অস্থির সময়ের অপেক্ষায়।
গত কিছুদিন থেকে অবাক হয়ে লক্ষ্য করছি দিনে কয়েকবার করে লোডশেডিং হচ্ছে। প্রথম দু একদিন মনে করেছিলাম এটা হয়তো স্থানীয় কোন সমস্যার কারণে হচ্ছে। হয়তো আশেপাশে কোথাও বিদ্যুৎ এর মেইনটেনেন্স এর কাজ চলছে। সাধারণত বছরের এই সময় লোডশেডিং হয় না। কিন্তু কয়েকদিন পার হয়ে যাওয়ার পর যখন দেখতে পেলাম প্রতিদিন প্রায় একই সময়ে লোডশেডিং হচ্ছে। তখন বুঝতে পারলাম সমস্যা অন্য কোথাও।
বছরের এই সময়টাতে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা থাকে অনেক কম। গ্রীষ্মকালে গিয়ে বিদ্যুতের চাহিদা অনেকটা বেড়ে যায়। এখন এই কম চাহিদার সময়েই যদি এত লোডশেডিং হয়। তাহলে গরমের সময় গিয়ে কি অবস্থা হবে সেটাই চিন্তা করছি। গত বছর এমনিতেও অনেকের কাছে শুনতে পেয়েছি এই বছরে আমাদের দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা হবে আরো খারাপ। এমনিতেও বৈশ্বিক একটা অর্থনৈতিক মন্দা আসছে এটা আমরা সবাই জানি।বিশ্ব খাদ্য সংস্থা থেকে এটাও বলা হয়েছে যদি রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ না হয় তাহলে।
এই বছরে বিশ্বের অনেকগুলি দেশে দুর্ভিক্ষ হতে পারে। সেই দেশগুলির ভেতরে বাংলাদেশের নামও আছে। বিদ্যুতের অবস্থা গত বছর ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছে ছিল। এই বছর নাকি সেটা আরো বাড়তে পারে। পন্য দ্রব্যের দামের কথা না হয় নাই বললাম। সেটা তো প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। আবার এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অবস্থাও করুন। বর্তমানে আমাদের যে রিজার্ভ আছে সেটা দিয়ে নাকি মাত্র অল্প কয়েক মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।
তারপর এবছর থেকে আমাদের অনেকগুলো বড় ঋণের ইন্সটলমেন্ট দেয়া শুরু হবে। দেশে উন্নয়নের নামে যে হাজার হাজার কোটি টাকা বিভিন্ন অর্থনৈতিক সংস্থার কাছ থেকে ঋণ নেয়া হয়েছে। তাদের ঋণের সুদ এবছর থেকে চালু হবে। সবকিছু মিলিয়ে ২০২৩ সাল মনে হচ্ছে একটা বিভীষিকাময় বছর হতে যাচ্ছে। আমরা সকলে এখনো যার যার ব্যক্তিগত সমস্যা নিয়ে ব্যস্ত রয়েছি। কিন্তু যখন উপরের উল্লেখ করা সমস্যাগুলো প্রকট আকার ধারণ করবে। তখন মানুষের কি অবস্থা হবে সেটা কেউ চিন্তাও করছে না।
যদিও সরকার বলছে দেশে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ রয়েছে। তবে সরকারি সংস্থা গুলোর কথা এখন দেশের জনগণ একেবারেই বিশ্বাস করে না। সীমাহীন দুর্নীতি আর লুটপাটের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। দেশ থেকে হাজার হাজার কোটি রাখা পাচার করে নিয়ে বিদেশে এক একজন সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছে। আর এই দুর্নীতির খেসারত দিতে হবে এখন আমাদের মত দেশের সাধারণ মানুষ জনকে। এমনিতেই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির জন্য দেশের সাধারণ মানুষজনের অবস্থা খুবই খারাপ। বাজারে গেলে প্রায়ই দেখা যায় ক্রেতাদের সাথে বিক্রেতাদের বাক-বিতন্ডা লেগেই রয়েছে। আসলে ক্রেতারা তাদের সীমাহীন ক্ষোভ থেকেই বিক্রেতাদের সাথে ঝামেলায় জড়িয়ে পড়ছে।
এত সমস্যা থাকলেও এই সমস্যার সমাধানের কোন লোক আপাতত দেখতে পাচ্ছি না। রাজনৈতিক দলগুলো সবাই যার যার স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত। দেশের জনগণের কথা ভাবার মত কোন লোক এই মুহূর্তে দেখতে পাচ্ছি না। অথচ শুধু দুর্নীতি বন্ধ করা গেলে আমাদের দেশটি আরো অনেক এগিয়ে যেতে পারত। তবে আপাতত শুধু খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকার কথাই চিন্তা করতে হচ্ছে। এগিয়ে যাওয়ার চিন্তা-ভাবনা এখন মানুষজন ভুলেই গিয়েছে। কথায় আছে না আপনি বাঁচলে বাপের নাম।
| ফটোগ্রাফির জন্য ব্যবহৃত ডিভাইস | হুয়াই নোভা 2i |
|---|---|
| ফটোগ্রাফার | @rupok |
Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
VOTE @bangla.witness as witness
OR
দেশের অবস্থা খুবই খারাপ।আর সাধারণ জনগন ও অসহায়।এসব শুনলে মনটা খারাপ হয়ে যায়। কিছুই আর ভাল লাগে না।সত্যি ই বলেছেন, দেশের জনগনের কথা ভাবার জন্য কেউ নেই। হয়ত এমনিই একদিন সবকিছু শেষ হয়ে যাবে। না হবে দেশের উন্নয়ন, না হবে জনগনের শান্তি। অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া শেয়ার করার জন্য।
আপনার পোস্টটি পড়ে বেশ ভালোভাবে বুঝতে পারলাম যে দেশের অবস্থা কতটা খারাপ যাচ্ছে। আসলে সবাই নিজের মতো ব্যস্ত হয়ে আছে। কারোর কাছে অন্য জনের কথা ভাবার সময় নেই। আর রাজনৈতিক দলগুলো তো নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য একজন আরেকজনের পিছনে লেগে আছে। আরে হ্যাঁ একটা কথা শীতের সময় তো লোডশেডিং হওয়ার কথাই না,কিন্তু এই সময়েই বিদ্যুতের স্বল্পতা দেখা যাচ্ছে। তাহলে বোঝা যাচ্ছে গ্রীষ্মকালে কি অবস্থা হতে পারে। যাই হোক কিছু করার নাই এভাবে আমাদের চলতে হবে। ধন্যবাদ আপনাকে এই সুন্দর পোস্টেটি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
সামনের দিনগুলোতে কি হতে চলেছে ভাবতেই অবাক লাগে। আমাদের এই দেশ দুর্নীতিতে ভরে গেছে। আর সবাই নিজেদের স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত আছে। আসলে জনগণের কথা কেউ চিন্তা করে না। জনগণের ভোগান্তি কিংবা হয়রানির কথাও কেউ ভেবে দেখে না। হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশী পাচার করা হচ্ছে। আর অন্যদিকে বাংলাদেশ দুর্ভিক্ষের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের জন্য কতটা ভয়াবহ বিপদ অপেক্ষা করছে সেটা শুধু সময় আসলেই বুঝতে পারা যাবে। ভাইয়া আপনি নিজের মতো করে বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছেন। আসলে আমাদের সবাইকেই সচেতন থাকতে হবে।
খুব সুন্দর একটি হেডিং করেছেন ভাইয়া। অস্থির দিনের অপেক্ষায় । আজ সকালেও এই বিষয়ে ভাবছিলম ভাইয়া। কি যে হবে সামনে। যে হারে দ্রব্য মূল্য বাড়ছে। রাস্তায় কোন যানযটে উঠো যায় না। মানুষ মানুষ কে মূল্যায়ণ করে না। সৎ লোকের কদর তো নেই বললেই চলে। এর মধ্যে আবার সম্পত্তি নিয়ে হানা হানি। কি যে হবে সামনে। । ভাবলেই যেন মাথা ঘুরিয়ে পড়ে যাই।
সহমত পোষন করছি। আমাদের দেশের অবস্থা এখন তলাবিহীন ঝুড়ির মতই হয়ে দাড়িয়েছে। সীমাহীন দূর্নীতি আর উন্নয়নের নামে নেয়া ঋণের সুদের চাপে দেশের সাধারন মানুষের অবস্থা যে কি হবে তা চিন্তা করতেই রক্ত চাপ বেড়ে যায়। কারন আমিও অসাধারন কেওনা। এই সবকিছুর দায়ভার আমাকেও বহন করতে হবে।