মাছের ফুলকো রেসিপি
হ্যালো বন্ধুরা,
আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি,আপনারা সবাই ভাল আছেন সুস্থ আছেন। আজ আমি আপনাদের মাঝে নতুন একটি রেসিপি উপস্থাপন করছি।আশা করি, আপনাদের সবার ভালো লাগবে।তাই বিলম্ব না করে আমার পোস্ট লেখাটি শুরু করছি।
সকালে ঘুম উঠে চলে গিয়েছিলাম বাজারে। তেমন একটা বাজার করার ছিল না। চিংড়ি মাছ ফুরিয়ে গিয়েছিল তাই বাজারে গিয়েছিলাম চিংড়ি মাছ কিনতে। দেড় কিলোর মতন চিংড়ি কিনলাম একটি মাছের মাথা কিনলাম মুড়িঘন্ট খাবার জন্য। কাঁচা বাজার করে সোজা চলে এলাম বাড়িতে। বাড়িতে এসে চট করে মাথার ভেতর একটা রেসিপি বাড়ানোর জন্য চিন্তা এল। চিন্তা ছিল মাছের ফুলকো রেসিপি তৈরি করার। যেই ভাবা সেই কাজ সঙ্গে সঙ্গে আবারো গেঞ্জিটা গায়ে দিয়ে সোজা চলে গেলাম বাজারে। বাজারে যেয়ে ৩০ টাকার মতন মাছের ফুলকো কিনে নিয়ে এলাম। শুধু ফুলকো নয় মাছের তেলও কিন্তু নিলাম।বাড়িতে এসে সেগুলো ভালোভাবে পরিষ্কার করলাম এবং চট করে রেসিপি বানানোর মাল জিনিস গুছিয়ে ফেললাম। প্রথম বানানো ছিল আমার এই রেসিপিটি তাই একটু ভয়ও করছিল যে কেমন হবে। কিন্তু মনে ছিল অনেক সাহস আর আত্মবিশ্বাস। আমি একটা জিনিস সবসময় মনে রাখি যে আত্মবিশ্বাস যদি ১০০% থাকে তাহলে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়। যাইহোক এই আত্মবিশ্বাস নিয়ে তৈরি করে ফেললাম মাছের ফুলকো রেসিপি। রান্নার সময়ে এত সুন্দর ঘ্রাণ ছাড়া ছিল মনে হচ্ছিল কড়াই থেকে উঠিয়ে খেয়েনি। তাহলে বুঝতেই পারছেন যখন সম্পূর্ণ তৈরি হয়ে গিয়েছিল তখন কতটা সুস্বাদু হবে খেতে। আমার এই রেসিপিটি কিন্তু গরম ভাতের সঙ্গে খেলে আরো বেশি ভালো লাগবে আর রুটির সাথে ভালো লাগবে খেতে। আমি দুই ভাবে ট্রাই করেছি দুই ভাবেই খেতে দুর্দান্ত লেগেছে। যাই হোক দেরি না করে আজকের এই রেসিপিটি তৈরি করতে আমার কি কি উপকরণগুলো লেগেছে সেগুলো এক নজরে দেখে আসা যাক।
উপাদান:
| নাম | পরিমাণ |
|---|---|
| মাছের ফুলকো | ২৫০গ্ৰাম |
| মিডিয়াম সাইজের আলু | ২ টি |
| আদা | ১ চা চামচ |
| পেঁয়াজ বাটা | ৪ চা চামচ |
| রসুন বাটা | ৪ চা চামচ |
| জিরার গুঁড়া | ১ চা চামচ |
| শুকনা ঝালের গুঁড়া | ২ চা চামচ |
| গরম মসলার গুঁড়া | ১ চা চামচ |
| কাঁচা ঝাল গোটা | ৩ টি |
| তেজপাতা | ৩ টি |
| লবণ | পরিমাণ মত |
ধাপ:১
প্রথমে ফুলকো গুলো ভালো করে ধুয়ে একটি পাত্রে রাখলাম। এবং পেঁয়াজ, রসুন এক সঙ্গে দিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করলাম। আদার পেস্ট ও আলু গুলো চৌকো করে কেটে একটি পাত্রে রেখে দিলাম।
| ফোট:১ | ফটো:২ |
|---|---|
ধাপ:২
এরপর আমি চুলার উপর একটি প্যান দিয়ে তাতে পরিমাণ মতো তেল দিয়ে আলু গুলো ভাজি করে নিলাম। আলুগুলো যখন গোল্ডেন কালার হয়ে আসবে তখন আলুগুলো উঠে নিলাম।
| ফোট:১ | ফোট:২ |
|---|---|
ধাপ:৩
আলুগুলো উঠে নেওয়ার পর একই তেলে পেঁয়াজ কুচি দিয়ে দিব। এ সময় চুলার আগুন মিডিয়াম থাকবে। পেঁয়াজ গুলো একটু ভাজি হয়ে গেলে।এরপর দিয়ে দিব পেঁয়াজ রসুন বাটা, আদা বাটা, শুকনা ঝালের গুঁড়া, জিরার গুঁড়া, তেজপাতা, হলুদ গুঁড়া, স্বাদমত লবণ ।এ সবগুলো উপাদান দিয়ে কিছুটা সময় সেগুলো ভালোভাবে নেড়েচেড়ে দিব।যাতে ভালোভাবে মসলা গুলো একে অপরের সঙ্গে ভালো ভাবে মিশে যেতে পারে।
| ফোট:১ | ফোট:২ |
|---|---|
ধাপ:৪
মসলা গুলোর থেকে যখন তেল ছেড়ে দেবে তখন দিয়ে দিব ভাজি করা আলু। এক থেকে দেড় মিনিটের মতো মসলা গুলোর সঙ্গে আলুগুলো ভালোভাবে মিশিয়ে নিব।
| ফোট:১ | ফোট:২ |
|---|---|
ধাপ:৫
এরপর দিয়ে দেব মাছের ফুলকো গুলো। এগুলো দিয়ে পাঁচ মিনিটের মতন সেগুলো নেড়েচেড়ে দিব। যাতে করে মসলা গুলো ভালোভাবে মাছের ফুলকোর সঙ্গে মিশে যেতে পারে।
| ফোট:১ | ফোট:২ |
|---|---|
ধাপ:৬
মাছের ফুলকো গুলো যখন একে অপরের সঙ্গে ভালোভাবে মিশে যাবে তখন এর ভেতর সামান্য পরিমাণে জল দিয়ে সিদ্ধ করার জন্য ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিব।
| ফোট:১ | ফোট:২ |
|---|---|
ধাপ:৭
সাত মিনিট পর ঢাকনা খুলে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সুন্দর একটি ঘ্রাণ বেরোলো। আর এদিকে সব উপাদানগুলো সিদ্ধ হয়ে গেলো। রেসিপিটি নামানোর কিছুক্ষণ আগে এর ভেতর গরম মসলার গুঁড়া দিয়ে আবারো একটু নেড়েচেড়ে দিব।
| ফোট:১ | ফোট:২ |
|---|---|
ধাপ:৮
সুন্দর ঘ্রাণ ছাড়াতে শুরু করল আর আমার রেসিপিটি সম্পূর্ণভাবে তৈরি হয়ে এলো।তাই পরিবেশন করার জন্য একটি পাত্রে নামিয়ে নিলাম। এবং কিছু ফটোগ্রাফি করলাম এবং নিজের সঙ্গে একটি সেলফি নিলাম ।
| ফোট:১ | ফোট:২ | ফোট:৩ |
|---|---|---|
রেসিপিটি তৈরি করে আমি আর লোভ সামলাতে পারলাম না তাই সঙ্গে সঙ্গে ভাত দিয়ে খাওয়া শুরু করে দিলাম। সত্যি বলছি খেতে অনেক ভালো লেগেছিল। এত সুন্দর খেতে লাগবে আমি কল্পনাও করতে পারিনি।
মজাদার মাছের রেসিপি তৈরি করেছেন। দেখেই খেতে ইচ্ছা করছে। আসলে মাছ আমি খুবই পছন্দ করি, তাই রেসিপিগুলো ভালো লাগে।
আপনার রান্নার কালার টা দেখেই মনে হচ্ছে এটা অনেক বেশি সুস্বাদু হয়েছে। যদিও এভাবে আমরা কখনোই খাইনি। মূলত আমাদের এখানে মাছের এই ফুলকাগুলা আলদা ভাবে পাওয়া যায় না। চিংড়ি মাছ নিয়ে আসার পর আবার বাজারে গিয়ে ফুলকা গুলো নিয়ে এসেছেন। আমার কাছে দারুন মজা লাগছে ভাইয়া। ইচ্ছে তো করছে আপনার এখান থেকে নিয়ে গরম ভাতের সাথে খেয়ে ফেলি।
বাজারে যেখানে মাছ কাটা হয় সেখানে পাওয়া যাবে। ধন্যবাদ দিদি আপনার মূল্যবান কিছু কথা আমাকে শেয়ার করার জন্য।
চিংড়ি মাছ কিনতে গিয়ে তো দেখছি অনেক ধরনের বাজার করে নিয়ে এসেছেন। আবার বাসায় এসে নিজেই রান্না করেছেন। মাছের ফুলকো যদিও আমার তেমন একটা খাওয়া হয় না কিন্তু এভাবে রান্না করলে খেতে মনে হবে বেশ মজাদার হয়। আপনার রেসিপির কালার দেখেই তো খেতে ইচ্ছা করছে। এত লোভনীয় লাগছে দেখতে।
ধন্যবাদ দিদি। একদিন তৈরি করে খাবেন আমার বিশ্বাস খেতে অনেক ভালো লাগবে।
ভাই আপনি আজকে ইউনিক একটি রেসিপি শেয়ার করেছেন দেখতে অনেক লোভনীয় লাগছে। আপনার রেসিপি মতই আমিও একদিন এই রেসিপি তৈরি করে খেয়ে দেখবো। মাছের ফুলকো আমিও খাইতে অনেক বেশি পছন্দ করি। প্রতিটি ধাপ অনেক সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই।
ধন্যবাদ দাদা
মাছের ফুলকা যে এভাবে কিনতে পাওয়া যায় সেটাই তো আমার জানা ছিল না । ঠিকই বলেছেন আত্মবিশ্বাস থাকলে যে কোন কিছুই ঝটপট তৈরি করে ফেলা যায় । আপনি তো ভালোই দেখছি রেসিপিটি বানিয়েছেন । আর এটা হঠাৎ করে দেখে মনে হচ্ছে মাংসের কোন রেসিপি । ভালো লাগলো আপনার রেসিপিটি দেখে ।
চমৎকার একটা রেসিপি শেয়ার করেছেন আপনি। আশা করি আপনার এই রেসিপি অনেক সুস্বাদু হয়েছে। বেশ ভালো লাগলো আপনার সুন্দরভাবে সাজানো দেখে। বেশ দারুন সাজিয়েছেন আপনি। অনেক সুন্দর হয়েছে আপনার রেসিপি প্রস্তুত করা।
ভাই আপনি আজকে আমাদের মাঝে খুবই লোভনীয় একটি শেয়ার করেছেন। আসলে মাছের ফুলকাগুলো যদি ভাজি করা যায় তাহলে কিন্তু খেতে খুবই ভালো লাগে। তবে সেই সাথেই এই মাছের ফুলকো গুলো যদি একটু ঝোল ঝোল করে রান্না করা হয় তাতেও খেতে বেশ স্বাদ লাগে। আপনার এই রেসিপিটি খুবই সুস্বাদু রেসিপি। ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য।
You've got a free upvote from witness fuli.
Peace & Love!
মাছের ফুলকো রেসিপি দারুন হয়েছে ভাইয়া। এই খাবারটি আমার ভীষণ প্রিয়। তবে এভাবে আলাদা করে কখনো রান্না করা হয়নি। সব সময় মাছের সাথে রান্না করা হয়। এত মজার একটি রেসিপি শেয়ার করেছেন এজন্য ধন্যবাদ ভাইয়া।
আপনার রেসিপি দেখে মনে হচ্ছে মাছের ফুলকো নয়, মুরগির মাংস ভুনা করেছেন। এভাবে কখনও খাওয়া হয়নি আর বিশেষ করে ফুলকোই তো কখনও খাওয়া হয়নি। আপনার বর্ণনা আর রেসিপির কালার দেখেই বুঝা যাচ্ছে খেতে খুবই সুস্বাদু হয়েছে। আপনার উপস্থাপনা লোভনীয় হয়েছে। একদম ঠিক ভাইয়া আত্নবিশ্বাস নিয়ে কোনো কাজ করলে তা সফল হবেই। তারজন্য বলে কোনো কাজে কখনও হতাশ হওয়া যাবে না, আত্নবিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। যাই হোক ধন্যবাদ ভাইয়া ইউনিক একটি রেসিপি শেয়ার করার জন্য।