দুর্ধর্ষ গেরিলাদের দুঃসাহসিক অভিযান (প্রথম পর্ব)। ১০% সাইফক্স।
সময়ঃ১৯৭১ সালের ২৬ জুন
আমজাদ ঘরের ভেতর অস্থিরভাবে পায়চারী করছে আর একটার পর একটা সিগারেট ফুঁকছে। যে কেউ দেখলেই বুঝতে পারবে যে সে প্রচণ্ড অস্থির হয়ে আছে। ঘরের ভেতর পায়চারির ফাঁকে ফাঁকে জানালা দিয়ে বাইরের রাস্তাটা দেখছে আর চিন্তা করছে সবাই এখনো আসছে না কেন?
আমজাদ একজন গেরিলা যোদ্ধা। ২৫ শে মার্চের কালোরাতে পাক হানাদার বাহিনীর গণহত্যার পর আরো হাজারো মানুষের মতো আমজাদ ইন্ডিয়ায় গিয়েছিল ট্রেনিং নিতে। যাতে সে দেশ মুক্ত করার এই যুদ্ধে শামিল হতে পারে। দুই মাস ট্রেনিং নেয়ার পর গেরিলা যোদ্ধা হিসেবে সে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। তার সাথে এমন আরও হাজারো মানুষ ছিল তার মতো।
প্রথমে কিছুদিন সীমান্তবর্তী এলাকা গুলোতে পাক হানাদার বাহিনীকে আক্রমণে নাস্তানাবুদ করে দেয় তারা। পরে হাইকমান্ড থেকে নির্দেশ আসে ঢাকায় কয়েকটি গেরিলা পাঠানো হবে। তারপর সমস্ত গেরিলা যোদ্ধাদের ভেতর থেকে বাছাই করে কিছু চৌকস গেরিলাযোদ্ধা নিয়ে কয়েকটি দল গঠন করা হয়। তারপর তাদেরকে কয়েকটি দলে ভাগ করে ঢাকায় পাঠানো হয়।
ঢাকায় আসার পর থেকেই আমজাদ এবং তার দল বেশ কয়েকটি অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। কিন্তু এবার তাদের কাঁধে একটি বড় অপারেশনের দায়িত্ব এসে পড়েছে। ঢাকার ভেতরে যে সমস্ত গেরিলা দল অভিযান পরিচালনা করছিলো তাদের কারো কাছে ভারী কোনো অস্ত্র ছিল না। গেরিলা অপারেশনের জন্য অবশ্য ভারী অস্ত্রের খুব একটা প্রয়োজন ও নেই। তবে এখন নির্দেশ এসেছে ঢাকার ভিতরে যতগুলো গেরিলা দল আছে তাদের সবাইকে মিলে একটি বড় অপারেশন করতে হবে।
এই অপারেশনের জন্য দুই ট্রাক অস্ত্র ঢাকার ভিতরে পাঠাতে হবে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে প্রতিটি রাস্তায় পাক আর্মির চেকপোস্ট আছে। সেই চেকপোস্ট পার করে অস্ত্রসহ ট্রাক নিয়ে শহরে ঢোকা প্রায় অসম্ভব। কিন্তু আমজাদ যে এলাকায় আছে এখান দিয়ে ঢাকা শহরে খুব সহজেই ঢুকে যাওয়া যায়। কিন্তু এই এলাকার রাস্তাতেও দুটি পাক আর্মির চেকপোস্ট আছে। আমজাদের উপর দায়িত্ব পড়েছে যেভাবে হোক এই চেকপোস্ট দুটি ধ্বংস করে। এখান দিয়ে অস্ত্রবাহী ট্রাক দুটো শহরে ঢুকাতে হবে।
গত এক সপ্তাহ যাবত কিভাবে এই কাজটি করা যায় সেটা নিয়ে প্লানিং হচ্ছে তার দলের লোকদের নিয়ে। কিন্তু কোন কাজের জন্য যে এত অস্ত্র আনা হচ্ছে সেটা এখন পর্যন্ত ওরা কেউ জানে না। আমজাদের গ্রুপের একজন জিজ্ঞেস করেছে আমজাদকে যে ট্রাকে কি আছে? কিন্তু আমজাদ কিচ্ছু বলেনি তাদেরকে। আমজাদ কারো কাছেই বলেনি কারণ হাইকমান্ড থেকে নিষেধ করা আছে বলতে। আর এই সমস্ত ক্ষেত্রে যত কম জানা যায় ততই ভালো। কারণ যদি কোন গেরিলাযোদ্ধা পাক আর্মির হাতে ধরা পড়ে। তাহলে যেন সে কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তাদের কাছে বলতে না পারে। সেজন্যই সবার কাছ থেকে এই ধরনের তথ্যগুলি লুকিয়ে রাখা হয়।
কিন্তু আমজাদ দলনেতা হওয়ায় সে ঠিকই জানে যে এই ট্রাকে কি আছে এবং কেন আনা হচ্ছে। মূলত তাদের উপরে দায়িত্ব পড়েছে ঢাকায় পাক আর্মির যে হেডকোয়ার্টার আছে সেখানকার অস্ত্রাগার ধ্বংস করতে হবে। এজন্য গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দুটি টিম অস্ত্রাগারের চারপাশের এলাকায় রেকি করেছে। রেকি করে তারা বেশ ভালো একটা পরিকল্পনা তৈরি করেছে।(চলবে)
Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ আমাদের চেতনা এই চেতনাই বারবার আমরা উজ্জীবিত হয়ে সকল প্রতিকূলতার মাঝেও নিজেকে এগিয়ে নেওয়ার সাহস পাই। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে জয়লাভ করতে না পারলে আমরা সম্ভবত বাঙালি জাতিরা কোনদিনই মাথা তুলে দাড়াতে পারতাম না। যাইহোক ভাইয়া একজন দলনেতা গেরিলা আমজাদের গল্প পড়তে পড়তে আমার গায়ের লোমগুলো বারবার শিউরে উঠছিল। কেন জানিনা মুক্তিযুদ্ধের ঘটনা গুলো পড়ার সময় আমার মনে হয় আমি যেন যুদ্ধে আছি। ধন্যবাদ ভাইয়া এই বিষয় নিয়ে লেখার জন্য।
আপনাদের এমন উৎসাহ পেলে এই বিষয়ে আরো লেখার চেষ্টা করবো।
আমজাদ আমাদের গর্ব।এরকম হাজারো আমজাদ এর জন্য আজকে আমরা স্বাধীন।আমজাদ এর এই বীরত্ব গাঁথা থাক ইতিহাসের পাতায়,ব্লক চেইন এর ইতিহাস হয়তো একদিন তাদের পরবর্তী প্রজন্মরা এই ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবে।চালিয়ে যান ভাই পরবর্তী পর্বের জন্যে অপেক্ষায় রইলাম,,,,,
সম্ভবত টাইপিং মিসটেক হয়েছে। অনুগ্রহপূর্বক বানান দুটি ঠিক করে নিন। এত চমৎকার মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ।
দুঃখিত অনাকাঙ্খিত ভুলের জন্য। 🙏
সত্যি বলতে কি আমজাদ স্যার যে একজন গেরিলা যোদ্বা তা আমার আগে কখনে জানা হয় নাই আপনার পোষ্ট এর মাধ্যমে এই প্রথম আজ অবগত হলাম। সেলুট জানাই যাদের রক্ত, ত্যাগ, তিতিক্ষার ও আত্নত্যাগের বিনিময়ে আমরা স্বাধীন দেশ পেয়েছি নিজেকে একজন স্বাধীন বাঙালী হিসাবে বিশ্বের বুকে মাথা উচু করে দাঁড়াতে শিখেছি তাঁদের অবদানকে কখনো ভুলার মত না।
ধন্যবাদ ভাইয়া আপনাকে মুক্তিযুদ্ধের একটা অজানা তথ্য আজ আমি আপনার মধ্যে দিয়ে জানতে পারলাম।
আশা করছি ভবিষ্যৎ ও নৃত্য নতুন কিছু শিখতে পারবো আপনার দ্বারা।
আবারও আপনাকে ধন্যবাদ