নিঝুম রাত ভুতের গল্প পর্ব:১০
হ্যালো বন্ধুরা,
আপনারা সবাই কেমন আছেন?আশা করি, আপনারা সবাই ভাল আছেন সুস্থ আছেন। আজ আমি আপনাদের মাঝে নিঝুম রাত ভূতের গল্পের দশম পর্বটি উপস্থাপন করছি।আশা করি, গল্পটি আপনাদের সবার ভালো লাগবে। তাই বিলম্ব না করে আমার পোস্ট লেখাটি শুরু করছি।
কিয়া ওয়াশ রুমে যে অসুস্থ হয়ে পড়ে। মুখে জল দেওয়ার সময় সে আয়নার দিকে তাকায়। হঠাৎ তার মনে হয় পিছনে কেউ দাঁড়িয়ে আছে। বাথরুমের লাইট একবার অন হচ্ছিল আরেকবার অফ হচ্ছিল। কিয়া কিছুই বুঝতে পারছিল না। হঠাৎ তার মাথা কেউ একজন জোরে চেপে ধরে। সে চিৎকার করার চেষ্টা করে কিন্তু কেউ একজন তার মুখ আটকে ধরে। সে শুধু ছটফট করতে থাকে। তখন হাসপাতালের গার্ডম্যান ওয়াশ রুমে গিয়েছিল।তখনই সে শুনতে পায় ভেতর থেকে অসম্ভব পরিমাণে আওয়াজ হচ্ছে। তাই সে সঙ্গে সঙ্গে দৌড়ে যায় সেই ঘটনা স্থলে। ওয়াশ রুমের দরজা জোরে জোরে ধাক্কা দিতে থাকে কিন্তু ভেতর থেকে লক ছিল যার কারণে দরজা খুলছিল না। হঠাৎ গার্ডম্যান ওয়াশ রুম থেকে কোন শব্দই আর পারছিল না। তখন সে দেরি না করে দরজা ভাঙ্গার সিদ্ধান্ত নেয়। অনেক চেষ্টার পর সে সফল হয় ভিতরে যেয়ে দেখে কিয়ার মাথা কোমোটের ভিতর আর সে অজ্ঞান হয়ে আছে। দ্রুত গার্ডম্যান তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে আর সঙ্গে সঙ্গে তার মুখে জলের ঝাপটা দিতে থাকে।
দেখতে দেখতে ঘটনা স্থলে অনেক লোকের ভিড় জমে যায়। কিছুক্ষণ পর কিয়ার জ্ঞান ফেরে। আর তখন সবাই তাকে জিজ্ঞাসা করে কি হয়েছিল। কিয়া এতটাই ভয় পেয়ে যায় তার মুখ থেকে কিছুই বের হচ্ছিল না। তখন ডাক্তাররা তাকে নিজেদের দায়িত্বে চিকিৎসা করা শুরু করে দেয়। ডাক্তারদের চিকিৎসার কারণে সে আস্তে আস্তে স্বাভাবিক পর্যায়ে আসে। তখন ডাক্তাররা কিয়াকে জিজ্ঞাসা করে কি হয়েছিল আপনার? হঠাৎ ওয়াশ রুমে আপনি অজ্ঞান হয়ে গেলেন কি করে? তখন কিয়া বলে সে এক ভদ্র মহিলার সঙ্গে নিচে আসছিল। হঠাৎ লিফট বন্ধ হয়ে যায় আবারো চলতে শুরু করে তখন প্রচন্ড গন্ধ লিফটের ভেতর আজ ছিলাম। আমি সহ্য করতে না পেরে সোজা চলে আসি ওয়াশ রুমে। সেই ভদ্র মহিলাটি ওয়াশ রুমের বাইরে ছিল। আমি ওয়াশ রুমে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে আমার মনে হচ্ছিল কেউ যেন আমার পিছনে দাঁড়িয়ে আছে আর হঠাৎ আমার মাথা কেউ একজন চেপে ধরল তারপর আমি চিৎকার করতে গেছিলাম তখন আমার মুখ চেপে ধরে। এরপর আমি আর কিছুই জানিনা। কিয়া কথা বলতে বলতে চিৎকার করে ওঠে। বলতে থাকে ওই সেই ভদ্র মহিলা ওই সেই ভদ্র মহিলা কিন্তু সবাই যখন তাকায় তখন সামনে কেউই দেখতে পায় না। ডাক্তাররা বুঝতে পারে সে ভয়ের কারণে উল্টাপাল্টা কথা বলছে। প্রচুর ব্রেনে চাপ পড়েছে তাই তাকে ঘুমানোর ওষুধ দেয়। কিয়া কিছুক্ষণের মধ্যে ঘুমিয়ে পড়ে আর ঘুমের মধ্যে বলতে থাকে আমাকে মেরো না আমাকে মেরো না।
অন্তর কিয়ার অসুস্থতার কথা শুনে বাইকটি নিয়ে রাতে বাড়ি থেকে রওনা দেয়। প্রচুর জোরে জোরে বাইক চালিয়ে অন্তর আসছিল। অনেকটা রাত হয়ে যাওয়ার কারণে রাস্তায় তেমন যানবাহন ছিল না। গ্রামের পথ পেরিয়ে যখন সে শহরের রাস্তায় উঠবে তখনই তার মনে ভিতর খটকা লাগতে শুরু করল। তার মনে হল কেউ একজন তাকে পিছন থেকে টেনে ধরে রেখেছে। গাড়ির গতি হঠাৎ স্লো হয়ে যায়। তার সমস্ত শরীর পাথরের মতন ভার হয়ে যাচ্ছিল। সে বাইক ভালোভাবে চালাতে পারছিল না তাই গাড়িটি থামিয়ে কিছুটা সময় দাঁড়িয়ে নেয়। আর ভাবতে থেকে এমনটি কেন হচ্ছে তার সঙ্গে। তখন হঠাৎ একটি মেয়ে দৌড়াতে দৌড়াতে তার কাছে আসে। অন্তর ঘাবড়ে যায় মেয়েটিকে বলে কে আপনি? মেয়েটি বলে সে কথা পরে হবে আপনি কি আমাকে একটু সাহায্য করতে পারেন? অন্তর বলে কি সাহায্য করতে পারি আপনার। আমার বাবা হাসপাতালে ভর্তি আছে। এই রাতে তার অপারেশন হবে আমি টাকা আনতে বাড়িতে গিয়েছিলাম। কিন্তু এখন কোথাও গাড়ি পাচ্ছিনা আপনি যদি আমাকে একটু সাহায্য করতেন তাহলে খুব ভালো হতো।
অন্তর বলে আমিও হাসপাতালে যাচ্ছি ঠিক আছে চলেন আমি আপনাকে আগায় দিয়ে আছি। অন্তর তাকে নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। মেয়েটি বলে আজ তোর শেষ দিন। তখন অন্তর বলে আপনি কি কিছু বললেন আমাকে? মেয়েটি বলে আপনাকে কিছু বলিনি আপনি চলুন। অন্তরের এখনো কিন্তু শরীরে প্রচন্ড ভার ভার লাগছিল আর অসুস্থ লাগছিল। চলতে চলতে হঠাৎ গাছের একটি বড় ডাল ভেঙে পড়ে তার বাইকের সামনে তাড়াহুড়ো করে বাইক থামিয়ে দেয় অন্তর। অন্তর মেয়েটিকে বলে আজ অনেক বড় বিপদের হাত থেকে বেঁচে গেলাম। গাছের ডালটি রাস্তা জুড়ে পড়েছিল। যার কারণে না সরানো পর্যন্ত সেখান থেকে যাওয়া সম্ভব ছিল না। অন্তর বাইক থেকে নেমে সরানোর চেষ্টা করে কিন্তু সে পেরে ওঠে না। মেয়েটি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছিলাম তখন মেয়েটি অন্তরকে বলে আপনি সরে যান আমি দেখছি অন্তর বলে আমি পারছি না আপনি কি করে পারবেন। মেয়েটি বলে সব কাজ সবার দ্বারাই হয় না। এই বলে মেয়েটি একটানে রাস্তা থেকে ডালটি সরিয়ে ফেলে অন্তর অবাক হয়ে গেল এটা কিভাবে সম্ভব। অন্তর আবারো বাইক চালাতে শুরু করে তখন তার মনে হতে লাগে তার গলা কেউ চেপে ধরেছে। অন্তর তার নিজের হাত দিয়ে গলায় স্পর্শ করে কিন্তু সে যা ভেবেছে তার কিছুই না। সে মনে মনে ভাবতে থাকে এটা কিভাবে সম্ভব আমার তো মনে হচ্ছে কেউ একজন আমার গলা চেপে ধরেছে কিন্তু আমি যখন হাত দিচ্ছি তখন তো সেটা আমার মনে হচ্ছে না। সে মনে ভাবে এটা হয়তো তার মনের ভুল। কিছুদূর যেতেই মেয়েটি অন্তরকে বাইক থামাতে বলে অন্তর বাইক থামায়। মেয়েটি বাইক থেকে নেমে বলে আপনি যান। অন্তর বলে আপনি মাঝ পথে কেন নেমে পড়লেন? চলুন আপনাকে আগায় দিচ্ছি। মেয়েটি বলে আমি এখানেই নামবো এখান থেকে আমি চলে যেতে পারবো আপনি যান। অন্তর কোন কিছু না বলে সে সেখান থেকে চলে আসে কারণ তার অনেক তারা ছিল। অন্তর চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মেয়েটির বলে।তোকে আজ মারতে পারলাম না কিন্তু বাড়ি গেলে অবশ্যই তুই বুঝতে পারবি তোর পেছনে কে উঠেছিল।