শৈশবে সাঁতার শেখা
বন্ধুরা,
| তোমরা সবাই কেমন আছো? আশা করি, সবাই অনেক অনেক ভাল আছো। আমি কোনো রকম আছি । আজকের নতুন একটি ব্লগে তোমাদের সবাইকে স্বাগতম। আজকের ব্লগে তোমাদের সাথে শৈশবে সাঁতার শেখা নিয়ে কিছু কথা শেয়ার করবো। |
|---|
ছোটবেলায় শহরের সব ছেলেমেয়েরা সাঁতার না শিখলেও গ্রামের সব ছেলে মেয়েরা অবশ্যই সাঁতার শিখে রাখে। গ্রামে থাকলে পুকুরেই ছোটবেলা থেকে স্নান করতে হয়। এই জন্য সকলেই ছোটবেলা থেকেই এই ব্যাপার গুলো শিখে রাখে। আমি যেহেতু গ্রামে বড় হয়েছি সেজন্য ছোটবেলা থেকেই সাঁতার পারতাম। যখন আমার বয়স সাত বছর তখনই পরিপূর্ণভাবে সাঁতার দিয়ে পুকুরের একপাড় থেকে অন্য পাড়ে চলে যেতে পারতাম। গ্রামে থাকলে সাঁতার কেউ না কেউ শিখিয়ে দেয়। বাড়ির বড় কেউ অথবা পরিচিত কেউ এই বিষয়টা শিখিয়ে দেয়। আমাকে সাঁতার শিখিয়েছিল আমার এক পাড়ার দাদা। যদিও তার বয়স আমার থেকে খুব একটা বেশি ছিল না তখন । তার নাম ছিল শান্ত।
ছোটবেলায় সে প্রথম আমাকে সাঁতার শেখানোর জন্য পুকুরে নিয়ে যায় এবং কলা গাছ কেটে পুকুরে ভাসিয়ে দিয়ে তার উপরে করে প্রথম আমাকে সাঁতার শেখায়। প্রথম অবস্থায় সাঁতার কাটা অনেক কষ্টের কারণ চার হাত-পা একসাথে চালনা করতে হয়। আর এই সময় ডুবে যাওয়া সম্ভাবনা থাকে। যদিও আমার সেই দাদা আমাকে ধরে ধরে এই বিষয়টি শিখিয়েছিল। কিছুদিন পর সে শুকনো নারকেল একটার সাথে আর একটা বেধে দিয়ে তার ওপর আমাকে ভাসিয়ে দিয়ে সাঁতার শিখিয়েছিল। এভাবে বেশ কিছুদিন তার এমন প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমি সাঁতার শিখি।
এই সাঁতার শেখার গল্পটা শুনতে যতটা সহজ মনে হয় আসলে কিন্তু অতটা সহজ নয়। এই সাঁতার শিখতে গিয়ে কত বার যে পুকুরের জল খেয়েছি তার কোন হিসাব নাই। আমার এখনো মনে আছে একবার সাঁতার শিখতে গিয়ে ডুবে যাচ্ছিলাম। আমি একটু একটু সাঁতার কাটতে পারছিলাম দেখে কয়েক মুহূর্তের জন্য আমার সেই দাদা একটু অন্যমনস্ক হয়ে যায়, সেই সময় হঠাৎ করেই আমি ব্যালেন্স হারিয়ে জলে ডুবতে থাকি।এই ঘটনার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে সে এসে আমাকে জল থেকে উদ্ধার করেছিল, না হলে হয়তো সেদিনই গল্প শেষ হয়ে যেত আমার।
যাই হোক গ্রামের ছেলেদের এই সাঁতার শেখার গল্প বেশ ইন্টারেস্টিং হয়। এই সাঁতার শেখার সময় অনেক মজাও করেছি। আস্তে আস্তে যখন পরিপূর্ণভাবে সাঁতার শিখে গেছিলাম পুকুরের একপাড় থেকে অন্য পাড়ে সাঁতার কেটে চলে যেতাম। আমাদের পুকুরটি অনেক বড় ছিল আর এই বিষয়টা করতে সব সময় মজা পেতাম আমি। বাড়ির একদম পাশে পুকুর, খাল এসব থাকার কারণে গ্রামে বাচ্চারা অনেক সময় জলে ডুবে অনেক মারা যায়। আমি নিজেও এরকম কয়েকটি ঘটনা দেখেছি। এই জন্যই ছোটবেলায় সবাইকে জরুরী ভিত্তিতে সাঁতার শিখিয়ে রাখা হয় গ্রামে।
আপনার সাঁতার শেখার গল্পটি পড়ে বেশ ভালো লাগলো। আসলে ভাইয়া জলে ডুবে পানি না খেলে সাঁতার কিভাবে শিখব। আগে পানির ভিতর সাঁতার শিখতে গিয়ে অনেকে মারা যেত এটা অবশ্যই ঠিক। তারপরও সবাই গিয়ে সাঁতার কাটত পুকুরে বা নদীতে। এটা সত্যি ছোটবেলা সাঁতার না শিখলে আর কখন হয়ত শিখা হতো না । যাই হোক ভাইয়া পানি খেয়ে সাঁতার শিখেছেন এটাই অনেক। ধন্যবাদ আপনাকে ছোটবেলার অনুভূতিগুলো শেয়ার করার জন্য ।
পুকুরে সাঁতার কাটতে গেলে জল খেতেই হয়। এই জল না খেয়ে সাঁতার শেখা যায় না আপু! 🤭
আমি শহরে বড় হয়েছি গ্রাম খুব একটা দেখা হয়, সাঁতার শিখতে পারিনি বলে আমার অনেক কষ্ট। আমি ভেবেছিলাম পানি থাকলে সাঁতার শিখে ফেলতে পারতাম এটা খুবই সহজ। পরে যখন সুইমিংপুলে গেলাম এরপর চেষ্টা করলাম সাঁতার কাটার জন্য তখন বুঝতে পারলাম যতটা সহজ ভেবেছিলাম তা নয়। সুইমিং পুলে গেলে আমার সকল বন্ধুরা সাঁতার কাটে আর আমি টিকেট কেটে বন্ধুদের সাঁতার দেখি ছবি তুলে দেই এটা খুবই কষ্টের ।
সাঁতার ব্যাপারটা দেখতে যতটা সহজ মনে হয় করাটা কিন্তু এত সহজ কাজ না ভাই । অনেকটাই কষ্ট হয় এই সাঁতার শিখতে গেলে প্রথম প্রথম।
এটা অনেক দুঃখজনক বিষয় ভাই। এমনটা হলে কষ্ট লাগাটা স্বাভাবিক।
গ্রামের ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা সাঁতার কাটতে পারে এবং তাদের সাঁতার কাটা দেখতেও খুব ভালো লাগে। আপনি তো আপনার পাড়ার দাদার সহযোগিতায় সাঁতার শিখছিলেন ছোটবেলায়, কিন্তু আমি এখনো সাঁতার কাটতে পারি না। কারণ আমি জীবনে হাতেগোনা ২/৩ বার পুকুর এবং নদীতে গোসল করেছিলাম। তাই সাঁতার শেখার সুযোগ হয়নি আমার। সাঁতার শিখতে গেলে একটু পানি খেতেই হয় ভাই। যাইহোক পোস্টটি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
ভাই সাঁতার কাটা ব্যাপারটা শিখে রাখা ভালো ।কোন সময় সুযোগ পেলে অবশ্যই এই সাঁতার কাটা শিখে রাখতে পারেন।
খুব সুন্দর পোস্ট। আসলে আমাদের প্রতি টি মানুষের উচিত সাঁতার শেখা।ঠিক বলেছেন আপনি গ্রামের অনেক বাচ্চা জলে ডুবে মারা যায় এটা খুব দুঃখজনক। সচেনতা দরকার সবার।ধন্যবাদ সুন্দর পোস্ট শেয়ার করার জন্য।
বিশেষ করে গ্রামের বাচ্চাদের জন্য সাঁতার কাটা শিখে রাখা অবশ্যই জরুরী একটা কাজ দিদি। জলে ডুবে যাওয়ার মত দুর্ঘটনা থেকে বাচ্চারা অনেকাংশেই বেঁচে যাবে সাঁতার জানা থাকলে।