কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে পর্যটন মেলা- (প্রথম পর্ব)।
প্রিয় আমার বাংলা ব্লগ পরিবার
লেখা শুরুতে সবাইকে আসসালামুয়ালাইকুম। শুভেচ্ছা ও স্বাগতম জানিয়ে আজকের ব্লগিং শুরু করতেছি। আশা করি আমার আজকের ব্লগিং আপনাদের ভালো লাগবে। কারণ বাংলা ভাষায় সব সময় নিজের ক্রিটিভিটি গুলো শেয়ার করতে খুবই ভালো লাগে। তাছাড়া সবার মাধ্যমে এত সহযোগিতা পাই এবং অনুপ্রেরণা পাই সত্যি অনেক বেশি মুগ্ধ হয়ে যায়। আমার বাংলা ব্লগ পরিবারের সকল ভাই-বোনেরা এত বেশি সহযোগিতা করে। সবার সহযোগিতা পেয়ে আজ নিজেকে অনেক বেশি ধন্য মনে করি। যে কোন কাজে অনেক বেশি হেল্পফুল সবাই। তো বন্ধুরা অনেক কথা হয়ে গেল তাই কথা না বাড়িয়ে সরাসরি চলে যাচ্ছি মূল পর্যায়ে।
গত সপ্তাহে যখন কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বাচ্চাদেরকে নিয়ে ঘুরতে গিয়েছিলাম। তখন লাবনী পয়েন্টের সমুদ্রে পাড়ের মোড়ে অনেক বড় করে একটি প্যান্ডেল সাজানো হচ্ছিল। তো বিষয়টা খুবই জানার আগ্রহ ছিল আসলে কি কারনে এত সুন্দর একটি প্যান্ডেল তৈরি করা হচ্ছে। বিশেষ কোনো কারণ না থাকলে এমন সুন্দর সাজানো হয় না। তো প্রথমে ড্রাইভার কে জিজ্ঞেস করলাম। ড্রাইভার সাহেব আমাকে উত্তর দিলেন পর্যটন মেলা উদ্বোধন করা হচ্ছে। যেহেতু ২৭ তারিখ বিশ্ব পর্যটন দিবস তাই সেই উদ্দেশ্যে কক্সবাজারে ও পর্যটন মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
ব্যাপারটা খুবই ভালো লাগছিল কারণ পর্যটন মেলা মানে হচ্ছে যে পর্যটকদের ঢল নামবে বলতে গেলে। তো যেহেতু ২৭ তারিখ শুরু হয়ে গেছে তাই ২৭-২৮ দুই দিন খুবই ব্যস্ত ছিলাম তাই যাওয়া হয়নি। যেহেতু আমাদের বৃহস্পতিবারে হ্যাংআউট থাকে তো বিকেল বেলায় আমার কোথাও যেতে ইচ্ছে করে না। গতকাল শুক্রবার যখন আর বাচ্চাদেরকে সামলানো যাচ্ছিল না। তারা ইতিমধ্যে জানতে পেরেছিল যে পর্যটন মেলা অনুষ্ঠিত হবে। তো ছোট মেয়ে আমার থেকে জানতে চাইলো কতদিন থাকবে। আমি তাকে বললাম সাত দিন যাবত মেলা চলবে। তো সেই শুক্রবার আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করেছিল। বিকেল বেলায় তাই সবাই চলে গেলাম পর্যটন মেলা উপভোগ করার জন্য।
সত্যি বলতে মেলায় গিয়ে আমি মুগ্ধ না হয়ে পারি নাই। আমার এই ছোট বয়স থেকে এই পর্যন্ত আমি কখনো এত মানুষ দেখি নাই কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে। যদিও থার্টি ফার্স্ট নাইটে আমি কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে প্রতিবারই যাই। কিন্তু সেদিনও অনেক মানুষ থাকে বলতে গেলে। কিন্তু আজকের এই শুক্রবারের পর্যটন মেলায় এত মানুষ দেখেছি আমি বলার মতই না। এতই মানুষের ভিড় ছিল মনে হচ্ছিল যে মানুষের পায়ের তলায় পিষে যাব আজকে। যাক খুব ভালোই লেগেছিল অনেক ধরনের দোকানপাট দেখলাম। তাছাড়া ভিন্ন ভিন্ন খোলামেলা জায়গাগুলোতে দফায় দফায় বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে।
দেখে একটু বিস্মিত হলাম কারণ এত বড় আয়োজন আগে দেখি নাই কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে। সত্যি প্রশংসনীয় বলতে হয় আমাদের কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক এবং অন্যান্য সহযোগী সবাইকে। কারণ এত সুন্দর একটি মেলার আয়োজন করার জন্য। তাছাড়া বিভিন্ন হোটেল, রেস্টুরেন্ট এর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ডিসকাউন্টের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে পর্যটকদের জন্য। যাতে পর্যটকরা অনেক বেশি সন্তুষ্টি হবে। তাছাড়া বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের প্রতি এগিয়ে যাওয়া হচ্ছে। অনেক অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রি করা হচ্ছে খুব সুন্দর ডিসকাউন্টের মাধ্যমে।
রুম বুকিং করা হচ্ছে ডিসকাউন্টের মাধ্যমে। বলতে গেলে কক্সবাজারে এখন মেলাতে সব আইটের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন ছাড়া রাখা হয়েছে। বিভিন্ন স্টল বসানো হয়েছে বিভিন্ন আইটেমের। আমি ধাপে ধাপে সেই বিষয়গুলো আপনাদের সাথে পরে শেয়ার করব। তো বন্ধুরা সাথে থাকবেন সবাই বিস্তারিত জানার জন্য। আশা করি আমার আজকের ব্লগ আপনাদের ভালো লাগবে। যেহেতু বিশ্ব পর্যটন মেলার সাপেক্ষে কক্সবাজারের পর্যটন মেলাটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এক কথায় বলতে গেলে যথেষ্ট পরিমাণ পর্যটকদের ছাড়া পেয়েছি আমরা। সেটা আমাদের কক্সবাজারের জন্য অনেক বেশি গৌরবের। যা আমাদের কক্সবাজারের জন্য অনেক বেশি উন্নতি বহন করবে। কারণ যত বেশি পর্যটক আসবেন তত বেশি আমাদের জেলার জন্য অনেক বেশি উপকারী।
সেটা শুধু ইনকাম এর ক্ষেত্রে নয় বিভিন্ন ক্ষেত্রেই আমরা লাভবান। হা হা হা বলতে পারেন আপনারা আমি সুবিধাবাদী মানুষ। আসলেই তা না একটি এলাকা যখন পর্যটন নগরীতে পরিণত হবে। তখন সেই এলাকায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কিংবা বিভিন্ন উন্নয়নের ক্ষেত্রে উন্নয়নের ছোঁয়া অনেক বেশি প্রভাবিত হয়। যা আমরা দিনের পর দিন দেখতে পাচ্ছি। আমাদের কক্সবাজারে চেহারা দিন দিন পাল্টে যাচ্ছে সেটা আমাদের সৌভাগ্যের ব্যাপার। তো বন্ধুরা আজকে এখানে শেষ করছি সাথে থাকবেন আশা করি পরবর্তী বিষয় জানার জন্য।
| ডিভাইসের নাম | Wiko,T3 |
|---|---|
| মডেল | W-V770 |
| Location | কক্সবাজার |
| ফটোগ্রাফার | @samhunnahar |
| ক্যাটাগরি | লাইফস্টাইল |
সবাইকে অনেক ধন্যবাদ সময় দিয়ে আমার ব্লগটি ভিজিট করার জন্য।
🥀আল্লাহ হাফেজ সবাইকে🥀
আমি সামশুন নাহার হিরা। আমার ইউজার আইডি @samhunnahar। আমি আমার বাংলা ব্লগে কাজ করছি বাংলাদেশের কক্সবাজার থেকে। আমি বাংলা ভাষায় লিখতে-পড়তে অনেক ভালবাসি। রান্না করতে আমি অনেক পছন্দ করি। তাছাড়া সময় পেলে ভ্রমণ করি আর প্রকৃতিকে অনুভব করি। ফটোগ্রাফি করতে আমার ভীষণ ভাল লাগে। আমি মাঝে মাঝে মনের আবেগ দিয়ে কবিতা লেখার চেষ্টা করি। আমার প্রিয় শখের মধ্যে তো গান গাওয়া অন্যতম। আমার মনের ভাব বাংলায় প্রাকাশ করতে পেরে অনেক আনন্দিত। তার জন্য আমার প্রাণের/ভালবাসার কমিউনিটি "আমার বাংলা ব্লগ"কে অনেক ভালবাসি।
https://steemit.com/hive-129948/@samhunnahar/2d3idw
কক্সবাজার আমি যতবার গিয়েছি বা যতবারই কোন মেলা অথবা অনুষ্ঠান দেখেছি। সেটি ম্যাক্সিমাম সময় লাবনী পয়েন্টে হয়েছে। এ পয়েন্টটি অনেক বড় এবং এখানে মেলা হলে অনেক জাকজমক হয়। আবার অনেক লোকজনের সমাগমও হয়। ধন্যবাদ আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
আসলে কক্সবাজারের লাবনী পয়েন্ট হচ্ছে কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতের প্রথান পরিচয়। আমরা ছোটবেলা থেকে দেখেই আসছি সমুদ্র সৈকত মানে হচ্ছে লাবনী পয়েন্ট। তবে এখন যে পয়েন্টগুলো নতুন ভাবে হচ্ছে এগুলো নতুন নতুন তৈরি করা হচ্ছে। তাই যে কোন অনুষ্ঠান হলে লাবনী পয়েন্টে হয়।
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে সর্বপ্রথম যাওয়া হয়েছে হানিমুনের সময়। অনেক ইনজয় করেছিলাম তখন। যদিও ওই মুহূর্তে কোন প্রকার অনুষ্ঠান বা মেলা হয়নি। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ পর্যটন মেলায় ঘুরাঘুরির অনুভূতি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
অনেক ধন্যবাদ আপু আমার পোস্টটি পড়ে আমাকে অনুপ্রাণিত করার জন্য।
আসলে আপু বাচ্চারা এমনি একবার কোন কিছুর নাম শুনলে না যাওয়া পর্যন্ত রক্ষা নেই। আপনি মেলায় বাচ্চাদের নিয়ে সুন্দর একটি সময় কাটিয়েছেন.।ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর কাটানো মূহুর্তে আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
সহজে ভুলতে চাইনা আপু একদম মনে রাখে।
আপু, এতো এতো মানুষের ভীড়ে আপনি যে ভাগ্নীদের নিয়ে হারায় যাননি এতেই শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি 😁। তবে এমন পর্যটন মেলা হলো ভালোই হয়। আপনাদের এলাকা সম্পর্কে পর্যটনরা জানতে পারে। এছাড়া একটা এলাকা পর্যটন নগরী হিসেবে পরিচিতি লাভ করলে আপনাদেরই সুনাম।
অসাধারণ অনুভূতি শেয়ার করলেন ধন্যবাদ আপনাকে।
একটা দেশ বা অঞ্চলের জন্য পর্যটন কেন্দ্র বা পর্যটক শিল্প টা অনেক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকে। যেমনটা কক্সবাজারের ক্ষেএে হয়েছে। তবে অনেক সুবিধাবাদী লোকদের জন্য এটা আবার ঝামেলাও আছে। পর্যটক মেলায় দেখছি অনেকগুলো স্টল দেওয়া হয়েছে। আর আপনি বাচ্চাদের নিয়ে বেশ ভালো সময় কাটিয়েছেন মেলায়। ফটোগ্রাফি গুলো ভালো ছিল। আপনার পরের পর্বের পোস্টের জন্য অপেক্ষায় রইলাম আপু।
দিন দিন কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের চেহারা পাল্টে যাচ্ছে ভাইয়া। উন্নয়নের অনেক বেশি ছোঁয়া লেগেছে।
মেলায় ঘুরতে কিন্তু ভালই লাগে। অনেক নতুন নতুন ধরনের জিনিস পাওয়া যায়। তবে মাঝে মঝে ঠকতেও হয় জিনিস কিনে। তবে ঘুরার জন্য বেশ ভালো জায়গা। বাচ্চাদের নিয়ে মেলায় বেশ ভালো সময় কাটানোর মুহুর্ত শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ আপু।
সব সময় যাওয়ার চেষ্টা করি আপু যেহেতু কাছাকাছি আছি। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
মেলায় ঘোরাঘুরি করতে আমাদের সবারই ভালো লাগে বিশেষ করে বাচ্চারা একটু বেশি বায়না করে মেলায় যাওয়ার জন্য এবং ওরা খুব আনন্দ করে মেলায় গিয়ে। যাই হোক বাচ্চাদের সাথে খুব ভালো সময় কাটিয়েছেন মেলায়।ধন্যবাদ আপু মেলায় ঘোরাঘুরির মুহূর্ত আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।
হে আপু বাচ্চাদের বায়না গুলো এমনই হয়।
আপু আপনাদের ভাগ্য ভালো যে কক্সবাজারে জন্মগ্রহন করেছেন। এত সুন্দর একটি পর্যনট এলাকায় আপনারা বসবাস করছেন। সুযোগ পেলেই সমুদ্রপাড়ে চলে যান। টানা তিন দিন সরকারি বন্ধ ছিল তাই পর্যটন মেলায় এত মানুষের সমাগম হয়েছে। ধন্যবাদ আপু।
অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া সুন্দর অনুভূতি প্রকাশ করার জন্য।
Twitter