মেডিসিনের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং ভোক্তা পর্যায়ে ভোগান্তি
আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছেন আপনারা? আশা করি ভালো আছেন। আজ আমি কথা বলব ওষুধের দাম বৃদ্ধি নিয়ে। বিগত কয়েক মাস যাবৎ বাংলাদেশে ওষুধের দাম অসহ্য রকমের বৃদ্ধি পেয়েছে।
মেডিসিন এমন একটি জিনিস যা ছাড়া মানুষের নিত্যদিন কাটেনা। মানুষের অসুখ লেগেই থাকে এবং এজন্য তাদেরকে মেডিসিনের ধারস্ত হতে হয়। আগের সময় মেডিসিন এত সহজলভ্য ছিল না। বর্তমানে বাংলাদেশে সাড়ে চারশোর উপরে এলোপ্যাথিক মেডিসিন কোম্পানি নিবন্ধিত রয়েছে। প্রায় সমপরিমাণ হারবাল মেডিসিন কোম্পানিও নিবন্ধিত। কিন্তু আমার আজকের আলোচনার বিষয় এটা নয়।
গত তিন বছরে বাংলাদেশে ধাপে ধাপে বিভিন্ন রকমের মেডিসিনের মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। করোনা পরবর্তী সময় সর্বপ্রথম ধাপে বহু সংখ্যক মেডিসিনের দাম বৃদ্ধি পায়। তখন উল্লেখযোগ্য মেডিসিনের মধ্যে ছিলো প্যারাসিটামল সিরাপ। এক ধাক্কায় ৬০মিঃলিঃ এর বোতলের মূল্য বৃদ্ধি পায় ৭৫%। ২০ টাকা থেকে সরাসরি ৩৫ টাকায়। ১০০মি.লি. এর বোতল ৩৫ টাকা থেকে হয়েছে ৫০ টাকা। গতবছর বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে রমরমা ভাবে মেডিসিনের মূল্য বৃদ্ধি পায়। কিন্তু এ ধাপটা সাধারণ রোগীদের জন্য ছিলো খুবই পীড়াদায়ক। কারন এই ধাপে কার্ডিয়াক এবং ডায়াবেটিস এর মত চিরস্থায়ী রোগের মেডিসিনের দাম বৃদ্ধি পেয়েছিলো। তাছাড়া কোলোস্টেরলের মেডিসিনের মূল্যও ব্যপাক হারে বৃদ্ধি পায়।
তার পরবর্তী একটি ধাপে সেফিক্সিম জেনেরিকের এন্টিবায়োটিক এবং সেফুরক্সিম + ক্লাভুনিক এসিড জেনেরিকের ৫০০ মিঃগ্রাঃ/ট্যাবলেটের মূল্যও বৃদ্ধি পেয়েছে। মাঝখানে, গ্যাস্ট্রিকের জন্য সবচেয়ে প্রচলিত জেনেরিক ওমিপ্রাজলেরও দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তাছাড়া, ডমপেরিডন, মন্টিলুকাস্ট জেনেরিকের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখযোগ্য হারে।
বর্তমান ধাপে বৃদ্ধি পাচ্ছে ব্যাথানাশক মেডিসিনের দাম। ব্যথার সবচেয়ে জনপ্রিয় জেনেরিক এসিক্লোফেনাক এবং কিটোরোলাক; দুটি জেনেরিকের দামই বৃদ্ধি পেয়েছে। তাছাড়া, এলার্জি এবং একজিমার জন্য প্রচলিত ক্রিম ও অয়েন্টমেন্টের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃদ্ধি পেয়েছে মূত্রনালী ইনফেকশনের চিকিৎসায় সর্বাধিক ব্যবহৃত ট্যামসুলোসিন হাইড্রোক্লোরাইড জেনেরিকের দাম। কাটা-ছেঁড়ার কাজে ব্যবহৃত পভিডিন আয়োডিনের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে।
একক OTC প্রোডাক্ট হিসাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এরিস্টোফার্মার Avolac সিরাপের দাম। অন্য কোম্পানির সিরাপগুলো যেখানে এখনও ১৩০-১৪০ টাকায়, তাদের সিরাপটির দাম এখন ২০০৳। তাছাড়া, নাক বন্ধের ড্রপ যেখানে অন্য কোম্পানিরগুলো বাচ্চাদের ৪০৳ এবং বড়দের ৪৫৳ টাকাতেই আছে, সেখানে তারা করেছে যথাক্রমে ৬৫৳ এবং ৭০৳। কিছুদিন আগে বহুল প্রচলিত মেটফরমিন জেনেরিকের স্কয়ারের Comet 500 এর দাম ২৫% বেড়ে ৪০৳ থেকে ৫০৳ হয়েছে। ফেক্সোফেনাডিন ১২০ মিঃগ্রাঃ এর দাম ৮০৳ থেকে ৯০৳ হয়েছে এবং বর্তমানে ১৮০ মিঃগ্রাঃ দাম ১০০৳ থেকে ১২০৳ টাকা হচ্ছে।
এই যে অস্বাভাবিক ভাবে মেডিসিনের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাতে ভোক্তা পর্যায়ে এর প্রভাব পড়ছে প্রচুর। কারন, নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস হিসাবে ঔষধ অন্যতম। তাছাড়া, কাঁচা বাজারের সিজন অনুযায়ী দাম আপ-ডাউন করলেও মেডিসিনের ক্ষেত্রে সে সুযোগ নেই। কারন এটা চিরস্থায়ী হয়ে যায়৷ একটি কোম্পানি দাম বাড়িয়ে ব্যবসায়িক সুফল পেলে অন্য কোম্পানিও সেই রাস্তায় হাটা শুরু করে দেয়। তাতে রোগীদের ভোগান্তি পোহাতে হয়। কিন্তু এই বিষয়ে নজর দেয়ার কেউ নেই। ভোক্তা অধিকারও এই বিষয়ে নজরদারি করেনা।
হ্যাঁ এই কথাটা সুন্দর লাগছে কাঁচা বাজারের দাম বৃদ্ধি পেলেও সেটা পরবর্তীতে কমে যায় কিন্তু ঔষধের যে পরিমাণে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে যেটা বলার নয় আর একবার দাম বৃদ্ধি পেলে আর কোন কমার সম্ভাবনা নাই। মূলত ভাই বাংলাদেশের কোন কিছুতেই নিয়ন্ত্রণ নেই সবকিছু যেন ইচ্ছেমতো চলছে।
রোগীদের জন্য খুবই খারাপ লাগে। সবাই তো আর অবস্থাসম্পন্ন না। উনাদের অসহায়ত্ব দেখলে খুবই খারাপ লাগে নিজের কাছে।
আমাদের ব্যবহার উপযোগী নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসগুলোর দাম দিন দিন বেড়েই চলছে। বিশেষ করে মেডিসিনের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের দেশে একটি মেডিসিনের দাম একবার বেড়ে গেলে কমে না। যাইহোক দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে খুব সুন্দর পোস্ট উপহার দিলেন ভাই। ধন্যবাদ আপনাকে।
হুম। এমন হুটহাট মূল্যবৃদ্ধি আসলেই বিব্রতকর। ধন্যবাদ আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য।
বর্তমান সময় সবকিছুরই দাম বেশি। ঔষুধের দাম কেন কমে পিছিয়ে থাকবে। তাই তারাও দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। তাছাড়া কিছু কিছু ঔষুধের কোম্পানি তাদের নামের জন্য ঔষুধের দাম অনেক বেশি রাখে। সবাই নামিদামি কোম্পানির ঔষধই কিনতে চায়। এজন্যই তারা এই সুবিধাটাও নিচ্ছে। যাই হোক ভাইয়া অনেক ওষুধ সম্পর্কে ধারণা পেলাম আপনার পোস্টটি থেকে। ভালো লাগলো পড়ে।
ঠিক বলেছেন। ব্র্যান্ডলিডার প্রোডাক্টগুলোর দামই বেশি বাড়ে। ধন্যবাদ আপু আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য।
দারুন একটি পোস্ট করেছেন। আসলেই অস্বাভাবিক মেডিসিনের মূল্য বৃদ্ধি সত্যিই এটা কোনভাবে কাম্য নয়। বিশেষ করে যারা মেডিসিন সম্পর্কে ধারণা রাখে না তাদেরকে আরো বেশি মূল্যে মেডিসিন কিনতে হয় । যাইহোক, আপনার পোস্ট পড়ে অনেক ভালো লাগলো।
এটা খুবই পীড়াদায়ক রোগীদের জন্য। ধন্যবাদ ভাই আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য।
মেডিসিনের মূল্যবৃদ্ধি বর্তমান সময়ে একটি প্রধান সমস্যা ভাই। কিন্তু এই মেডিসিন গুলো আসলে খুব কম মূল্য ব্যয়ে তৈরি হয়ে থাকে। লাভের জন্য অনেক শতাংশ দাম বৃদ্ধি করা হয়। আপনি বর্তমান সময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার বিষয়ে লিখলেন। সাধারণ মানুষ ওষুধের খরচের জন্য ঘটি বাটি বেচে দেয়।
তাও আপনাদের দেশে মেডিসিনের মূল্য তুলনামূলক অনেক কম আমাদের দেশের চেয়ে। আবার কোয়ালিটির দিক থেকেও অনেক পিছিয়ে। কিন্তু তাও এভাবে দাম বাড়াচ্ছে কোম্পানিগুলো। আপনাদের Diclo M খুবই সুলভ মূল্যের এবং একসাথে অনেক উপাদান থাকে। কাজও অনেক ভালো। অথচ এখানে প্যারাসিটামল + ক্যাফেইনের দামই অনেক। ধন্যবাদ দাদা সুন্দর মন্তব্যের জন্য।
হ্যাঁ ওই জন্যই আমার এক বন্ধু কলকাতা থেকে ঔষধ নিয়ে যান।
ইন্ডিয়ান মেডিসিন এক ট্যাবলেট কয়েকটা রোগের কাজ করে। আমাদের এখানে এক রোগের জন্য কয়েকটা মেডিসিন লাগে। 😂
মেডিসিনের কথা কি বলবো ভাইয়া বর্তমান সময়ে প্রত্যেকটা জিনিসের দামই এত পরিমানে বৃদ্ধি পেয়েছে যাতে ভোক্তারা সমস্যার মধ্যে পড়ে যাচ্ছে। আমাদের এলাকায় আমি লক্ষ্য করে দেখেছি বর্তমানে মেডিসিন বডি রেট এ বিক্রয় হয়।
MRP তে বিক্রির প্রসঙ্গটা ভিন্ন। সামনে হয়ত ডিসকাউন্ট একদমই থাকবে না৷ কোম্পানিগুলো আন্ডাররেট উঠিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু মূল্যবৃদ্ধি আসলে ভোগান্তির বিষয়
আসলে যারা প্রতিনিয়তই মেডিসিন কিনে তারা এই সমস্যাটা বেশি মোকাবেলা করছে। দ্রব্যমূল্যের দাম যেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে তেমনি মেডিসিনের দাম অনেক বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিছুই করার নেই। তবু আমাদেরকে চড়া দামে মেডিসিন কিনতে হচ্ছে।
এই বিষয়টা মনিটরিং করা দরকার। কিন্তু কোন উদ্যোগ নেই।
Law বিহীন একটা দেশ, বা, Law আছে কিন্তু কাগজেই সীমাবদ্ধ, দুর্নীতিই যেখানে নীতি, এরকম একটা দেশে এর চেয়ে বেশী আর কি আশা করা যায়?
দেশটাকে একদম ধ্বংস করে দিয়ে গেছে!
এই বিষয়ে আর কি বলবো ভাই! 😷