ফটোগ্রাফিঃ-পিঠা উৎসব থেকে নেওয়া সাতটি সুস্বাদু পিঠার ফটোগ্রাফি।
শুভ বিকেল,
সবাইকে শুভেচ্ছা ও স্বাগতম জানাচ্ছি বন্ধুরা আমার আজকের নতুন ব্লগে। আশা করি পরিবার-পরিজনকে নিয়ে সবাই অনেক ভালো আছেন সুস্থ আছেন। আমিও ভালো আছি তবে ব্যস্ততা যেন শেষ হয় না আমার। আজকে কিছু টেস্ট ছিল হাসপাতালে গেলাম। হাসপাতাল কিংবা ক্লিনিকে গেলে সময় গুলো সেখানে শেষ হয়ে যায়। সকাল 11 টায় গেছি দুপুর ১ঃ৩০ মিনিটে আসছি। বুঝতে পারছেন কি পরিমাণ যে অবস্থা। সত্যি আমার কেমন জানি হাসপাতাল কিংবা ক্লিনিকে টেস্ট দিতে গেলে খুব বিরক্ত লাগে। ভাবছিলাম টেস্ট দিয়ে সাথে সাথে চলে আসতে পারবো। কিন্তু ১১ টা থেকে ১ঃ৩০ পর্যন্ত পরপর তিনবার ব্লাড কালেকশন করল আমার থেকে। আসলেই টেস্টটা ছিল ডায়াবেটিস আছে কিনা চেক করবে। যেহেতু সামনে আমার সিজার হবে সেজন্য ব্লাড টেস্ট করে নিচ্ছে ডাক্তার। তো প্রথমে খালি পেটে ব্লাড আর ইউরিন দিলাম। এরপরে আবার গ্লোকোজ খাওয়াইয়া পরপর ১ ঘণ্টা অন্তর অন্তর দুইবার নিল। অবশেষে১ঃ৩০ মিনিটে ফ্রি হয়ে বাসায় আসলাম।
তখন পর্যন্ত আমি কিছু খাইনি শুধু গ্লোকুজ পানি খেয়েছিলাম। বাসায় এসে রান্না করে খাওয়ার পরে বেশ ক্লান্ত লাগল একটু শুয়ে থাকছিলাম। ভাবলাম যে আসলেই প্রতিদিন পোস্ট করতে আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে। আজকে যেহেতু একটু সময় সুযোগ পেলাম তাই আপনাদেরকে পোস্ট শেয়ার করে নিচ্ছি। আজকে আমি আপনাদের সাথে খাবারের ফটোগ্রাফি শেয়ার করব। আজকে সাতটি খাবারের ফটোগ্রাফি শেয়ার করব। খাবারের ফটোগ্রাফি গুলো আমি ফুড ফেস্টিভ্যাল অনুষ্ঠান থেকে নিয়েছিলাম। এরকম অনুষ্ঠানে গেলে খুব ভালো লাগে। খাওয়া-দাওয়া তো হয় সেই সাথে লোভনীয় ফটোগ্রাফি গুলো করার সুযোগ হয়। সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে আপনাদের সাথে শেয়ার করতে পারলে। যাক বন্ধুরা আর কথা না বাড়িয়ে ফটোগ্রাফি গুলো শেয়ার করে নিয়েছি–
পাকন পিঠাঃ-
প্রথমে যে ফটোগ্রাফিটা আমি শেয়ার করেছি তা অবশ্যই কম বেশি সকলেই জানেন। গ্রাম বাংলার সবার বেশ প্রিয় পিঠা হচ্ছে এই পাকন পিঠা। এই পিঠা খুবই জনপ্রিয়। আমারও খেতে খুব ভালো লাগে। বিশেষ করে বিকেল বেলায় কিংবা শীতের দিনে খেতে খুবই মজার হয় গরম গরম। বেশিরভাগ পিঠা গরম গরম খেতে ভালো লাগে। প্রায় সময় তৈরি করে থাকি এই পাকন পিঠা রেসিপি। এই মজাদার পিঠার ফটোগ্রাফি ফেস্টিভ্যাল থেকে নিয়েছিলাম।
নকশা পিঠাঃ-
এই পিঠাকে অনেকেই মুখ পাকন বলে আবার অনেকেই নকশা পিঠা বলে। তবে এই পিঠা ভিন্ন ধরনের স্বাদ হয়। যেহেতু চালের গুড়া দিয়ে তৈরি করা হয় এবং পরে তেলে ভেজে নিয়ে চিনির শিরকাতে দিতে হয়। যখন চিনির সিরকায় দেওয়া হয় খেতে খুব মজার হয়। তবে আমি এমন একজন মানুষ যে পিঠা দেবেন না কেন আমার খেতে খুব ভালো লাগে। তাই আমি আমার পছন্দমত সব ধরনের পিঠা তৈরি করার চেষ্টা করি। তবে এই নকশা কিংবা মুখ পাকন আমার একদম তৈরি করা হয়নি। কিন্তু ফুড ফেস্টিভ্যাল অনুষ্টানে খেয়ে আমার বেশ ভালো লাগছিল।
বড়া পিঠাঃ-
পিঠার মধ্যে আরেক জনপ্রিয় পিঠা হচ্ছে বড়া পিঠা। খুব সহজেই শর্টকাট পদ্ধতিতে তৈরি করা যায় বলে অনেক বেশি তৈরি করি আমি। বিশেষ করে কোন অতিথি আপ্যায়নে কিংবা বিকেল বেলায় নাস্তা হিসেবে খাওয়া যায়। আমার তো খুব ভালো লাগে এই পিঠা খেতে। বড়া পিঠা বিভিন্নভাবে তৈরি করা যায়। চালের গুড়া দিয়ে তৈরি করা যায় ময়দা দিয়ে তৈরি করা যায়। তাছাড়া ও বেসন দিয়ে তৈরি করা যায়। সুজি দিয়ে তৈরি করা যায়। যে যেভাবে তৈরি করুক না কেন খেতে খুবই ভালো লাগে।
তালের পিঠাঃ-
তালের পিঠা একটি সিজন ভিত্তিক পিঠা। তবে বর্তমান সময়ে সিজনের জন্য অপেক্ষা করতে হয় না। যখন তালের সিজন আসে তখন সবাই দেখি তালের সংগ্রহ করে থাকেন ডিপ ফ্রিজের মধ্যে। মানুষের কথা কি আর বলব আমি নিজেই সংগ্রহ করার আগে পুরো বছর খাওয়ার জন্য। তালের পিঠা বিভিন্নভাবে তৈরি করা যায়। কেক তৈরি করা যায়।তালের রসের বড়া বানানো যায়। আরো অনেক কিছু তৈরি করা যায়। তবে আজকের শেয়ার করা তালের এই পিঠার রেসিপিটা আমার বেশ সহজ মনে হয়।
হরেক রকমের পিঠাঃ-
দেখতে পাচ্ছেন বন্ধুরা একটি প্লেটের মধ্যে কত আইটেমের পিঠা রয়েছে। এই পিঠাগুলো আমাদেরকে খাওয়ার জন্য দেওয়া হয়েছিল। বিশেষ করে শব্দায়নের পিঠা উৎসবে সব স্টুডেন্টের মায়েরা পিঠা নিয়ে গেছিল। এই পিঠা উৎসবে আমরা সবাই যে যার মত পিঠা তৈরি করে নিয়েছিলাম। তবে অবশেষে সবার নিয়ে আসা পিঠা সুন্দর করে প্লেট সাজিয়ে দিয়ে সব স্টুডেন্টদেরকে গাড়িয়াদেরকে দেওয়া হচ্ছিল। তো আমাকে এই প্লেটটি খাওয়ার জন্য দিয়েছিল। আমি সেই প্লেটের পিঠার ফটোগ্রাফি আপনাদের সাথে শেয়ার করে নিলাম।
জামাই পিঠাঃ-
যদিও এই পিঠাকে আমি নকশা পিঠা বলি। কিন্তু গ্রামে গেলে এই পিঠার এক এক ধরনের ভিন্ন ভিন্ন নাম রয়েছে।এই নাম গুলো শুনলে বেশ হাসি পায়। কেউ বলে জামাই পিঠা। কেউ বলে বউ পিঠা। আবার কেউ বলে বর জামাই পিঠা হি হি হি। আর আমি বলি কি নকশা পিঠা। যাক যে নামে চিনুক না কেন কিন্তু চেহারাতে একরকম। চেহারা হচ্ছে একটাই। নাম পরিবর্তন হতে পারে কিন্তু পিঠার কোন পরিবর্তন নেই। সবার পিঠা তৈরি করার পদ্ধতি একই রকমের। এই পিঠাগুলো মুচমুচে খেতে দারুন ছিল।
নারকেল নােড়ুঃ-
এই নাড়ু আমার কাছে আরও বেশি প্রিয়। বিশেষ করে যেকোন পিঠা তৈরি করার সময় নারকেল ছাড়া আমার পিঠা খাওয়া হয় না। আমি মনে করি পিঠার মধ্যে নারকেল দিলে পিঠার স্বাদ অনেক বেড়ে যায়। শুধু যে স্বাদ বেড়া যায় সেটা না আমার কিন্তু বেশ পছন্দের একটি পিঠা নারকেল নাড়ু। আমি যে কোন ভাবে তৈরি করার চেষ্টা করি নারকেল দিয়ে পিঠা। নারকেল নাড়ু গুলো দেখে আমার খুব ভালো লাগছিল এবং খেতে চেষ্টা করেছিলাম। আর খাওয়ার পরে এতই ভালো লাগছিল যা মুখে লেগে থাকার মত। তাই ফটোগ্রাফি নিয়েছিলাম আপনার সাথে শেয়ার করার জন্য।
ক্যামেরার বিবরণ
| ডিভাইসের নাম | Redmi-MI |
|---|---|
| মডেল | Redmi Note-14 pro |
| ফটোগ্রাফার | @samhunnahar |
| লোকেশন | কক্সবাজার |
| ক্যাটাগরি | খাবারের ফটোগ্রাফি। |
💘ধন্যবাদ সবাইকে💘
আমার পরিচয়
আমি সামশুন নাহার হিরা। আমার ইউজার আইডি @samhunnahar। আমি আমার বাংলা ব্লগে কাজ করছি বাংলাদেশের কক্সবাজার থেকে। আমি বাংলা ভাষায় লিখতে-পড়তে ভালবাসি। আমি রান্না করতে পছন্দ করি। ভ্রমণ আমার কাছে অনেক ভাল লাগে। আমি সব ধরনের ফটোগ্রাফি করতে পছন্দ করি। আমি গান গাইতে এবং কবিতা আবৃত্তি করতে ভীষণ ভালবাসি। আমার মনের ভাব বাংলায় প্রাকাশ করতে পেরে অনেক আনন্দিত। তার জন্য আমার প্রাণের কমিউনিটি "আমার বাংলা ব্লগ"কে অনেক ভালবাসি।
আপনি পিঠা উৎসব থেকে নেওয়া সাতটি সুস্বাদু পিঠার ফটোগ্রাফি আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন। আপনার মাধ্যমে বেশ কয়েকটি পিঠার ফটোগ্রাফি দেখার সুযোগ হলো আপু। আসলে এরকম পিঠা উৎসবে অনেকেই অনেক ধরনের পিঠা তৈরি করে থাকেন। বিশেষ করে আপনার শেয়ার করা জামাই পিঠা টি একটু বেশি ভালো লেগেছে।
পিঠা গুলো খেতে খুবই ভালো লাগছিল। সুন্দর অনুভূতি প্রকাশ করার জন্য ধন্যবাদ।
https://x.com/heranahar148614/status/1894464422103687557?t=lWjOZlVU5BoE7S61KziUwg&s=19
পিঠা উৎসব থেকে আপনি খুবই মজার মজার কিছু পিঠার ফটোগ্রাফি করেছেন। প্রতিটা পিঠা দেখতে কিন্তু খুবই সুস্বাদু মনে হচ্ছে। সবগুলো পিঠা দেখে তো আমার ইচ্ছে করছে এখনই খেয়ে ফেলি এখান থেকে নিয়ে। মজার মজার পিঠার ফটোগ্রাফি শেয়ার করে তো লোভ লাগিয়ে দিয়েছেন।
আমার শেয়ার করা পিঠার ফটোগ্রাফি গুলো দেখে ভালো লাগার জন্য ধন্যবাদ।
কিছু জায়গায় পিঠা হয়ে গেছে পিঠ আর নাড়ু হবে মনে হয়।
যাইহোক প্রতিটা পিঠাই আপনাদের দেশে বিখ্যাত। বলতে গেলে এই দেশে আমি খাইইনি৷ পাকন পিঠা নকসি পিঠা এগুলোর শুধুই ছবি দেখি।
আপনার পোস্টেও দেখলাম। কী দারুণ সব৷ খেতেও নিশ্চই ভালো৷
এই পিঠা গুলোর সাথে আমরা খুবই পরিচিত আপু। প্রতিনিয়ত খাওয়া হয় বিশেষ করে শীতকাল আসলে বেশি খাওয়া হয়।
আসলেই হসপিটালে গেলে বিরক্ত লাগে। কারণ হসপিটালে প্রচুর সময় ব্যয় করতে হয়। যাইহোক পিঠা উৎসব থেকে তোলা বিভিন্ন ধরনের পিঠা গুলো দেখে ভীষণ ভালো লাগলো আপু। এতো মজার মজার পিঠার ফটোগ্রাফি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
হাসপাতালের কথা কি আর বলবো যেতে ইচ্ছে করে না এত বিরক্ত লাগে। ফটোগ্রাফি গুলো দেখে ভালো লাগার জন্য ধন্যবাদ।
প্রথমেই আপনার সুস্থ্যতা কামনা করছি আপু। সামনে যেহেতু সিজার হবে এজন্য সাবধানে থাকার চেষ্টা করবেন আপু। যাক, বেশ মজাদার কিছু পিঠার ফটোগ্রাফি দেখতে পেলাম আপু।
দোয়া করবেন ভাইয়া আমার জন্য আমার পরিবারের জন্য। অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
সব গুলো পিঠাই অনেক ভালো লেগেছে। পাতা দিয়ে তালের পিঠের ছবিটা আনকমন মনে হয়েছে। চেনা অচেনা অনেক পিঠার ফটোগ্রাফি দেখলাম। ধন্যবাদ।
অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
আমার ডেইলি টাস্ক
পিঠা উৎসবে অনেক ধরনের পিঠা আসে৷ সেখানে আমরা অনেক ধরনের পিঠা দেখতে পাই। আজকে আপনার কাছ থেকে পিঠার ছবির মধ্য দিয়ে এত সুন্দর কিছু পিঠা দেখতে পেলাম৷ যা দেখে খুব ভালোই লাগছে৷ এখানে যেভাবে আপনি এত সুন্দর কিছু ফটোগ্রাফির মাধ্যমে আপনার এই পোস্ট সাজিয়ে তুলেছেন তা দেখে খুব ভালো লাগছে৷ অনেক ধন্যবাদ আপনাকে এত সুস্বাদু কিছু পিঠার ফটোগ্রাফি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য৷
বতর্মানে পুরো বাংলাদেশ জুড়েই চলছে এই পিঠা উৎসব। বেশ দারুণ লাগল দেখে। চমৎকার করেছেন পিঠার ফটোগ্রাফি গুলো আপু। এখানের প্রায় সবগুলো পিঠা আমি চিনি। বেশ সুন্দর ছিল আপনার পিঠার ফটোগ্রাফি গুলো।