কেমন আছেন আমার বাংলা ব্লগের বন্ধুরা? আমি ভালো আছি। আশাকরি আপনারা ও ভালো আছেন।
সালাম মিয়া মন খারাপ করে তার নৌকায় বসে আছে। বসে বসে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করছে। এখন ভরা বর্ষা। গত দুই দিন সে সারারাত ধরে মাছ ধরার চেষ্টা করেছে। কিন্তু সারারাত পরিশ্রমের পর মাছ পেয়েছে সামান্য। যে সামান্য মাছ পেয়েছে সেটা বিক্রি করে তার ইঞ্জিনের তেলের খরচও ওঠেনি।

অথচ আগে একটা সময় এই সময়টাতে তারা সবচাইতে ভালো থাকতো। সারা বছর এই বর্ষাকালের জন্য তারা অপেক্ষা করতো। কারণ বর্ষাকালে তাদের জালে প্রচুর মাছ ধরা পড়তো। সারা বছর কোনরকমে তাদের সংসার চললেও এই বর্ষার সময় তারা কিছুটা সচ্ছলভাবে চলতে পারতো। কিন্তু দিনদিন নদী-নালা খাল বিলে মাছের পরিমাণ কমছে। এইভাবে চললে ভবিষ্যতে তার মত জেলেদেরকে না খেয়ে মরতে হবে।
সালাম মিয়া বসে বসে সেই চিন্তায় করছিলো। তার মাছ ধরার নৌকাটাতে কিছু সমস্যা হয়েছিল। সেই সমস্যার সমাধানের জন্য মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়েছে। এখন মাছ না পেলে মহাজনের সেই ঋণ কিভাবে শোধ করবে সেটা নিয়েও সে খুবই চিন্তা গ্রস্ত ছিলো। মহাজনের ঋণ সময় মত পরিশোধ না করতে পারলে তার উপর চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ হতে থাকবে। এভাবে চললে হয়তো এক সময় মহাজন তার নৌকাটা নিয়ে নেবে।
এইসব চিন্তা করতে করতে সালাম মিয়া আকাশের দিকে তাকালো। দেখতে পেল পশ্চিম আকাশে সূর্যটা প্রায় অস্তমিত। আর কিছুক্ষণ পরেই চারপাশ অন্ধকার হয়ে যাবে। তারপরই সে মাছ শিকারে যাবে। নদীর পাড় দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় সে বেশ কিছু দোয়ারী পেতে রেখেছে। এক সময় সে এই দুয়ারীগুলো থেকেই প্রচুর মাছ পেতো। কিন্তু এখন দোয়ারীতে মাছের দেখা মেলা ভার।
সালাম মিয়া বসে আছে শামসুর জন্য। কারণ মাছ ধরতে একা একা যাওয়া যায় না। সাথে মানুষ থাকতে হয়। একজন নৌকা চালাবে আর একজন নদীতে জাল ফেলবে। এভাবেই তারা মাছ ধরে। এদিকে সূর্য ডুবে গিয়েছে। কিন্তু শামসুর এখনও দেখা নেই। সালাম দিয়া মনে মনে বিরক্ত হলো। শামছুর র উদ্দেশ্যে সে বেশ কয়েকটা গালি দিলো। আরো কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর সে শামসুর দেখা পেলো। দূর থেকে দেখতে পেল শামসু টর্চ জেলে নদীর ঘাটের দিকে আসছে।
কাছাকাছি আসতেই সালাম নিয়া খেকিয়ে উঠলোঃ বলল এত সময় লাগে বাড়ি থেকে আসতে? বাড়িতে বসে কি করিস?
সামসু বললসঃ রাগ কইরো না সালাম ভাই। আমার বউ ভাত রানতে দেরি করছে। তাই আইতে একটু দেরি হয়া গেলো। ভাত না নিয়ে তো আর আসা যায় না। ভাত না আনলি রাতে খাবো কি?
সালাম মিয়া তখন তাড়া লাগালো। এখন তাড়াতাড়ি না নৌকায় ওঠ। শামসু নৌকায় উঠতেই সালাম নিয়া নৌকা ছেড়ে দিল।
সামসু তখন সালাম মিয়াকে বললঃ সালাম ভাই আল্লার নাম নিয়া আইজ মাছ মারা শুরু করি। গত দুইদিন তো কিছু পাই নাই। ঘরে বাজার সদাই কিছু নাই। আজকে যদি মাছ না পাই। তাইলে কাইল থেইকা না খাইয়া থাকতে হইবো।
সালাম মিয়া বললঃ আমারও তোর মতই অবস্থা। তোর তো শুধু ঘরে চাল নাই। আমার তো ঘরে চাল নাই আবার মহাজনের সুদের টাকা দেয়ার সময়ও হইয়া আইতাছে। টাকা না দিতে পারলে মহাজন নাও লইয়া যাইবো।(চলবে)
| ফটোগ্রাফির জন্য ব্যবহৃত ডিভাইস | হুয়াই নোভা 2i |
| ফটোগ্রাফার | @rupok |
Support
@heroism Initiative by Delegating your Steem Power
🇧🇩🇧🇩ধন্যবাদ🇧🇩🇧🇩
@rupok
গল্প টি পড়ে খুবই ভালো লাগলো, সালাম মিয়ার করুন অবস্থা দেখে খুবই খারাপ লাগছে, একে ভাতের চিন্তা তার উপরে চড়া সুদের ঋণের বোঝা মাথার উপরে সবমিলিয়ে একটা করুন দৃশ্য দেখতে পাচ্ছি , এখন দেখা যাক শেষ পর্যন্ত ভাগ্যের কি পরিবর্তন ঘটে। পরবর্তী গল্পের অপেক্ষায় রইলাম ভাইয়া। ধন্যবাদ।
দেশে এমন সালাম মিয়ার সংখ্যা অসংখ্য। আশা করি ইতিমধ্যে দ্বিতীয় পর্ব পড়েছেন।
বাহ,খুবই সুন্দর গল্প।দরিদ্র পরিবারের করুন কাহিনী ফুটে উঠেছে, পড়ে বেশ ভালো লাগলো।দরিদ্রের সামান্য আয়টিও না হলে চিন্তার শেষ থাকে না।পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম ভাইয়া।ধন্যবাদ আপনাকে।
আমাদের দেশের মৎস্যজীবীদের দিনকাল এখন খুব খারাপ যাচ্ছে। বিশেষ করে যারা নদীর মাছের উপর নির্ভরশীল তারা।
ভাইয়া আপনার লেখা প্রতিটি গল্প আমি এর আগে পড়েছি সবগুলো গল্পই আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে। আজকে আপনার গল্প 'হঠাৎ ভাগ্য বদল' গল্পের প্রথম পর্বটি পড়ে বুঝতে পারলাম সামসু সালামের জীবিকা নির্বাহ এবং তাদের কষ্টের জীবনের কথা গুলো। এবার দেখার বিষয় তারা কতগুলো মাছ ধরতে পেরেছে। ভাইয়া পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।
দিনে আনা দিনে খাওয়া এসব পেশাজীবীর অনেক কষ্ট ভাই। এদের শুধু দুমুটো ডাল ভাত খেয়ে বেঁচে থাকার জন্যই লড়াই করে। জীবনের বাস্তবতা নিয়ে লেখার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আগামী পর্বের অপেক্ষায় থাকলাম।
আপনি যে গল্পগুলো পড়েছেন সেজন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আশা করি আপনার প্রশ্নের উত্তর এতক্ষণে পেয়ে গেছেন।