ঘাটশিলা ভ্রমণ (পর্ব -১২)।। মে -২৭/০৫/২০২৩।।

☬নমস্কার সবাইকে☬

হ্যালো বন্ধুরা,

কেমন আছেন সবাই আপনারা... ? আশাকরি সবাই অনেক অনেক ভাল আছেন সুস্থ আছেন। প্রত্যেকে তার পরিবার নিয়ে সুখে আছেন। আজকের নতুন একটা ব্লগে আপনাদের সবাইকে স্বাগতম।

দেখতে দেখতে ঘাটশিল ভ্রমণের ১২ তম পর্বে আমরা চলে এসেছি। এর আগের ১১ টা পর্ব যারা পড়েছেন তাদের সবাইকে জানাই আমার অনেক অনেক আন্তরিক শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন। আসলে আপনাদের এত উৎসাহের জন্য এবং আমাকে এত সুন্দর উৎসাহ দেওয়ার জন্য আমি আসলে পরপর আপনাদের সাথে পর্বগুলো শেয়ার করতে পেরেছি। যদিও আর খুব বেশি একটা পর্ব হবেনা, সর্বোচ্চ তিন থেকে পাঁচটা পর্ব তৈরি করতে পারি। তবে বিগত দিনগুলোর উৎসাহ দেখে আমার মনে হচ্ছে এরপর আরো নতুন কোন জায়গার, নতুন কোন বিষয় নিয়ে আপনাদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করব। ঘাটশিলা ভ্রমণের পর্ব তৈরি করতে গিয়ে আমি বিভিন্ন মন্দির, পাহাড়, এমনকি এমন এমন জায়গার ফটোগ্রাফি আপনাদের সাথে শেয়ার করেছি, সেটা হয়তো অনেকের পক্ষেই জানা সম্ভব ছিল না। অর্থাৎ এমন জায়গার কিছু ফটো আমি আপনাদের দেখিয়েছি যে জায়গায় সাধারণত টুরিস্টরা খুব বেশি একটা যায় না। আজ আপনাদের সামনে ঘাটশিলার বিখ্যাত জায়গার কিছু ফটোগ্রাফি এবং তার সাথে সাথে গল্প শেয়ার করব। এই জায়গাটা কেন এতটা বিখ্যাত সেটা হয়তো আমার লেখাগুলো পড়লে বুঝতে পারবেন।

InShot_20230527_160514782.jpg

এর আগে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় কে নিয়ে আমি অলরেডি দুটো পর্ব শেয়ার করেছি। প্রথমে দেখিয়েছিলাম তার বসত ভিটে এবং তারা নিজের হাতে তৈরি করা অপুর পাঠশালা নামে একটা ছোটখাটো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, এবং তারপরে দেখিয়েছিলাম বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তার ছেলে তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি পারিবারিক মিউজিয়াম। যেটাতে আপনাদের অনেকের কাছ থেকে অনেক বেশি উৎসাহ পেয়েছিলাম। আজ আপনাদের এমন একটা জায়গার সাথে পরিচয় করিয়ে দেবো যেখানে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তারাদাস বন্দোপাধ্যায় বসে কবিতা, গল্প এবং উপন্যাস লিখতেন। জায়গাটা আসলে খুব বেশি দূরে নয় বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি তারপর রয়েছে তার নিজ হাতে প্রতিষ্ঠিত করা একটা ক্লাব ঠিক তার অপজিটে যে রাস্তাটা রয়েছে সেটা ক্রস করেই একটা ছোটখাটো পাহাড়ের মত, ঠিক তার উপরে বসেই বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তার ছেলে তাদের লেখাগুলো লিখতেন।

20230223_163256.jpg

যদিও এই জায়গাটার সাথে আমাদের পরিচয় ছিল না এবং আমরা যে জায়গাগুলো ঘুরবো তার ভিতরে এই জায়গাটা ইনক্লুড করা ছিল না। তারপরেও আমরা যে গাইড রেখেছিলাম তিনি আমাদের অনেক বেশি পছন্দ করেন এবং বলেন যে তোমাদের এমন একটা জায়গায় নিয়ে যাব যে জায়গায় সাধারণত সবাইকে নিয়ে যাওয়া হয় না। যাই হোক আমরা রাস্তা ক্রস করে মোটামুটি দু এক মিনিট হেঁটে একটা ছোটখাটো জঙ্গলের মত দেখতে পেলাম, সেটা ধরেই আসলে উপরের দিকে ওঠা শুরু করলাম। তবে আপনারা ফটোগুলো দেখলে তো বুঝতে পারছেন যে পাহাড়টা বেশ খাড়া ছিল, আর এদিকে আমার জুতোর তলার অবস্থা খুব বেশি একটা ভালো ছিল না, তাই বেশ খানিকটা রিস্ক লাগছিল। তারপরও মোটামুটি এত উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল জায়গাটা দেখার জন্য যে কোন কিছুই আর বাধা মানছিল না। তাই অনেক কষ্ট করে আমরা শেষ পর্যন্ত উপরে উঠে পড়লাম। উপরে উঠতেই দেখলাম এক ভিন্ন দৃশ্য, যেটা নিচ থেকে দেখা যায় না। পাহাড় টা এতটাই সুন্দর এবং সাজানো গোছানো ছিল আর ঠিক তার নিচে ছিল পাহাড়ি গ্রাম। একপাশে শহরের কোলহল এবং অন্য পাশে গ্রামের শান্ত শীতল হাওয়া সবমিলিয়ে একটা দারুন কম্বিনেশন তৈরি করেছিল।

20230223_163301.jpg

আপনারা হয়তো বিশ্বাস করতে পারবেন না, জায়গাটা এতই সুন্দর লাগছিল মনে হচ্ছিল যে এখানে বসে হয়তো আমি নিজেও কবিতা উপন্যাস লিখে ফেলতে পারব অতি সহজে। সেখানে দাঁড়িয়ে বেশ কিছু ফটোগ্রাফি করলাম এবং আশপাশটা ঘুরে দেখার চেষ্টা করলাম। প্রথমে ঢুকতেই দেখলাম একটা ছোটখাটো গেট রয়েছে। তবে তা প্রায় ভেঙে গেছে। আর পাহাড়টা যেহেতু ছোট ছিল তাই তার চারপাশটা সুন্দর করে প্লাস্টার করা ছিল। গাছের শীতল হাওয়া এবং শুকনো পাতার মর্মর শব্দ পরিবেশটাকে আরো অনেক বেশি মুখরিত করে তুলছিল। আমাদের ওখানে থাকার কথা ছিল ১৫ থেকে ২০ মিনিট, তার ভিতরেই আমাদের আসলে নেমে আসার কথা বলা হয়েছিল কিন্তু জায়গাটা এত ভালো লেগেছিল, আমরা সেখানে এক ঘন্টার উপরে ছিলাম। এরপর আমরা বেশ কিছু ফটোগ্রাফি করেছিলাম। যেগুলো কিছু কিছু এখন আপনাদের সাথে শেয়ার করেছি। আসলে এই পর্বের মধ্য দিয়েই আমাদের বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে যত তথ্য জানার ছিল সব প্রায় শেষ হয়ে গেছিল।

20230223_163303.jpg

20230223_163359.jpg

20230223_163412.jpg

20230223_163417.jpg

20230223_163425.jpg

পোস্ট বিবরণ


শ্রেণীভ্রমণ বিষয়ক পোস্ট।
ডিভাইসSamsung Galaxy M31s
ফটোগ্রাফার@rupaie22
লোকেশনঘাটশিলা, ঝাড়খণ্ড।
যাইহোক আজকের পর্ব এই পর্যন্তই ছিল। আশাকরি আপনাদের ভালো লেগেছে আজকের পর্বটি। আর ভালো লাগলে অবশ্যই একটি কমেন্ট করতে ভুলবেন না। কারণ আপনাদের একটি কমেন্ট আমাকে নতুন এবং ভালো কিছু করার উৎসাহ যোগায়। ভালো থাকবেন সবাই।

🎯ধন্যবাদ সবাইকে🎯

Sort:  
 3 years ago 

আজ ঘাটশীলা ভ্রমণের ১২ তম পর্বটির মধ্যে দিয়ে আরও নতুন আর সুন্দর সুন্দর কিছু ফটোগ্রাফি দেখতে পেলাম। এর আগের ১১ টি পর্ব আমি পড়েছিলাম আর প্রতিটা পর্ব থেকেই নতুন নতুন আর সুন্দর সুন্দর কিছু ফোটোগ্রাফি দেখতে পেয়েছিলাম। অনেক অজানা তথ্য জানতে পেরেছিলাম।
এই জায়গাটিতে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তারাদাস বন্দোপাধ্যায় বসে কবিতা, গল্প এবং উপন্যাস লিখতেন, জেনে সত্যিই ভালো লাগলো। সবমিলিয়ে দারুন একটি উপস্থাপনা ছিল।

এই জায়গাটায় আমি যখন গেছিলাম তখন সত্যিই বেশ নতুনত্ব খুঁজে পেয়েছিলাম। তোমাকে অসংখ্য ধন্যবাদ পোস্ট পড়ে মন্তব্য করার জন্য।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.104
BTC 65284.65
ETH 1965.46
USDT 1.00
SBD 0.37