মোমো পাড়ার বিখ্যাত চিকেন মোমো।। আগস্ট -০৬/০৮/২০২৩।।
☬নমস্কার সবাইকে☬
হ্যালো বন্ধুরা,
আসলে গতকাল আমি গেছিলাম খড়দহ কারণ আমার ঠাকুরমা ছিল কাকুর বাড়িতে আর পরশুদিন আবার ঠাকুরমা চলে যাবে বেনারস। তাই একবার দেখা করতে যাওয়ার কথা বলা হয়েছিল আমাকে। এরপর আবার আমার একটা বন্ধু ফোন করে বলল সে কলকাতা ফিরেছে তাই তার সাথে যেন যত দ্রুত সম্ভব আমি দেখা করি। কেমন যেন দুটো ব্যাপার একসাথে মিলে গেল সুতরাং এই সুযোগ আর মিস করতে চাইলাম না। সাথে সাথেই ওকে ফোন করে বলে দিলাম যে তুই যদি ফ্রি থাকিস সন্ধ্যার পর তাহলে আমি খড়দহ থেকে ঠাকুর মার সাথে দেখা করে তোদের ওই দিকটা যাব মোমো খাওয়ার জন্য সেই মোমো পাড়ায়। আসলে এই কথা বলার সাথে সাথেই সে রাজি হয়ে গেল এবং বললো যে তুই তোর কাজ শেষ করে চলে আসিস আমি তোর জন্য অপেক্ষা করবো। যাই হোক অনেকদিন পর এই সুযোগটা পেয়ে যথেষ্ট খুশি হয়েছিলাম তাই ঠাকুর মার সাথে দেখা সাক্ষাৎ করে আমি বেরিয়ে পড়লাম। মোটামুটি ট্রেন ধরে ১৫ মিনিটের মতো সময় লেগেছিল। তারপর সেখান থেকে আবার অটো ধরে আমরা চলে গেলাম সেই কাঙ্ক্ষিত মোমো পাড়ায় যেখানকার মোমো এর কথা সবার মুখে মুখে লেগে থাকে।
যদিও এখানে মোমো রাত সাড়ে নয়টা অব্দি পাওয়া যায় তবে আমরা সন্ধ্যা সাতটার দিকে গিয়েও সেখানে প্রচন্ড পরিমাণে ভিড় দেখে রীতিমতো হতাশ হয়ে গেলাম। আর আমরা যে দোকানের মোমো খাওয়ার জন্য এসেছিলাম ওখানে গিয়ে দেখি উনি বিক্রি করে পাচ্ছেন না এত পরিমাণে ভিড়। তবে দোকান খোলা ছিল এই দিক থেকে একটু নিশ্চিত হলাম। ওখানে ভেজ মোমো ছিল পাঁচ পিস কুড়ি টাকা এবং চিকেন মোমো ৫ পিস ৩০ টাকা। যদিও আগে চিকেন মোমো আরো ৫ টাকা কম ছিল তবে ইদানিং মাংসের দাম বাড়ার জন্য চিকেন মোমোর দাম 5 টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। যদিও এটা কোন বিষয় না যদি মোমোর কোয়ালিটি ঠিক থাকে। মোটামুটি আমরা অর্ডার করতে সুযোগ পাচ্ছিলাম না। তারপরও এক সুযোগে অর্ডার করে দেওয়ার মোটামুটি ১০ মিনিটের মাথায় আমাদের মোমো হাতে এসে পৌঁছালো। সাধারণত বাইরে যে মোমো গুলো পাওয়া যায় ওগুলোর সাথে দুই প্রকার চাটনি দেয় কিন্তু এখানে চার পাঁচ রকমের চাটনি ছিল মোমো খাওয়ার জন্য। আমি তো চাইছিলাম সব প্রকার চাটনি দিয়েই মম টেস্ট করার। তবে দোকানের যে মালিক ছিল উনি বলল যে সব একবারে না খেতে। যেকোনো তিনটে চাটনি খেতে, এতে করে মুখের টেস্ট নষ্ট হবে না।
যাইহোক উনার পছন্দমত তিনটে চাটনি আমাদের দিল মোমোর সাথে। একটা ছিল সামান্য টক জাতীয়, অন্যটা একটু মিষ্টি এবং আর একটা ছিল যেটা ছিল মারাত্মক রকমের ঝাল। যদিও ওই চাটনিটাই আমার কাছে বেশি ভালো লেগেছিল। গরম গরম একটা মোমো হাতে উঠিয়ে তার সাথে ঝাল চাটনি মাখিয়ে মুখে দিতেই এত সুন্দর একটা অনুভূতি হল যেটা আসলে বলে বোঝাতে পারবো না। একদম উপরে ছিল পাতলা ময়দার একটা কোটিং এবং ভেতরে ছিল প্রচুর পরিমাণে চিকেন আর অনেক রকমের সবজি। আমাদের বারাসাতেও প্রচুর মোমো পাওয়া যায় তবে সর্বনিম্ন মনে হয় 50 টাকা দাম। তারপরও এত সুন্দর কোয়ালিটি তারা কোনদিনও করতে পারে না। যাইহোক এখানকার চিকেনের টেস্টই ছিল অন্যরকম। তার উপর আবার মসলা এত সুন্দর ব্যবহার করা হয়েছে যেটার জন্য মুখের ভিতর মোমো ঢুকাতেই শরীরের ভিতর একটা অন্যরকম ভালো লাগা কাজ করছিল।
আস্তে আস্তে করে কখন যে প্লেটের মোমো শেষ হয়ে গেছিল বুঝতে পারিনি। আসলে এই জায়গাটা মোমো পাড়া হিসেবে কেন বিখ্যাত সেটা এই মোমোগুলো খাওয়ার পর আমি বুঝতে পেরেছিলাম। যাইহোক এক প্লেট খেয়ে আমার কিছুই হয়নি অর্থাৎ পেট ভরেনি। এইভাবে আমি পরপর তিন প্লেট অর্ডার দিলাম আর সাথে ছিল আনলিমিটেড চিকেন সুপ সেটাও যতটা সম্ভব খেয়ে নিলাম। তারপর মনের তৃপ্তি মিটিয়ে বন্ধুর সাথে আরো কিছু সময় আড্ডা মেরে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। সব মিলিয়ে আমি মোমোর রেটিং দেব ৮.৫/১০.
পোস্ট বিবরণ
| শ্রেণী | ফুড রিভিউ পোস্ট। |
|---|---|
| ডিভাইস | Samsung Galaxy M31s |
| ফটোগ্রাফার | @rupaie22 |
| লোকেশন | ব্যারাকপুর, মোমো পাড়া। |
কি বলছেন দাদা এখন তো মনে হচ্ছে এই অফার টার জন্য আপনাদের ওইখানে ঘুরতে যেতে হবে, ৩০ টাকায় মোমো তার সাথে আনলিমিটেড সুপ। এজন্যই হয়তো নাম দেয়া হয়েছে মোমো পাড়া।
কলকাতার অন্য কোন জায়গায় আসলে এত সস্তায় এত মোমো পাওয়া যায় না। আসলে এখানে সেল বেশি এজন্য তারা কম দামে দিতে পারে।
ভাই আপনি যেভাবে মোমো খেয়ে প্রশংসা করলেন, আপনার প্রশংসা শুনেই তো বুঝতে পারছি ব্যারাকপুরের ওই জায়গাটার নাম মোমো পাড়া হয়েছে কেন। আর চিকেন মোমোর দাম মাত্র ৩০ টাকা শুনে সত্যিই অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে। তাও আবার আনলিমিটেড সুপ। এত সুস্বাদু খাবার এত অল্প দামে পেলে সত্যিই খুব ভালো লাগবে। মোমো পাড়ার বিখ্যাত চিকেন মোমো খেয়ে সুন্দর রিভিউ দেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
সত্যি কথা ভাই এখানকার মোমো খেতে এত টেস্টি এবং এত কম টাকায় এত সুন্দর মোমো এরা কি করে দেয় আমি জানিনা।তবে আমার ধারণা এখানে সেল বেশি এজন্য এরা কম দামে দিতে পারে।
৩০ টাকা দিয়ে আজকাল তো তেমন কিছুই পাওয়া যায় না। আর সেখানে মাত্র ৩০ টাকা দিয়ে এত মজাদার চিকেন মোমো পেয়েছেন জেনে সত্যিই ভালো লাগলো ভাইয়া। আসলে কিছু কিছু দোকানের খাবার আছে যেগুলো সবার কাছেই অনেক জনপ্রিয়। অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাকে এই পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
কলকাতায় আপু অনেক অল্প টাকায় খাওয়া যায়। বিশেষ করে স্ট্রীট ফুট গুলো। ইনফ্যাক্ট অনেক জায়গা আছে যেখানে কুড়ি টাকায়ও বিরিয়ানি পাওয়া যায়। তবে এখানকার মোমো যেমন দাম কম তেমনি খেতেও টেস্টি।