ঘাটশিলা ভ্রমন (সপ্তম পর্ব)।। এপ্রিল -২৩/০৪/২০২৩।।

☬নমস্কার সবাইকে☬

হ্যালো বন্ধুরা,

কেমন আছেন সবাই আপনারা... ? আশাকরি সবাই অনেক অনেক ভাল আছেন সুস্থ আছেন। প্রত্যেকে তার পরিবার নিয়ে সুখে আছেন। আজকের নতুন একটা ব্লগে আপনাদের সবাইকে স্বাগতম।

ধারাগিরি ঝর্ণা

InShot_20230423_153738358.jpg

ঘাটশিলা ভ্রমণের এটা ছিল আমাদের দ্বিতীয় দিন এবং এই দিনটাই ছিল আমাদের জন্য অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ এবং অ্যাডভেঞ্চারাস। মোটামুটি যতগুলো ভালো ভালো ঘোরার জায়গা ছিল ঘাটশিলায়, তার অধিকাংশই দেখা হয়ে গেছিল এবং এই একটা জায়গায় অবশিষ্ট রাখা হয়েছিল আমাদের জন্য, যেখানে যেতেও অনেক বেশি টাইম লাগবে এবং অনেকটাই ঝুঁকিপূর্ণ। অধিকাংশ গাইড যারা এখানে রয়েছেন তারা এই জায়গাটার সন্ধান দিতে চায়না এবং দিলেও টাকার পরিমান অনেকটাই বেশি নেয়। তবে আমরা আগে থেকেই শুনে এসেছিলাম যে এই জায়গাটা অনেক বেশি সুন্দর দেখতে। এই জন্য যিনি আমাদের গাইড ছিল তিনি না বললেও আমরা জোর করে সেখানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। ধারা গিরি পাহাড়ের থেকে আরও বেশ কিছুটা উপরে উঠে যেতে হয় এই ঝর্না দেখার জন্য। তবে সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছিল পাহাড় খাড়া ভাবে উপরের দিকে উঠে যাওয়ার জন্য এবং অনেকটাই পিচ্ছিল হয়ে গেছিলো। বেশ কয়েকটা ফটো দেখলেই হয়তো আপনারা ব্যাপারটা বুঝতে পারবেন।

20230223_150455.jpg

যাই হোক আমরা সবাই মিলে ধারাগিরি পাহাড়ের পাদদেশ দিয়ে খেটে উপরের দিকে উঠতে লাগলাম। কিছু দূর হেঁটে যেতেই দেখতে পারলাম যে বেশ কিছু আদিবাসীরা সেখানে মাছ ধরছে। আমি অলরেডি সেই পর্বটা দুদিন আগে শেয়ার করে দিয়েছি। যাই হোক সেটা পার করতে না করতেই সামনে চলে আসলো বিশাল বড় এবং গভীর এক জঙ্গল যেখানে শুধুমাত্র শিকারিরা আসে এবং অধিকাংশ টুরিস্ট আসলেও তাদের প্রটেকশনের জন্য কোনো না কোনো ব্যবস্থা থাকে। আসলে ভেতরের জঙ্গলটা এতটাই ঘন ছিল যে রাস্তা ঠিক করে বোঝা যাচ্ছিল না। যদিও এখানে লোকের যাতায়াত ছিল তবে প্রতিনিয়ত গাছের পাতা রাস্তার উপর পড়ার কারণে রাস্তা পাতা দিয়ে ঢাকা পড়ে যাচ্ছিল। এজন্য ঠিক করে রাস্তাও খুঁজে পাচ্ছিলাম না। তবে আমাদের গাইড যথেষ্ট দক্ষ এবং জ্ঞানী ছিল এজন্য আমাদের খুব বেশ একটা সমস্যা হয়নি, তিনি ঠিকই রাস্তা দেখিয়ে আমাদের সামনের দিকে নিয়ে যেতে লাগলো। আপনারা যারা পাহাড়ে ঘুরেন তারা তো অবশ্যই জানেন যে পাহাড়ের উপর উঠলে মোবাইলের নেটওয়ার্কের কিভাবে অবস্থা হয়ে যায়। অর্থাৎ আমাদের নেটওয়ার্ক চলে যাওয়ার কারণে আরো বেশি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

20230223_150500.jpg

মোটামুটি ঘন্টাখানেক হাটাহাটি এবং জঙ্গল অভিযানের পর আমরা একটা ফাঁকা জায়গা দেখতে পারলাম। জায়গাটা বেশ সুন্দর এবং গোছানো ছিল। পরে জানতে পারলাম যে এখানে যারা কাট কাটতে আসে বা জঙ্গলে শিকার করতে আসে, তারা এখানে আশ্রয় নেয় এবং মাঝেমধ্যে পিকনিক করে এখানে আদিবাসীরা। যাইহোক সেখানে কিছু সময় দাঁড়িয়ে আবার রওনা দিলাম গন্তব্যের উদ্দেশ্যে মোটামুটি আরো কিছু সময় হাঁটার পর দেখলাম একটা পাহাড় খাড়া হয়ে উপরের দিকে উঠে গেছে এবং তার মাঝ বরাবর ছোট্ট একটা জলের ধারা নিচের দিকে নেমে আসছে। আসলে আমরা যে এক্সপেক্টেশন নিয়ে সেখানে গেছিলাম তার কোনটাই ঘটেনি। কারণ যখন বর্ষাকাল বা অন্যান্য সময় এখান দিয়ে নাকি খুব বড় ধরনের জলধারা বয়ে যায়। তবে আমরা গিয়ে অতি সামান্য জলধারা দেখতে পেয়েছিলাম, যেটা বলতে গেলে না বরাবর। জায়গাটা অনেকটাই আমাকে হতাশ করেছিল এত কষ্ট করে যাওয়ার পরেও খুব বেশি একটা ফলাফল পেলাম না।

20230223_150503.jpg

তবে একটা বিষয় শুনে বেশ অবাক হবেন সেটা হল এই পাহাড়ের উপরেও খুব সুন্দর করে একটা মন্দির তৈরি করা ছিল। আর তার থেকে আশ্চর্যের বিষয় হল এইখান থেকে জল নিয়ে নাকি আদিবাসীরা তাদের জলের তেষ্টা মেটায়। আমাদের যে গাইডটা এখানে নিয়ে এসেছিল তিনি দেখলাম একটা বোতলে এক বোতল জল ভরে আমাদের খেতে দিতে আসলো তবে জলটা এতটাই নোংরা ছিল যে খাওয়াতো দূরের কথা সেটা মুখে দেওয়াও বোকামি। তবে জলটা প্রচন্ড ঠান্ডা ছিল এই কারণেই এখানকার লোকজন এখান থেকে জল নিয়ে যায়, যেহেতু ওইসব জায়গায় ফ্রিজের কোন ব্যবস্থা নেই। যাইহোক সেখানে আমরা বেশ কিছু সময় ঘোরাঘুরি করার পর অনেকটাই ভালো লাগছিল। যেহেতু জায়গাটা অনেক ঠান্ডা ছিল তাই আশপাশটা একটু ঘুরে দেখার চেষ্টা করলাম তবে আশেপাশে এত টুকরো টুকরো পাথর ছিল যে পা দিলেই পিছলে যাচ্ছিল, এজন্য সাহস করে খুব বেশি একটা উপরে উঠতে পারিনি। এরপর সেখান থেকে হাতমুখ ধুয়ে কয়েকটা ফটো তুলে নিয়ে আবার নিচে নেমে আসার সিদ্ধান্ত নিলাম। তবে পাহাড় উঠতে আমাদের কষ্ট হলেও নিচে নামতে সময় ও যেমন কম লেগেছিল তেমনি কষ্টও অনেকটা কমে গেছিল।

20230223_150515.jpg

20230223_150610.jpg

20230223_150615.jpg

20230223_150619.jpg

20230223_150623.jpg

20230223_150628.jpg

20230223_150511.jpg

পোস্ট বিবরণ


শ্রেণীভ্রমণ বিষয়ক পোস্ট।
ডিভাইসSamsung Galaxy M31s
ফটোগ্রাফার@rupaie22
লোকেশনঘাটশিলা, ঝাড়খন্ড।
যাইহোক আজকের পর্ব এই পর্যন্তই ছিল। আশাকরি আপনাদের ভালো লেগেছে আজকের পর্বটি। আর ভালো লাগলে অবশ্যই একটি কমেন্ট করতে ভুলবেন না। কারণ আপনাদের একটি কমেন্ট আমাকে নতুন এবং ভালো কিছু করার উৎসাহ যোগায়। ভালো থাকবেন সবাই।

🎯ধন্যবাদ সবাইকে🎯

Sort:  
 3 years ago 

আসলে এইসব জায়গায় ঘুরাঘুরি করাটা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হলেও অ্যাডভেঞ্চারাস বটে। আমার কাছে এমন জায়গায় হাঁটার সময় মনের মধ্যে একটু ভয় কাজ করে এবং তার সাথে উত্তেজনাও কাজ করে নতুন কিছু দেখার জন্য। এমনিতে পাহাড়ে ঘুরতে আমার বেশ ভালোই লাগে। এমন জায়গায় ঘুরতে গেলে অবশ্যই দক্ষ গাইড সাথে থাকতে হয়। তবে শুনে সত্যিই অবাক হলাম পাহাড়ের উপর সুন্দর একটি মন্দির তৈরি করা ছিল। যাইহোক এত সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।

আসলে জায়গাটা ঝুঁকিপূর্ণ ছিল জন্যই মজাটা অনেক বেশি পেয়েছিলাম। আমি যত সময় এখানে ঘোরাঘুরি করেছিলাম, আমার লাইফ থেকে যাবতীয় টেনশন সব নিমিষেই গায়েব হয়ে গেছিলো। অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই পোস্টটা পড়ার জন্য।

 3 years ago 

জায়গাটিতে যেটা ভেবে কষ্ট করে গিয়েছিলে সেটা না হলেও গিয়ে ভালোই করেছো। তা না হলে মনের মধ্যে একটা আক্ষেপ থাকতো ,না জানি ওখানে কি না কি ছিল? হয়তো ঠান্ডা জলের অন্য কোন ব্যবস্থা না থাকায় এই নোংরা জল তাদেরকে পানীয় হিসেবে ব্যবহার করতে হয়। একটা অ্যাডভেঞ্চারাস পূর্ণ অভিজ্ঞতা শুনে ভালো লাগলো।

ওখানকার জল বেশ ঠান্ডা ছিল আমি নিজেও হাত দিয়ে দেখেছিলাম, তবে প্রচন্ড নোংরা। খুব সম্ভবত তারা বাড়িতে নিয়ে কোন একটা প্রসেস করে হয়তো খেত। তাছাড়াও জায়গাটা অনেক বেশি আকর্ষণীয় ছিল। ওখানে না গেলে আসলে ওই অনুভূতিটা বোঝানো যাবে না।

 3 years ago 

তবে তো একদিন না একদিন যেতেই হবে। হয়তো ফুটিয়ে খায় ওনারা ওই জলটা।

যেতেই পারো, খুব বেশি দূরে তো না। আর গেলে অনেক বেশি ভালো লাগবে।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.099
BTC 64741.95
ETH 1873.10
USDT 1.00
SBD 0.38