কেমন আছেন আমার বাংলা ব্লগের বন্ধুরা? আমি ভালো আছি। আশাকরি আপনারা ও ভালো আছেন।
দীর্ঘদিন হলো কোন রেসিপি পোস্ট করা হয় না। তাই চিন্তা করলাম আজ একটি রেসিপি শেয়ার করি আপনাদের সাথে। আমি শাকসবজি থেকে মাছ মাংস খেতে বেশি পছন্দ করি। শাকসবজি খাই তবে অনেকটা বেছে বেছে। বেশ কিছুদিন আগে একবার একটি কাজে আমার ফুফুর বাসায় গিয়েছিলাম। অনেকটা বিনা নোটিশে সেখানে গিয়ে উপস্থিত হয়েছিলাম। যাওয়ার কিছুক্ষণ পর দুপুরে যখন খেতে বসলাম। তখন টেবিলের খাবারগুলি দেখে বুঝতে পারলাম প্রস্তুতি নেয়ার সময় না পাওয়ার কারণে টেবিলে সাধারণ কিছু খাবার ছিলো। এমনিতে আমি যখনই ফুফুর বাড়িতে যাই। তিনি ভাস্তে আপ্যায়নের কোন ত্রুটি রাখেন না। বেশ ভালো খাবার দাবারের আয়োজন সবসময় করেন। তবে যেহেতু এবার বিনা নোটিশে উপস্থিত হয়েছি। সেজন্যই টেবিলের অবস্থা এমন ছিলো।
যাইহোক তাতে অবশ্য আমার খুব একটা সমস্যা হয়নি। তবে সমস্যা যেটা হয়েছিল সেটা হচ্ছে টেবিলে খাবারগুলির ভেতর বেশ কিছু শাকসবজি ছিলো। যেগুলো আমি সাধারণত খাই না। সেই খাবারগুলির ভেতর একটি খাবার ছিল পেঁয়াজের ফুল এর সাথে ছোট চিংড়ি মাছ দিয়ে এক ধরনের ভাজি। এই খাবারটি আমার আগে কখনো খাওয়া হয়নি। প্লেটে নেব কিনা তাই চিন্তা করছিলাম। এর ভেতরে আমার ফুফাতো ভাইয়ের স্ত্রী আমাকে বলল ভাইয়া একবার খেয়ে দেখেন। খেতে খারাপ লাগবে না। আমি কিছুটা সাহস সঞ্চয় করে প্লেটে সেই ভাজিটা কিছুটা নিলাম। ভাজিটা ভাতের সাথে মাখিয়ে যখন প্রথম মুখে দিয়েছি। তখন আমি অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। এই সাধারণ একটি ভাজি যে এতটা মজা হতে পারে সেটা আমি চিন্তাও করিনি। খাওয়ার পরবর্তী পর্বের কথা আর না বললেও চলছে। কারণ আমি প্রায় সেই ভাজিটা দিয়েই আমার পুরো খাওয়াটা শেষ করে ফেলেছিলাম। তারপর থেকে আমি শীতের সময় যখন বাজারে পেঁয়াজের ফুল ওঠে। তখন থেকে আমার বাসায় এই ভাজিটা মোটামুটি রেগুলার একটা আইটেমে পরিণত হয়। আজ আমি সেই রেসিপিটি আপনাদের সাথে শেয়ার করবো। এটি রান্না করা যেমন সহজ। তেমনি খুব অল্প উপকরণ দিয়ে রান্নাটি করা যায়। তাহলে চলুন শুরু করা যাক।
🦐🍤পেঁয়াজের ফুল এর সাথে চিংড়ি মাছের ভাজি🍤🦐

উপকরণসমূহ

| উপকরণ | পরিমান |
| ছোট চিংড়ি মাছ | ১৫০ গ্রাম |
| পেঁয়াজের ফুল( স্প্রিং অনিয়ন) | ৪০০ গ্রাম |
| পেঁয়াজ কাটা | ১ কাপ |
| কাঁচা মরিচ | ১০ টি |
| হলুদ গুড়া | ১ চা চামচ |
| লবন | পরিমাণ মতো |
| তেল | ১/২ কাপ |
রন্ধন প্রণালী

প্রথমে একটি কড়াইতে কিছুটা তেল নিয়ে কিছুক্ষণ তেলটা গরম হতে দেই।

তারপর কেটে রাখা পেঁয়াজগুলি কড়াইয়ের ভেতর দিয়ে হালকা করে ভেজে নেই।



এখন কড়াইতে চিংড়ি মাছ গুলো দেই। সাথে হলুদ এবং সামান্য লবণ দিয়ে হালকা করে কিছুক্ষণ ভেজে নেই। খেয়াল রাখতে হবে চিংড়ি মাছ গুলো যেনো বেশি ভাজা না হয়ে যায় বা পুড়ে না যায়।

এখন কেটে রাখা পেঁয়াজের ফুলগুলো কড়াইয়ের ভেতর দিয়ে দেই।

এখন আবার কিছুটা হলুদ, লবণ কড়াইয়ের ভেতর যোগ করে ভালোমতো নাড়াচাড়া করে নেই। কিছুক্ষণ নেড়েচেড়ে নেয়ার পরে সামান্য পানি যোগ করে ঢাকনা দিয়ে কড়াই ঢেকে দেই। এভাবে পানি শুকিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত রান্না করতে থাকি।

পানি শুকিয়ে গেলে ঢাকনা খুলে কিছুক্ষণ রান্না করি।ব্যাস তৈরি হয়ে গেল মজাদার পেঁয়াজের ফুলের সাথে ছোট চিংড়ি দিয়ে ভাজি। এই খাবারটি খেতে যেমন সুস্বাদু তেমনি রান্না করাও সহজ। আবার যথেষ্ট পুষ্টিকরও বটে।
আজকের মত এখানেই শেষ করছি। পরবর্তীতে আপনাদের সাথে দেখা হবে অন্য কোন নতুন লেখা নিয়ে। সে পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন।
| ফটোগ্রাফির জন্য ব্যবহৃত ডিভাইস | হুয়াই নোভা 2i |
| ফটোগ্রাফার | @rupok |
Support
@heroism Initiative by Delegating your Steem Power

VOTE @bangla.witness as witness

OR
SET @rme as your proxy


🇧🇩🇧🇩ধন্যবাদ🇧🇩🇧🇩
@rupok
শাক সবসময় খেতেও ততটা ভালো লাগেনা। আপনার ফুফুর বাসায় দেখা একটি রেসিপি আপনি অত্যন্ত সুন্দরভাবে তৈরি করলেন ভাইয়া। পেঁয়াজ ফুল দিয়ে চিংড়ি মাছ ভাজি এ ধরনের রেসিপি আমি এর আগে কখনো খাইনি। কিন্তু আজকে আপনার রেসিপিটি দেখে মনে হচ্ছে একবার বাসায় রান্না করা উচিত। ভাইয়া খুব সুন্দর ভাবে রেসিপিটি উপস্থাপন করেছেন।
বাসায় একবার চেষ্টা করে দেখবেন। ভালোমতো রান্না করতে পারলে খুবই সুস্বাদু লাগবে খেতে।
বাহ্,ফুফুর বাড়ি থেকে দারুন একটি শীতকালীন রেসিপি শিখে আসলেন।আমিও শাক সবজির চেয়ে মাংস পছন্দ করি,মাছ টাও কম খাই।যাই হোক তবে পেঁয়াজের কলি শীতের সময় প্রায় সব তরকারিতেই দেওয়া হয়,খেতে ভালোই লাগে।এমনকি আজও খেলাম। তবে এভাবে চিংড়ি দিয়ে পেঁয়াজের কলির রেসিপি খাওয়া হয়নি।তবে আপনি যেহেতু বলেছেন একবার ট্রাই করা লাগবে।প্রতিটি ধাপ আপনি খুব সুন্দর করে দেখিয়েছেন। ধন্যবাদ
বাসায় একবার রান্না করে দেখুন। নিশ্চয়তা দিয়ে বলতে পারি খেতে ভালো লাগবে।
পেঁয়াজ ফুল দিয়ে চিংড়ি মাছের ভাজি রেসিপিটি আমার কাছে ইউনিক লেগেছে। রেসিপিটি এর আগে কখনো তৈরি করে খাওয়া হয়নি। দেখে বোঝা যাচ্ছে রেসিপিটি খেতে খুবই সুস্বাদু হয়েছে। আপনার কাছে রেসিপিটির কথা শুনে তৈরি করে খেতে ইচ্ছে করছে। আপনার রেসিপিটি ভালো করে দেখে নিলাম এভাবে একদিন তৈরি করে খেয়ে দেখব। অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে সুস্বাদু এবং ইউনিক একটি রেসিপি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
আমার ফুফুর বাসায় এই তরকারিটি খাওয়ার আগে আমার কাছেও অপরিচিত লেগেছিলো। তবে এখন তো শীতকালে এটা আমার প্রিয় খাবারে পরিণত হয়েছে।
শীতকাল আসলে পেঁয়াজের কলি আমারও অনেক ভালো লাগে।তবে অন্যভাবে রান্না করি আপনি যেভাবে রান্না করছেন সেভাবে খাওয়া হয়নি কখনো।আপনি যে ভাবে রান্না করেছেন সেই ভাবে রান্না করলে অবশ্যই খেতে মজা হবে আপনার রেসিপি দেখে বোঝা যাচ্ছে।চিংড়ি মাছ আর পেঁয়াজ কলি রেসিপি টা দেখতে অনেক লোভনীয় দেখাচ্ছে।
এভাবে রান্না করলে খেতে আসলেই অনেক মজা লাগে।
এতদিন আমি ভাবতাম শুধুমাত্র আমি বেছে বেছে সবজি খাই। এখন তো দেখছি আমার মত আরেকজন আছে 🤪। লাউ, কচু, কচুর লতি, মিষ্টি কুমড়া, পটল আরো অনেক অনেক সবজি খেতে পারি না। পেঁয়াজের ফুল কোনদিন খাওয়া হয়নি। একদিন তাহলে খেতেই হয়। ভাইয়া আপনি কিন্তু আপনার ফুফুর বাসায় গিয়ে দারুন একটি খাবার খাওয়ার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। এভাবে নতুন নতুন খাবার খেতে কিন্তু দারুন লাগে ভাইয়া। আপনার শেয়ার করা এই রেসিপি দেখে আমারও ভালো লেগেছে। একদিন ট্রাই করে দেখবো বাসায়।
কচু,কচুর লতি , পটল আমিও পছন্দ করি না। তবে পেঁয়াজের কলি আর চিংড়ি মাছ দিয়ে রান্না করা এই তরকারীটি আমার কাছে খুবই ভালো লাগে।
ফুফুরা সবসময়ই ভাতিজা দের কলিজার টুকরা মনে করেন এর প্রমান আমি নিজেই আমার ভাইয়ের ছেলেদের আমি খুবই ভালোবাসি ওরা বাসায় আসলে কি খাওয়াবো না খাওয়াবো বুঝে উঠতে পারিনা। আপনি হঠাৎ করে যাওয়াতে তিনি খুব বেশি আয়োজন করতে পারেননি তাই নিজেদের খাবার দিয়েই খেতে দিয়েছেন। মাছ মাংস খাওয়ার চেয়ে শাক-সবজি বেশি করে খাবেন ভাইয়া তাতে করে শরীরের উপকার হবে। মাঝে মাঝে সাধারণ কিছু খাবার এতই অসাধারণ লাগে তা খাওয়ার পরে বোঝা যায়। পেঁয়াজের ফুল দিয়ে চিংড়ি মাছের ভাজি রেসিপি টি আমার কাছে একেবারেই নতুন একটি রেসিপি মনে হলো আগে কখনো এভাবে রান্না করা হয়নি। দেখেই মনে হচ্ছে খেতে খুবই ভালো লাগবে বাসায় অবশ্যই ট্রাই করবো। নতুন একটি রেসিপি শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ভাইয়া।
মাঝে মাঝে মনে হয় মাছ মাংস বাদ দিয়ে সবজি খাই। তবে বেশি বাছাবাছি করার কারণে আর সবজি খাওয়া হয়ে ওঠেনা।
আপনার মত আমিও শাকসবজি দেখলে কেমন চিন্তায় পড়ে যাই কীভাবে খাবো এসব ভেবে। তবে আপনার ফুফুর বাসার পেয়াঁজের ফুল দিয়ে চিংড়ি মাছের রেসিপিটি অনেক সুস্বাদু হয়েছিল মনে হয় তাই আপনিও নিজেও বানিয়ে ফেললেন। আর আপনার বানানো রেসিপিটি দেখে মনে হচ্ছে অনেক সুস্বাদু হয়েছে খাবারটি আর আপনার ফটোগ্রাফি গুলো অনেক সুন্দর।
রেসিপিটি আসলেই অনেক সুস্বাদু হয়েছিল। এতটাই পছন্দ হয়েছিল আমার যে এটা এখন আমার শীতকালের অন্যতম প্রিয় একটি খাবারে পরিণত হয়েছে।
বাহ্ তবে তো অনেক বেশিই ভালো হয়েছিল।
রুপক ভাই আজ মনে হয় প্রথম আপনাকে রেসেপি করতে দেখলাম ৷ যদিও আর আগে দেখেছি কী না মনে নেই ৷ আপনার ফুফুর বাসায় পিয়াজের ফুলের ভাজি খেয়ে আপনি বাসায় এসে তৈরি করেছেন ৷ আসলে ভাই আমাদের গ্রামে এটা বলে পিয়াজের ঢেপ ৷
তেল দিয়ে ভাজি আর সাথে গরম ভাত সত্যি ভাই অনেক ভালো লাগে ৷ আপনি তো আবার চিংড়ি মাছ দিয়ে ভেজেছেন ৷
ধন্যবাদ সুন্দর একটি পোষ্ট শেয়ার করার জন্য ৷
একসময় আমি অনেক রেসিপি পোস্ট করেছি। কিন্তু এখন সময়ের অভাবে আর সেটা খুব একটা করা হয়ে ওঠে না।