ভার্সিটির ইফতার মাহফিল
আসসালামু আলাইকুম
আমি @sajjadsohan from 🇧🇩.
১৭ এপ্রিল, সোমবার।
আ মার বাংলা ব্লগের সকল সদস্যকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা। আশা করি সবাই ভাল আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় ভাল আছি।হঠাৎ করে এই ভার্সিটির সিনিয়র জুনিয়র সবাই মিলে একটা ইফতারের আয়োজন করলাম, এই নিয়েই আজকের পোস্ট আশা করি সবার ভালো লাগবে।
ইফতারের এই আয়োজনটি মূলত আরো বেশ কয়েকদিন আগেই করা হয়েছিল, হঠাৎ কি পোস্ট করব ভাবতে ভাবতে যখন ফোনের মধ্যে দেখলাম এই ছবিগুলো, তখন ইফতারের ওই দিনটার কথা মনে পড়ে গেল এবং ভাবলাম আপনাদের সাথে শেয়ার করব। ঐদিন মূলত আমাদের মিড টার্ম পরীক্ষা ছিল, একদিকে পরীক্ষা শেষ করছি অন্যদিকে আমাদের ইফতারের আয়োজন।
প্রায় ২০০ মানুষের আয়োজন করেছে আমরা, বেশ কয়েকদিন থেকেই প্ল্যান করা হচ্ছে আমাদের ক্লাবের পক্ষ থেকে ভার্সিটিতে সকল ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে একটা ইফতারের আয়োজন করা হবে। বিভিন্ন প্ল্যান করতে করতে শেষ পর্যন্ত আমাদের ওই দিনটি চলে আসলো।
আমি খানিকটা ব্যস্ত থাকার কারণে এবারের প্রোগ্রামের দায়িত্বে খুব একটা থাকতে পারেনি, বরাবরই যে কোন প্রোগ্রাম আমি নিজে থেকে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করি, কিন্তু এবার আমি একটু দূরে দূরে ছিলাম। কারণ নতুন জব করছিলাম এ সময়টা আমার জন্য একটু ক্রিটিকাল এবং সময় বের করাটা সম্ভব নয়।
যাইহোক কিছু বন্ধুবান্ধব থাকায় তারা আগে থেকেই ফল পানি জুস ইত্যাদি বিভিন্ন জিনিস কিনে রেখেছে। এতে করে আমাদের অনেকটাই সুবিধা হয়েছে। দুপুরে একটার মধ্যে আমার পরীক্ষা শেষ হয়ে গেল, আমি এবং সিনিয়র এক বড় ভাই চলে গেলাম যে দোকানে আমাদের বিরিয়ানির অর্ডার ছিল সেখানে।
তখনো সবকিছু রেডি হয়ে ওঠেনি, আমরা বললাম দুপুর চারটার মধ্যে আমাদের সব কিছু রেডি রাখার থাকতে হবে, তারাও ঝটপট কাজ শুরু করে দিল, কিছু সময় অপেক্ষা করতেই আমরা আমাদের কাঙ্খিত খাবার গুলো রেডি করতে পেরেছি।
আমি খানিকটা অসুস্থ ছিলাম এজন্য আমার খুব একটা কাজ করার প্রয়োজন হয়নি আমার সাথের মানুষেরা অনেক বেশি হেল্প করেছে, অসুস্থ থাকার কারণে অনেক ছবিও তুলতে পারিনি। শেষে আমরা ৫০ টা খাবার কম নিয়েছিলাম কারণ প্রায় কয়েক ঘন্টা অপেক্ষা করতে হবে অনেকের পরীক্ষায় দুপুরবেলা শেষ সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা অপেক্ষা করবে না।
এই ব্যানার আমার তৈরি করা, অফিস থেকে এসে ফ্রেশ হয়ে খাওয়া দাওয়া করে, রাত একটার সময় বসে ছিলাম এই বেলাটা তৈরি করতেন। নিজের তৈরি করা ব্যানারটি ইউনিভার্সিটির গেটের সামনে লাগানো ছিল নিজের কাছেই ভালো লাগছিল, আমি একটু লেট করে আশাতে ওই ছবিগুলো তুলতে পারিনি, পরবর্তীতে বিকেল বেলা আমরা যে রুমে ইফতার করব সে রুমে ব্যানারটি নিয়ে আসা হয়।
এখানে প্রায় ১০০ জন মানুষ বসতে পারবে, এই সময়টা প্রচুর পরিমাণ কাজ করা হয়েছে পুরো ক্লাসটা মেইনটেইন করা আপনারা দেখতে পাচ্ছেন কিছু সময়ের মধ্যেই ছাত্র-ছাত্রী দিয়ে ক্লাস রুম টি পরিপূর্ণ হয়ে গেছে।
এই সময় আমাদের আরো একটা বড় টিম তারা বাকি খাবার নিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে গিয়েছিল অসহায় মানুষদেরকে ইফতার বিতরণ করার জন্য, অসুস্থ থাকার কারণে এবং কিছু দায়িত্ব থাকার কারণে ওই মহৎ কাজে অংশগ্রহণ করতে পারেনি।
আমার কাজগুলো যে মানুষরা আরও বেশি সহজ করে দিয়েছিল সেই মানুষদের সাথে একটা সেলফি।
ইফতারের ঘন্টাখানেক আগে আমরা সবাই রুমে এসে বসলাম আমরা ইউনিভার্সিটির সকল শিক্ষকদের কেও ইনভাইট করেছিলাম, বেশ কয়েকজন শিক্ষক আসলো তারা আমাদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখল, ক্লাব থেকে দু একজনকে বক্তব্য রাখতে হবে, আমি কখনোই ভালো বক্তা নই। এতগুলো মানুষের সামনে আমাকে কথা বলার জন্য ডাকা হয়।
কথা বলেছিলাম ঠিকই কিন্তু বেশ নার্ভাস লাগছিল, যাইহোক কোনরকম দুই মিনিটে আমি আমার বক্তব্য শেষ করলাম, কিছু সময়ের মধ্যেই আযান দিয়ে দেয় এবং আমরা একটা শুরু করলাম। ইফতার শেষ করে সবাই সবার দায়িত্ব পালন করে সবকিছু পরিষ্কার করে আমরা বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হলাম।
আমি সাজ্জাদ সোহান
আমি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এর একজন শিক্ষার্থী। আমি ঢাকাতে বসবাস করি। আমি ট্রাভেল করতে অনেক ভালোবাসি, এছাড়া অবসর সময়ে মুভি দেখি, ফটোগ্রাফি করি, গান করি। আমি একটু চাপা স্বভাবের তাই কম কথা বলি কিন্তু আমি একজন ভালো শ্রোতা। ভালোবাসি নতুন জিনিস শিখতে, মানুষকে ভালবাসি তাই মানুষের সহযোগিতায় এগিয়ে আসি।
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
VOTE @bangla.witness as witness
OR

Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
অধ্যাপক এম এ মতিন স্যারের রুহের মাগফেরাত ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন বেশ ভাল একটা উদ্যোগ। যা আপনাদের ক্লাব করেছে। সেই সাথে ২০০ লোকের জন্য ইফতারের আয়োজন করা। আপনাদের আয়োজন থেকে বাদ যায়নি অসহায় মানুষও।এভাবেই মানুষের পাশে থাকবেন সারা জীবন এ প্রত্যাশা করি।অনেক অনেক শুভ কামনা আপনার জন্য।
প্রতিবছরই আমরা এ ধরনের মাহফিল করে থাকি এবং সেটা কয়েক জায়গা থেকে, খুব ভালো লাগলো আপনি আমার পোস্ট পড়েছেন এবং চমৎকার একটি মন্তব্য করেছেন ধন্যবাদ জানাই আপনাকে।
এমন কাজগুলোকে সবসময় সাধুবাদ জানাই কারণ এর মাধ্যমে অসহায় মানুষগুলো একটু খাবার সুযোগ পায়। আর আপনারা সকলে মিলে এই আয়োজনটা করেছেন দেখে খুবই ভালো লাগছে। তবে আপনি অসুস্থ থাকার কারণে বিভিন্ন কাজগুলোতে অংশগ্রহণ করতে পারেননি এটা শুনে খারাপ লাগলো। কারণ বর্তমান সময়ে অসুস্থতা মানেই অনেক বেশি কষ্টদায়ক যেটা যে অসুস্থ হয় সেই বুঝে। তবে সকলে মিলেমিশে কাজ করলে সব কাজই সহজেই সমাধান হয়ে যায়। আপনারা নিজেরা ইফতারের আয়োজন করার পাশাপাশি অসহায়দের জন্যও আয়োজন করেছেন ব্যাপারটা সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে আমার কাছে।
সাধারণত আমার এলাকায় এবং ভার্সিটিতে এই ধরনের কাজগুলো কিংবা যেকোনো প্রোগ্রামে আমি একটা বিশেষ ভূমিকা রাখি, এবার অসুস্থ থাকার কারণে আমি এই কাজগুলোর মধ্যে থাকতে পারিনি কিন্তু আমার বন্ধুরা আমার অভাবটাকে বুঝতে দেয়নি তারা খুব সুন্দরভাবে বিষয়গুলো হ্যান্ডেল করেছে, কিন্তু বিষয়গুলো খুব কাছ থেকে দেখতে না পারায় আমার নিজের কাছে খারাপ লাগছে। হয়তো অসুস্থ না থাকলে আরো চমৎকার কিছু ফটোগ্রাফি আপনাদেরকে উপহার দিতে পারতাম।