বান্ধবীর আইবুড়ো ভাতের অনুষ্ঠান।। নভেম্বর-১৬/১১/২০২২।।
☬নমস্কার সবাইকে☬
হ্যালো বন্ধুরা,
| কেমন আছেন সবাই আপনারা... ? আশাকরি সবাই অনেক অনেক ভাল আছেন সুস্থ আছেন। প্রত্যেকে তার পরিবার নিয়ে সুখে আছেন। আজকের নতুন একটা ব্লগে আপনাদের সবাইকে স্বাগতম। |
|---|
এমন একটা সময় ছিল যখন বিকেল হলেই হাঁটতে বেরিয়ে যেতাম। কিন্তু আমার বর্তমান পরিস্থিতি এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, বিকেলে বেরোনো তো দূরের কথা, রাতে যে একটু ঠিকঠাক ঘুমাবো সেটাও হয়ে উঠছে না। এর উপর আবার ২১ তারিখ পরীক্ষা ফেলে দিয়েছে ইউনিভার্সিটি। সব মিলিয়ে এক মহা ঝামেলার ভেতর আছি। যাইহোক এবার আমার বান্ধবীর বিষয়ে ফিরে আসা যাক। খুব সম্ভবত গত শুক্রবার তার সাথে আমার দুপুরে কথা হয় এবং আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম যে বিকালে একটু ঘুরতে বেরোব। কারণ বেশ কিছুদিন হয়ে গেল আমাদের দেখা হচ্ছে না। তবে দেখা হয়েই বা কি হবে, সেই তো বেরিয়ে তার বিয়ের গল্প করবে, যেটা আমার শুনতে একদমই ভালো লাগেনা।
তারপরও আর বেশি দিন সে আমার সাথে নেই, এই কথা চিন্তা করে একটু বেরোলাম বিকালে। আর বেরিয়েই বরাবরের মতো সে বিয়ের আলোচনা শুরু করে দিল। প্রসঙ্গ থামাতে তাকে বললাম যে, বল বিয়েতে তোমার কি গিফট চাই। উত্তরে সে আমাকে অবাক করে দিয়ে বলল গিফটের কথা তো পরে আসছে, আগে আমাকে আইবুড়ো ভাত খাওয়াতে হবে তোকে। আমি তো রীতিমতো আকাশ থেকে পড়লাম, কারণ এই বিষয়ে আমার কোন অভিজ্ঞতাই নেই। আর তার থেকে বড় কথা, এখন মা বাড়িতে নেই সুতরাং এই আয়োজনটা করবে কে।
স্থান:বারাসাত, কলকাতা।
ক্যামেরা: স্যামসাং।
মডেল: M31s.
মোটকথা নিজের ফাঁদে নিজেই পড়লাম আর কি, তারপরও ব্যাপারটাকে একটু ঘোরানোর জন্য বললাম চলো তোমাকে ভালো কোনো রেস্টুরেন্টে খাইয়ে দেবো। কিন্তু তাতে সে শুনতে রাজি নয়। তার একটাই দাবি, আমি তোর বেস্ট ফ্রেন্ড, তোর বাড়িতে আমাকে খাওয়াতেই হবে। যাইহোক কি আর করা যাবে শেষমেশ বললাম বলো তোমার কি কি খেতে ইচ্ছা করছে। চলেন এইবার তার খাবারের লিস্ট দেখি - বেগুন ভাজি, লাউ দিয়ে চিংড়ি, লাউ দিয়ে শোল মাছ, ওলকপি দিয়ে পুটি মাছের তরকারি,কাতলা মাছের মাথা দিয়ে মুগের ডাল, আলু দিয়ে ডিমের ঝোল, আর দেশি মুরগির মাংস, তিন রকমের মিষ্টি,কোল্ড ড্রিংকস, এটাই তার ইচ্ছে আমার বাড়ি খাওয়ার। যাইহোক কি আর করা যাবে বান্ধবীর ইচ্ছা তো পূরণ করতেই হবে। সুতরাং মনে মনে স্থির করে নিলাম যত তাড়াতাড়ি পারি এই আয়োজন করব আমি।
স্থান:বারাসাত, কলকাতা।
ক্যামেরা: স্যামসাং।
মডেল: M31s.
যেহেতু শনি, রবিবার ইউনিভার্সিটি বন্ধ থাকে তাই সিদ্ধান্ত নিলাম এই দুই দিনের যে কোন এক দিনে আয়োজন সম্পন্ন করব। এদিকে মা বাড়ি নেই, তাই সমস্ত আয়োজন আমাকেই করতে হবে। শনিবারটা আমার একটু সমস্যা থাকার কারণে সমস্ত আয়োজন রবিবারে করব সেই সিদ্ধান্ত নিলাম এবং বান্ধবীকে রবিবারে আমার বাড়ি আসার জন্য নিমন্ত্রণ করলাম। সেতো মহা খুশি, বলল কোন সমস্যা নেই আমি চলে আসবো। দরকার হলে দুইদিন বাড়িতে খাব না, তোর বাড়ি এসে তিন দিনের খাবার এক দিনে খাব। হাসতে হাসতে তাকে উত্তর দিলাম, মানুষ এত নাককাটা হয় কি করে। হা হা হা... যথারীতি রবিবার সকাল থেকেই আমার সমস্ত আয়োজন শুরু হতে থাকে। কারণ খুব সকালে ঘুম থেকে উঠেই বাজারে গিয়েছিলাম এবং লিস্ট অনুযায়ী সবকিছু কিনে এনে রান্না শুরু করে দেই। মোটামুটি আমার সমস্ত আয়োজন শেষ হতে দুপুর দুটো বেজে যায়।
স্থান:বারাসাত, কলকাতা।
ক্যামেরা: স্যামসাং।
মডেল: M31s.
ঠিক দুপুর দুটোর সময় রাক্ষসটা আমার বাড়ি চলে আসে। এবং কোন কথা ছাড়াই হাত-পা ধুয়ে ডাইনিং রুমের খাটের উপর বসে পড়ে খাওয়ার জন্য। কি আর করা যাবে.. যেহেতু মা নেই, তাই যতটুকু গুছিয়ে দেওয়া সম্ভব তার সামনে, এক এক করে দিতে থাকি। কিন্তু একটা বিষয় কি জানেন তো সেটা হচ্ছে আমি যতই তাকে কথা শোনাই না কেন, আমি যদি তার কোন উপকার করতে পারি বা তাকে কোন কিছু খাওয়াতে পারি তাহলে তার থেকে আমার বেশি ভালো লাগে। এটাই আমার একমাত্র বান্ধবী যে আমার সুখ দুঃখে বিগত আট বছর আমার সাথে ছিল। যেহেতু সবগুলো আইটেমই তার কথামতো আমি ম্যানেজ করেছিলাম তাই সে খুব তৃপ্তি সহকারে খেলো এবং তখন তার হাসি মুখটা দেখে আমার বেশ ভালো লেগেছিল। জানিনা এরকম বন্ধু আর জীবনে কখনো পাবো কিনা তবে এটুকু বলতে পারি, আমার জীবনে খুব কম এরকম ভালো বন্ধু পেয়েছি আমি। মোটামুটি খাওয়া-দাওয়া শেষ করে আমরা সন্ধ্যা অবধি গল্প করলাম। তারপর তাকে বাড়ি অব্দি এগিয়ে দিয়ে আসলাম।
স্থান:বারাসাত, কলকাতা।
ক্যামেরা: স্যামসাং।
মডেল: M31s.
যাইহোক আজকের পর্ব এই পর্যন্তই ছিল। আশাকরি আপনাদের ভালো লেগেছে আজকের পর্বটি। আর ভালো লাগলে অবশ্যই একটি কমেন্ট করতে ভুলবেন না। কারণ আপনাদের একটি কমেন্ট আমাকে নতুন এবং ভালো কিছু করার উৎসাহ যোগায়। ভালো থাকবেন সবাই।
এতগুলো খাবার চোখের সামনে দেখলে কি লোভ সামলানো যায়।কি আর করার দেখেই না হয় খাওয়ার সাধ মেটাই। আপনার বান্ধবীকে আইবুড়ো ভাত খাইয়েছেন দেখে খুব ভালো লাগলো।
দিতে চাইনি তো আইবুড়ো ভাত, আমার থেকে জোর করে নিয়েছে আপু।😭
বন্ধুত্বগুলো এমন মিষ্টি হলেই ভালো।এর নামই তো ফ্রেন্ডশিপ। খুব ভালো লাগলো খুনশুটিগুলো শুনে।
তার খাবারের লিস্ট যদিও জিভে পানি এনে দিয়েছিল🥺।
বেচে থাকুক বন্ধুত্ব।ভালোবাসা অহর্নিশ।
ধন্যবাদ ভাই এত সুন্দর একটা মন্তব্য করার জন্য।🙂😊
দাঁড়ান দাঁড়ান,বাজার টা না হয় আপনি করেছেন,রান্নাটা করলো কে?আপনি যে আমড়া কাঠের ঢেঁকি, আপনার দ্বারা রান্না সম্ভব না।তবে যাই হোক আপনার বান্ধবী টা কিন্তু লিস্ট টা বেশ ছোটই দিয়েছে 🤣।আপনি যে বান্ধবী কে খাওয়াতে পেরেছেন,তাতেই অনেক।
আমিও জানতে চাই রান্না টা করল কে?
আমি সব কিছু রান্না করতে পারি। আর রান্নাটা আমি নিজেই করেছি 😊
আরে ভাই রান্নাটাও আমি করেছি। আমি সব কিছুই রান্না করতে পারি। আমার হাতের রান্না খেলে আপনি পাগল হয়ে যাবেন।😁
থাক ভাই, আপনার রান্না খেয়ে আর পাগল হতে চাই না।পাগল হলে পোস্ট করবো কেমনে,তাছাড়া আপনার রাজবাড়ীর ভূতের গল্প পড়বো কেমনে🤣🤣
কাল পোস্ট করবো। 😁
আরেহ বাপ্রে এতগুলো খাবার কি আপনি একাই রান্না করেছেন?আর আপনি যে তারে রাক্ষস বলছেন এই কথা জানতে পারলে পরে আপনার ঘাড় কিন্তু মটকাবে।যাইহোক আপনাদের এই বন্ধুত্ব অটুট থাকুক এই প্রার্থনা করি।🙏
জি ভাইয়া আমি নিজেই রান্না করেছি। মাঝেমধ্যে রান্না করতে আমার বেশ ভালই লাগে।
জানতে পারবে না। হা হা হা...🤣
ভাই আপনার খাবারের তালিকা দেখে তো আমারও খুবই ইচ্ছে করছিল আপনার বান্ধবীর সাথে আমিও যদি শামিল হতে পারতাম তাহলে খুবই ভালো লাগতো। তবে আপনার বান্ধবীর পাশে বসলেও মুখে লাগানো এত সুন্দর ইমোজি ব্যবহার করতে দিতাম না। ভাই আপনার রুচির প্রশংসা করতে হয়, যত সুন্দর ইমোজি ততই সুন্দর খাবারগুলো। দুটোই যেন মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। আট বছর ধরে বন্ধুত্বের বন্ধনে আবদ্ধ থাকার কথা শুনে সত্যিই ভালোলাগাটা মন ছুয়ে গেল। এভাবেই যেন আপনারা বন্ধুত্বের বন্ধনে আবদ্ধ থাকতে পারেন, মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে এই কামনা করছি। ধন্যবাদ
ভাই আমাকেও খেতে দেয়নি, কি বলবো দুঃখের কথা। একা একা রাক্ষসের মত খেয়ে বাড়ি চলে গেছে। 😭
হাহাহা। লিস্ট টা ছোটোই হয়ে গেছে।আমার বান্ধবী হলে আরো কয়েকটা আইটেম থাকত। আপনার উপর তাও মায়াদয়া করছে। বিয়ে হয়ে গেলে অনেক মিস করবেন।ভাল লাগে এমন বন্ধুত্বের পোস্ট গুলো পড়ে। রান্না কে করল দাদা?
আমিও সেটাই চিন্তা করলাম, লিস্ট মনে হয় একটু ছোট হয়ে গেছে।🤣 কারণ ও তো এত কমে আমাকে ছাড়ে না। অল্পের উপর দিয়ে চলে গেছে। আর রান্নাটা আমি করেছি। আমি রান্না করতে পারি তো। কলকাতার ছেলেরা সব কিছু পারে।
প্রথম কথা বান্ধবীর মুখটা এমন ইমো দিয়ে ঢেকে কভার ফটো দিয়েছেন কেন শুনি? 😂,, বান্ধবী জানতে পারলে তো আবার আইবুড়ো ভাত খেতে চাইবে 😉। তবে যাই বলেন খাবারের লিস্ট টা কিন্তু বেশ লম্বা ছিল রে বাবা। এত কিছু খেতে পেরেছিল তো সত্যিই!!! আর রান্না কি আপনি নিজেই করেছেন ? মাসিমা তো বাড়ি ছিল না। সে যাই হোক, নকলের বাজারে বন্ধুর মত বন্ধু পাওয়া সত্যিই ভাগ্যের ব্যাপার। অটুট থাকুক এই সম্পর্ক এই প্রার্থনাই করি।
চিন্তা করলাম নতুন বিয়ে হবে, তাই একটু হাইড করাই থাক। তবে আমার আগের পোস্ট গুলোতে ফেস দেখানো আছে।🙂
আর আমি নিজেই রান্না করেছি। আমি সব কিছুই রান্না করতে পারি। আসলে আমি খেতে খুব ভালোবাসি তাই অনেক সময় আমার পছন্দের খাবার খেতে ইচ্ছে করলেও রান্না করে দেয়না। তাই নিজেই রান্না করি।😁
আপনার মা তো বাড়ি ছিল না, তাহলে আপনার বাসায় রান্নাটা করল কে। আপনার বন্ধবীর মুখ দেখতে পারলাম না তো।বন্ধুবী দেখছি অনেক কম খাবারের লিস্ট দিয়েছে-হা হা হা।আপনি নিজে তো অসাধারণ রান্না করেছেন দেখছি। যাইহোক আপনার বন্ধুত্ব অটুট থাকুক সারা জীবন। ধন্যবাদ আপনাকে।
আমি নিজেই রান্না করেছি আপু। আমি সব কিছুই রান্না করতে পারি। আর সত্যি কথা বলেছেন, আমাকে অল্পের উপর দিয়েই ছেড়ে দিয়েছে। আসলে এত কমে সে ঠান্ডা হয় না।
ভাইয়া সবার মত আমিও জানতে চাই যে বান্ধবীর পছন্দের রান্না গুলো কে করেছে? যাই হোক আপনার বান্ধবীর খাবারের লিস্ট বেশ লম্বা ছিল। উনি কি আসলে সবগুলো খাবার খেতে পেরেছিলেন? মিষ্টি আর সন্দেশ দেখে আমার বেশ খেতে ইচ্ছে করছে 😋। আপনার বান্ধবীর জন্য অনেক অনেক শুভকামনা রইল।
আমি নিজেই সবকিছু রান্না করেছি আপু। আমি রান্না করতে পারি তো। কারণ বছরের কমপক্ষে তিন-চার মাস আমার নিজেকে রান্না করে খেতে হয়। কাজের লোকের রান্না আমি খেতে পারি না।
আর সব খাবার খেতে পারেনি। আল্পই খেয়েছিল, বাকিটা আমি খেয়ে নিয়েছিলাম।😁
ভাইয়া নতুন একটি বিষয়ের সাথে পরিচিত হলাম। বান্ধবীকে আইবুড়ো ভাত খাওয়াতে হয় সেটা আজকে প্রথম শুনলাম। আপনি তো আজকে বিরাট বড় মাপের রাধুঁনী হয়ে গেলেন। এত কিছু রান্না করেছেন যা গুনতেও অনেক সময় লাগছে। যায়হোক বান্ধবীর মনের আশা পুরন করেছেন। বিয়ে হয়ে গেলে তো আর এই সুযোগ পাবেন না। কলিজার বন্ধু গুলোকে খাওয়াতে পারলে ভালই লাগে।
ভাই সকাল সাড়ে আটটা থেকে রান্না শুরু করেছিলাম আর সেই রান্না শেষ হতে দুপুর দুটো বেজে গিয়েছিল। আর এর আগে আমি কখনো আইবুড়ো ভাত খেতে দেইনি কেউকে।