দাদা-বৌদি রেস্টুরেন্টের বিরিয়ানি (প্রথম পর্ব)।। মে -১২/০৫/২০২৩।।
☬নমস্কার সবাইকে☬
হ্যালো বন্ধুরা,
যাই হোক বিরিয়ানি নিয়ে তো অনেক কথাই বললাম এবার আসি আমাদের বিরিয়ানি খাওয়ার গল্প করতে। গত পরশুদিন সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ করেই কেমন যেন মনটা বিরিয়ানি বিরিয়ানি করছিল। তাই আমার কয়েকজন কাছের বন্ধু-বান্ধবকে বললাম যে তারা বিরিয়ানি খেতে যাবে কিনা। আর আমি রেস্টুরেন্টে এমনিতে একা খেতে পারি না, এজন্য দুই একজন সাথে নিয়ে যাই। আর দাদা বৌদি হল এমন একটা বিরিয়ানির দোকান যেখানে আপনারা যাকেই নিয়ে যাবেন না কেন, তাদের যদি অনেক কাজও থাকে তাহলেও তারা সময় বের করে সেখানে বিরিয়ানি খেতে যাবে। যাইহোক দুপুর টাইমটাতে একটু ভিড় কম হয়, তবে যেহেতু প্রচন্ড গরম ছিল তাই সন্ধ্যার দিকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। যদিও ওই টাইমটাতে প্রচন্ড পরিমাণে ভিড় হয় তবে আমাদের আবার একটু কানেকশন আছে দাদা বৌদির একজন স্টাফের সাথে এজন্য আমাদের একটু এক্সট্রা সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয় মাঝে মধ্যে। যাই হোক রেস্টুরেন্টে গিয়ে দেখি প্রচণ্ড পরিমাণে ভিড়, অন্তত আমাদের সামনে ৫০ জন ছিল।
এজন্য আর দেরি না করে ঝটপট ফোন লাগালাম সেই চেনা পরিচিত লোকটাকে। তিনি বললেন যে আজকে একটু ঝামেলা আছে। সুতরাং আমাদের একটুখানি অপেক্ষা করতে হবে। মোটামুটি তারপরও আমাদের আধা ঘন্টার মত অপেক্ষা করতে হয়েছিল।এরপর আমরা রেস্টুরেন্টে ঢুকে একটা ভালো জায়গা নিয়ে বসে পড়লাম। আসলে দাদা বৌদি রেস্টুরেন্টে প্রচুর খাবারের আইটেম থাকলেও আমরা কখনো মেনু কার্ড দেখি না। খুব বেশি হলে ভেটকি মাছের ফিশ ফ্রাই এবং মাটন বিরিয়ানি এ দুটোই আমাদের বেশি পছন্দ এবং আমরা ওখানে যতবারই যাই না কেন এই দুটো খাবারই খাই। তবে সেদিন অন্য একটা খাবারও খেয়েছিলাম সেটা নিয়ে আলাদা একটা পর্ব আপনাদের সাথে শেয়ার করব। যাইহোক খাবারের অর্ডার দিয়ে আমাদের প্রায় আরো ৩০ মিনিটের মত অপেক্ষা করতে হয়েছিল। এরপর সবার সামনে সেই সুস্বাদু মাটন বিরিয়ানি এসে হাজির হলো। আমরা প্রত্যেকেই স্পেশাল বিরিয়ানি অর্ডার করেছিলাম সেখানে দু পিস করে খাসির মাংস দেওয়া হয়।
এবার আসা যাক খাবারের টেস্ট কেমন ছিল। আসলে আমরা বাইরে যে নরমাল বিরিয়ানিগুলো খাই এখানকার বিরিয়ানি খেতে একেবারেই সেরকম নয়। এখানকার বিরিয়ানি যদি আপনি একবার খান তাহলে আমি ১০০% নিশ্চিত যে আপনি কখনোই আর বাইরের বিরিয়ানি খেতে পারবেন না। তবে ডি বাপি এর বিরিয়ানি কিছুটা দাদা বৌদির বিরিয়ানির মত। এখানকার খাসির মাংসের কোয়ালিটি অন্য কোন জায়গার মাংসের সাথে মিল পাওয়া যাবে না, এতটা নরম এবং টেস্টি খেতে ছিল যেটা বলে বোঝাতে পারব না। আর বিরিয়ানি চালের কোয়ালিটি এবং টেস্ট অসাধারণ ছিল। বিশেষ করে এরা বিরিয়ানিতে দেশি ঘি ইউজ করে এই জন্য টেস্ট অন্যান্য জায়গা তুলনায় অনেক বেশি হয়। যাই হোক আমাদের পেট পুজোর সেরে আমরা সেখানে কিছু সময় আড্ডা দিতে লাগলাম তারপর কোল্ড ড্রিংকস খেয়ে আরো কিছু সময় সেখানে বসলাম। কারণ বাইরে প্রচন্ড গরম ছিল তাই। আসলে দাদা বৌদির বিরিয়ানির দোকানে খেতে আসার থেকে শুরু করে খেয়ে কিছু সময় বসা পর্যন্ত যে আনন্দটা লাগে সেটা অন্য কোন জায়গায় খেতে গেলে বা ঘুরতে গেলে লাগেনা। একটা কথা আছে না যে পেট শান্তি তো দুনিয়া শান্তি, এখানে আসলে ওইটা হাড়ে হাড়ে টের পাওয়া যায়।
পোস্ট বিবরণ
| শ্রেণী | ফুড রিভিউ। |
|---|---|
| ডিভাইস | Samsung Galaxy M31s |
| ফটোগ্রাফার | @rupaie22 |
| লোকেশন | ব্যারাকপুর, কলকাতা। |
আপনার পোস্টটে দাদা-বৌদি রেস্টুরেন্টের কথা শুনে মনে হচ্ছে যদি একদিন গিয়ে খেতে পারতাম। আসলে আপনি ঠিক বলেছেন রেস্টুরেন্টে একা গিয়ে আসলে খেতে ভালো লাগে না। যাইহোক সবাই মিলে ৩০ মিনিট অপেক্ষার পরে খেতে পেরেছেন সেই স্বাদের বিরিয়ানি। এটা সত্যি বলেছেন ভাইয়া পেট ঠিক তো দুনিয়া ঠিক। পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষায় থাকলাম।
যদি কখনো কলকাতা আসেন তাহলে তো অবশ্যই এই বিরিয়ানি খেতে পারবেন। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আপু পোস্ট পড়ে এত সুন্দর একটা মন্তব্য করার জন্য।
বিরিয়ানি আমার অনেক পছন্দের। বিরিয়ানির কথা শুনলেই মন চায় সাথে সাথেই খেয়ে আসি। দাদা বৌদির বিরিয়ানির কথা আপনার কাছে আগেও শুনেছি। বিরিয়ানির ছবি দেখে খুব লোভনীয় মনে হচ্ছে। কোলকাতা গেলে অবশ্যই খেয়ে দেখব। ধন্যবাদ দাদা।
আমি আগেও দাদা বৌদির বিরিয়ানি নিয়ে একটা পর্ব তৈরি করেছিলাম, সেটা হয়তো আপনি দেখেছিলেন। যাইহোক অনেকদিন পর আপনার মন্তব্য পেলাম, খুব ভালো লাগছে আপনার মন্তব্য পেয়ে ভাই।
দাদা তোমার এই পোষ্ট পড়তে পড়তে আমার জিভে জল চলে এসেছে। মটন বিরিয়ানির কালার টা এত সুন্দর দেখাচ্ছে দেখেই বোঝা যাচ্ছে অনেক সুস্বাদু খেতে ছিল। দাদা বৌদির বিরিয়ানির নাম তো প্রচুর শুনেছি, একদিন ইচ্ছে আছে খেতে যাওয়ার ।এখনো পর্যন্ত খেতে যেতে পারিনি। বেশ ভালোই তো ভিড় ছিল দেখছি সন্ধ্যার টাইমে। যাই হোক দাদা বৌদি বিরিয়ানি সম্পর্কে অল্প কিছু নতুন বিষয় জানতে পারলাম ।পোস্টটি পড়ে ভালো লাগলো দাদা।
দাদা বৌদির বিরিয়ানি এমনিতেই খুব সুন্দর এবং এটা কলকাতার বিখ্যাত বিরিয়ানি গুলোর ভিতর একটি। আর এই জন্য আসলে এখানে প্রচুর পরিমাণে ভিড় থাকে, আর সেটাই স্বাভাবিক। তোমাকে অসংখ্য ধন্যবাদ পোস্ট পড়ে মন্তব্য করার জন্য।
ওরে ভাই এত রসকষ দিয়ে পুরো লেখাটা লিখেছেন যে প্রতি লাইনে লাইনে ঢোক গিলে চলেছি। আমি শুধু এবার ইন্ডিয়া যাওয়ার অপেক্ষায় আছি। একটা সুযোগ এলেই এই দাদা বৌদিকে আর হাত ছাড়া করছি না 😅।
এবার ইন্ডিয়া আসলে অবশ্যই দাদা বৌদির বিরিয়ানি খেয়ে যাবেন। তবে ফিস কাটলেট টাও অবশ্যই চেষ্টা করবেন খাওয়ার জন্য। ওটা খেতে দারুন লাগে,অরজিনাল ভেটকি মাছ দিয়ে বানায়।
দাদা বৌদি রেস্টুরেন্টের বিরিয়ানির নাম আগেও শুনেছি। দাদা বৌদির বিরিয়ানি কলকাতায় বেশ জনপ্রিয়। বিরিয়ানির কালার দেখেই বুঝা যাচ্ছে খেতে খুব ইয়াম্মি হয়েছে। মাটন বিরিয়ানি আমার খুব পছন্দ। আপনারা সবাই মিলে বেশ ভালোই খাওয়া দাওয়া করেছেন এবং আড্ডা দিয়েছেন। সবমিলিয়ে দারুণ মুহূর্ত কাটিয়েছেন আপনারা। এতো সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
যদি কোনদিন কলকাতা ঘুরতে আসেন তাহলে অবশ্যই দাদা বৌদির বিরিয়ানি না খেয়ে যাবেন না। আশা করব এই বিরিয়ানির স্বাদ আপনার মুখে অনেক দিন পর্যন্ত লেগে থাকবে। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই, পোস্ট পড়ে মন্তব্য করার জন্য।