মাছি মশা কিংবা কিছুই ছিল না অনেক পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন একটি জায়গা।
তো আমি উনাদের অনুমতি নিয়ে অনেক গুলো ফটোগ্রাফি করেছিলাম। যেহেতু হুট করে ঢুকলাম হুট করে ফটোগ্রাফি গুলো নিব কেমন জানি দেখাচ্ছিল নিজেকে। যেহেতু গ্যাঞ্জাম ছিল না লোকজন খুব কম ছিল তাই আমার ফটোগ্রাফি নিতে একটু ভালো লাগছিল। যদি লোকজন বেশি থাকত তাহলে ফটোগ্রাফি নেওয়ার প্রশ্নই উঠে না। কারণ সব জায়গা থেকে ফটোগ্রাফি নেওয়া একটু খারাপ লাগে এবং সংকুচিত হয়ে যায় মনটা। বিশেষ করে আমার খাবারের ডেকোরেশন গুলো খুবই ভালো লাগছিল। তবে একটা বিষয় আমাকে খুব বেশি অবাক করেছিল সেটা হচ্ছে সামনের একদম ওয়েলকাম দরজা দিয়ে প্রবেশ পথে খাবারের চার্ট টাঙ্গানো ছিল।
এবং সেখানে খাবারের দাম বসায় দিয়েছিল। যদি একটা ইলিশ মাছের পিস একটা ৬৫০ টাকা করে হয় তাহলে কিভাবে খাব বলেন। যেখানে আমরা Medium টাইপের ইলিশ মাছ গুলো কেজি ৬০০ থেকে ৭/৮০০ টাকা দিয়ে পাই সেখানে একটা ইলিশ মাছের পিস ৬৫০ টাকা দিয়ে খেতে হবে একটু আমার কাছে অবাক করার মত ছিল। আসলে যারা খেতে চাই তাদের জন্য কোন ব্যাপার না। যেহেতু আমরা লোকাল ছিলাম তাই আমাদের একটু দামটা বেশি মনে হয়েছিল। এছাড়া অন্যান্য খাবারের মেনু গুলো আমি দেখছিলাম। খুব বেশি দাম রাখছিল।
তাছাড়া রেস্টুরেন্টের ভিতরে এত সুন্দর করে সাজসজ্জা ছিল আসলেই দাম বেশি নেওয়ার কথা। মানে হচ্ছে যে ওদের সাজসজ্জা সব গুলো হিসেব করে কাস্টমার থেকে নিবে। ঘুরে ফিরে বটের তল যাকে বলে। ওদের খরচের টাকা গুলো কাস্টমারের পিট থেকে হাসিল করে আর কি। যাক অবশেষে আমি অনেক গুলো ফটোগ্রাফি নিয়েছিলাম। রাতের দৃশ্য গুলো আমার কাছে খুবই ভালো লাগছিল। যদিও খাইনি বেশ সুন্দর উপভোগ করেছিলাম রেস্টুরেন্ট এর ভিতর। তো আমার সাথে বাচ্চারাও প্রবেশ করেছিল রেস্টুরেন্টে। তারাও ঘুরে ঘুরে দেখছিলেন চারদিকে। তবে মানুষ একদম নেই এমন ছিলনা মানুষ ছিল। যেহেতু আমরা একটু রাত করে গিয়েছিলাম তাই মানুষের সংখ্যা কম ছিল।
শুনেছি তাদের নাকি সকাল বেলায় কোন আইটেম ছিল না। শুধু দুপুরের লাঞ্চের ব্যবস্থা এবং রাতের খাবার। ব্যাপারটা হচ্ছে রয়েল টিউলিপের আর একটি রেস্টুরেন্ট এটি। রয়েল টিউলিপে যেহেতু সকাল বেলায় বুফে খাওয়া হয়। তাই সেখানে আর সকাল বেলায় ব্রেকফাস্টের ব্যবস্থা ছিল না। তো বন্ধুরা এই পর্যন্ত আমি ফটোগ্রাফি গুলো করে সোজা বের হয়ে গেছিলাম। আশা করি আপনাদের কাছে ভালোই লেগেছে আমার আজকের রয়েল টিউলিপের আপ্যায়ন রেস্টুরেন্টের দৃশ্যগুলো।
| ডিভাইসের নাম | Wiko,T3 |
|---|---|
| মডেল | W-V770 |
| Location | কক্সবাজার রয়েল টিউলিপ |
| ফটোগ্রাফার | @samhunnahar |
| ক্যাটাগরি | ট্রাভেলিং |
সবাইকে অনেক ধন্যবাদ সময় দিয়ে আমার লেখা পড়ার জন্য।
🥀আল্লাহ হাফেজ সবাইকে🥀
আমি সামশুন নাহার হিরা। আমার ইউজার আইডি @samhunnahar। আমি আমার বাংলা ব্লগে কাজ করছি বাংলাদেশের কক্সবাজার থেকে। আমি বাংলা ভাষায় লিখতে-পড়তে অনেক ভালবাসি। রান্না করতে আমি অনেক পছন্দ করি। তাছাড়া সময় পেলে ভ্রমণ করি আর প্রকৃতিকে অনুভব করি। ফটোগ্রাফি করতে আমার ভীষণ ভাল লাগে। আমি মাঝে মাঝে মনের আবেগ দিয়ে কবিতা লেখার চেষ্টা করি। আমার প্রিয় শখের মধ্যে তো গান গাওয়া অন্যতম। আমার মনের ভাব বাংলায় প্রাকাশ করতে পেরে অনেক আনন্দিত। তার জন্য আমার প্রাণের/ভালবাসার কমিউনিটি "আমার বাংলা ব্লগ"কে অনেক ভালবাসি।
বাহ বেশ সুন্দর মুহূর্ত অতিবাহিত করেছেন আপু। আসলে এমন পরিবেশে সময় কাটাতে পারলে খুবই ভালো লাগে। রয়েল টিউলিপের চারপাশ খুবই চমৎকার। বেশ সুন্দর ফটোগ্রাফি আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন। ইনানী ভ্রমণে রয়েল টিউলিপে কাটানো কিছু মুহূর্তের অনুভূতি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
অনেক সুন্দর ছিল পরিবেশটা। খাবার-দাবারের দাম গুলো অনেক বেশি ছিল।
আপনার ট্রাভেলিং পোস্ট দেখে বেশ ভালো লাগলো। আশা করি আপনার মন আগের থেকে কিছুটা ভালো হয়েছে। যাই হোক ইনানী ভ্রমণের বেশ কিছু ছবি এবং বিস্তারিত বর্ণনা নিয়ে আজকের পোস্টটি সাজিয়েছেন। হোটেলটির আলোকসজ্জা এবং জাকজমকপূর্ণ পরিবেশ দেখেই আমার কাছেই মনে হয়েছে এরা খাবারের দাম রাখবে প্রচুর। সেটাই দেখলাম এক পিস ইলিশ মাছের দাম সাড়ে ছয়শ টাকা তার মানে তো ওরা মোটামুটি ডাকাতি ব্যবসা করছে। যাই হোক যাদের অঢেল টাকা রয়েছে তারা হয়তো সেখানে দিব্যি খেয়ে উঠবে। আপনার আমার মত মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য এটা অনেক বেশি বিলাসিতা হয়ে যায়। যাই হোক আপনার ভ্রমণ পোস্টে আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে।
চেষ্টা করতেছি ভাইয়া ব্যস্ত সময় কাটানোর জন্য। রেস্টুরেন্টের দৃশ্য গুলো খুবই সুন্দর ছিল।
Twitter