বাগান থেকে টাটকা বরই খাওয়ার অভিজ্ঞতা। ১০% সাইফক্স।
তিন বন্ধু মিলে দীর্ঘদিন পর আড্ডা দিচ্ছিলাম। যার ফলে আমার কাছে আড্ডাটা অনেক স্পেশাল মনে হচ্ছিল। এর ভেতর রাফসান নামের আমার বন্ধুটি বলল চল এখন তোদেরকে বরই খাইয়ে নিয়ে আসি। আমরাও সাথে সাথে রাজি হলাম। কিছুক্ষণ পর আমাদের সাথে আরও একজন যোগ হলো। আমরা কেবল বের হতে যাবো। তখন সে বলল আমি একটু চা খেয়ে আসি আপনারা বসুন। অগত্যা কি আর করা। তখন আমরা বসে তার জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম।
সেই লোকটি বেশ কিছুক্ষণ পর চা খেয়ে আসলো। তারপর আমরা তিনটি মোটরসাইকেলে করে রওনা দিলাম। আমি আগেই আপনাদের বলেছি প্রথমে আমি মনে করেছিলাম হয়তো কারো বাড়ির থেকে দেশি বরই খেতে পারবো। কিন্তু সেখানে দিয়ে দেখি অন্য ব্যবস্থা। গন্তব্যে পৌঁছানোর পর বুঝতে পারি যে আমরা একটি বাণিজ্যিক ভাবে চাষ করা বরইয়ের বাগানে এসেছি।
সেখানে কিছুটা জায়গা জুড়ে প্রচুর বরই গাছ লাগানো। গাছগুলোর সাইজ এখনো অনেক ছোট। কিন্তু প্রতিটি গাছে প্রচুর পরিমাণে বরই ধরে আছে। এই ধরনের বরই আমার কাছে খুব একটা ভালো লাগে না খেতে। আমার কাছে দেশি টক মিষ্টি বরই মজা লাগে। কিন্তু যেহেতু বাগানে এসেছি তাই চিন্তা করলাম বাগান থেকে একদম ফ্রেশ বরই এর সাদ নেয়া যাক। একটি গাছ থেকে পাকা একটি বরই পেরে মুখে দিয়েই আমি অবাক হয়ে গেলাম। সদ্য গাছ থেকে পাড়া এই বরইটি খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু।
এর ভেতরে দেখি আমার সাথে আর যারা এসেছে তারা সবাই বাগানের ভেতর ঢুকে পড়েছে। যদিও এই গানটি একটু অন্যরকম। কারণ কেউ সোজা হয়ে বাগানে ঢুকতে পারেনি। গাছগুলির সাইজ ছোট হওয়ার কারণে সবাইকে মাথা নিচু করে বাগানে ঢুকতে হয়েছে। আরও একটা সমস্যা হচ্ছে বাগানের ভেতরে যাওয়ার পর আপনি দাঁড়ানোর জায়গা পাবেন না। কারণ বেশিরভাগ জায়গা বরই এর ডালে ছেয়ে আছে।
খেয়াল করে দেখলাম আমার সঙ্গী সাথী যারা তারা একটা করে বড়ই পারছে আর টপাটপ মুখের পুরছে। একজন আবার কিছু বরই দেখলাম পকেটেও ভরেছে। আমি এই বরই খুব বেশি পছন্দ না করলেও বেশকিছু বরই সেখান থেকে পেড়ে খেয়েছি। আসলে গাছ থেকে পাকা বরই খাওয়ার মজাই আলাদা। এই ধরনের অভিজ্ঞতা আমার জীবনে এর আগে হয়নি।
কিছুক্ষণ বরই খাওয়ার পর আমার মনে হলো যে বাগানের মালিককে কিছু টাকা দিয়ে যাওয়া উচিত। কারণ আমরা ইতিমধ্যে বেশ ভালো পরিমাণ বরই খেয়ে ফেলেছি। আমাদের সাথে যে ছেলেটি এসেছিল তার কাছ থেকে জানতে পারলাম এই বাগান থেকে প্রতি কেজি ৫০ টাকা দরে বরই বিক্রি হয়। এই বছর ফলনও অত্যন্ত ভালো হয়েছে বরই এর। আমি আমার বন্ধু রাফসানকে বললাম যাওয়ার সময় বাগানের মালিককে কিছু টাকা দিয়ে যেতে হবে। রাফসান আমাকে বলল তোকে এটা নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। এটা আমার বন্ধুর বাগান।
বেশ কিছুক্ষন এভাবে কাটার পর আমরা আস্তে করে বাগান থেকে বের হয়ে আসলাম। ইতিমধ্যে কারো পেটেই আর তেমন জায়গা নেই। সবার পেট ভরে গিয়েছে বরই খেয়ে। পরে আমরা বাগান থেকে বের হওয়ার পর রাফসান বাগানের মালিক কে ফোন দিলো। তাকে জানালো যে তোর বাগানে এসেছিলাম এবং বেশ কিছু বরই খেয়েছি। সে জানালো কোন সমস্যা নাই যখন ইচ্ছা এসে খেয়ে যাবি। তারপর আমরা বাড়ির দিকে ফিরতি পথ ধরলাম।
আজকের মতো এখানেই শেষ করছি।
পরবর্তীতে আপনাদের সাথে দেখা হবে অন্য কোন নতুন লেখা নিয়ে।
সে পর্যন্ত সবাই ভাল থাকুন সুস্থ থাকুন।
| ফটোগ্রাফির জন্য ব্যবহৃত ডিভাইস | হুয়াই নোভা 2i |
|---|---|
| ফটোগ্রাফার | @rupok |
| স্থান | লিংক |
Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
এই বিষয়টার সাথে আমি এক মত। যদি উদাহরণ দিয়ে বলি এই বড়ই গুলো হচ্ছে ব্রয়লার মুরগির মতো। আর দেশি বরই গুলো দেখি মুরগির মতো।
তবে ভাই আমাদের এলাকায় এমন বাগান ছিলো তখন ক্লাশ ৯ এ পড়ি। চুরি করে বরই খেয়ে গিয়ে অনেক কেটে গেছিলো সারা গায়ে। আসলে বরই পাড়ার সময় বাগানের মালিক বাগানে ঢুকছিলো দৌড়ে বের হওয়ার সময় বরই গাছের কাটায় অনেক জায়গা কেটে গিয়েছিলো। আপনার পোস্টের মাধ্যমে পুরোনো স্মৃতি তাজা হয়ে উঠলো। 😬😬
ভাইয়া আপনি একদম ঠিক কথাই বলেছেন গাছ থেকে পাকা বড়ই খাওয়ার মজাই আলাদা। বড়ই বাগানে গিয়ে আপনার ভিন্ন একটি অভিজ্ঞতা হয়েছে। আসলে বাজারে যেই বড়ইগুলো পাওয়া যায় সেগুলো অনেক দিনের থাকে। তাই টাটকা বড়ই খুব একটা পাওয়া যায় না। সেজন্যই বড়ইগুলো খেতে কতটা ভালো লাগে না। গাছ থেকে পাকা বড়ই ছিড়ে খাওয়ার মজাই আলাদা। অনেক ভালো লাগলো আপনি আপনার অভিজ্ঞতা আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন এবং ফটোগ্রাফির মাধ্যমে বাগানটি দেখিয়েছেন। এ জন্য আপনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি ভাইয়া।
একদম ঠিক ভাই আসলে গাছের বড়ই নিজের হাতে যদি পেরে খাওয়া যায় তাহলে কিন্তু মজাই আলাদা। আর যদি এভাবে বন্ধুরা মিলে একসাথে মজা করা যায় তাহলে আরও বেশি মজার হয়। আপনি খুবই সুন্দর সময় কাটিয়েছেন আর মজার এই বরই খাওয়ার মুহূর্ত আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
ভাইয়া, আপনার বড়ই বাগানে গিয়ে টাটকা বরই খাওয়ার অভিজ্ঞতা পড়ে খুবই আনন্দ পেলাম। তার চেয়েও বেশি আনন্দ পেলাম আপনার ফটোগ্রাফিতে ক্যাপচার করা বড়োই বাগানের অসাধারণ সুন্দর ফটোগ্রাফি গুলো দেখে। এরকম বরই বাগানের ভেতরে ঢুকে টাটকা বড়ই নিজ হাতে ছিড়ে খেলে তা কতটুকু স্বাদ হতে পারে তা বোঝার চেষ্টা করছি। ভাইয়া,আমার ভীষণ লোভ হচ্ছে মনে হচ্ছে আমিও যদি আপনার সাথে বড়ই বাগানে গিয়ে টাটকা বড়ই খেতে পারতাম তাহলে নিজেকে খুব সৌভাগ্যবান মনে করতাম। পরবর্তী সময়ে আপনি যদি কখনো আবারও এই বরই বাগানে বরই খেতে যান তাহলে অবশ্যই আমাদেরকে নিমন্ত্রণ করবেন। আপনার সাথে আমরাও টাটকা বরই খাওয়ার অভিজ্ঞতা অর্জন করব। এত সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের মাঝে উপস্থাপন করার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আপনার জন্য শুভকামনা রইল।
বড়ই এর ছবি দেখে জিভে পানি চলে আসলো। আমার ইচ্ছা মনের মধ্যে বাসা বাঁধলো। আসলেই টাটকা বড়াই গুলো খেতে অনেক ভালো লাগে। ধন্যবাদ ভাই আপনাকে বড়াই করার অনুভূতি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।
বই গুলো সত্যি অনেক ভালো ছিল। এমন টাটকা বরই খেতে হলে আরেকদিন যেতে হবে এবং অবশ্যই ব্যাগ নিয়ে। যাতে কিছু কিনে আনাও যায়। সময় করতে পারলে ফোন দিও।
আমিও তাই চিন্তা করছিলাম। এর পরে গেলে কিছু কিনে নিয়ে আসব বাসার জন্য।
বাগান থেকে টাটকা বরই খাওয়ার অভিজ্ঞতা পড়ে ভালো লাগলো। আপনি ও আপনার বন্ধুরা মিলে অনেক আনন্দের সাথে বরই বাগানে গিয়ে বরই খেয়েছেন। তবে আমারও দেশি ও টক বরই খেতে খুব ভালো লাগে। তবে আপনার মত বাগানে গিয়ে খাওয়ার অভিজ্ঞতা কখনো হয়নি। আপনিও আপনার বন্ধুরা আমি খুব সুন্দর একটি সময় কাটিয়েছেন। যা দেখে খুব ভালো লাগলো। অসংখ্য ধন্যবাদ ভাইয়া আপনাদের।
সময়টা আসলেই অনেক উপভোগ করেছি আপু।
সেই ছোটবেলায় স্কুলে যাওয়ার কথা মনে করে দিলেন। আমি যখন স্কুলে যাইতাম তখন আমাদের পথে অনেক গুলো বরই গাছ ছিলো, তখন আমরা বান্ধবিরা মিলে সেই বরই গাছে ঢিল দিয়ে যে কটা বরই পরতো সেটা নিয়ে দৌড় দিতাম, হাহাহা।