অপ্রত্যাশিত প্রাপ্তি (প্রথম পর্ব)।
ফরিদ সাহেব বারবার ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছিলো আর জুতার ফিতা বাঁধছিলো। ঘড়িতে তখন নটা বাজতে পাঁচ মিনিট বাকী। এতক্ষণে তার অফিসে থাকার কথা। কিন্তু গত কিছুদিন যাবত তার প্রায় প্রতিদিনই অফিসে যেতে লেট হচ্ছে। এই নিয়ে ইতিমধ্যে বসের কাছ থেকে দু দফা ঝাড়িও খেয়েছে সে। ঘড়ি দেখে সে নিজের উপরই বিরক্ত হচ্ছিল। সে অফিসে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়া শুরু করেছে আরও অনেকক্ষণ আগে। কিন্তু কিভাবে যেন তার সময়টা চলে যায়। সে সারা জীবন সময় মতো অফিসে গিয়েছে। তার সময় জ্ঞান নিয়ে কেউ কখনো কোন কথা বলতে পারেনি।
কিন্তু এখন এই মধ্য বয়সে এসে এই সমস্যা তার কাছে মোটেই ভালো লাগছে না। জুতার ফিতা বাধা হলে তিনি দ্রুত বাসা ত্যাগ করলেন। যদিও পেছন থেকে তার স্ত্রী বারবার ডাক ছিল তাকে নাস্তা করার জন্য। তিনি যেতে যেতে জানালেন নাস্তা করার সময় নেই। ফরিদ সাহেব চলে যেতে তার স্ত্রী পারভিন দরজা আটকে সংসারের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। যদিও কাজ বলতে তেমন কিছুই নেই। সংসারে তারা মাত্র দুজন মানুষ। একজন ছুটা বুয়া আছে যে এসে ঘরের বড় কাজগুলো করে দিয়ে যায়। তিনি শুধু রান্না করেন আর ঘরের টুকিটাকি গোছগাছ করেন।
তাদের বিয়ে হয়েছে প্রায় ১৫ বছর হল। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাদের কোন সন্তানাদি হয়নি। সন্তান নেয়ার জন্য তারা অনেক চেষ্টা করেছে। ডাক্তার, ফকির, কবিরাজ কোন কিছুই বাদ দেয়নি। কিন্তু কিছুতেই কিছু হয়নি। কিছুদিন আগে একবার ইন্ডিয়াতেও গিয়েছিল। সেখান থেকেও তারা জানিয়ে দিয়েছে টেস্টটিউব বেবি ছাড়া তাদের সামনে আর কোন পথ খোলা নেই। কিন্তু ফরিদ সাহেব টেস্টটিউব বেবি নিতে রাজি নয়। এই নিয়ে তার স্ত্রীর সাথে বেশ ঝগড়াঝাঁটিও হয়েছে। ফরিদ সাহেবের এক কথা। যদি স্বাভাবিকভাবে হয় তাহলে ঠিক আছে। না হলে সন্তান ছাড়াই তারা জীবন পার করে দেবে।
এই বিষয় নিয়ে পারভিন ফরিদ সাহেবের উপর কিছুদিন রাগ করে থাকলেও পরে সেটা মেনে নিয়েছে। এখন সে জানে সৃষ্টিকর্তার কাছে দোয়া করা ছাড়া তাদের আর কিছু করার নেই। কিন্তু যতই মনকে বুঝ দিক একটি সন্তানের জন্য তাদের দুজনের মনের ভেতরে যে চরম হাহাকার আছে। সেটা তারা দুজনেই বেশ ভালোভাবে জানে। ফরিদ সাহেব যখন অফিসে পৌঁছলো তখন নটা বেজে ৪৫ মিনিট। ইতিমধ্যে তার ৪৫ মিনিট লেট হয়েছে। অফিসে ঢুকে ফরিদ সাহেব নিজের টেবিলে বসতেই পিয়ন এসে বলে গেল আপনাকে বড় সাহেব দেখা করতে বলেছেন।
পিয়নের বলার ভঙ্গি দেখে বুঝতে পারল তার কপালে আজকেও ঝাড়ি জুটবে। পিয়ন ব্যাটা মিটমিট করে হাসছিলো। ফরিদ সাহেব খেয়াল করে দেখেছে অধস্তনরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অপদস্ত হওয়া দেখলে মজা পায়। অথচ সে কখনো এই পিয়নের সাথে খারাপ ব্যবহার করেনি। ফরিদ সাহেব সিদ্ধান্ত নিল কিছুক্ষণ পর সে বড় সাহেবের রুমে যাবে। কারণ সময়ের সাথে সাথে মানুষের মন মেজাজ কিছুটা ঠান্ডা হয়। অফিসে ঢুকেই যদি এখন সে বড় সাহেবের সাথে দেখা করে। তাহলে তাকে বেশ কিছু কটু কথা শুনতে হবে। ফরিদ সাহেব তখন পিয়নকে বলল আমাকে আগে এক কাপ চা দাও। চা খেয়ে তারপর বসের সাথে দেখা করবো। ফরিদ সাহেব ধীরে সুস্থে তার চা শেষ করল। তারপরে একটা ফাইল নিয়ে সেটাতে চোখ বুলাতে লাগলো।(চলবে)
| ফটোগ্রাফির জন্য ব্যবহৃত ডিভাইস | হুয়াই নোভা 2i |
|---|---|
| ফটোগ্রাফার | @rupok |
Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
VOTE @bangla.witness as witness
OR
জীবনটা বড়োই উদ্ভুত।কারো সব থেকেও কিছু নাই।এক চিলতে সুখের আশায় চাতক পাখির মতো বসে থাকে।আবার কারো কিছু না থেকেও বেশ সুখে দিন কাটায়।যাইহোক পরবর্তী পর্ব পড়ার অপেক্ষায় থাকলাম।🙏
ফরিদ সাহেব আর তার স্ত্রী পারভীনের জন্য আসলে খারাপই লাগলো।একটা সন্তানের জন্য কত যে হাহাকার থাকে মনে, যার সন্তান নেই সেই ই বোঝে। দেখা যাক সামনে অপ্রত্যাশিতভাবে কি প্রাপ্তি হয়??অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া,ভাল লাগলো পড়ে।