বিদায় সংবর্ধনা
আসসালামু আলাইকুম
আমি @sajjadsohan from 🇧🇩.
৩১ জুলাই, সোমবার।
আ মার বাংলা ব্লগের সকল সদস্যকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা। আশা করি সবাই ভাল আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় ভাল আছি, আজকে নিজের কিছু মনের কথায় লিখে দেয়ার চেষ্টা করব, নিজের অনুভূতি প্রকাশ করার চেষ্টা করব।
বিদায় শব্দটার সাথে একটা দুঃখ, একটা আবেগ, একটা গল্প থাকে। বিদায় অনেক সময় সুখকর হতে পারে আবার দুঃখকর ও হতে পারে। গল্পটা যেমনই হোক এর পেছনে থাকে অনেক অনেক স্মৃতি।
আমার ইউনিভার্সিটি'র আমার ডিপার্টমেন্টের দুইজন ম্যাডাম ফুল স্ক্লারশীপে আমেরিকায় চলে যাচ্ছেন পিএইচডি করার জন্য, পুরো ব্যাপারটাই যেন আমাদের কাছে আনন্দের, কিন্তু ওই যে বললাম প্রত্যেক বিদায়ের পেছনে রয়েছে কিছু আবেগ গল্প, তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য তারা আমাদেরকে ছেড়ে চলে যাচ্ছে আমরাও কিন্তু এই মানুষদেরকে হারাচ্ছি যারা এতদিন আমাদেরকে মানুষের মতো মানুষ তৈরি করার জন্য শ্রম দিয়েছেন।
ইউনিভার্সিটি থেকে তাদেরকে একটা বিদায় সংবর্ধনা জানানো হয়েছিল, কিন্তু ছাত্র-ছাত্রীদের পক্ষ থেকে করা হয়নি। ওই তো কথায় আছে না ভদ্র পড়ুয়া ছাত্ররা কিন্তু দুনিয়ার চারপাশের জিনিস দেখেনা, তারা ব্যস্ত তাদের এক্সাম নিয়ে, তাদের চাকরি জীবন কিংবা ব্যক্তি জীবন নেই।
আমাদের মত যে সকল ছাত্ররা ছিল, যারা ছাত্রদের অধিকার নিয়ে কথা বলতো, যারা প্রয়োজনে ইউনিভার্সিটি ম্যানেজমেন্ট এর বিপক্ষে চলে যেত, যারা দাবি না মানলে আন্দোলন করতো, ঠিক তারাই একটা প্রোগ্রাম এরেঞ্জ করল তাদের বিদায় বেলা।
যদিও এই শুক্রবার করার কথা ছিল দেশের পরিস্থিতি খুব খারাপ ছিল আমাদের তাই করা হয়নি, আজ তাদের শেষ দিন ইউনিভার্সিটিতে। যদিও আমরা শুধু শুক্রবারের ছাত্র অর্থাৎ আমরা সপ্তাহে একদিন ক্লাস করে থাকে। তবু আজকে সময় ম্যানেজ করে আমরা তাদের সাথে দেখা করতে গিয়েছি, তাদের জন্য ছোট্ট একটা আয়োজন রেখেছি তাদের জন্য কিছু গিফট রেখেছি।
বিদায় বেলার সময়টুকু আমরা দুষ্টু ছেলেরাই কিন্তু ছিলাম, যারা ঠিকমতো ক্লাস করতাম না যারা অনিয়ম করতাম, যারা অধিকার আদায় করার জন্য কথা বলতাম, তারাই যখন বিদায় বেলা বেশি দুঃখ প্রকাশ করছিলাম আবেগী হচ্ছে ছিলাম, আমাদের সাথে শিক্ষক শিক্ষিকারাও একটু আবেগপ্রবণ হয়ে গেল, ডিপার্টমেন্টে বসে অনেকক্ষণ কথা বললাম, কথার এক প্রসঙ্গে ম্যাম বলে উঠলো। বিভিন্ন কারণে তোমাদেরকে বকাঝকা করেছি তোমরা কষ্ট পেয়ো না, পারলে আমাদের ক্ষমা করে দিও। আমরাও যখন করুণ সুরে তাদেরকে বললাম অনেক সময় বেয়াদবি হয়ে যেতে পারে জেনে না জেনে, বুঝে না বুঝে আমরা যদি আপনাদের মনে কষ্ট দিয়ে থাকি আমাদেরকে ক্ষমা করবেন।
লাইনগুলো হয়তো খুব সহজে লিখে দিলাম, কিন্তু যে ম্যামরা আমাদেরকে কঠোর শাসনের উপর রাখতো, আমাদের উপর বিভিন্ন বাধা-বিপত্তি দেয়া হতো ঠিক আমাদের মধ্যে যখন এরকম আবেগ গ্রহণ কথা হচ্ছিল, লক্ষ্য করে দেখলাম ম্যাডাম এবং আমাদের উভয় পক্ষেরই চোখের কোনে এক বিন্দু জল।
আমি সাজ্জাদ সোহান
আমি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এর একজন শিক্ষার্থী। আমি ঢাকাতে বসবাস করি। আমি ট্রাভেল করতে অনেক ভালোবাসি, এছাড়া অবসর সময়ে মুভি দেখি, ফটোগ্রাফি করি, গান করি। আমি একটু চাপা স্বভাবের তাই কম কথা বলি কিন্তু আমি একজন ভালো শ্রোতা। ভালোবাসি নতুন জিনিস শিখতে, মানুষকে ভালবাসি তাই মানুষের সহযোগিতায় এগিয়ে আসি।
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
VOTE @bangla.witness as witness
OR

Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
মাঝে মাঝে কিছু আনন্দের খবরের মাঝেও দুঃখ লুকিয়ে থাকে। আসলে উনারা আমেরিকাতে যাবেন জেনে যেমন খুশি হলাম তেমনি বিদায়ের মুহূর্ত দেখে অনেক খারাপ লাগলো। কাউকে বিদায় দেওয়া বেশ কঠিন ব্যাপার। যাইহোক ভাইয়া ভিন্ন ধরনের একটি পোস্ট শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
বিশ্বাস করুন গত একটা মাস আগেও আমরা ভাবতাম এত কড়া গার্ড দেয় এই ম্যামরা, আমাদেরকে এত প্রেসারে রাখে তারা চলে গেলেই বোধহয় ভালো হয়, কিন্তু আজ যখন তাদের শেষ দিন ছিল তখন কিন্তু আমাদের কারো মনেই ভালো ছিল না।
বিদায় জিনিসটা সবসময়ই কষ্টের হয়। তবুও কবির ভাষায় যদি বলতে হয়,যেতে নাহি দিব হায়,তবু যেতে দিতে হয়। আসলে স্যার বা ম্যাডামরা ক্লাস বা এক্সাম এর সময় বেশ কঠোর হলেও,সেটা কিন্তু আমাদের ভালোর জন্যই। হয়তো আমরা সেটা তখন বুঝি না। পরবর্তীতে ঠিকই উপলব্ধি করতে পারি। যাইহোক দুই ম্যাডামের জন্য অনেক অনেক দোয়া এবং শুভকামনা রইল। পোস্টটি পড়ে সত্যিই খুব ভালো লাগলো ভাই। শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
আপনার লাইনগুলো খুব ভালো লেগেছে অসংখ্য ধন্যবাদ মন্তব্য করার জন্য, ঠিকই বলেছেন হয়তো আমরা তখন বুঝি না পরবর্তীতে আমরা সেটা উপলব্ধি করতে পারি।