খাঁটি মধুর সন্ধান পাওয়া।
কয়েকদিন আগে আমি বন্ধু ফেরদৌসের সাথে গিয়েছিলাম একটি বড়ই বাগানে বড়ই কিনতে। সাথে ছিল আমাদের আরেক বন্ধু রাফসান। সেখানে গিয়ে বরই বাগান থেকে অনেক মজা করে বড়ই পেরে খেয়েছিলাম। আসার সময় কিছু কিনেও এনেছিলাম। তবে বড়ই বাগানে প্রবেশ করার আগে হঠাৎ করে কিছুটা দূরে দেখতে পেলাম একটি জায়গায় মধুর চাষ করা হচ্ছে। অর্থাৎ কৃত্রিম উপায়ে মৌমাছিদের দিয়ে মধুর আহরণ করা হচ্ছে।
আমি এই ধরনের প্রজেক্ট এর আগে খুব একটা কাছ থেকে দেখতে পারিনি। কারণ মৌমাছি দেখলেই আমার ভয় করতো। তবে এদিন খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছিলো। গত বছর যখন বড়ই বাগানে এসেছিলাম তখন এই মৌমাছির চাষের ব্যাপারটি দেখতে পাইনি। ধারণা করতে পারলাম যে তারা হয়তো অল্প কিছুদিন হলো এখানে এসেছে। মধু অত্যন্ত উপকারী একটি খাদ্য। মধুর গুণের কথা বলে শেষ করা যাবে না। তবে সমস্যা হচ্ছে বাজার ভেজাল মধুতে ছয়লাব। ভেজালের ভিড়ে খাঁটি মধু পাওয়া অত্যন্ত দুষ্কর কাজ। আমি শীতের সময় টাতে চেষ্টা করি প্রতিদিন একটু মধু খেতে। কারণ এই মধু আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
মধুর আরও বহু গুণাগুণ রয়েছে। কিন্তু এত গুণ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ মধু কেনার সময় অত্যন্ত চিন্তিত থাকে। কারণ বেশিরভাগ সময় দেখা যায় টাকা দিয়ে ভেজাল মধু কিনে নিয়ে এসেছে। খাঁটি মধু পাওয়া যায় না এই কারণে অনেকে মধু কেনার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। অথচ বাংলাদেশের মানুষের ভেতরে মধু খাওয়ার একটা প্রবণতা ছিলো। যেটি অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর একটি অভ্যাস। কিন্তু কালে কালে মানুষের নৈতিকতার অবক্ষয়ের কারণে ভেজালের পরিমাণ এতটা বেড়ে গিয়েছে। যে এখন মানুষ প্রায় মধু খাওয়া ছেড়েই দিয়েছে।
আমি সাধারণত বাজার থেকে কখনো মধু কিনি না। আমি মধু কিনি আমার এলাকার এক লোকের কাছ থেকে। যিনি নিজে মৌয়ালদের সাথে গিয়ে মধু সংগ্রহ করে নিয়ে আসেন। কারণ তিনি বলেন যদি আমি তাদেরকে মৌমাছির চাক কাটতে পাঠায়। তাহলে তারা সেখান থেকে মধু নিয়ে তার ভিতরে ভেজাল মেশাবে। এজন্য আমি সবসময় তাদের সাথে যাই। তিনি আমাকেও আমন্ত্রণ জানিয়েছিল তাদের সাথে যাওয়ার জন্য। কিন্তু সময় সুযোগের অভাবে আর যাওয়া হয়নি। তো এই বড়ই বাগানের পাশে মধুর চাষ দেখে আমার বেশ আগ্রহ জাগলো এটা সম্বন্ধে খোঁজখবর নেয়ার জন্য।
যেই লোকেরা মধুর চাষ করছিল তাদের সাথে কথাবার্তা বলে জানতে পারলাম তারা চার থেকে সাড়ে চার মাসের জন্য এখানে এসেছে। যে জায়গাটিতে মৌমাছির বক্সগুলো বসানো হয়েছে তার আশেপাশে অনেক ফসলের জমি রয়েছে। বিশেষ করে সরিষা ক্ষেত রয়েছে। আবার পাশেই রয়েছে বড়ই বাগান। বড়ই ফুল থেকেও এই মৌমাছি গুলো মধু আহরণ করে। আবার সরিষা ক্ষেত থেকেও মৌমাছি গুলো মধু আহরণ করে। আমি মনে মনে চিন্তা করলাম এখান থেকে মধু কিনতে পারলে একেবারে খাঁটি মধুটা পাওয়া যাবে। কারণ আপনি চাইলে আপনার সামনে খাঁটি মধু বের করে দেবে। আমি তাদের কাছে মধুর দাম জিজ্ঞেস করলে তারা বলল ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত প্রতি কেজি মধু তারা বিক্রি করেন। এর ভিতর কালিজিরা ফুল থেকে যে মধুটা হয় সেটার দাম একটু বেশি। বাদবাকি মধু গুলোর দাম মোটামুটি কমই মনে হলো।
মনে মনে পরিকল্পনা করেছি এরপরে যখন মধুর দরকার হবে তখন তাদের কাছ থেকে একবার কিনে আনব। যদিও আমার কাছে মনে হয় মানুষের বাড়িতে বা গাছে মৌমাছির যে চাকগুলো হয় সেই চাকের মধুর স্বাদ। এই চাষ করা মধু থেকে ভালো। কারণ এর আগে একবার আমি চাষের মধু কিনেছিলাম। সেটা খুব একটা ভালো লাগেনি আমার কাছে। যদিও বাজারের ভেজাল মধু থেকে সেটা অনেক ভালো ছিল। এই ভেজালের যুগে যদি এমন খাঁটি মধু কেনার সুযোগ থাকে তাহলে কেউ কি আর বাজার থেকে ভেজাল মধু কিনতে চাইবে? তবে আজকাল আশার কথা হচ্ছে এই ধরনের মধুর চাষ অনেক বেড়েছে। যার ফলে বাজারে খাঁটি মধুর সরবরাহ অনেকটা বেড়েছে।
যদিও এখনো অসাধু ব্যবসায়ীরা অল্প খাঁটি মধুর সাথে প্রচুর পরিমাণে ভেজাল মধু মিশিয়ে বিক্রি করে। যার ফলে এখনো বাজারের মধুর ওপর ভরসা করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। আপনারা যারা এই ধরনের ব্যবস্থা দেখতে পাবেন চেষ্টা করবেন সেখান থেকে মধু কেনার। কারণ তাহলে আপনারা খাঁটি মধু পাবেন। আর সকলে চেষ্টা করবেন প্রতিদিন অল্প পরিমাণে হলেও মধু খেতে। কারণ এটা আপনার শরীরের জন্য অনেক উপকারী এবং আপনার প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করবে।
আজকের মতো এখানেই শেষ করছি। পরবর্তীতে আপনাদের সাথে দেখা হবে অন্য কোন নতুন লেখা নিয়ে। সে পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন।
| ফটোগ্রাফির জন্য ব্যবহৃত ডিভাইস | হুয়াই নোভা 2i |
|---|---|
| ফটোগ্রাফার | @rupok |
| স্থান | গজারিয়া |
Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
VOTE @bangla.witness as witness
OR
ভেজাল মধুর ভিড়ে খাটি মধু খুঁজে পাওয়া ভীষণ ঝামেলার। কাছ থেকেই মধু কিনতে যাওয়া হোক না কেন সে বলে তার মধুতে ভেজাল নেই। তবে এরকম পদ্ধতিতে যেখানে মধু সংগ্রহ করা হয় সেখান থেকে মধু কিনলে ভেজাল মুক্ত মধু কিনতে পাওয়া যাবে। ভেজাল মধুর ভিড়ে খাটি মধু খুঁজে পাওয়ার অভাবে অনেকে মধুকেনা প্রায় ছেড়ে দিয়েছে। যাই হোক এখন থেকে আমরাও সবাই চেষ্টা করব এসব জায়গাগুলোতে যাওয়ার জন্য এবং মধু কেনার জন্য। ভালো লাগলো ভাইয়া আপনার পোস্ট পড়ে।
দি ভাই ভেজাল মধুর ফিড়ে খাটি মধু পাওয়া বড়ই কঠিন৷ এখন তো সব জায়গায় ভেজাল ৷ তবে এই শীতের সময়ে গ্রামের দিকে এই কৃত্রিম উপায়ে মধু চাষ করছে ৷ যা আমি অনেক বার দেখেছি ৷ কাঠের বক্সে করে চাষ করে ৷ বিষয়টি ভালোও লাগে ৷ আপনার পোষ্ট টি দেখে অনেক ভালো লাগলো ভাই ৷
মধুর গুনের ক্তহা বলে শেষ করা যাবে না। প্রটিদিন ১ চামচ মধু খেলে অনেক উপকার হয়। কিন্তু বাজারে খাটি মধু পাওয়া বেশ কস্ট । আপনি মধুর যে দাম লিখলেন তাতে মনে হল বেশ কম দাম। বিভিন্ন নামিদামি শপ থেকে বেশীদামে মধু কিনেও খাটি মধু পাওয়া যায় না। অনেক অনেক শুভ কামন আপনার জন্য।
এটা সত্য কথা যে এখন বাজারে যে ধরনের মধুগুলো পাওয়া যায় প্রায়ই মধুতে ভেজাল থাকে। কিন্তু এই কথাটি ও সত্য ভাইয়া যে এই চাষ করা মধুগুলো খেতে ততটা সুস্বাদু হয় না। একবার কিনে দেখতে পারেন কিন্তু আমার কাছে মনে হয় মৌমাছিরা গাছে যে মৌচাক গুলো তৈরি করে সেখান থেকে মধু কিনতে পারলে সব থেকে বেশি লাভবান হওয়া যাবে।
খাঁটি মধুর সন্ধান করা বড়ই কঠিন ব্যাপার। এলাকায় যে সমস্ত মধু গুলো কিনতে পারা যায় বেশিরভাগ লক্ষ্য করা যায় তার মধ্যে তিনি মেশানো। আমি তো একবার খাঁটি মধু যাচাই করার জন্য নিয়ম শিখেছিলাম আগুনে পোড়ানোর। তবে যাই হোক আপনার আজকের এই পোস্ট আমার কাছে অনেক সচেতন মূলক একটা বিষয় মনে হল ইউজারদের জন্য। আমিও মাঝেমধ্যে মধু কিনে খাওয়ার চেষ্টা করি কারণ মধু আর ক্ষীর খেজুর শরীরের জন্য খুবই উপকারী। যাইহোক খুবই ভালো লাগলো আপনার আজকের এই পোস্ট পড়ে।
অসাধু ব্যবসায়ীরা যে পরিমাণে ভেজাল মধু বিক্রি করে, সেই ভয়ে মধু খাওয়া ছেড়ে দিয়েছি দাদা। এই ভেজাল এর বাজারে খাঁটি জিনিস পাওয়া দুর্লভ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে এখন। দাদা তুমি যেমন ভাবে মধু কিনেছো এমন পাওয়া গেলে ভেজাল মুক্ত পাওয়া সম্ভব। আমাদের এইখানে এমন জায়গার সন্ধান পেল সেই জায়গা দিয়ে মধু কিনে এনে পুনরায় খাওয়া স্টার্ট করবো।