প্রিন্সেপঘাট লোকাল।। এপ্রিল -১৫/০৪/২০২৩।।
☬নমস্কার সবাইকে☬
হ্যালো বন্ধুরা,
যাই হোক গতকাল তিনটা ৩৪ এর ট্রেন ছিল বনগাঁ প্রিন্সেপ ঘাট লোকাল, সেটার জন্যই অপেক্ষা করতে লাগলাম। ঠিক সময়ের দুই মিনিট পর ট্রেন স্টেশনে এসে উপস্থিত হল এবং একটা কামরায় সিট দেখে বসে পড়লাম। যদিও এই টাইমে প্রিন্সেপ ঘাট লোকালে সিট পাওয়া বেশ মুশকিল হয়ে পড়ে তবে কেন জানিনা গতকাল সিট পেয়েছিলাম। এমনিতেও ট্রেনের ভিতর প্রচন্ড পরিমাণে গরম লাগছিল তাই আবার সেখান থেকে উঠে চলে গেলাম গেটের পাশে কিন্তু সেখানে গিয়েও খুব বেশি একটা সুবিধা করতে পারলাম না, তাই আবার ফ্যানের নিচে এসে বসলাম। মোটামুটি দমদম স্টেশন ছাড়তেই আমাদের কামরায় খুব সম্ভবত ৩৫ থেকে ৩৭ বছরের একজন মহিলা উঠে আসলো এবং তার কোলে দেখলাম বছরখানেকের একটা ছোট বাচ্চা। সাধারণত আমি এই ব্যাপার গুলো খুব বেশি একটা খেয়াল করি না। হ্যাঁ তবে যদি পাশে এসে কিছু জিজ্ঞাসা করে বা কোন সাহায্য চাই তখন আমি ব্যাপারটা নোটিশ করি, তা না হলে অধিকাংশ জিনিসই আমি এভয়েড করে যাই। আমি দেখলাম মহিলাটা প্রত্যেক মানুষের কাছে গিয়ে এগিয়ে সাহায্যের জন্য হাহাকার করছে। পুরো কামরার ভিতর দুই একজন মানুষ বাদে কেউ তাকে সাহায্য করেনি। তবে এইবার আমার ব্যাপারটা চোখে পড়লো কিছু সময় পর দেখি যে মহিলাটা আমার কাছে এসে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে। আমি তার কাছে কোন কিছু জিজ্ঞাসা না করেই কিছু টাকা মহিলাটার হাতে দিয়ে দিলাম। হঠাৎ করেই দেখি মহিলাটা আমার সামনে আমার দিকে তাকিয়ে কান্না করে দিল।
যদিও আমি তার সম্পর্কে কিছু জানতে বা শুনতে চাইনি তারপরও কেন জানি না সে আমাকে তার কয়েকটা কথা শেয়ার করার চেষ্টা করলাম। তার স্বামী নাকি তার পেটে বাচ্চা থাকা অবস্থায় তাকে ছেড়ে অন্য কারো সাথে পালিয়ে চলে গেছে। এদিকে এই মহিলার কেউ নেই তিন কুলে। মহিলার দিকে তাকিয়ে বোঝা যাচ্ছিল যে সে হয়তো দিনে একবার খায় অথবা না খেয়ে জীবন যাপন করে তবে তার বাচ্চাটা বেশ সুন্দর এবং স্বাস্থ্যবান দেখতে ছিল। এইবার আমি মুখ খুলে তাকে জিজ্ঞাসা করলাম যে আপনি অসুস্থ দেখালেও আপনার বাচ্চাটাকে তো দেখে অসুস্থ মনে হচ্ছে না। তখন মহিলাটা বলল যে আমি যদিও না খেয়ে থাকি তাও আমার সন্তানের কষ্ট আমি কখনোই হতে দেই না। তাকে যে করেই হোক খাইয়ে পরিয়ে বাঁচিয়ে রেখেছি। এরপর আমি তাকে আর তেমন কিছু জিজ্ঞাসা করতে চাইনি তবে সে আমাকে বলল যে আমি আসলে ট্রেনে ট্রেনে বাচ্চাকে নিয়েই বিভিন্ন জিনিস ফেরি করে বেড়াই। তবে বেশ কিছুদিন হল আমার সেই জিনিসগুলো চুরি হয়ে গেছে এজন্য আমি এইভাবে টাকা সংগ্রহ করছি যাতে আবার পুনরায় জিনিসপত্র কিনে ট্রেনে ফেরি করে বেড়াতে পারি এবং আমার বাচ্চার জন্য প্রয়োজনীয় খাবারের ব্যবস্থা করতে পারি।
আমি শুধু চিন্তা করছি একটা মা কতটা সংগ্রামী হলে তার বাচ্চাকে এইভাবে কোলে করে ট্রেনে ট্রেনে ফেরি করে বেড়াতে পারে। মানুষের জীবন কতটা কষ্টের এবং কতটা সংগ্রামের সেটা এইসব জায়গায় না ঘুরাঘুরি করলে আসলে বোঝা যায় না। এই জায়গায় যদি আমি হতাম তাহলে হয়তো এতদিন কি হতো বুঝতে পারতাম না। তবে একা একজন মহিলা কতটা সংগ্রাম করে অন্যের শরণাপন্ন হয়ে নিজের জীবন যাপন করছে এবং বাচ্চাটাকেও সুস্থ রাখার চেষ্টা করছে। আসলে একজন মায়ের পক্ষেই এই সব কিছু সম্ভব। এরপর আর আমি তাকে কিছু জিজ্ঞাসা করিনি। পরে দেখলাম সে ট্রেনের কামরা থেকে নেমে অন্য কামরার দিকে চলে গেল। আর আমি চলে গেলাম আমার গন্তব্যে। তারপর সেখানে ঘন্টাখানেক সময় বসে আবার ট্রেন ধরে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। তবে গতকালের অভিজ্ঞতার আসলেই বেশ ভালো ছিল। আমাদের প্রত্যেকের উচিত এই মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ানো, যাতে করে তারা অন্তত একবেলা দুমুঠো খেয়ে পরে বাঁচতে পারে।
পোস্ট বিবরণ
| শ্রেণী | জেনারেল রাইটিং |
|---|
আমাদের মাঝে এমন অনেক মানুষ আছে যারা সবকিছু হারিয়ে পথে নেমে পরে শুধুমাত্র একটু খাবারের খোঁজে।তাছাড়া সব সময় মায়েরা নিজের সন্তানের জন্য সব কিছুই করতে পারে। আপনার কথা মধ্যে এই মহিলা নিজের থেকেও তার সন্তানের প্রতি বিশেষ যত্ন রাখছে। নিজের কথা না ভেবে সন্তানের কষ্ট যেন না হয় সেটা খেয়াল রাখছে। এমন মানুষদের পাশে থাকতে পারলে নিজেরও ভালো লাগবে।
খুব ভালো লাগলো ভাই আপনার মন্তব্য পড়ে। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ পোস্ট পড়ার জন্য।
দাদা একজন মা তার সন্তানের জন্য করতে পারে না এমন কাজ নেই। সন্তানের জন্য তারা জীবন পর্যন্ত দিতে পারে। তবে আপনাদের ওখানে কি জানিনা তবে আমাদের দেশে ভিক্ষাবৃত্তিটা পেশার পর্যায়ে চলে গেছে তাই অনেকে আর হেল্প করে না।আপনার গল্পটি পড়ে ভাল লাগল। ধন্যবাদ দাদা এমন মর্মস্পর্শী ঘটনা শেয়ার করার জন্য।
এখানেও আছে ওই রকম তবে কিছু কিছু মানুষ কষ্টে পড়ে ভিক্ষকে তার পেশা হিসেবে বেছে নেয়। এই মহিলাকে দেখেই মনে হচ্ছিল সে খুব বিপদে আছে। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ পোস্ট পড়ার জন্য।
বাহ দাদা আপনার এই পোষ্টের মাধ্যমে অনেক সুন্দর একটি বিষয় আজ জানতে পারলাম। মানুষ সবারই কিভাবে নিঃস্ব হয়ে যায়। আর মায়ের তো তুলনায় হয় না এমন কোন কাজ নেই । শত কষ্ট ব্যথা বেদনা সহ্য করে তারা সন্তানের ত্যাগ স্বীকার করে।
মায়ের আসলেই কোনো তুলনা হয়না। আগের দিন মহিলার কথা শুনে সেটা খুব ভালো করেই বুঝতে পেরেছিলাম। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আপু পোস্ট পড়ার জন্য।
একজন মা নিজের সন্তানের জন্য সব করতে পারে। এমনকি নিজের জীবন পর্যন্ত বিসর্জন দিয়ে দিতে পারে। তাই মায়ের তুলনা মা নিজেই। আসলে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরাঘুরি করলে অনেক কিছুই চোখে পড়ে। আপনার পোস্টের সেই মহিলাটি কতটা সংগ্রাম করে নিজে ভালো করে না খেয়ে সন্তানকে খাওয়াচ্ছে। আমাদের উচিত এমন হতদরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো। পোস্টটি পড়ে বেশ ভালো লাগলো ভাইয়া। শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
একজন মা যে নিজের সন্তানের জন্য কত কিছু করতে পারে সেটা আগের দিন খুব ভালো করেই বুঝতে পেরেছিলাম। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই পোস্ট পড়ার জন্য।
প্রিন্সেপ ঘাট যেহেতু গঙ্গার পাড়ে,আর সেখানে এই গরমে বিকেল বেলা বাতাস তো থাকবেই।আপনার বন্ধুর কথাই বাড়ি থেকে বেরিয়ে ভালোই করেছিলেন।আর কতক্ষণ বা ঘরে থাকতে ভালো লাগে।ট্রেনে আসা ভদ্র মহিলার গল্পটি পড়ে অনেক খারাপ লাগলো।মানুষ আসলে কতটা নিষ্ঠুর হয়,সেটা কল্পনার বাহিরে।ভদ্র মহিলার কেউ নেই তিনকুলে স্বামী সন্তান সম্ভবা হওয়ার সময় রেখে চলে গিয়েছে।তবে ভদ্র মহিলা নিজে কষ্ট করে হলেও তার সন্তানের কষ্ট হতে দেন না।আসলেই মা পৃথিবীর সবথেকে দামি সম্পদ।আর চোরদের কি মায়া হয়না,এরকম লোকের জিনিস কিভাবে চুরি করে।যাইহোক তিনি আবার সাহায্য নিয়ে তার ব্যাবসা টা শুরু করবেন হয়তো দ্রুত।পৃথিবীটা সবার জন্য সহজ না,এসকল চিত্র বসে,ট্রেনে অনেক দেখা যায়।ধন্যবাদ ভাইয়া সুন্দর পোস্টটি শেয়ার করার জন্য।
এই মহিলাকে দেখে আসলে আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে। তবে ওনার জীবনের কিছু কথা শুনে সত্যিই আমার অনেক খারাপ লেগেছিল তখন।