সাজেক ভ্রমণে আমার ভাললাগা মন্দ লাগা এবং খরচ সমূহ (২য় পর্ব)। ১০% প্রিয় লাজুক খ্যাঁক এর জন্য।

কেমন আছেন আমার বাংলা ব্লগের বন্ধুরা? আমি ভালো আছি। আশাকরি আপনারা ও ভালো আছেন।


গত পর্বে আপনাদের সাথে সাজেক ভ্রমণের বেশ কিছু ব্যাপার নিয়ে আলোচনা করেছি। আজ আরও কিছু বিষয় নিয়ে আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি। আসলে আমাদের দেশটা খুব একটা পর্যটকদের জন্য উপযোগী নয়। কারণ আমাদের দেশের ব্যবসায়ীরা সব সময় নিজের ব্যক্তিগত লাভের চিন্তা করে। তাদের ভেতরে দেশপ্রেমের প্রচন্ড ঘাটতি লক্ষ্য করা যায়। পর্যটনের প্রসারের মাধ্যমে যে দেশের ব্যাপক উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব এই ব্যাপারটা তারা বুঝলেও মানতে চায় না। ব্যক্তিগত লাভের কাছে তারা দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দেয়।

IMG_20211226_211012.jpg

এইজন্য ভ্রমন প্রিয় ব্যক্তিরা নানা সময় নানা রকম সমস্যার মুখোমুখি হয়। পর্যটন স্পটগুলোতে ব্যবসা করে তারা সবসময় পর্যটকদেরকে বেকায়দায় ফেলে নিজের মুনাফা করতে সিদ্ধহস্ত। যেকোনো একটি ইস্যু পেলেই তারা সমস্ত খরচ কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়। এজন্য কোন জায়গায় যাওয়ার আগে সে জায়গায় কি কি সুযোগ সুবিধা আছে এবং খরচ কেমন সেটা জেনে যাওয়াটা খুবই জরুরি। আজ আমি আপনাদের কাছে সাজেকে খাওয়া-দাওয়ার খরচ কেমন এবং কোথায় কোথায় ঘুরতে যাবেন সে ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করব। পোস্টটি পড়লে আপনারা সাজেক সম্বন্ধে আরও কিছু তথ্য জানতে পারবেন। আপনারা যদি কখনো সাজেক ঘুরতে যান। তাহলে এই তথ্যগুলি আপনার অনেক কাজে লাগবে। তো চলুন শুরু করা যাক।

IMG_20211222_134836.jpg

সাজেকে যেতে হলে আপনাকে আগে থেকেই মাথায় একটা বিষয় রাখতে হবে। সেটা হচ্ছে সেখানে আপনি বেশিরভাগ হোটেলেই খুব ভালো মানের খাবার পাবেন না। কারণ সেখানকার লোকজনের রান্না আপনার খুব একটা পছন্দ না হওয়াই স্বাভাবিক। আবার অনেকের কাছে ভালোও লাগতে পারে। যদিও ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে তাদের রান্না মোটেই ভাল লাগেনি। তাছাড়া খাবারের দাম ছিল অত্যাধিক বেশি। তারপরও যদি খাবারের স্বাদ ভালো লাগে তাহলে দাম বেশি দিতে খারাপ লাগে না। কিন্তু সেখানে খাবারের স্বাদ ভালো না। সেখানে একটি মজার ব্যাপার হয়।রাতে প্রায় প্রতিটি রেস্টুরেন্টের সামনে বারবিকিউ করা হয়। যদিও সেটার সাদ আহামরি এমন কিছু না। তবে খেয়াল করে দেখেছি রাতে বেশিরভাগ পর্যটক চিকেন বারবিকিউ খাচ্ছে। এটার দাম মোটামুটি ঠিক আছে।

IMG_20211222_152539.jpg

IMG_20211222_153611.jpg

এখন আপনাদেরকে জানাবো সাজেকে পৌঁছে কোন কোন জায়গা দেখতে যাবেন। সাজেকে পৌঁছানোর পর সবাই যে জায়গাটাতে যাওয়ার জন্য উদগ্রীব থাকে সেটা হচ্ছে কংলাক পাহাড়। আমরা যারা সমতলের মানুষ তাদের আসলে পাহাড় চড়ার পূর্ব কোনো অভিজ্ঞতা নেই। এই পাহাড়টি অনেক বেশী উঁচু না হলেও আমাদের জন্য এটাই অনেক বেশি। কংলাক পাহাড় গিয়ে দেখলাম সেখানে বিভিন্ন বয়সী মানুষ পাহাড়ের চূড়ায় ওঠার চেষ্টা করছে এবং তারা সবাই সফল হয়েছে। যদিও পাহাড়ের চূড়ায় ওঠার পর সবাইকে প্রচন্ড ক্লান্ত দেখাচ্ছিল। কিন্তু সে ক্লান্তির ভেতরেও একটি জিনিস লক্ষণীয় সেটা হচ্ছে সবার ভেতর এক ধরনের আত্মতৃপ্তি কাজ করছিল। আর সবাই একটি কাজে ব্যস্ত হয়েছিল সেটা হচ্ছে বিভিন্ন ভাবে ছবি তোলা। যখন আমি কংলাক পাহাড় উঠা শুরু করি। তখন প্রথমে মনে হয়েছিল এই পাহাড়ের চূড়ায় খুব সহজে উঠতে পারব। কিন্তু কিছুদুর ওঠার পর যখন পাহাড়ের খাড়া ঢাল বেয়ে উপরে উঠতে থাকলাম। তখন বুঝতে পারলাম আসলে এই পাহাড়ে ওঠাটা এত সহজ নয়। শেষ পর্যন্ত যদিও পাহাড়ের চূড়ায় উঠতে পেরেছিলাম। উঠার সময় কষ্ট হলেও নামতে মোটেও কষ্ট হয়নি।

IMG_20211223_073511.jpg

IMG_20211223_072656.jpg

কংলাক পাহাড় থেকে নেমে গিয়েছিলাম হেলিপ্যাডে। সেখানে সবাই সূর্যাস্ত দেখার জন্য জড়ো হয়েছিল। আর হেলিপ্যাড এর পাশে রাস্তায় বিভিন্ন রকম ভাজাপোড়ার দোকান নিয়ে বসে ছিল হকারেরা। আর মানুষজন তাদের কাছ থেকে দেদারছে বিভিন্ন খাবার কিনে খাচ্ছিল। আসলে ঘোরাফেরা আর খাওয়া-দাওয়াটা একে অপরের সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। বাঙালি যে কোন উপলক্ষে খেতে পছন্দ করে।

IMG_20211223_073244.jpg

IMG_20211223_073006.jpg

কংলাক পাহাড় থেকে ঘুরে সেদিনের মত আমরা সবাই রুমে চলে গেলাম। কারণ ইতিমধ্যে সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছে। পরদিন আমরা গেলাম লুসাই গ্রাম দেখতে। আদিবাসীদের একটি গোত্রের নাম লুসাই। তারা কিভাবে তাদের জীবনযাপন করতো তার একটি মডেল এখানে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে কৃত্তিম ভাবে। এখানে টিকিট কেটে ঢুকতে হয়। সেখানে দেখলাম অনেক মানুষজন টিকেট কেটে লুসাই গ্রাম দেখতে ঢুকছে।

IMG_20211223_073255.jpg

ফেরার পথে অনেকেই আলুটিলা গুহা এবং রিসাং ঝর্ণা দেখতে যায়। যদিও আমাদের সেখানে যাওয়া হয়নি। তবে আপনারা ঘুরতে গেলে সুযোগ পেলে অবশ্যই এই জায়গা দুটি দেখে আসবেন। এই জায়গা দুটো দেখার জন্য আপনাদেরকে বাড়তি কোন টাকা খরচ করতে হবে না। কারণ যখন আপনারা সাজেক যাওয়ার জন্য গাড়ি ঠিক করবেন। তখন সে গাড়ি ওয়ালাদের সাথে চুক্তি থাকে এই জায়গাগুলি ঘুরিয়ে দেখানোর। এখন শীতের সময় হওয়ায় আমার এই ঝরনা দেখার খুব একটা আগ্রহ ছিল না। কারণ শীতের এই সময়ে ঝর্ণায় পানি থাকে খুবই কম। আর পানি না থাকলে ঝরনার সৌন্দর্য অনেক কমে যায়।

IMG_20211223_072900.jpg

IMG_20211223_072927.jpg

আজকের মতো এখানেই শেষ করছি। পরবর্তীতে আপনাদের সাথে দেখা হবে অন্য কোন নতুন লেখা নিয়ে। সে পর্যন্ত সবাই ভাল থাকুন সুস্থ থাকুন।


ফটোগ্রাফির জন্য ব্যবহৃত যন্ত্রহুয়াই নোভা ২আই
ফটোগ্রাফার@rupok
স্থানলিংক

logo.png

Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

Heroism_3rd.png

standard_Discord_Zip.gif

🇧🇩🇧🇩ধন্যবাদ🇧🇩🇧🇩


@rupok


Polish_20211012_184119287.jpg

আমি রূপক। আমি একজন বাংলাদেশী। আমি বাঙালি। আমি বাংলায় মনের ভাব প্রকাশ করতে ভালোবাসি। আমি আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটিকেও ভালোবাসি।

Sort:  
 4 years ago 

ভাইয়া আপনার সাজেক ভ্রমণের প্রতিটি পোস্ট আমার খুবই ভালো লেগেছে। আমি যদিও সাজেক যায়নি তবে এই জায়গাগুলো আমার খুবই পরিচিত কেননা আমার সহধর্মিনী এসব জায়গায় ভ্রমণ করে এসে আমার সাথে সেগুলো শেয়ার করেছিল। আর সেখানকার মধ্যেই হোটেল পেদা টিং টিং নামটি আমার খুবই হাস্যকর লেগেছে।
ধন্যবাদ আপনাকে সাজেক ভ্রমণের সব অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলো আমাদের মাঝে তুলে ধরার জন্য।

 4 years ago 

যদিও যাওয়া হয়নি সাজেক তবে আপনার দৃশ্যগুলি দেখে অর্ধেক ভ্রমন হয়েগেছে মনে হচ্ছে ।ফটোগ্রাফি গুলো খুব সুন্দর ভাবে ক্যাপচা করে শেয়ার করেছেন ।ধন্যবাদ ভাই আপনার ভ্রমনের আনন্দময় মুহূর্ত শেয়ার করার জন্য ।

 4 years ago 

২য় বার আবার সাজেক দেখার সুযোগ করে দিলেন, তবে আমার মনে হয় যারাই সাজেক যায় তারা সবাই হোটেল পেদা টিং টিং ভিজিট করে।ভাইয়া আপনার লেখা এবং ছবি দেখে মনে হয় আপনি ভ্রমণে অনেক আনন্দ করছেন।মেঘের রাজ্যে গেলে মরা মনটাও সতেজ হয়ে যায়।

 4 years ago 

ভাইয়া আপনার সাজেক ভ্রমণ এ সবগুলো পোস্ট পড়ে মনে হচ্ছে যেনো আমি নিজেও সাজেক ভ্রমণ করে ফেললাম। আর ভাই আপনি খুবই সঠিক কথা বলেছেন আমাদের দেশটা সত্যি পর্যটন এর জন্য উপযোগী নয় তার একটাই কারণ সব ব্যবসায়ীদের নিজের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা। সত্যি ভাইয়া এসমস্ত পর্যটন কেন্দ্রে না গেলে বোঝা যায়না যে দেশে মানুষের মধ্যে কি পরিমাণ স্বদেশপ্রেমের ঘাটতি রয়েছে। সাজেক ভ্রমণের নিয়ে আপনার অনুভূতির কথা গুলো আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য আপনাকে জানাই অসংখ্য ধন্যবাদ।

আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই।

 4 years ago 

আপনার নিবন্ধ ভাগ করার জন্য ধন্যবাদ, ছবি এছাড়াও সুন্দর, খুব ভাল হয়

ধন্যবাদ আপনাকে।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.076
BTC 63768.31
ETH 1672.84
USDT 1.00
SBD 0.42