দ্বিতীয় জীবন (প্রথম পর্ব)। ১০% সাই-ফক্স।
রাকিব পড়ার টেবিলে বসে কান খাড়া করে রেখেছে যে কখন তার বাবা অফিস থেকে বাড়ি ফিরবে। যদিও সকাল থেকেই সে তার মায়ের কাছে অনেক ঘ্যানঘ্যান করেছে। কিন্তু কোন লাভ হয়নি। তার মা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে টাকাপয়সার ব্যাপারে বাবার সাথে কথা বলতে। আসল ব্যাপার হচ্ছে রাকিবদের কলেজ থেকে পিকনিকে যাচ্ছে কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে। রাকিব তার জীবনে কখনো সমুদ্র দেখেনি। তার দীর্ঘদিন থেকে ইচ্ছা ছিলো সমুদ্র দেখার।
কিন্তু সেই ইচ্ছা এখন পর্যন্ত পূরণ হয়নি। কিন্তু এবার কলেজ থেকে কুয়াকাটা পিকনিকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হলে সে খুব খুশি হয়। কারণ কলেজ থেকে গেলে অনেক কম টাকায় ঘুরে আসা যাবে। যদিও রাকিবের অনেক বন্ধু-বান্ধব ইতিমধ্যে কক্সবাজার থেকে ঘুরে এসেছে। কিন্তু তারা সবাই অবস্থাসম্পন্ন পরিবারের ছেলে। যার ফলে তাদের টাকা পয়সা নিয়ে কোনো চিন্তা করতে হয় না। কিন্তু রাকিব জানে তাদের বাবার যে আয় সেটা দিয়ে তাদের দৈনন্দিন চাহিদা মেটাতেই হিমশিম খেতে হয়। সেখান থেকে ঘোরাফেরার জন্য বাড়তি টাকা পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
রাকিব এমনিতে খুবই শান্ত শিষ্ট ছেলে। কিন্তু এইবার কলেজ থেকে যখন কুয়াকাটা যাওয়ার পরিকল্পনা হয়েছে। তখন থেকেই সে তার মায়ের কাছে বায়না ধরেছে কুয়াকাটা যাওয়ার। রাকিবরা দুই ভাইবোন। তার বাবা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ছোট একটা চাকরি করে। বেতন পায় খুবই কম। সেই স্বল্প বেতন দিয়ে কোনরকমে তাদের দিন পার হয়ে যায়। মাস শেষে তার বাবার বেতনের প্রায় কোন কিছুই অবশিষ্ট থাকে না। কলেজ থেকে কুয়াকাটা যাওয়ার পিকনিকের চাঁদা ধরা হয়েছে দুই হাজার টাকা। ২০০০ টাকা যদিও এমন বড় কোন বিষয় নয়। কিন্তু রাকিবের পরিবারের জন্য সেটা অনেক টাকা।
রাকিব বই নিয়ে বসে থাকলেও সে তার বাবার গলার আওয়াজ এর জন্য অপেক্ষা করছিলো। তার পড়ার টেবিলে বসে থাকার উদ্দেশ্য হচ্ছে তার বাবা যেন বাইরে থেকে ফিরে এসে দেখে সে পড়ালেখা করছে। রাকিবকে পড়ালেখা করতে দেখলে তার বাবা এমনিতেই খুশি হয়। তাই সে এই সুযোগের অপেক্ষায় আছে। রাকিবের বাবা যখনই বাইরে থেকে এসে দেখে রাকিব লেখাপড়া করছে। তখনই সে ছেলের কাছে গিয়ে কিছুক্ষণ গল্পগুজব করে। সেজন্য রাকিব চুপচাপ বসে আছে।
রাকিব পড়ার টেবিলে বসে না পড়ে বারবার শুধু ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছে। সে চিন্তা করছে এতক্ষণে তো বাবার চলে আসার কথা। আজ এত দেরি হচ্ছে কেনো। এই রকম চিন্তা করতে করতে যখন সে অনেকটা বিরক্ত। তখনই তার বাবার গলার আওয়াজ পেলো। অন্যদিন হলে রাকিব দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলে দিতো। কিন্তু আজ সে পড়ার টেবিলেই বসে রইল। রাকিবের ছোট বোন গিয়ে দরজা খুলল। রাকিবের বাবা ঘরে ঢুকেই রাকিবকে পড়ার টেবিলে বসে একমনে পড়তে দেখে তিনি খুশি হয়ে গেলেন। ঘরে ঢুকেই অন্য কোনো দিকে না গিয়ে রাকিবের কাছে গিয়ে তার পড়ালেখার খোঁজখবর নিতে লাগলেন।
রাকিব তাকে বলতে লাগল সে কতদূর তার পড়া এগিয়ে নিয়েছে। তার বাবা তার পড়ালেখার কথা শুনে খুব খুশি হলো। রাকিবের বাবা নিজে ছোট চাকরি করে। এই জন্য তার অনেক ইচ্ছা তার ছেলে লেখাপড়া করে অনেক ভালো কিছু হবে। রাকিব অবশ্য এমনিতেই বেশ মেধাবী ছেলে। পড়ালেখার প্রতি তার যথেষ্ট আগ্রহ আছে। তার পরিচিত সকলেই জানে রাকিব বড় হয়ে ভালো কিছুই করবে। এসএসসিতে সে অনেক ভাল রেজাল্ট করে ভালো একটি কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। সে এখন যে কলেজে পড়ে সেই কলেজটি তাদের জেলার ভিতরে সেরা কলেজ। পুরো দেশের ভেতরে কলেজটির অনেক নামডাক। সেজন্যই রাকিবের বাবার রাকিবকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন।
যাইহোক গল্পের এক পর্যায়ে রাকিব তার কলেজের পিকনিকের কথা উঠায়। তার বাবা প্রথমে চুপচাপ শোনে। কিন্তু যখন সে শুনে ২০০০ টাকা লাগবে তখন সে চুপ করে যায়। সে চিন্তা করতে থাকে তার ছেলে মেয়েরা কখনোই তার কাছে বাড়তি কিছু আবদার করে না। আজকের ছেলেটা এমন কাকুতি মিনতি করে বলছে। ছেলেটাকে না বলতে তার কাছে খুব খারাপ লাগছিলো। সে রাকিবকে তখন কিছু না বলে বলল আমি চিন্তা করে দেখি কি করা যায়।(চলবে)
মধ্যবৃও নিম্ন মধ্যবৃও পরিবারের এটাই সমস্যা ভাই। আমারও ঘোরাঘুরির অনেক শখ। কিন্তু টাকার অভাবেই ঘুরতে পারি নাই বলতে পারেন। এক্ষেত্রে রাকিবের ব্যাপরটা আমার সঙ্গে মিলে গেছে। যাইহোক পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষায় থাকলাম ভাই।।।
ঠিকই বলেছেন এটা মধ্যবিত্ত পরিবারের চিরায়ত সমস্যা। সাধ থাকলেও সাধ্য থাকেনা।
আসলে যারা উচ্চবিত্ত রয়েছে তারা মন যা চায় তাই করতে পারে। কিন্তু আমরা যারা মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত তাদের এই একটা সমস্যা আসলে তারা মন চাইলে অনেক কিছু করতে পারে না।রাকিবের গল্প পড়ে খারাপ লাগলো। পরের পর্বের অপেক্ষায় থাকবো।
এইসব পাওয়া না পাওয়া নিয়েই তো আমাদের মধ্যবিত্তদের জীবন।
রাকিবের জীবনের বাস্তবতা বহু ছাত্রছাত্রীর জীবনের মিল রয়েছে। প্রতিটি বাবার ইচ্ছা থাকে কিন্তু উপায় থাকে না। আমি পড়ছিলাম আর বাবার হৃদয়ের অনুভূতি টা বুঝতে পারছিলাম। যদি তার বাবার সামর্থ্য একটুও থাকে তাহলে অবশ্যই ছেলের কাকুতি মিনতি ও ছেলের ইচ্ছে পূরণ করবে। আমি দ্বিতীয় পর্ব পড়তেছিলাম। কিন্তু প্রথম পর্ব না পড়লে দ্বিতীয় পর্ব সম্পূর্ণ বোধগম্য নহে আমার জন্য। ধন্যবাদ এত সুন্দর বাস্তবতা উপস্থাপনের জন্য।
একটা সময় এই ব্যপারগুলো বুঝতে পারতাম না। তবে নিজে বাবা হওয়ার পর একজন বাবার কেমন অনুভূতি হয় সন্তানকে কোন কিছু না দিতে পারলে সেটা বুঝি।
দোয়া ও শুভকামনা রইল। আপনি যেন বাবার ভূমিকা ও আর্থিকভাবে সন্তানের চাহিদাগুলো পূরণ করে, সন্তানের কাছে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বাবা হতে পারেন। শুভকামনা রইল আপনার ও আপনার পরিবারের জন্য।