খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে কাটানো একটি সুন্দর বিকেল।। এপ্রিল-১০/০৪/২০২৩।।
☬নমস্কার সবাইকে☬
হ্যালো বন্ধুরা,
আসলে রোজা রমজান মাসে পুরো বাংলাদেশ অনেকটাই restricted হয়ে যায় অর্থাৎ যত সময় পর্যন্ত ইফতার না হচ্ছে তত সময় ঠিকঠাক খাবার পাওয়া যায় না। অন্যদিকে আমি যে সবার সামনে খাবার খাব সেটাও দেখতে ভালো লাগে না। কারণ আমার সামনে যে ব্যক্তি গুলো থাকবে তারা সারাদিন রোজা রেখে যদি আমাকে খেতে দেখে তাহলে ব্যাপারটা দেখতেও খারাপ লাগে অন্যদিকে তাদের হয়তো কোন একটা দিক থেকে কষ্ট লাগে। এজন্য সেই খাওয়া দাওয়া চ্যাপ্টারটাই পুরোটা বাদ দিলাম। আমাকে মোটামুটি সাড়ে চারটা নাগাদ খুলনা ইউনিভার্সিটি তে যাওয়ার কথা বলা হয়েছিল তবে সাড়ে চারটের জায়গায় আমি সেখানে গিয়ে পৌঁছলাম প্রায় সাড়ে পাঁচটার কাছাকাছি। আর সাথে ছিল আমার ভাই ronnggin. গিয়ে দেখি খুলনা ইউনিভার্সিটির মেইন গেটের সামনে ম্যাডাম দাঁড়িয়ে হাত উঁচু করে আমাদের ইশারা দিচ্ছে। যেহেতু সামনাসামনি দেখা এই প্রথমবার তাই প্রথমদিকে চিনতে অনেকটাই কষ্ট হচ্ছিল। এখনকার সময় মেয়েদের ফেসবুকে একরকম দেখতে লাগে আবার সামনাসামনি গেলে অন্যরকম মনে হয়। তবে তার ক্ষেত্রে বিশেষ পার্থক্য না হলেও সামনাসামনি কিছুটা অন্যরকম ছিল।
ক্যাম্পাসের মেইন গেট দিয়ে ঢুকে কিছুটা দূর হাটার পরে ই চোখে পড়ল বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের কিছু স্ট্যাচু। সত্যি কথা বলতে যেটা আমার কাছে অনেক বেশি ভালো লেগেছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জায়গায় এই জিনিসগুলো খুব মানানসই। এরপর আমরা শুধুমাত্র লেডিস হোস্টেল বাদ দিয়ে বাকি সব জায়গা এক এক করে ঘোরা শুরু করে দিলাম। তবে একটা বিষয় বেশ অবাক হলাম খুলনা ইউনিভার্সিটিতে বাইরের যে কেউ ভিতরে আসতে পারে যেটা আমার কাছে একটু অন্যরকম লাগলো। কারণ আমাদের ইউনিভার্সিটি তে আইডেন্টি কার্ড ছাড়া কেউ ভিতরে ঢুকতে পারে না। কারণ এই সব জায়গায় বাইরের ছেলেপেলে ঢুকে যদি কোন অঘটন ঘটিয়ে দেয় তাহলে তার দায়ভার কে নেবে। চারুকলা ডিপার্টমেন্টের ঠিক অপজিটে যে বড় মাঠটা ছিল সেখানে দেখলাম বাইরের ছেলেপেলেরা এসে খেলাধুলা করছে। এরপর আমার সেখান থেকে হিউম্যান রাইটস ডিপার্টমেন্ট, তারপর ফার্মেসি ডিপার্টমেন্ট, ইংরেজি ডিপার্টমেন্ট সবকিছু ঘুরে চলে গেলাম লেকের পাড়ে। সেখানে কিছু সময় বসে ছিলাম তারপর আবার চলে আসলাম খাজা হলের ঠিক অপজিটের মাঠে। সেখানে গিয়ে একটা বিষয় বেশ ভালো লাগলো সেটা হল বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের সব বন্ধু বান্ধব মিলে একসাথে ইফতার করছে মাঠে বসে। সেখানকার একটা ফটো তুলেছিলাম সেটা এখানে শেয়ার করা আছে।
এরপর একটু সন্ধ্যা হতেই চলে গেলাম ক্যাম্পাসের ভিতরে একটা চায়ের দোকানে। সেখানে গিয়ে দেখি অসংখ্য ছেলেমেয়ে তাদের ইফতার সেরে এখানে বসে চা খেতে এসেছে। আমরাও অনেক সময় না খেয়ে থাকার পর এখানে এসে তিনটা চা অর্ডার করলাম। যদিও চা টা আমার কাছে খুব বেশি একটা ভালো লাগেনি, মোটামুটি ছিল খেতে। আমাদের যে নেমন্তন্ন করেছিল ইউনিভার্সিটি যাওয়ার জন্য সে বলল যে রাতের বেলা ক্যাম্পাসটা দেখতে আরো বেশি সুন্দর হয় এবং অনেকেই ক্যাম্পাসে বসে অনেক রাত অব্দি আড্ডা দেয়। তবে আমাদের হাতে অত সময় না থাকার কারণে মোটামুটি সন্ধ্যার পরে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট ক্যাম্পাসের ভিতর বসে ছিলাম। সত্যি কথা বলতে বেশ দারুন একটা অনুভূতি হচ্ছিল সেখানে থেকে। বিশেষ করে এই সময়টাতে couple গুলো এখানে বসে আড্ডা মারে। যাইহোক সব মিলিয়ে ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাস আমার কাছে অনেক বেশি ভালো লেগেছিল বিশেষ করে এখানকার পরিবেশ ছিল অসাধারণ সুন্দর এবং ইউনিভার্সিটি বিভিন্ন ডিপার্টমেন্ট এবং বিল্ডিং গুলো আমার কাছে বেশ ইন্টারেস্টিং লেগেছিল।
পোস্ট বিবরণ
| শ্রেণী | লাইফ স্টাইল |
|---|---|
| ডিভাইস | Samsung Galaxy M31s |
| ফটোগ্রাফার | @rupaie22 |
| লোকেশন | খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ । |
নিজের ক্যাম্পাসে ঘুরাঘুরি করতে করতে আপনি অনেকটাই বোর হয়ে গিয়েছিলাম যার কারণে অন্যের ক্যাম্পাসে ঘোরাঘুরি করার জন্য গিয়েছিলাম ব্যাপারটা আমার কাছে অনেক বেশি ভালো লেগেছে। ব্যাপারটা অনেকটা এমন যে মাছ মাংস দিয়ে প্রতিদিন ভাত খেতে ভালো লাগে না মাঝে মাঝে শাকসবজি খাওয়া উচিত হাহাহা। যাইহোক খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে খুবই সুন্দর একটি মুহূর্ত অতিবাহিত করেছেন দেখেই বোঝা যাচ্ছে। ধন্যবাদ আপনাকে।
নিজের ক্যাম্পাসে ঘুরাঘুরি করতে আসলে আমার প্রচন্ড ভালো লাগে, তবে অন্য ক্যাম্পাস কেমন সেটা দেখার অভিজ্ঞতাও থাকা দরকার আছে। তবে সব মিলে অভিজ্ঞতা বেশ ভাল ছিল। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই পোস্ট পড়ে মন্তব্য করার জন্য।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে বেশ ভালো সময় কাটিয়েছেন ভাইয়া। রঙিন ভাইকে দেখতে পেয়ে বেশ ভালো লাগলো। রমজান মাসে খাবার বিক্রি করার মধ্যে অনেকটা রেস্ট্রিকটেড চলে আসে। সেজন্য খাওয়া দাওয়া করতে একটু অস্বস্তি লাগাটাই স্বাভাবিক। ভাই এটা তো দেখছি সেই ম্যাডামটা। যার সামনে বসে দুটো ফালুদা খেয়ে ফেলেছিলেন হা হা হা। যাইহোক ভালো লাগলো পোস্টটি পড়ে। শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
আসলে ব্যাপারটা হলো যে আমার অস্বস্তি লাগেনি, তবে এরকম ব্যাপার প্রথমবার হচ্ছিল আমার সাথে এজন্য একটু কেমন লাগছিল। তবে সবার কথা চিন্তা করে পরবর্তীতে ব্যাপারটা মানিয়ে নিয়েছিলাম।
বিগত এক মাস ধরে আপনি বাংলাদেশে ভবন করতেছেন। তবে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশ অনেক চমৎকার। আপনার পুরনো এক বন্ধু এই বিদ্যালয়ে আগে পড়েছে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সন্ধ্যাবেলা তিনটা চা অর্ডার করলেন কিন্তু চা গুলো তেমন ভালো হয়নি। সবচেয়ে বড় কথা এখানে পরিবেশ আপনার কাছে ভালো লেগেছে। অনেক সুন্দর করে আপনি আপনার অনুভূতি আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন পোস্টের মাধ্যমে।
অভিজ্ঞতা আসলেই অনেক ভালো ছিল। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই, আপনার গঠনমূলক মন্তব্যের জন্য।
আপনি বাংলাদেশে বেড়াতে এসে দেখতেছি অনেক জায়গায় ভবন করতেছেন। তবে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ অনেক সুন্দর লাগতেছে। ওখানে সন্ধ্যা বেলা তিনটি চা অর্ডার করলেন কিন্তু খেতে তেমন ভালো লাগে নাই আপনাদের। যদিও সন্ধ্যার পর ৩০ থেকে ৪০ মিনিটের মধ্যে আপনি চলে গেলেন। তবে নতুন জায়গাতে যত বেশি ঘুরা যায় ততই ভালো লাগে। অনেক সুন্দর করে পোস্টে আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ আসলেই অনেক সুন্দর এবং বরাবরই আমি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এর প্রশংসা শুনি। এজন্য আর কি গিয়েছিলাম, তবে সব মিলিয়ে অভিজ্ঞতা বেশ ভালই ছিল।
আসলেই বাংলাদেশের রমজান মাসে ঠিকমতো খাবার পাওয়া যায় না সে ক্ষেত্রে অনেকটাই আপনাদের রোজার থাকার মতই হয়ে গিয়েছিল আর সন্ধ্যা বেলায় যে চায়ের দোকানে বসে তিনটা চায়ের অর্ডার দিয়েছিলেন কিন্তু দুঃখের বিষয় চায়ের স্বাদ আপনার কাছে ভালো লাগেনি। তবে সবচেয়ে মজার বিষয় ছিল যখন সন্ধ্যা নেমে আসার কিছু সময় পরে কাপল গুলো এসে আড্ডা মারে।
আসলে এই অভিজ্ঞতাটা আমার প্রথমবার ছিল তো এজন্য একটু অসুবিধা হচ্ছিল। তবে সবার কথা চিন্তা করে পরবর্তীতে সে ব্যাপারটা মানিয়ে নিয়েছিলাম আর কি।
ভাইয়া আপনি বাংলাদেশে ঘুরতে এসেছেন সেটা অনেক আগেই জানি। আজকে বাংলাদেশের নামকরা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে কাটানো মুহূর্তের অনুভূতি পড়ে অনেক ভাল লাগলো। বিশাল বড় বড় বেল্ডিং এর ফাকে ছোট একটি টিনের টং দেখলাম। ধন্যবাদ ভাইয়া।
বাংলাদেশ ঘুরতে গেছিলাম তো আগের মাসের ১০ তারিখে। তবে সেখানে ঘোরাঘুরির অভিজ্ঞতা আমার যথেষ্ট ভাল ছিল এবং যে কয়টা জায়গায় ঘুরেছিলাম খুব এনজয় করেছিলাম আরকি। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই পোস্টটা পড়ার জন্য।