ভ্রমন: মৌসুনি আইল্যান্ড (পর্ব- ০১)
বন্ধুরা,
| তোমরা সবাই কেমন আছো? আশা করি, সবাই অনেক অনেক ভাল আছো। সৃষ্টিকর্তার কৃপায় আমিও বেশ ভালো আছি। |
|---|
আজকের নতুন একটি ব্লগে প্রথমেই সবাইকে স্বাগতম জানাই। বেশ কিছুদিন আগে মৌসুনি আইল্যান্ড নামক একটি জায়গায় ঘুরতে গেছিলাম তাই নিয়ে আজকের ব্লগে কিছু কথা শেয়ার করব। বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাঘুরি নিয়ে তোমাদের সাথে অনেক ব্লগ শেয়ার করে থাকি। ঘোরাঘুরি করতে আমার বেশ ভালই লাগে। সময় সুযোগ হলে বন্ধুদের সাথে বেরিয়ে পড়ি কোন না কোন নতুন জায়গায়। বেশ কিছুদিন আগে বন্ধুদের সাথে গেছিলাম মৌসুনি আইল্যান্ড নামক একটি জায়গায়। এই জায়গাটি ওয়েস্ট বেঙ্গলের মধ্যের একটি জায়গা ছিল। এইখানে যাওয়া সরাসরি কোন রাস্তা ছিল না । অনেকটা ভেঙে ভেঙে যেতে হয়েছিল এখানে।
আমরা প্রথমে আমাদের নিকটবর্তী রেলওয়ে স্টেশন থেকে গাড়িতে উঠি এবং গিয়ে নামি শিয়ালদহ স্টেশনে। সেখান থেকে আবার ট্রেনে করে যেতে হয় আমাদের নামখানা স্টেশন। এই নামখানা স্টেশন থেকে আমরা টোটো ভাড়া করে নি এবং সেই টোটো করে পৌঁছে যায় পাতিবুনিয়া ঘাট নামক একটি জায়গায় । এর পর সেই ঘাট থেকে আমাদের ইঞ্জিনের নৌকায় করে পৌঁছাতে বালিয়াড়ি ঘাটে। এই বালিয়াড়ি ঘাট থেকেই মৌসুনি আইল্যান্ডের উদ্দেশ্য আমাদের যেতে হয়েছিল। এই বালিয়াড়ি ঘাটে পৌঁছানোর পরে আমরা মৌসুনি আইল্যান্ড কি করে পৌঁছাব সেই জন্য লোকের কাছে জিজ্ঞেস করতে থাকি। জায়গাটি আমাদের কাছে নতুন এবং সবকিছু অজানা ছিল । পরে সেখান থেকে জানতে পারি আমাদের পুনরায় টোটো করে আমাদের জন্যে যে কটেজ বুক করা হয়েছে সেখানে গিয়ে নামতে হবে। এইখানে অনেকগুলো গ্রাম ছিল এবং গ্রামের শেষ অংশে ছিল এই মৌসুনি সমুদ্র সৈকত টি।
এখানে এসে আমরা আমাদের জন্য টোটো খুঁজতে থাকি এবং একটি টোটো পেয়ে যাই । এর পর টোটোর ভাড়া ঠিক করে আমরা আমাদের গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা করি। আমাদের কাছ থেকে টোটো ভাড়া বাবদ ৩০ টাকা করে নিয়েছিল যতদূর এখন মনে পড়ছে। টোটো ছেড়ে দেওয়ার পর আমাদের ভিতর অন্যরকম এক উৎসাহ কাজ করছিল। আমাদের মন আরো চঞ্চল হয়ে ওঠে সেখানে কোন সময় পৌঁছাব তাই নিয়ে। আমাদের টোটো ধীর গতিতেই চলতে থাকে। এই টোটো করে গ্রামের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় সুন্দর প্রকৃতির দেখাও পেয়েছিলাম যা তোমরা শেয়ার ফটোগ্রাফিতে দেখতে পারবে। সত্যি বেশ ভালো লাগছিল এরকম একটা গ্রামীণ পথ ধরে সেইখানে যাওয়ার সময়।
আমাদের টোটো করে পৌঁছাতে মোটামুটি ২০ থেকে ২৫ মিনিটের মতো সময় লেগে গেছিল । রাস্তা অনেক জায়গায় খারাপ ছিল সেই জন্য একটু লেট হয়ে গেছিল। আমরা যে টোটোতে করে গেছিলাম সেই লোকটি আমাদের আগে থেকে বুক করে রাখা কটেজটি খুঁজে দিয়েছিল। আমরা যে সময়টাতে গেছিলাম সেটা অফ সিজন ছিল এই জন্য সবকিছু খুব বেশি সাজানো গোছানো ছিল না। আমরা সেখানে পৌঁছে প্রথমে আমাদের রুমের চাবিটি নিয়ে নি । সেখানে পৌঁছে আমাদের বেশ গরম লাগছিল। সেই জন্য আমরা সেখানে পৌঁছে প্রথমে রুমের মধ্যে বসে কিছু সময় রেস্ট করে নি।
ক্যামেরা: স্যামসাং
মডেল: SM-M317F
ফটোগ্রাফার: @ronggin
অবস্থান: মৌসুনি আইল্যান্ড, ওয়েস্ট বেঙ্গল।