বন্ধুদের সাথে জীবনের প্রথম বারবিকিউ করার মজার অভিজ্ঞতা।
গতকালকের পোস্টে আমি আপনাদের সাথে বন্ধুদের সাথে বারবিকিউ পার্টি করার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছিলাম। সেদিন বারবিকিউ পার্টি করার সময় আমরা কয়েক বন্ধু মিলে পুরনো স্মৃতির রোমান্থনে মেতে উঠেছিলাম। এই ধরনের প্রোগ্রামে যা হয় সাধারণত। সকলেই আমাদের পুরনো স্মৃতিগুলি মনে করছিলাম আর আফসোস করছিলাম। আহা কি সুন্দর ছিল সেই দিনগুলি। আবার যদি সেই দিনগুলি ফিরে পেতাম। যদিও জানি আর কখনোই সে দিনগুলো ফিরে আসবে না।
যাই হোক সেদিন আমরা বারবিকিউ পার্টি করার সময় আমাদের বন্ধুদের প্রথম বারবিকিউ পার্টি করার অভিজ্ঞতার ঘটনার কথা মনে করে অনেক হাসাহাসি করেছিলাম। তাই চিন্তা করলাম আজকে আপনাদের সাথে আমাদের সেই প্রথম বারবিকিউ পার্টি করার অভিজ্ঞতা শেয়ার করি। আমাদের বন্ধু-বান্ধবের ভেতর একটা ব্যাপার কমন ছিল। সেটা হচ্ছে আমরা সকলেই গ্রামে সময় কাটাতে পছন্দ করতাম। কিন্তু আমরা শহরে থাকার ফলে সহজে গ্রামে যাওয়া হোতো না। তাই গ্রামে সময় কাটাতে ইচ্ছা হলেই আমরা রাফসানদের বাড়িতে চলে যেতাম। সেখানে গিয়ে নিজেদের ইচ্ছামত ২-৩ দিন থেকে তারপর আবার শহরে ফিরে আসতাম।
দীর্ঘদিন আমরা এইভাবে গ্রামে থাকার স্বাদ মিটিয়েছি। এমনকি আমি যখন চাকরি করতাম তখন বৃহস্পতিবার বিকাল হলেই অফিস শেষ করে আরো কয়েকজন বন্ধু-বান্ধব নিয়ে রাফসানদের বাড়িতে চলে যেতাম। রাতভর চলতো আড্ডাবাজি আর কার্ড খেলা। তারপর সকালে ঘুম থেকে উঠে নদীতে গোসল করা। তারপর গ্রাম ভরে ঘুরেফিরে বেরিয়ে বিকালের দিকে বাড়ি ফেরা। দীর্ঘদিন আমরা এভাবেই কাটিয়েছি। কিন্তু জীবন ও জীবিকার তাগিদে সেইসব বন্ধু-বান্ধবেরা অনেক দূরে চলে গিয়েছে।
যাইহোক এখন সেই মূল ঘটনায় ফিরে আসি। একদিন আমরা কয়েক বন্ধু বান্ধব মিলে চিন্তা করলাম মুরগি আগুনে ঝলসে খাবো। তখনো বারবিকিউ পার্টি এত জনপ্রিয়তা পায়নি। আমার বাসাতে তখন বারবিকিউ করার জন্য এক ধরনের বারবিকিউ করার চুলা ছিল। সেটাতে কয়েকটা শিক ছিলো আর নিচে কয়লা রাখার জায়গা ছিল। তো আমরা সেটা নিয়ে রওনা দিয়েছিলাম বন্ধু রাফসান এর বাড়িতে। তখন আমাদের বন্ধু-বান্ধবদের ভিতরে পিজন নামে এক বন্ধু ছিলো। যে রান্নার ব্যাপারে যথেষ্ট আগ্রহী এবং কিছুটা পারদর্শী।
যাইহোক আমরা সকলের অভিজ্ঞতা থেকে বিভিন্ন রকম পরামর্শ দিয়ে তাকে রান্নায় সহযোগিতা করতে লাগলাম। যদিও রান্নার ব্যাপারে আমরা বাদ বাকি সবাই ছিলাম একেবারেই নবীশ। যথারীতি বাজার থেকে মুরগি নিয়ে কেটে ধুয়ে সেটা বেশ কিছুক্ষণ মেরিনেট করে রাখা হলো। তারপর যখন মুরগি পোড়ানোর সময় আসলো। তখন আমরা সকলে কিছুটা টেনশনে পড়লাম। কারণ এই ধরনের কাজ করার কোন অভিজ্ঞতা আমাদের আগে ছিল না। যার ফলে মুরগি পোড়ালে খাওয়া যাবে কিনা সেটা নিয়ে আমরা চিন্তিত ছিলাম। তবে যখন মুরগি পোড়ানো হলো তখন প্রথম টুকরো মুখে দিয়ে আমরা অবাক হয়ে গেলাম। কারণ সেই মুরগির স্বাদ এত চমৎকার হয়েছিল যে আমাদের যে বন্ধু রান্না করছিল। সে বাদে আমরা সবাই টপাটপ এক এক পিস মুখে পুড়তে লাগলাম। এভাবে খেতে খেতে একসময় দেখা গেল আমরা পুরো মুরগিটা খেয়ে ফেলেছি।
আমাদের যে বন্ধু মুরগি পোড়াচ্ছিলো ছিল তার জন্য আমরা কিছুই রাখিনি। প্রথমে আমাদের সেই বন্ধু ব্যাপারটা খেয়াল করেনি। যখন সে ব্যাপারটা খেয়াল করল তখন সে আমাদের উপর প্রচন্ড রাগ করলো। যদিও সে খুবই শান্ত স্বভাবের ছিল তাই সে বেশি কথা না বলে রাগ করে সোজা রাফসানদের বাড়ি থেকে চলে গেল। আজও আমাদের সেই কথা মনে পড়লে হাসি আসে। কি চমৎকার ছিল সেই দিনগুলি। বন্ধুদের ভেতর নানান রকম মান অভিমান চলতো আর চলতো প্রচুর খুনসুটি। আমরা সেদিন বারবিকিউ পার্টি করার সময়ও সেই ঘটনা মনে করে অনেক হাসাহাসি করছিলাম।
আজকের মত এখানেই শেষ করছি। পরবর্তীতে আপনাদের সাথে দেখা হবে অন্য কোন নতুন লেখা নিয়ে। সে পর্যন্ত সবাই ভাল থাকুন সুস্থ থাকুন।
| ফটোগ্রাফির জন্য ব্যবহৃত ডিভাইস | হুয়াই নোভা 2i |
|---|---|
| ফটোগ্রাফার | @rupok |
Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
VOTE @bangla.witness as witness
OR
এভাবে বেইমানি করলেন বন্ধুর সাথে😂।নজর দেয়নি?পেট খারাপ হয়নি?
অতীত জেনে ভালো লাগলো। ভালো থাকবেন।
একটা নির্দিষ্ট বয়সের পর বন্ধুবান্ধবদের আড্ডা মানেই পুরোনো স্মৃতি রোমন্থন।যখন কাধে দায়িত্ব ছিল না তখনকার দিন গুলো কতই না সুন্দর ছিল।আপনাদের প্রথম বারবিকিউ করার অভিজ্ঞতা শুনে বেশ মজা পেলাম। যে সব করল তার কপালেই কিছু জুটল না।বেচারার জন্য দুখ হচ্ছে।ধন্যবাদ ভাইয়া মজার স্মৃতি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।
পুরোনো স্মৃতি মনে হলে সত্যি অনেক সময় হাসি পায় আমরা আগে এমন ছিলাম ভাবতে অবাক লাগে। সেই দিনগুলো আর কখনো ফিরে আসবে না কিন্তু সবারই ইচ্ছে করে সেই দিনে একবার ফিরে যেতে। সময়ের সাথে সাথে সবাই বড় হয়ে ওঠে আর ব্যস্ত হয়ে পড়ে। জীবিকার তাগিদে একেক জন একেক জায়গায় থাকে তখন আর আগের মতো তেমন সময় পাওয়া যায়না বলে একসাথে দেখা আর সময় কাটানোও হয়না। তবে আপনার বন্ধুদের সাথে প্রথম বারবিকিউ পার্টির কথা শুনে খুব মজা পেলাম। আপনার বন্ধু সেই দিন নিশ্চয়ই অনেক কষ্ট পেয়েছিল। কষ্ট পাওয়ারই কথা এত কষ্ট করে রান্না করেছে আর সে খেতে পারলো না। সবার জীবনেই এমন অনেক ঘটনা রয়েছে আর আজ আপনার এটা শুনে খুব ভালো লাগলো। ধন্যবাদ।
আপনাদের প্রথমবার বারবিকিউ করার অভিজ্ঞতাটা পড়ে ভালো লাগলো। আর প্রথমবারই এত টেস্ট হয়েছিল যে আপনাদের যে বন্ধুটা রান্না করেছে তাঁর জন্যই রাখতে ভুলে গিয়েছিলেন। আর হ্যাঁ আপনারা সব বন্ধুরা গ্রাম্য পরিবেশ পছন্দ করেন জেনে ভালো লাগলো। ধন্যবাদ ভাই আপনাকে অতীতের স্মৃতি নিয়ে এই সুন্দর পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
বন্ধুদের সাথে খুব সুন্দর মুহূর্ত কাটাচ্ছেন দেখছি ভাইয়া। আসলে জীবনের সেরা মুহূর্তগুলোই বন্ধুদের সাথে কাটানো হয়ে থাকে। যেগুলো স্মৃতি হিসেবে রয়ে যায় কখনো ভুলভাল নয়। গত বছর আমরাও এইভাবে বারবিকিউ করে খেয়েছিলাম খাওয়ার চেয়ে বন্ধুদের সাথে আড্ডা মজাটাই বেশি হয়। আপনার বন্ধুদের সাথে বারবিকিউ খাওয়ার অভিজ্ঞতার গল্প পড়তে পড়তে লাস্টে বারবিকিউ তৈরি করার সময় যে বন্ধু প্রচুর কষ্ট করেছে সেই পায়নি। কিছুটা কষ্টের হলেও এগুলো স্মৃতি হিসেবে অনেক বড় অনেক ভালো লেগেছে ।
সত্যি বলতে যারা গ্রামে সময় অতিবাহিত করেছে তাদের কাছে শহরটা কেমন যেন কারাগারের মতো মনে হয় সুযোগ পেলেই গ্রামে ছুটে যেতে মন চায়। আপনারাও দেখছি সেরকমই সুযোগ পেলেই গ্রামের দিকে মন ছুটে চলে যায়, অবশেষে বন্ধুদের সঙ্গে বারবিকিউ খেয়েছেন জেনে খুবই ভালো লাগলো। তবে একটা জিনিস খুবই খারাপ লেগেছে এত কষ্ট করে যে মানুষটা রান্না করলো তাদের জন্য আপনারা রাখেননি..? এটা কোন কথা হাহাহা। আপনার সেই বন্ধুটা অবশেষে রাগ করে সেখান থেকে চলেই গেল। যাইহোক বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলো সব সময় অনেক বেশি রোমাঞ্চকর হয় অনেক বছর পরে সেই কথাগুলো মনে পড়লে ঠোঁটের কোণে একটু হাসি নিয়ে আফসোস করে বলতে হয় আসলেই সেই দিনগুলো অনেক বেশি ভালো ছিল।
ঘটনাটি পড়ে বেশ মজা পেলাম।আপনার বন্ধু পিজন এর বারবিকিউ এত মজা হয়েছিল যে সবাই গবাগব গিলে তার জন্য একটাও রাখেন নি😉।আসলে বন্ধু মানেই হয়ত এমন হা হা।পরে রাগ করে যে চলে গেলো আপনারা আটকান নি😉,রাগ তারপর কিভাবে ভাঙালেন সবাই মিলে।
হা হা হা কি সুন্দর ঘটনা। এটা একটু স্বার্থপরতা হয়ে গেল না । আহারে বেচারা কি কষ্টটাই না করলো আপনাদের জন্য আর আপনারা নাকি এই কাজ করলেন। উনি যে কি পরিমান কষ্ট পেয়েছিল সেদিন। যাই হোক ভাইয়া আমি তো প্রথমে মনে করেছিলাম প্রথম দিনে হয়তো গ্রামের কারো মুরগী চুরি করে খেয়েছেন। হা হা হা