চমৎকার সেই দিনটি
আসসালামু আলাইকুম
আমি @sajjadsohan from 🇧🇩.
৫ই সেপ্টেম্বর, সোমবার
আ মার বাংলা ব্লগের সকল সদস্যকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা। আশা করি সবাই ভাল আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় ভাল আছি। হঠাৎ করেই ভার্সিটির বড় আপুদের সাথে ঘুরতে যাওয়ার ছোট্ট এক অনুভূতি আপনাদের সাথে শেয়ার করব আশা করি ভালো লাগবে।
দুপুরবেলা শুয়ে ছিলাম হঠাৎ একটা কল আসলো ভার্সিটির বড় আপু আমাকে ফোন করেছে ভার্সিটিতে আসার জন্য তার কোনো একটি প্রবলেম সেখানে আমাকে থাকতে হবে।
মজার বিষয় হলো তিনি আমার কলেজের বড় আপু ছিলেন, পরবর্তীতে তিনি আমার কলেজের টিচার ছিলেন, এখন তিনি আমার ভার্সিটির বড় আপু। আমি যখন তার ছাত্র ছিলাম তখনই সে আমাকে খুব আদর করত এবং সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে ছোট ভাই হিসেবে। কিছুটা বন্ধুর মতোই ব্যবহার করতো আমার সাথে। বেশ অনেক দিন পরেই তিনি ফোন করে দেখা করতে বলেন।
জানতে পারলাম ভার্সিটির একটি সেমিস্টার তার এখনও ইনকমপ্লিট হয়েছিল বেশ অনেক দিন পরেই তিনি ওই সেমিস্টার আবার করতে চায়। আমি বাসা থেকে রেডি হয়ে বের হয়ে গেলাম এবং বাসে উঠলাম যাওয়ার জন্য আকাশের মেঘগুলো সত্যিই চমৎকার ছিল ।
আমাকে বিকেল চারটার সময় আসার কথা বলেন, ভাবলাম মেয়ে মানুষ সাজুগুজু করতে একটু সময় লাগবে তাই আমি দেরি করেই বেরোবো। পরে দেখলাম তারা চলে এসেছে প্রায়, তাই আমিও তাড়াতাড়ি রওনা দিলাম যদিও ৪০ মিনিট দেরি করেছি আমি।
বেশ অনেকদিন পরে টাকা পরিশোধ এবং re-admission হওয়ার কারণে বেশ অনেকগুলো টাকা জরিমানা করা হয়। যদিও আপু সেখানকার পুরনো স্টুডেন্ট তাই জরিমানা কমাতে তার সমস্যা হয়নি, তবুও তিনি চেয়েছিলাম আমি যেন ডিপার্টমেন্ট এর মধ্যে থাকি। স্যারের অফিসে বসলাম তিনি আমাকে দেখে বেশ খুশি হলেন।
আপু পরিচয় দিলেন এটা আমার ছোট ভাই স্যার আমার সম্পর্কে বেশকিছু কথা বলল আপুকে, ভালই লাগলো নিজের সুনাম শুনতে 😂😁 , আমাদের ডিপার্টমেন্ট থেকে একমাত্র আমি যে কিনা ভার্সিটির ম্যানেজমেন্ট , প্রোগ্রাম প্ল্যানিং, ক্লাব এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সবকিছুতে থাকার চেষ্টা করি।
বেশ অল্প কিছু সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ হয়ে গেল, আপু এবং তার বোন দুজন একই সেমিস্টারের কন্টিনিউ করবেন , সিআর এবং ক্লাবে থাকার কারণে সবাই পরিচিত, ওই সেমিস্টারের যে সিআর ছিল তাদের কে ফোন করে জানিয়ে দিলাম নতুন দুজন তাদের সাথে যুক্ত হবে, এক নিমিষেই কাজ হয়ে গেল, সবাই ফেসবুকে কানেক্ট এবং গুগল ক্লাসরুমে অ্যাড হয়ে গেল।
কাজ শেষ হয়ে গেলে আমি বিদায় নিয়ে বাসায় যাওয়ার কথা বললাম, আপুরা বললো না তাদের সাথে খাওয়া-দাওয়া করতে হবে, বনানী থেকে চলে গেলাম মহাখালীতে। সেখানে আমাদের পরিচিত রেস্তোরাঁতে বসলাম।
রেস্তোরাঁতে এসে খাবার অর্ডার দেয়ার পর মনে পড়লো আমার এক বন্ধুর কথা, অনেক দেরি হয়ে গেছে এখন আসবে কিনা বলতে পারছি না তাই ফোন করে জানালাম আমরা এখানে আছি, বন্ধু আমার কথা শুনে এক কথায় রাজি হয়ে গেল বাসা থেকে রওনা দিয়ে দিলো আমরাও খাবার নিয়ে ওয়েট করছি তার জন্য।
এর মধ্যে আপুর অফিসের একজন লোক চলে আসেন তার সাথে আমরা বসে গল্প করতে থাকি, আমরা আর ওয়েট করতে পারছিলাম না কারণ অলরেডি অনেক সময় হয়ে গেছে। আমরা আস্তে আস্তে খাওয়া-দাওয়া শুরু করতে থাকে।
খাওয়া দাওয়া করার সময় ভুলেই গিয়েছিলাম কিছু ফটোগ্রাফি করার কথা, এর সাথে যুক্ত হয়েছিল নান রুটি , মুরগির গ্রিল আরো ছোট ছোট বেশ কয়েকটি আইটেম।
বেশ জমিয়ে আড্ডা হল, জানতে পারলাম রাত ৮ টার পর থেকে এই রেস্তোরাঁয় একটি বিয়ের অনুষ্ঠান রয়েছে, এটি শোনার পর আমরা আর ওয়েট করলাম না, আমার যেই বন্ধু এখনো আসতে পারেনি তার জন্য আমরা সেম খাবারগুলো আবার অর্ডার করলাম, এরই মধ্যে অবশ্য আমার বন্ধু মহাখালী চলে এসেছে।
বন্ধুর খাবার হাতে নিয়ে হাঁটতে হাঁটতে চলে গেলাম আমাদের আপু অফিস কোয়াটার এর মধ্যে এরমধ্যে আমার সেই বন্ধু চলে আসলো তারপর আমরা আপুর বাসায় আমার সেই বন্ধু খাওয়া-দাওয়া করল এরমধ্যে আমরা হালকা পাতলা কিছু ফল খেতে থাকলাম।
আপু প্রথমে বলেছিল বাসায় গেলে অবশ্যই লুডু খেলতে হবে, এদিকে আমার টেনশন তাড়াতাড়ি বাসায় আসতে হবে বেশ অনেকগুলো কাজ পড়ে আছে, তবুও তো এতদিন পরে এসেছি আড্ডা দিতে হবে।
আমার বেশ খারাপ লাগছিল কারন তার আগে দুইদিন আমার ভাল ঘুম হয়নি, হঠাৎ করেই কারেন্ট চলে যায় তাই গরমের মধ্যে খেলা কন্টিনিউ করতে হয়েছে, যদিও অল্পসময়ের মধ্যেই বিদ্যুৎ চলে আসে আমরা কোনরকম খেলাটা শেষ করলাম, কারন আমার একদম খেলাতে মন ছিলনা তাই আমরাই হেরে ছিলাম।
তবুও বেশ ভালো লাগলো অনেকদিন পর মন খুলে কথা বললাম হাসাহাসি করলাম আড্ডা হল ভালো একটা সময় কাটলো। কলেজ পাশ করার পর আপুদের সাথে আর আড্ডা দেয়া হয় নাই আমার, আমাকে পেয়ে মোটামুটি সবাই খুশী হলো। এরপর আমি এবং আমার বন্ধু বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।
আমি সাজ্জাদ সোহান
আমি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এর একজন শিক্ষার্থী। আমি ঢাকাতে বসবাস করি। আমি ট্রাভেল করতে অনেক ভালোবাসি, এছাড়া অবসর সময়ে মুভি দেখি, ফটোগ্রাফি করি, গান করি। আমি একটু চাপা স্বভাবের তাই কম কথা বলি কিন্তু আমি একজন ভালো শ্রোতা। ভালোবাসি নতুন জিনিস শিখতে, মানুষকে ভালবাসি তাই মানুষের সহযোগিতায় এগিয়ে আসি।
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |

বাহ ভাইয়া আপনি আপনার ভার্সিটির বড় আপুর সাথে খুব সুন্দর একটি সময় কাটিয়েছেন। বড় আপুকে হেল্প করেছেন শুনে ভালোই লাগলো। আবার আপনার প্রশংসা শুনে আমার কাছে ভালো লেগেছে । নিজের প্রশংসা নিজের শুনতে কার না ভালো লাগে 😁 ।সবশেষে আপনারা খাওয়া-দাওয়া একসাথে বসে খেলা খুব সুন্দর একটি মুহূর্ত উপভোগ করেছেন। ভালো লাগলো।
একদম বেশ ভালোই লেগেছে ভালো একটা সময় কেটেছে অনেকদিন পর দেখা বেশ চমৎকার একটি দিন ছিল ধন্যবাদ আপনাকে।
আপনার সিনিয়র আপুরা দেখছি আপনাকে বেশ পছন্দ করে। ব্যস্ততার ভিতরে থাকলেও সময়টা আপনার বেশ ভালোই কেটেছে। খাবার টেবিলে চাউমিন আর অন্থন দেখতে পাচ্ছি। সাথে কি স্যুপ ছিলো। আমার আবার থাই স্যুপের সাথে অনথন না হলে ভালো লাগে না। তবে নিজে খাওয়া দাওয়া করে আবার বন্ধুর জন্য যে পার্সেল নিয়ে এসেছেন। এই ব্যাপারটা আমার খুব ভালো লেগেছে। ধন্যবাদ আপনাকে।
সচরাচর আমি সিনিয়র বড় ভাই সিনিয়র আপুদের সাথে একটু বেশি চলাফেরা করি, সিনিয়ররা আমাকে খুব সহজেই আপন করে নিতে পারে। খাবারের আইটেম আরো অনেকগুলো ছিল কিন্তু আমার নিজের ছবি তুলতে একটু লজ্জা লাগছিল। বন্ধুর আসতে দেরি হয়েছিল তাই পার্সেল নেয়া হয়েছিল, ধন্যবাদ আপনাকে মন্তব্য করার জন্য।
ভাইয়া আপনি সুন্দর কিছু সময় অতিবাহিত করেছেন আপনার সিনিয়র বড় আপুর সাথে যা দেখে বেশ ভালো লেগেছে। খাওয়া দাওয়া মুহূর্ত গুলো বেশ ভালো ছিল।চাওমিন আমার অনেক পছন্দের খাবার। খাওয়া শেষ করে বন্ধুর জন্য আবার খাওয়া পার্সেল করে নিয়ে আসা টা ভালো লেগেছে। অনেক দিন হলো লুডু খেলা হয়না। করোনার যখন বেশি ছিল তখন তো বাসায় ছিলাম দুই মাসের মতো তখন পরিবারের লোকজনের সাথে অনেক লুডু খেলা হয়েছে। সেই সময়গুলো অনেক মিস্ করি। ধন্যবাদ ভাইয়া আপনাকে সুন্দর কিছু মূহূর্ত ছবি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
আমার খুবই ভালো লেগেছে বেশ অনেকদিন পরে আড্ডা হল, ব্যস্ততার মধ্যে থাকলেও ভালো একটি সময় ছিল ধন্যবাদ আপনাকে।
আপনার ভার্সিটির সিনিয়র আপুরা দেখছি আপনাকে বেশ পছন্দ করা। তবে ভালো খাওয়া-দাওয়া করেছেন এবং সুন্দর সময় কাটিয়েছেন এটা শুনে বেশ ভালো লাগলো। কারণ আমাদের জীবনে অনেক কম সময় আছে যা খুব ভালো কাটে। শুভকামনা রইল আপনার জন্য।
পছন্দ করে বলতেন তারা তো আমাকে রীতিমত ট্রিট দিয়ে থাকেন, আজকের বিলটাও কিন্তু আপুই দিয়েছিল হাহাহা, ধন্যবাদ আপনাকে মন্তব্য করার জন্য।
সম্পর্ক গুলো এমন হওয়াই ভাল। সমস্যা থাকলে সমাধানও আছে। সময় ভাল কেটেছে কারন সবশেষে যদি খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা থাকে তাহলে তো আর কথাই নেই। এভাবেই কাটুক হাসি আনন্দে দিনগুলো। ধন্যবাদ।
খুবই ভালো লাগলো আপনার মন্তব্য পড়ে আসলে এগুলোই থেকে যাবে স্মৃতিগুলো রয়ে যাবে। ধন্যবাদ আপনাকে এত চমৎকার মন্তব্য করার জন্য।