চোখের সামনে ঘটে যাওয়া দুই মর্মান্তিক ট্রেন এক্সিডেন্ট।। ফেব্রুয়ারি-০৮/০২/২০২৩।।
☬নমস্কার সবাইকে☬
হ্যালো বন্ধুরা,
| কেমন আছেন সবাই আপনারা... ? আশাকরি সবাই অনেক অনেক ভাল আছেন সুস্থ আছেন। প্রত্যেকে তার পরিবার নিয়ে সুখে আছেন। আজকের নতুন একটা ব্লগে আপনাদের সবাইকে স্বাগতম। |
|---|
ভারতবর্ষে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ট্রেন বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।এখানে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা এতটাই উন্নত এবং সুন্দর যে ট্রেন ছাড়া একটা দিনও আমরা নিজেদের safe জার্নি কল্পনাও করতে পারি না। তবে প্রতিনিয়তই ট্রেন এক্সিডেন্টে শত শত মানুষ মারা যায় এখানে। মোটামুটি প্রতিদিনই নিউজে খবর আসে যে আজ এখানে ট্রেনে কাটা পড়ে মারা গেছে এবং এটা প্রতিনিয়তই চলতে থাকে। কিন্তু এই ঘটনা যদি নিজের সামনে ঘটে তাহলে ব্যাপারটা কেমন হয় একবার চিন্তা করে দেখেন তো। এরকম দুটো ট্রেন এক্সিডেন্ট এর মর্মান্তিক ঘটনা আমার নিজের সাথে হয়েছে। যদিও আরো একটা অ্যাক্সিডেন্ট ঘটেছিল আমার চোখের সামনে তবে এতটা মর্মান্তিক ছিল না। যাইহোক সেরকম দুটো মর্মান্তিক ট্রেন এক্সিডেন্ট, যেটা আমার সামনে ঘটেছিল সেই ঘটনা নিয়েই আজকের আলোচনা।
দুটো ঘটনাই ঘটেছে শীতকালে। প্রথম ঘটনাটা ঘটে আমার সাথে দমদম স্টেশনে। অধিকাংশ এক্সপ্রেস ট্রেন গুলো দমদম স্টেশনে দাঁড়ায় না আর এক্সিডেন্ট প্রধানত সেই কারণেই হয়। বেশিরভাগই সুইসাইড কেস তবে দুই একটা অ্যাক্সিডেন্ট ভুলের কারণেও হয়। তবে দমদম স্টেশনে আমার সাথে যেটা হয়েছিল সেটা হল সুইসাইড কেস। খুব সম্ভবত সেদিন সোমবার ছিল আমি দমদম স্টেশনের তিন নাম্বার প্লাটফর্মে বসে ছিলাম ট্রেনের অপেক্ষায়। সাধারণত আমি বাইরে বেরোলে মানুষজনকে খুব বেশি একটা ফলো করি না বা তাদের দিকে তাকাই না, নিজের মতো করে বসে থাকি অথবা মোবাইল ঘাটাঘাটি করি। তবে ঐদিন একটা জিনিস আমার বেশ চোখে লাগছিল খুব সম্ভবত ২৫ থেকে ২৬ বছরের একটা মেয়ে স্টেশনের উপর উতলা ভাবে ঘোরাঘুরি করছিল। মনে হচ্ছিল তার মাথার উপর অনেক টেনশন। একবার সিটে এসে বসে আবার দু মিনিট পরে উঠে দাঁড়ায়। বারবার সে একটা জিনিস লক্ষ্য করার চেষ্টা করছিল যে ট্রেন আসছে কিনা। তবে এটা নরমাল ব্যাপার আমি নিজেও মাঝেমধ্যে ট্রেন আসছে কিনা এটা উঠে দেখি। তাই ব্যাপারটা নিয়ে তখন বেশি গুরুত্ব দেইনি। এভাবে বসে থাকার ৫ থেকে ৭ মিনিট পর অ্যানাউন্সমেন্ট করল যে তিন নাম্বার প্ল্যাটফর্ম থেকে একটা থ্রু ট্রেন যাবে দয়া করে আপনারা নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন। যেহেতু মেয়েটা দেখতে বেশ সুন্দরী ছিল তাই কয়েকবার তার দিকে তাকিয়ে ছিলাম, বিশেষ করে তারে উতলা ভাবের জন্য।
যাই হোক কিছু সময়ের এর মধ্যেই দানবের মতো একটা এক্সপ্রেস ট্রেন দুরন্ত গতিতে ছুটে আসলো স্টেশনের উদ্দেশ্যে হঠাৎ করে দেখি মেয়েটা উঠে ট্রেনের সামনে গিয়ে ঝাঁপ দিল। সত্যি কথা বলতে আমি এরকম কোন মোমেন্ট এক্সপেক্টি করে নি তখন। বিকট জোরে একটা শব্দ করে মেয়েটা ছিটকে গিয়ে পড়লো অনেক দূরে। আসলে আমি বর্ণনা দিতে পারব না যে তখন মেয়েটার কি অবস্থা হয়েছিল। শুধু এটুকু বলতে পারি যে তাকে আইডেন্টিফাই করার মত কোন পরিস্থিতি ছিল না। এটা দেখার পর আমি স্টেশনের উপর বমি করে ফেলি এবং সেদিনের মতো ট্রেন ধরে বাড়ি চলে আসি। এই ঘটনা আমার অনেক দিন যাবত মাথার ভেতর ছিল। টেনসনে বাড়ি খাবার পর্যন্ত খেতে পারতাম না। আরো একটা ঘটনা ঘটেছিল গত বছরের ঠিক এই সময়টাতে। বন্ধুর দিদির বিয়েতে গিয়েছিলাম একটা গ্রামে। যেহেতু তাদের পরিবারে লোকসংখ্যা খুব কম ছিল এবং বিয়ের মত এত বড় একটা ফাংশানের দায়িত্ব নেওয়ার লোকের অভাব ছিল তাই আমি মোটামুটি কিছুটা দায়িত্ব ভাগ করে নেই এবং বন্ধুকে নিয়ে বাজার করার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে যাই একটা বাইক নিয়ে। মোটামুটি বেশ কিছুটা সময় বাইক চালিয়ে আসার পর রেললাইন পড়ে এবং আমরা আসার সাথে সাথেই দেখলাম গেট পড়ে গেছে অর্থাৎ ট্রেন আসছে। এই লাইন দিয়ে সব সময় এক্সপ্রেস ট্রেন চলে তাই দুরন্ত গতি হবে এটাই স্বাভাবিক। যাইহোক আমরা অপেক্ষা করতে লাগলাম কখন ট্রেন আসবে। হঠাৎ করে দেখি ট্রেনটি বারবার হুইসেল দিচ্ছে।
আমি যতদূর জানি ট্রেন কোনরকম নিয়ম ছাড়া হুইসেল দেয় না সুতরাং এটা চিন্তা করে বেশ কিছুটা অবাক হলাম হঠাৎ করে দেখি বিকট জোর একটা শব্দ এবং সাথে সাথেই একটা মাংসের টুকরো কোথা থেকে ছুটে এসে আমাদের সামনে পড়লো। ট্রেনটা তখনও এক কিলোমিটার দূরে ছিল। অর্থাৎ ট্রেনের গতি এতটাই ছিল যে তার সামনে হয়তো কোন একজন মানুষ ভুল করে চলে এসেছে এবং টুকরো টুকরো হয়ে গেছে। শরীরের পুরো অংশ টুকরো টুকরো হয়ে সারা এলাকায় ছড়িয়ে গিয়েছিল। পুরুষ কিংবা মহিলা কি ছিল সেটা বুঝতে পারিনি তবে প্রচন্ড রকম ভয় পেয়েছিলাম সেদিন। এই দুটো মর্মান্তিক ঘটনা আমার সাথে ঘটেছিল, যেটা এখনও মনে পড়লে খারাপ লাগে।
সব দুর্ঘটনা দুঃখজনক কিন্তু রেল দুর্ঘটনা গুলো সত্যিই বেশি দুঃখজনক কারণ রেল দুর্ঘটনা ঘটলে বাঁচার সম্ভাবনা ৯৯ পারসেন্ট ই থাকে না । রেল এক্সিডেন্টে যারা মারা যায় তাদের অবস্থা দেখার মত আর থাকে না। রেলে যেমন ভুলবশত এক্সিডেন্ট হয় তার পাশাপাশি সুইসাইডেরও অনেক কেস ঘটে এই রেল স্টেশনগুলোতে। দমদম স্টেশনের দুর্ঘটনার যে বর্ণনা আপনি দিলেন তা সত্যি খুবই মর্মান্তিক ছিল। মেয়েটি যেভাবে ভাবে মারা গেল তা একটা স্বাভাবিক মানুষ চোখে দেখে সহ্য করতে পারবে না।
ধন্যবাদ পোস্ট পড়ে এত সুন্দর একটা মন্তব্য করার জন্য। তবে এক্সিডেন্ট গুলো সত্যিই বেশ বেদানাদায়ক।
সব এক্সিডেন্টই বেশ বেদানাদায়ক হয় । আমি এইসব কোনো দিনও চোখে দেখে সহ্য করতে পারবো না।