আমাদের কথোপকথন
নমষ্কার,,
" কিরে কোথায় এখন তুই? "
- আমার বাস ঢুকে পরেছে ভাই, আর এক থেকে থেকে দেড় মিনিট লাগবে
"ঠিক আছে আয় । আমি বনফুলের সামনেই আছি।"
এইটুকু কথা বলেই ফোনটা রেখে বাসের গেটের সামনে দাঁড়িয়ে পড়লাম নির্দিষ্ট স্থানে নামবো বলে। সময় হয়েই গেছে একদম। বনফুলের সামনে বাসটা আসতেই দেখি একজন মানুষ খুব শান্ত ভাবে স্থির মন নিয়ে চুপচাপ দাড়িয়ে আছে। তখন অনেক বাসই টার্মিনালে এসে দাড়াচ্ছে কিন্তু ভদ্র লোকটির চোখ এদিক ওদিক দিয়ে একজনকেই খুঁজে বেড়াচ্ছে। আমাকে দেখার আগেই আমি তাকে দেখে ফেলি বাস থেকে। আর বাস থেকে নেমে কয়েক জনকে পাশ কাটিয়ে তার সামনে যেতেই দুই হাত বাড়িয়ে আমাকে বুকে টেনে নিল।
হ্যাঁ @shuvo35 ভাইয়ের কথাই বলছি। আমি জানি না এভাবে আপন করে শেষ কবে কে আমাকে জড়িয়ে ধরেছে। অদ্ভূত একটা তৃপ্তি পেলাম যেন। আমি মুহূর্তেই চুপ হয়ে গেলাম। এভাবেও কেউ আপন করে নিতে পারে প্রথম দেখায়!! মনে হলো আমরা বছরের পর বছর ধরে একে অপরকে চিনি, জানি।
কফি দিয়েই শুরু হলো দুই ভাইয়ের আড্ডা। আমি শুধু চুপ করে শুনছিলাম মানুষটার কথা। আর ভাবছিলাম, এই সেই শুভ ভাই, যায় গলার স্বর না শুনলে বৃহস্পতিবার রাতে মনে হয় কি যেন মিস করে চলেছি। দুই দেশের কত সব শ্রোতা তাকে শোনেন। আর আমি এখন তার সামনে বসে তার কথা গুলো শুনছি। কোন কথা বলার সময় তার মুখের এক্সপ্রেশন কেমন হয় সেটা দেখছি। সেই মানুষটা কতটা মন খুলে হাসতে পারে সেটা বুঝে নিচ্ছি। লুকিয়ে লুকিয়ে এই ব্যাপার গুলো নিয়ে ভাবতে বেশ মজাই লাগছিল আমার। সত্যি বলতে নিজেও হেসে ফেলছিলাম বারবার।
যতদূর মনে পরছে আমাদের কমিউনিটির তিন নম্বর হ্যাং আউটে আমি প্রথমবারের মত জয়েন হওয়ার সাথে সাথেই শুভ ভাই জোরে বলে উঠেছিল, " সজীব রয় ওয়েলকাম"। কথাটা প্রথমবার কানে আসতেই ভেবেছিলাম, বাপরে এতোটা চার্মিং ভয়েসে এংকারিং করছে! বেশ দারুন তো ব্যাপারটা।
তারপর থেকে হ্যাং আউটের মাধ্যমে মাঝে মধ্যে তার সাথে আমার কথা হয়েছে। পোস্ট গুলোতে কমেন্টের মাধ্যমে কথা হতো টুকটাক। আর তারসাথে আমার প্রথম কথা হয় আজ থেকে পাঁচ মাস আগে। আমার জীবনের সব থেকে বাজে মুহূর্ত টায় নিজে থেকে ভাই আমার সাথে যোগাযোগ করেন এবং আপন ছোট ভাইয়ের মত করে সামলানোর চেষ্টা করেন। তারপর থেকে আমাদের মাঝে মধ্যে কথা হলেও কখনো দেখা টা আর করা হয় নি। মজার ব্যাপার হলো শুভ ভাইয়ের বাড়ির পাশেই আমার মাসির বাড়ি। আমি মাঝে মাঝেই আসি এদিকে। আবার শুভ ভাইও আমার বান্ধবীর বিয়েতেই আমার বাড়ির পাশে এসেছিল। কিন্তু তখন কেউ কাউকে চিনতাম না। হাহাহাহাহা।
কফি টা শেষ হতেই বেরিয়ে গেলাম দুই ভাই। রাতের খাবার এক সাথে খেতে। আসলে খাওয়া দাওয়া টা মুখ্য ছিল না একদমই । মন খুলে কথা বলতে পারছিলাম দুজন, এটাই বোধ হয় বড় শান্তি দিচ্ছিলো। সব থেকে বড় কথা আমরা নির্দিষ্ট কোন টপিক নিয়ে কেউ কথা বলছিলাম না। আপনা আপনিই একের পর এক কথা হয়েই যাচ্ছিল। এক জনের কথা শেষ হতে না হতেই অপরজন সেটা নিয়েই আবার আরেক দুনিয়ায় চলে যাচ্ছিলাম। মনের মিলটা হয়তো এখানেই ছিল।
চোখের পলক পরতে না পরতেই দেড় থেকে দুই ঘন্টা সময় ধুম করে উধাও হয়ে গেল। শুভ ভাই শারীরিক ভাবে বেশ অসুস্থ ছিলেন । কিন্তু আমাকে বিন্দু মাত্র বুঝতে দিচ্ছিলেন না। বড় ভাইরা মনে হয় এমনই হয়। সত্যি বলতে ভাইয়ার থেকে খালি হাতে ফিরে আসি নি। তার কিছু কিছু গুণ আমাকে মুগ্ধ করেছে এক কথায়। মানুষকে কি করে আপন করে নিতে হয় তার কাছ থেকে আরেকটা বার শিখতে পেরেছি। সামনের দিনগুলোতে নিজেকে সেভাবে গুছিয়ে নিয়ে চলার চেষ্টা করে যাব।
হয়তো আবার কখনো হুটহাট করে চলে যাব ভাইকে জ্বালাতন করতে। আবার আমাদের গল্পের খাতা খুলবো। মনের কথা গুলো ভাগাভাগি করে নেব। ভালোবাসার এই বন্ধন গুলো চির অটুট থাকুক। ভালোবাসার এই মানুষ গুলো সব সময় ভালো থাকুক। হাসি খুশি থাকুক। স্বপ্নেরা ধরা দিক প্রিয় এই মানুষ গুলোর হাতের মুঠোয়।
ব্যাপারটা ভাবতেই আমার কাছে ভালো লাগছে যে আপনি শুভ ভাইয়ের সাথে সামনাসামনি দেখা করে এসেছেন। আসলেই বৃহস্পতিবার হ্যাংআউটে তার কন্ঠটা না শুনলে যেন ভালই লাগে না। আর সেই কন্ঠের মানুষকে আপনি সামনাসামনি দেখে তার কথা শুনে নিয়েছেন আবার আপনাকে বুকে টেনে নিয়েছে সত্যি খুবই ভালো একটি মুহূর্ত আপনি কাটিয়ে এসেছেন। আর শুভ ভাই মনে হয় মানুষটাই ঐরকম খুব সহজে মানুষকে আপন করে নিতে পারে। ভালো লাগলো ভাইয়া আপনাদের সুন্দর মুহূর্তগুলো আমাদের সাথে ভাগাভাগি করে নেওয়ার জন্য।
মানুষ টা সামনা সামনি একদমই অন্যরকম আপু। এই অনুভূতি গুলো লিখে হয়তো প্রকাশ করা যায় না। ঈশ্বর সব সময় এই ভালো মানুষদের ভালো রাখুক। এটাই চাওয়া। অনেক ধন্যবাদ আপু। ভালো থাকবেন সবসময়।
শুভ ভাইয়ের সাথে কফি খেতে খেতে বেশ ভালোই আড্ডা জমিয়ে ছিলেন। আর এই পোষ্টের মাধ্যমে আপনাদের কিভাবে পরিচয় এবং একে অপরের সাথে দেখা হয় সে বিষয়টা তুলে ধরেছেন। সত্যি বলতে কাছের এমন একজন বড় ভাই থাকলে আর কিছু লাগেনা।
একদম ঠিক বলেছেন ভাই,, এমন একজন বড় ভাই থাকলে আর কিছু লাগে না যেন। খুব ভালো লাগলো আপনার মন্তব্য পেয়ে। ভালো থাকবেন।
প্রথমে আমি নাম না দেখে শুভ ভাইয়ের পোস্টে মনে করে ঢুকেছি কিন্তু ঢুকে দেখিয়ে নাম আপনার আমি মনে করছিলাম যে নেটওয়ার্ক সমস্যা হয়তোবা। তারপর পড়া শুরু করে দিলাম। তারপর দেখলাম আপনি শুভ ভাই কে মেনশন করেছেন। তারপর আরো পড়ে বুঝতে পারলাম না আপনি শুভ ভাইয়ের সাথে মিট করেছেন। আর হ্যাঁ পোস্টটি পড়ে বুঝতে পারলাম আপনারা দুই ভাই মিলে বেশ ভালোই সময় কাটিয়েছেন। আসলে হ্যাংআউটে শুভ ভাইয়ের কথার ভিতরে আলাদা একটা জোশ থাকে। সেটা বলে বোঝানো সম্ভব না। ধন্যবাদ ভাই আপনাকে এবং শুভ ভাইয়ের সাথে আড্ডার মুহূর্তগুলো শেয়ার করার জন্য।
হিহিহিহি, বেশ মজার ছিল তো ভাই। আসলে শুভ ভাই ভীষণ এনার্জিটিক একজন পারসন। ওনার সাথে থাকলে আড্ডা একদম জমে ক্ষীর হয়ে যায়। খুব ভালো লাগলো আপনার মন্তব্য পেয়ে ভাই। ভালো থাকবেন।
এই কমিউনিটিতে যতদিন ধরে আছি শুধু অপেক্ষায় থাকি কখন আসবে বৃহস্পতিবার। আসলে বৃহস্পতিবার আসলে সেই চিনা কন্ঠ গুলো শুনতে পাব।শুভ ভাই যে অসুস্থ আপনাকে বুঝতে দেয়নি, সত্যি বড় ভাইয়ের এমনি হয়।যাইহোক শুভ ভাইয়ের সাথে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন আর কফি খাচ্ছিলেন জেনে ভালো লাগল। ধন্যবাদ আপনাকে শুভ ভাইয়ের সাথে কাটানে মূহুর্ত শেয়ার করার জন্য।
একদম আমরা সবাই বৃহস্পতিবার রাতের হ্যাংআউটটার জন্য অপেক্ষায় থাকি। অনেক ধন্যবাদ আপু। এভাবেই পাশে থাকবেন।
আপনার ভাইয়া যখন বললো আপনি আসছেন।খুব ইচ্ছে ছিলো দেখা করার। কিন্তু রাত হয়ে গিয়েছিল বাবু ঘুমানোর জন্য কান্না করছিলো তাই আর যাওয়া হয়নি। পরের অবশ্যই দেখা হবে।
হ্যাঁ আপু আবার কোন একদিন সবাই একসাথে বসে জমিয়ে আড্ডা দেব। অনেক ভালো থাকবেন। আর দোয়া রাখবেন।
যাক ভালই হল। তবুও এই পোষ্টের মাধ্যমে জানতে পারলাম যে, আপনার সাথে শুভ ভাইয়ের গল্প হয়েছে। আসলে যার কথা প্রতি হ্যাংআউট প্রোগ্রামে আমরা শুনি। তাকে সামনাসামনি দেখার অনুভূতি কি হতে পারে? সেটা নিয়েই ভাবছি। দুজনকে একত্রে দেখে বেশ ভালো লাগলো।
হ্যাঁ আপু আমার অনুভূতির কথা টুকুই অল্প কথায় শেয়ার করার চেষ্টা করেছি। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
এমন দেখা আবারও হোক, প্রিয় মানুষ গুলো ভালো থাকুক তাদের নিজ নিজ স্থানে, এমনটাই প্রত্যাশা রইল। ভালোবাসা নিরন্তর। ☺️🙏
ভালোবাসা আর স্নেহের এই হাত টা সব সময় ছোট ভাইয়ের মাথায় রাখবেন ভাই ❤️🙏।
অনেক ধন্যবাদ ভাই সুন্দর মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য। ভালো থাকবেন সবসময়।
মানুষকে খুব সহজেই আপন করে নেওয়ার একটা ক্ষমতা শুভ ভাইয়ের আছে। তা তার পোস্টগুলো পড়লেই বোঝা যায়। আজকে আপনার পোষ্টের মাধ্যমেও কিছুটা জানতে পারলাম । ঠিকই বলেছেন বৃহস্পতিবারের রাতটা শুভ ভাইয়ার কন্ঠ না শুনলে কেমন যেন খালি খালি লাগে। দুই ভাই মিলে খুব সুন্দর সময় কাটিয়েছেন দেখা যাচ্ছে। দোয়া রইল আপনাদের দুজনের জন্য।
হ্যা আপু খুব ভালো একটা সময় কেটেছে। টোটালি আনক্সপেক্টেড ছিল সব টা । অনেক ধন্যবাদ সব সময় ভাইয়ের পাশে থাকার জন্য।
আপনি আসলেই ভাগ্যবান, কারণ শুভ ভাইয়েরে মতো মানুষের সান্নিদ্ধ পেয়েছেন। এবং আপনার কথা শুনে বুঝতে পারছি কতটা প্রশান্তি পেয়েছেন। সত্যি কথা বলতে আপনাকে ভাইয়ের সাথে দেখে মনটা উতলা হয়ে উঠলো। ইচ্ছে করছে ছুটে চলে যাই ভাইয়ের কাছে। শুভ ভাইয়া প্রিয় মানুষের একজন। আপনার এই সুন্দর মুহূর্তটা স্মৃতি হয়ে বেঁচে থাকবে আমার বাংলা ব্লগে আজীবন। আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনার প্রতি রইল আন্তরিক অভিনন্দন।
হয়তো কোন এক দিন আমাদের সবার একসাথে পুনর্মিলনী হবে ভাই। সেদিন মন খুলে সবার সাথে সবার কথা হবে। সেই দিনটার অপেক্ষায় আছি আমি। ভালো থাকবেন ভাই।