"বৃদ্ধাশ্রম ও একটি মায়ের গল্প"পর্ব ১

in আমার বাংলা ব্লগ3 years ago

হ্যালো বন্ধুরা,

আপনারা সবাই কেমন আছেন ?আশা করি,আপনারা সবাই ভাল আছেন সুস্থ আছেন।আজ আমি আপনাদের সবার মাঝে একটি গল্প উপস্থাপন করছি আশা করি সবার ভালো লাগবে তাই বিলম্ব না করে আমার পোস্ট লেখাটি শুরু করছি।

pexels-pixabay-51953.jpg
সোর্স


বেশ কিছুদিন আগের কথা ছোট্ট একটি গ্রামে বসবাস করত উজ্জল ও টুম্পা। তাদের বিবাহের দু বছর পর তাদের ঘর আলো করে এলো একটি পুত্র সন্তান। এই সন্তানটি তাদের জীবনে আশাতে তাদের জীবনে সুখের বার্তা বয়ে আসলো। সন্তানটিকে একটি সময় ও চোখের আড়াল করত না তার মা। তার বাবা সারাদিন কষ্ট করে যখন বাড়িতে এসে সন্তানের মুখ দেখতো তখন সব কষ্ট যেন জল হয়ে যেত। তারা তাদের সন্তানের নাম রাখে অপূর্ব।


হাসি আনন্দে ভালই কাটছিল তাদের দিনগুলো। দেখতে দেখতে পাঁচটা বছর কেটে গেল অপূর্ব অনেকটা বড় হয়েছে সে এখন স্কুলে যায়। একদিন স্কুল থেকে বাড়ি এসে দেখতে পায় তার বাবা খুবই অসুস্থ হয়ে পড়েছে। অপূর্ব বাবার কাছে এসে হাঁটু গেড়ে বসে হাতটি ধরে বলতে লাগলো বাবা তোমার আর কাজ করতে হবে না। আমি আর পড়াশোনা করব না আমি তোমাকে আর কাজ করতে দিব না এখন থেকে আমি টাকা ইনকাম করে সংসার চালাবো।


সঙ্গে সঙ্গে তার বাবা বলে আরে পাগল আমার কিছুই হয়নি কাজের সময় হঠাৎ মাথাটা চক্কর দিয়ে উঠলো। একটু বিশ্রাম নিলে ঠিক হয়ে যাবে তুই কোন চিন্তা করিস না তুই পড়াশোনা কর আমাকে নিয়ে ভাবতে হবে না। কিন্তু দিন যতই বয়ে চলেছে তার বাবা আরো অসুস্থ হয়ে পড়ছে এটি দেখে অপূর্ব তার বাবাকে হাসপাতলে ভর্তি করে। সেখানেই জানতে পারে তার বাবার ব্রেন টিউমার হয়েছে আর এটি এতটাই মারাত্মক পর্যায়ে চলে গিয়েছে যেটি রিকভার করা কোন মতেই সম্ভব নয়।


এটি শোনার পর অপূর্ব খুবই ভেঙে পড়ে কিন্তু তার মা তাকে বুকে জড়িয়ে সান্তনা দেয় কিছু হয়নি অপূর্ব আমি তো রয়েছি। কিছুদিন পরে তার বাবা মারা যায় অপূর্ব অনেকটাই ভেঙে পড়ে তার মা সব সময় তাকে সান্তনা দিতেই থাকে সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে এক ফোঁটা জলও ফেলল না নিজেকে এই পরিস্থিতিতে শক্ত রাখার চেষ্টা করল। কিছুদিন পর অপূর্ব স্বাভাবিক পর্যায়ে চলে এলো সে আবার নিয়মিত স্কুলে যেতে শুরু করলো। এভাবে বেশ কিছুদিন কেটে গেল একটা সময় সেই স্কুল পেরিয়ে কলেজে উঠলো। তার মা লোকের বাসায় বাসায় কাজ করে টাকা ইনকাম করে অপূর্বর পড়াশোনার যাবতীয় খরচ চালাত। তার মা কোন সময় বুঝতে দিত না তার কষ্ট হচ্ছে। একদিন অপূর্ব তার মার কাছে ফোন কিনার জন্য ১০ হাজার টাকা চায় কিন্তু তার মা দিতে পারে না । ছেলের আবদার মেটানোর জন্য সে আরো পরিশ্রম করতে শুরু করে। এক মাসে সে ১০ হাজার টাকা ইনকাম করে আর সে সব টাকা অপূর্ব হাতে তুলে দেয়। অপূর্ব টাকাগুলো পেয়ে খুব খুশি হয় আনন্দে মাকে জড়িয়ে ধরে।

আজ এখানেই শেষ করছি বাকিটা গল্প পরবর্তী পর্বে সবার মাঝে উপস্থাপন করব। সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন সৃষ্টিকর্তার কাছে এটাই প্রার্থনা করি।

Sort:  
 3 years ago 

পরবর্তী কাহিনী কিছুটা হলেও অনুভব করতে পারছি। সন্তানকে এত কষ্ট করে লালন পালন করে বড় করে, পরবর্তীতে অনেকেই দাম্ভিক আচরণ করে। এবং বাবা মায়ের স্থান দেওয়া হয় বৃদ্ধাশ্রমে। যাইহোক দেখাই যাচ্ছে অপূর্ব তার বাবা ও মায়ের জন্য অনেক ভালোবাসা এখনো আছে। মনে হচ্ছে পরবর্তীতে থাকবে না। পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম ভাইয়া।

 3 years ago 

ধন্যবাদ আপনাকে

 3 years ago 

আপনার এই গল্পটি পড়ে ভালো লাগলো ।আসলে মা বাবা তার সবটুকু দিয়ে সন্তানকে খুশি রাখার চেষ্টা করে। মা বাবার শত কষ্ট হলেও ছেলেমেয়েকে সেই কষ্ট বুঝতে দেয় না। অপূর্ব বাবা মা ও ঠিক তেমন করেছে। পরবর্তী পর্ব পড়ার জন্য অপেক্ষায় থাকলাম। ধন্যবাদ সুন্দর একটি মন্তব্য করার জন্য।

 3 years ago 

আপনাকেও ধন্যবাদ সময় করে আমার পোস্টটি পড়ার জন্য

 3 years ago 

আসলে আমাদের সমাজেও এমন মানুষ অনেক বেশি দেখা যায়। মা বাবা একমাত্র সন্তানকে মানুষ করার জন্য জীবনের সবকিছু দিয়ে দেয়। কঠোর থেকে কঠোর পরিশ্রম করে থাকে। এত কষ্ট করেও ছেলের আশা পূরণ করল। এর আগে বাবা মারা গেল। হয়তো এর পরের পর্বে ছেলে বিয়ে করবে এবং মাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে দিবে, এতোটুকু বুঝতে পেরেছি। এমন সমাজে সব সময়ই হয়ে থাকে।

 3 years ago 

আপনার কিছু মূল্যবান কথা আমাকে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ

 3 years ago 

আপনার গল্পটি পড়ে আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে। আসলে মা বাবার শত কষ্ট হলেও তার সন্তানদেরকে বুঝতে দেয় না। অপূর্বের মাও তাই করেছে। এক মাসের মধ্যে সে ১০ হাজার টাকা ইনকাম করেছে এবং তার ছেলের হাতে তুলে দিয়েছে। আপনার গল্পের পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম। ধন্যবাদ আপনাকে।

 3 years ago 

আপনাকেও ধন্যবাদ সময় করে আমার পোস্টটি পড়ার জন্য

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.102
BTC 63986.79
ETH 1856.21
USDT 1.00
SBD 0.39